ইফতার করার দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ইনসুলিন হরমোন ও হজমপ্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। ফলে পাকস্থলী তখন খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে। এ সময় ক্যাফেইনের শোষণ ধীরে হয় এবং অ্যাসিডিটি কম হয়। এ জন্য ইফতার শেষ করার অন্তত এক ঘণ্টা পর ১ বা সর্বোচ্চ ২ কাপ চা-কফি পান করা যেতে পারে।
তিনি জানিয়েছেন, ইফতার করার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাফেইন গ্রহণে আয়রনের শোষণ ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। এতে শরীরে ইফতারের খাবারের আয়রন শোষণ কম হয়।
পুষ্টিবিদ প্রিয়ানা বলেন―
খালি পেটে এবং ঘুমানোর আগ মুহূর্তে ক্যাফেইন গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, যদি ভুল সময় চা-কফি পান করেন, তাহলে ডিহাইড্রেশন, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় বা অস্বস্তি, গ্যাসট্রিকের সমস্যা, ঘুম কমে যাওয়া এবং পরদিন ক্লান্তি অনুভব হতে পারে। বিশেষত রমজানে পানি কম পান হলে এই প্রভাবগুলো বেশি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ পুষ্টিবিদ অবশ্য ক্যাফেইন গ্রহণের বিকল্প উপায়ও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যাদের চা-কফি পানের প্রবণতা বেশি, তারা গ্রিন টি পান করতে পারেন। গ্রিন টি-এ ক্যাটেচিন নামক শক্তিশালী আ্যন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পাশাপাশি গ্রিন টি-তে চা-কফির তুলনায় কম ক্যাফেইন থাকে এবং এটিতে রয়েছে আ্যন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। যা মেটাবলিজম উন্নত করতে সহায়ক, বদহজম কমায় ও ফ্যাট বার্নে সহায়ক। এমনকি ব্লাডে সুগার নিয়ন্ত্রণ, হৃদস্বাস্থ্য উন্নত করতে, ত্বক ভালো রাখতে ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক।
সবশেষ প্রিয়ানা বলেন, পানীয় পানের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিনি ছাড়া গ্রহণ করতে হবে এবং পরিমিত গ্রহণ করা উচিত। যদি কেউ সাহরিতে চা বা কফি পান করতে চায়, অন্তত সাহরি খাওয়ার ৩০-৪০ মিনিট পূর্বে পান করা উচিত। তবে এ সময় ক্যাফেইন গ্রহণ না করাই উত্তম।


