বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকইরানকে বলপ্রয়োগে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা অলীক কল্পনা : পেজেশকিয়ান

ইরানকে বলপ্রয়োগে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা অলীক কল্পনা : পেজেশকিয়ান

প্রকাশ: মে ২১, ২০২৬ ৩:৩৫

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা একটি অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

 

বুধবার (২০ মে) দিনগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

এক্সে মাসুদ পেজেশকিয়ান লেখেন, ইরান ধারাবাহিকভাবে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে এবং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য সবরকম পথ খুঁজে দেখেছে; আমাদের পক্ষ থেকে সব পথই খোলা আছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও লেখেন, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা একটি অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। যুদ্ধের চেয়ে কূটনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা রাখা অনেক বেশি বিচক্ষণ, নিরাপদ ও টেকসই উপায়।

এদিকে, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের অবসানে একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা এবং সমুদ্র পথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পূর্ববর্তী অবস্থায় ফেরাতে, পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বিরোধপূর্ণ সব বিষয়ে সমাধানের জন্য কূটনীতিকে সুযোগ দিতে সময় দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানায় সৌদি আরব।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় ‘অবিলম্বে সাড়া দেওয়ার’ জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে, উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে ইরানের ওপর নতুন হামলা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে এবং একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে মঙ্গলবারের (১৯ মে) পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। খবর বিবিসির।

ট্রাম্প দাবি করেন, এমন একটি সমঝোতার পথে অগ্রগতি হচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘খুবই গ্রহণযোগ্য’ হবে। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।

ট্রাম্প আরও বলেন, যদি গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণমাত্রার বড় সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত’ থাকবে।

এদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কৌশলগত ভুল ও ভুল হিসাব’ না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের পাল্টা আঘাতের আশঙ্কায় রয়েছে। কারণ, ইরানের কাছে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দর, তেল-গ্যাস স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ পানিশোধন কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো সম্ভব।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঝে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণ হয়। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ জারি রেখেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান ওয়াশিংটনের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এখনও চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে দেওয়া এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর