শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
32 C
Dhaka
Homeস্বাস্থ্যহামের লক্ষণ কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও টিকার ডোজ নিয়ে করণীয় কি

হামের লক্ষণ কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও টিকার ডোজ নিয়ে করণীয় কি

প্রকাশ: এপ্রিল ১, ২০২৬ ১০:১৭

সাম্প্রতিক সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর দেখা যাচ্ছে। শিশুদের এই রোগে আক্রান্তের খবরে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা। ফলে কিছু অভিভাবক শিশুর শারীরিক লক্ষণ ঠিকমত বুঝে না উঠেই যেমন চিন্তিত হয়ে পড়ছেন, আবার কেউ কেউ লক্ষণ থাকার পরও বুঝতে না পারার কারণে অবহেলা করছেন। এ ক্ষেত্রে হাম সম্পর্কে সচেতনতার প্রয়োজন।

হাম কী, এর প্রাথমিক লক্ষণ, এটি কীভাবে ছড়ায়. এর চিকিৎসা ও টিকার ডোজ সংক্রান্ত ব্যাপারে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর লালবাগের উদয় ডক্টর কনসালটেন্সি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড–১৯ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আইভি আক্তার।

➤ হাম কী:
হাম হচ্ছে রুবোলা ভাইরাসজনিত একটি সংক্রামক ও গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। এটি শিশু ও তরুণদের মধ্যে বেশি আক্রমণ করে। যা সাধারণত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায় এবং কখনো কখনো আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মাধ্যমে ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। হাম হলে জ্বর, হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে।

➤ আতঙ্ক নয়, সচেতনতা প্রয়োজন:
হাম ভাইরাসজনিত রোগ। যদিও এখনো বিশ্বজুড়ে শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এটি বড় হুমকি। তবে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এটি এখন অনেকটা হ্রাস পেলেও টিকার ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি অভিভাবক ও নাগরিকের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি অন্যদেরও এ ব্যাপারে অবহিত করার বিকল্প নেই।

➤ প্রাথমিক উপসর্গ:
সাধারণত হামের শুরু সাধারণ সর্দি-কাশি-হাঁচির মতো মনে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, মুখের ভেতর সাদা দানা হওয়ার মতো লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না। এছাড়াও যদি ১০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত জ্বর, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মুখের ভেতর ঘা, সাধারণ জ্বরের ৪/৫ দিনের দিন চুলকানি-সহ লালচে র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে বসে থাকা যাবে না। এসব লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।

উল্লেখ্য, র‌্যাশ সাধারণত কানের পেছনে বা মুখ থেকে শুরু হতে পারে, যা পরবর্তীতে ঘাড়ে ছড়ায় বা বুক-পিঠ পর্যন্ত বিস্তার করে এবং সবশেষ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আইভি আক্তার বলেন―

হাম হলে এপিথেলিয়াল লেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য ডায়রিয়া এবং সচরাচর কানের ও বুকে নিউমোনিয়ার মতো ইনফেকশনও হয়ে থাকে। তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দিতে পারে, পানি স্বল্পতা ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমতে পারে এবং মারাত্মক সংক্রমণে খিঁচুনিও হতে পারে।

➤ কীভাবে ছড়ায়:——-
হাম শুধু কাশিতে নয়, এটি বাতাসে ভাসমান ড্রপলেট ও এয়ারোসোল থেকেও ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি রুম ছেড়ে যাওয়ার ২ ঘণ্টা পরও বাতাসে ভাইরাস থাকতে পারে। এ জন্য হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে টিকা না নেয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

➤ হাম প্রতিরোধে চিকিৎসা ও পরিচর্যা:——–
হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল নেই। এ জন্য চিকিৎসাগুলো কেবলই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে উল্লেখযোগ্য কিছু করণীয় রয়েছে; যা মেনে চলা অত্যাবশ্যক।

বিশ্রাম: রোগীকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাখতে হবে।
তরল গ্রহণ বাড়ানো: প্রচুর পানি বা তরল খাবার খেতে হবে।
জ্বর নিয়ন্ত্রণ: জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্যারাসিটামল খেতে পারেরন।
আইসোলেশন: লাল ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ শুরু হওয়ার পর অন্তত ৪ দিন অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন।
অ্যান্টিবায়োটিক: শুধু ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হবে।
উল্লেখ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি পরামর্শ করে ভিটামিন এ গ্রহণ করতে হবে। কেননা, ভিটামিন এ শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, জটিলতা বাড়ায় এবং দ্রুত সুস্থ হতে ভূমিকা পালন করে।

➤ ডোজ:——

৬ মাস – 50,000 IU
১১ মাস – 100,000 IU
১২ মাস – 200,000 IU
ডোজের সময়সূচি:
১ম দিন এবং ২য় দিন
সিভিয়ারের (Severe) ক্ষেত্রে ১৪তম দিন ৩য় ডোজ।
এছাড়া ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ, চোখের এবং মুখগহব্বরের যত্ন নিতে হবে।

➤ কার্যকর প্রতিরোধ:——-

MMR/MR টিকা (২ ডোজ)

১ ডোজ = ৯৩ থেকে ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা
২ ডোজ = ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা
মনে রাখতে হবে, কোনো টিকাই শতভাগ কার্যকরী নয়। টিকা নেয়ার পরও রোগ হতে পারে। তবে টিকা নেয়া হলে জটিলতা অনেকাংশে কম হয়। পাশাপাশি সবসময় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সবশেষ শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আইভি আক্তার বলেন―

হাম শুধু র‌্যাশ নয়, হাম হলে শরীরের আগের সব রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার ‘মেমোরি’ বা স্মৃতি নষ্ট হয়। যাকে ইমিউন অ্যামনেসিয়া বা অনাক্রম্য বিস্মৃতি বলা হয়। ফলাফল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া। হাম কেবল রোগ নয়, এটি নানা রোগের কারণ হয়। এ জন্য হাম থেকে মুক্তির পরও আক্রান্ত ব্যক্তি ২-৩ বছর অন্যান্য রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। এর জটিলতা প্রাণঘাতীও হতে পারে। এ জন্য আইসোলেশন, সময়মত টিকা প্রদান এবং সঠিক পরিচর্যা অপরিহার্য।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর