শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২৬
শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২৬
31.3 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকসমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানেই রাখার নির্দেশ সর্বোচ্চ নেতার

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানেই রাখার নির্দেশ সর্বোচ্চ নেতার

প্রকাশ: মে ২১, ২০২৬ ১১:২৭

ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। শান্তি আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া দাবির বিপরীতে তিনি এমন কঠোর অবস্থান নিলেন। ইরানের উচ্চপর্যায়ের দুটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার এই সরাসরি নির্দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধ বন্ধের প্রক্রিয়াকেও এটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রয়টার্সকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প এর আগে ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। যেকোনো শান্তি চুক্তিতে এই বিষয়টি একটি বাধ্যতামূলক ধারা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ তুলে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়টিকে তারা উদ্বেগের চোখে দেখছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে বলেছিলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে অপসারিত না হচ্ছে, তেহরান তাদের প্রক্সি মিলিশিয়াদের সমর্থন বন্ধ না করছে এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নির্মূল না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই যুদ্ধ শেষ বলে বিবেচনা করবেন না।

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ইরানি সূত্র জানায়, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনা এবং সরকারের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য হলো—সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কোনোভাবেই দেশের বাইরে যাবে না।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, এই তেজস্ক্রিয় উপাদানগুলো বিদেশে পাঠিয়ে দিলে দেশটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার মুখে আরও বেশি অরক্ষিত ও দুর্বল হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, ইরানের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতা খামেনির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়। তবে এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর