শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬
শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬
26.4 C
Dhaka
Homeজেলার খবর৯ আগষ্ট ফটিকছড়ি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৯ আগষ্ট ফটিকছড়ি সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৯:৪০
প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৯:৩৫

‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন’ এখন এই একটি কথাই চায়ের দোকান থেকে বাজারের আড্ডা, বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রামের মোড় ফটিকছড়ির সব জায়গায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে এই একটি বিষয়।

আগামী রবিবার (৯ আগস্ট) ফটিকছড়িতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে পুরো উপজেলায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাঁকে স্বাগত জানাতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) সরেজমিনে ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। অপসারণ করা হয়েছে আগাছা। কোথাও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে, কোথাও চলছে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ ব্যবস্থারও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়েছে।

সেদিন দুপুরের দিকে পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজীর দিঘী সিএনবি মাঠে নির্মাণাধীন হেলিপ্যাড এলাকায় নেমে সড়ক পথে ফটিকছড়ি বাসস্ট্যান্ড, বিবিরহাট বাজার হয়ে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পেলাগাজীর দিঘী থেকে নাজিরহাট হালদা নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতু পর্যন্ত এলাকায় প্রস্তুতির ব্যস্ততা দেখা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সৌজন্য সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে সাক্ষাতের স্থান আল জামেয়া ইসলামীয় আজিজুল উলুম বাবুনগরী মাদ্রাসা ও এর আশপাশের এলাকাও সাজসজ্জায় প্রস্তুত করা হয়েছে।
এলাকাবাসীরা মনে করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন ফটিকছড়িবাসীর জন্য গৌরবের এবং উপজেলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পেলাগাজীর দিঘী থেকে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পয়েন্টে দলীয় নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবেন। রংবেরঙের সাজে সজ্জিত হয়ে নারী-পুরুষেরা দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।

পাশাপাশি ফটিকছড়ির প্রাচীন ঐতিহ্য ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরারও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চা ও রাবারশিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের ঐতিহ্য, জীবনযাপন ও সংস্কৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর চেষ্টা করবেন স্থানীয়রা।

উপজেলা শ্রমিক দলের দপ্তর সম্পাদক মো. আমিনুল হক সুমন বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা নিজ উদ্যোগে রাস্তাঘাট পরিষ্কার ও সজ্জিত করছেন। এই প্রস্তুতিই প্রমাণ করে, ফটিকছড়িবাসী প্রধানমন্ত্রীকে কীভাবে বরণ করে নিতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা প্রত্যাশা। তাঁদের অন্যতম দাবি, ফটিকছড়িতে একটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফটিকছড়িতে দেশের বড় বড় চা-বাগানের পাশাপাশি এশিয়ার খ্যাতনামা রাবার বাগান রয়েছে। রয়েছে সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রও। এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গত চার দশকে এখানে উল্লেখযোগ্য শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। ফলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় তৈরি হয়নি।

তাঁদের অভিযোগ, সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ফটিকছড়ির মানুষ এখনো গ্যাস-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাশাপাশি প্রবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় প্রবাসীদের সহায়তায় একটি পূর্ণাঙ্গ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর সফর আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ফটিকছড়ির দীর্ঘদিনের সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের দাবিগুলো সামনে আনার সুযোগ তৈরি করবে।

ফটিকছড়ি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত। সফরকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার থেকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও ফটিকছড়িতে অবস্থান শুরু করবেন।

ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, ‘ফটিকছড়িবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তাঁর আগমনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফটিকছড়িবাসীর এই উচ্ছ্বাস ও আবেগে আমিও আপ্লুত।’

সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ফটিকছড়িতে এখন সাজ সাজ রব। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে, বাজারের আড্ডায় কিংবা রাজপথে—আলোচনার বিষয় একটাই, প্রধানমন্ত্রী আসছেন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর