পুষ্টিবিদ চামিলি জান্নাত জানান, বর্তমানে অনেকেই পরিশোধিত চিনি বাদ দিয়ে গুড় খাওয়াকে স্বাস্থ্যকর মনে করেন। কারণ গুড় প্রাকৃতিক এবং কম প্রসেসড। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি একটু ভিন্ন।
- গুড় আর চিনির মূল পার্থক্য
পুষ্টিবিদ চামিলি জান্নাত বলেন, গুড় আখ বা খেজুরের রস থেকে কম প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি হয়, তাই এতে সামান্য পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকতে পারে। তবে এই মিনারেলের পরিমাণ এত বেশি নয় যে এটি শরীরের দৈনিক চাহিদা পূরণ করবে।
- ক্যালরি ও ব্লাড সুগার প্রভাব
গুড় ও চিনি – দুটিই প্রায় সমান ক্যালরি দেয়
দুটিতেই উচ্চ কার্বোহাইড্রেট থাকে
অতিরিক্ত গুড় খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য গুড়ও নিরাপদ বিকল্প নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের কম পরিমাণ অ্যাডেড সুগার গ্রহণ করা উচিত,তা চিনি হোক বা গুড়।
- গুড়ের সম্ভাব্য কিছু উপকারিতা
সামান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকতে পারে
অল্প পরিমাণ আয়রন থাকায় রক্তস্বল্পতায় সহায়ক হতে পারে
কিছু ক্ষেত্রে হজমে সহায়তা করতে পারে।
- অতিরিক্ত গুড় খাওয়ায় খেলে ঝুঁকি: পুষ্টিবিদ অতিরিক্ত গুড় খাওয়ার ঝিকির বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন।
- অতিরিক্ত গুড় খাওয়ায় যেসম সমস্যা হয়:
ওজন বৃদ্ধি
দাঁতের সমস্যা
ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি।
সবদিক বিবেচনা করে পুষ্টিবিদ চামিলি জান্নাতের পরামর্শ চিনি হোক বা গুড় দুটিই পরিমিত খাওয়া উচিত। মিষ্টির চাহিদা পূরণে ফলমূল বা প্রাকৃতিক উৎস বেশি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। মনে রাখতে হবে প্রাকৃতিক সেটা মানেই সব সময় স্বাস্থ্যকর নয়, পরিমাণটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রোজার মাসের শরবত কিংবা অন্যান্য খাবার তৈরির ক্ষেত্রেও গুড় বা চিনি যেটাই দেন পরিমাণের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।


