সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কাউকে কখনো কোনো পক্ষ অবলম্বন করে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হবে না।
যদি কেউ পক্ষপাতিত্ব করেন, তবে সেটি তার ব্যক্তিগত দায় (ইনডিভিজুয়াল রেসপন্সবিলিটি) এবং সেক্ষেত্রে কমিশন ‘ভয়ানক দৃঢ়’ অবস্থানে থাকবে।। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সদস্যদের উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এবারে নির্বাচন ভালো হবে। স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতায় এক সুতাও এপাশ-ওপাশ করা যাবে না। আপনি একজন নাগরিক হিসেবে ভোট দেবেন, অতটুকুই আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ বা পার্টিজানশিপ। কিন্তু যখন দায়িত্ব পালন করবেন, তখন এক সুতা ডানে-বামে যাওয়ার সুযোগ নেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আপনারা এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গেছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আমাদের সন্তানদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা নির্বাচন করছি। কমিশনের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য আপ্যায়নের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তাই কারো কাছে এক গ্লাস পানিও খাবেন না। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন স্থানীয় পাতি নেতারা খাবার অফার করেন, আগে প্রস্তুতি না থাকায় অনেকে তা গ্রহণ করতে বাধ্য হতেন। কিন্তু এবার সবার জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া আছে। এখন থেকে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত কারো কাছ থেকে কোনো আতিথেয়তা নেওয়া যাবে না।
নির্বাচনি এলাকায় অবৈধ লেনদেন বন্ধের বিষয়ে ইসি বলেন, ‘বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ের মতো মাধ্যমে যাতে কোনো অবৈধ লেনদেন না হয়, সেজন্য আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা দিয়েছি। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে।’
ভোটকেন্দ্রের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা আছে, ভোট দিয়ে ভোটাররা ৪০০ গজের বাইরে চলে যাবেন। কেন্দ্রের ভেতরে বা আশেপাশে বিলম্ব করার কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্র দখলে রাখতে হবে’ বা ‘ফলাফল আদায় করে ঘরে ফিরতে হবে-এমন মানসিকতা থাকলে মারামারি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, যা ভোট পড়বে এবং যা গণনা হবে, সেই ফলাফলই প্রকাশিত হবে। কেন্দ্র দখল করে ফলাফল আদায়ের কোনো সুযোগ এবার নেই।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সানাউল্লাহ বলেন, জুলাই যোদ্ধারা খালি হাতে লড়াই করে সফল হয়েছে। এখন আমাদের হাতে আইন এবং অস্ত্র; উভয়ই আছে। তাহলে কেন আমরা একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে পারব না? অতীতের চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এখন আচরণবিধি মানার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সচেতন।
স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সোর্স হিসেবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বহিরাগত কারা এলাকায় আসছে বা কারা মারা গেছেন বা জীবিত আছেন, তা স্থানীয়রা ভালো জানেন। একটি ভালো নির্বাচনের পূর্বশর্তই হলো ভালো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-৪ ব্যাটালিয়নের সিইও মো. মোশারফ হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, সেনাবাহিনীর লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের মেজর জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসা প্রমুখ।


