মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬
30.1 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকনতুন প্রধানের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পথ

নতুন প্রধানের হাতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পথ

প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১:৪৫

১৭ই জুন, ২০২৬-এ ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ড ভবনে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ একটি সংবাদ সম্মেলনে । ছবি: এএফপি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রধান (মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের চেয়ারম্যান) কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব নেওয়ার পরই বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি ও কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৭ই জুন) প্রথম নীতি বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা চতুর্থবারের মতো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে সুদের হার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

তবে বৈঠকের সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল, চলতি বছরই সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্শ জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাদা দল কাজ করবে। এসব দলের আলোচনার বিষয় হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থের প্রবাহ, তথ্য ব্যবহারের পদ্ধতি, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের নীতি।

ওয়ার্শ বলেন, এসব বিষয়ে নতুনভাবে চিন্তা করা দরকার এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ বেশিরভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই বৈঠকে সুদের হার ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে সে বিষয়ে কোনো আগাম নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন পূর্বাভাস দেওয়া উপযুক্ত নয়।

তবে তিনি মূল্য স্থিতিশীল রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওয়ার্শ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম এবং এ লক্ষ্য পূরণে তাদের অঙ্গীকার শক্তিশালী।

এদিকে নতুন প্রধানকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে সুদের হার কমানোর প্রত্যাশায় নিয়োগ দিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধিকাংশ নীতিনির্ধারক এখন সুদের হার বাড়ানো বা অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরে মাত্র একজন কর্মকর্তা সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা করছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, জ্বালানি খাতের বাইরে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়লে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি কার্যকর হলে এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে গেলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে মূল্যস্ফীতিও কমতে পারে।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তর সংস্কার নিয়েও আলোচনা করেছেন ওয়ার্শ। প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের এই সংস্কার প্রকল্প নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেছেন, প্রকল্পে কোনো ভুল বা অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই সংস্কারের অর্থ সরকারি করের টাকা থেকে নয়, বরং তাদের নিজস্ব আয় থেকেই ব্যয় করা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর