মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
28 C
Dhaka
Homeখেলাশেষ দুই ম্যাচে ভারতের দাপট থামিয়ে সমাপ্তি টানল নিউজিল্যান্ড

শেষ দুই ম্যাচে ভারতের দাপট থামিয়ে সমাপ্তি টানল নিউজিল্যান্ড

প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ৮:২৫

ম্যাচের শুরুতে ভারতের ব্যাটিংয়ে লাগাম টেনে ধরেছিলেন অ্যাডাম মিলনে। তার গতির সামনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়েও স্বস্তিতে ছিল না ভারত। জবাবে ব্যাট হাতে পাল্টা আঘাত হানেন টিম সাইফার্ট ও গ্লেন ফিলিপস। সাইফার্টের সেঞ্চুরি অধরা থাকলেও ফিলিপসের ব্যাটে জয় ঠিকই ধরা দেয় নিউজিল্যান্ডের হাতে।

আজ ১ নভেম্বর (রবিবার) হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টুয়েন্টিতে ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। ভারতের দেওয়া ১৯২ রানের লক্ষ্য ১২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছিল ভারত। তবে শেষ দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে সিরিজ শেষ করেছে নিউজিল্যান্ড।

ভারতের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান অ্যাডাম মিলনে। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন এই পেসার। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনারের শিকার দুটি করে উইকেট।

ব্যাট হাতে আগের তিন ম্যাচে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও শেষ ম্যাচে জ্বলে ওঠেন টিম সাইফার্ট। মাত্র ৫০ বলে ৯৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১১টি চার ও পাঁচটি ছক্কা।

তবে ম্যাচের আসল নায়ক গ্লেন ফিলিপস। ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কা। পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে সিরিজসেরার স্বীকৃতিও পেয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।

পাঁচ ম্যাচে তিনটি অর্ধশতক ও একটি শতকের সাহায্যে ফিলিপসের সংগ্রহ ৩৪১ রান। দ্বিপক্ষীয় টি-টুয়েন্টি সিরিজে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের নতুন রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৩১ রান করে রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। এই তালিকায় ৩০০ রানের বেশি করা অন্য ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রিজওয়ান। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার সংগ্রহ ছিল ৩১৬ রান।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। মাত্র ১৯ রানের মধ্যে দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসনকে সাজঘরে ফেরান মিলনে। এরপর ইশান কিষান ও শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা।

সপ্তম ওভারের প্রথম বলে ৩০ রানে জীবন পান কিষান। ফিন অ্যালেন বাউন্ডারিতে তার ক্যাচ ধরলেও ভারসাম্য হারিয়ে পা সীমানায় লাগায় সেটি ছক্কায় পরিণত হয়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র ২৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন কিষান।

ভারত ক্রিকেট দল। ছবিঃ ব্ল্যাকক্যাপস
অন্যদিকে মাইকেল ব্রেসওয়েলের এক ওভারে পরপর ছক্কা, চার ও ছক্কা হাঁকান শ্রেয়াস। ওই ওভারেই তার একটি ক্যাচ ফেলে দেন ব্লেয়ার টিকনার। সব মিলিয়ে ওভারটি থেকে ২৭ রান আদায় করে নেয় ভারত।

শেষ পর্যন্ত ৩২ বলে ৬১ রান করে একাদশ ওভারে বিদায় নেন কিষান। পাঁচটি চার ও পাঁচটি ছক্কায় সাজানো তাঁর ইনিংস থামলেও শ্রেয়াসের সঙ্গে ৪৩ বলে ৯৩ রানের কার্যকর জুটি গড়ে দেন তিনি। এই ইনিংস খেলার পথে সূর্যকুমার যাদবকে পেছনে ফেলে এক পঞ্জিকাবর্ষে টি-টুয়েন্টিতে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রানের মালিক হন কিষান।

মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূর্ণ করা শ্রেয়াস অবশ্য পরের বলেই আউট হন। তার সংগ্রহ ৫০ রান। এরপর তিলক বর্মাকে ফেরান নাথান স্মিথ। এর আগে অ্যালেনের হাতে ক্যাচ দিয়েও নো বলের কারণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিলক। তবে সেই সুযোগ বেশিক্ষণ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। শেষদিকে নমন ধিরের ৩৩ এবং নিতিশ কুমার রেড্ডির ২২ রানের সুবাদে ১৯১ রানের পুঁজি পায় ভারত।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ফিন অ্যালেনকে হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি স্বাগতিকদের। টিম সাইফার্ট ও ড্যারিল মিচেলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারেই স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৫৯ রান।

মিচেল ২৯ রান করে ফিরলে বরুণ চক্রবর্তী ভাঙেন ৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর সাইফার্টের সঙ্গে ক্রিজে যোগ দেন ফিলিপস। ৩৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন সাইফার্ট। অন্য প্রান্তে ফিলিপসও চালিয়ে যান আগ্রাসী ব্যাটিং।

বরুণের এক ওভারে তিনটি চার হাকান ফিলিপস। একই ওভারে একটি চার মারেন সাইফার্ট। পরের ওভারেই দুটি ছক্কা মেরে ভারতের বোলারদের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন ফিলিপস।

জয়ের জন্য তখন কেবল আনুষ্ঠানিকতাই বাকি ছিল। তবে ব্যক্তিগত শতকের স্বপ্ন পূরণ হয়নি সাইফার্টের। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে নিতিশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হন তিনি। ৮৬ রানের জুটি ভাঙলেও নিউজিল্যান্ডের জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি।

এরপর বেভন জ্যাকবসকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজ শেষ করেন ফিলিপস। ২৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা এই ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন। জ্যাকবসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ২৭ রানের জুটি গড়ে ১২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের লড়াই শেষ হওয়ার পর এবার দুই দল মুখোমুখি হবে ওয়ানডে ফরম্যাটে। আগামী ৪ নভেম্বর (বুধবার) শুরু হবে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

 

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর