কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রতিদিন কমলার রস খেলে শরীরে আসলে কী ঘটে? এটি কি পুরোপুরি উপকারী, নাকি শরীরে নেটিবাচক প্রভাব ফেলে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েটিশিয়ান দীপালি শর্মা।
- কমলার রসে যা আছে
কমলার রস শুধু ভিটামিন সি-তেই ভরপুর নয়, এতে আছে—
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
ফ্ল্যাভোনয়েড
হেসপেরিডিন
ক্যারোটিনয়েড
এই উপাদানগুলো শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে, প্রদাহ কমায় এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। ডায়েটিশিয়ান দীপালি শর্মা বলেন, পরিমিত পরিমাণে প্রতিদিন কমলার রস খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ত্বক ভালো থাকে এবং শরীরে এনার্জি পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে পুরো ফলের তুলনায় রসে ফাইবার কম এবং প্রাকৃতিক চিনি বেশি।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো যেভাবে কাজ করে
- ফ্ল্যাভোনয়েড
শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল দূর করে
হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখে
- হেসপেরিডিন
রক্তসঞ্চালন ভালো করে
খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করে
- ক্যারোটিনয়েড
চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
ত্বক ও দৃষ্টিশক্তির জন্য উপকারী
কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে
প্রতিদিন কমলার রস খেলে যেসব উপকার পাওয়া যায়
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
ভিটামিন সি শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে।
- আয়রন শোষণে সহায়ক
বিশেষ করে যারা নিরামিষভোজী বা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন, তাদের জন্য উপকারী।
- হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়
পরিমিত পরিমাণে খেলে রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত হয়।
- দ্রুত এনার্জি দেয়
সকালে বা শরীরচর্চার পর তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
- প্রতিদিন কমলার রস কি খাওয়া নিরাপদ
প্রতিদিন কমলার রস খাওয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ না হলেও এতে কিছু ঝুঁকি রয়েছে, যা জানা জরুরি। ডায়েটিশিয়ানরা জানান সব ভালো জিনিসই যেমন অতিরিক্ত হলে ক্ষতি করতে পারে, কমলার রসও তার ব্যতিক্রম নয়। চিনি যোগ না থাকলেও কমলার রসে প্রাকৃতিকভাবেই শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে, যা নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বাড়াতে পারে। এছাড়া পুরো কমলা খেলে যে ফাইবার পাওয়া যায়, রসে তা প্রায় থাকে না বললেই চলে ফলে পেট ভরা ভাব কম হয় এবং দ্রুত আবার খিদে পায়।
কমলার রস অ্যাসিডিক হওয়ায় যাদের গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি সমস্যা বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে এর অ্যাসিডিক গুণের কারণে নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের ঝুঁকিও থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কমলার রস সতর্কতার সঙ্গে খাওয়া জরুরি, কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে।
- কমলার রস এড়িয়ে চলবেন যারা
- ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভোগা ব্যক্তিরা
- যাদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে
- ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন যারা
- দাঁতের সংবেদনশীলতা বা এনামেল ক্ষয়ের সমস্যা যাদের
কমলার রস ওষুধ নয়, আবার শত্রুও নয় সবকিছুই নির্ভর করে পরিমাণ ও সময়ের ওপর। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে, সঠিক সময়ে খেলে এটি হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের ভালো বন্ধু। তবে পুরো কমলা ফল খাওয়ার অভ্যাস রাখলে উপকার হবে আরও বেশি।


