রবিবার, মে ৩, ২০২৬
রবিবার, মে ৩, ২০২৬
26 C
Dhaka

নামাজের ভিতর ভিন্ন চিন্তা আসলে সাহু সিজদা দিতে হবে?

0

হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায়ের কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপরও। এমনকি খোদ মহান আল্লাহর কাছে যথাসময়ে সালাত আদায় করা অধিক প্রিয় একটি আমল।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, একবার আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি (নবীজি সা.) বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? নবীজি (সা.) বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রা.) আবারও জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)

তবে সালাত শুদ্ধ হওয়ার জন্য এর মধ্যে থাকা রোকনগুলো সঠিকভাবে আদায় করা জরুরি। কেননা, উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ৫ ওয়াক্ত সালাত আল্লাহ তা’য়ালা (বান্দার জন্য) ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি এ সালাতের জন্য ভালোভাবে অজু করবে, সঠিক সময়ে আদায় করবে এবং এর রুকু ও খুশুকে পরিপূর্ণরূপে করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে যে, তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যে তা না করবে, তার জন্য আল্লাহর ওয়াদা নেই। ইচ্ছা করলে তিনি ক্ষমা করে দিতে পারেন, আর ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন। (মেশকাত, হাদিস: ৫৭০)

এ ক্ষেত্রে নামাজে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিতে হয়। সাহু সিজদা আদায়ের নিয়ম হলো- শেষ বৈঠকে ‘আত্তাহিয়্যাতু’ পড়ে ডান দিকে সালাম ফেরানোর পর আবারও দু’টি সিজদা করতে হবে। পাশাপাশি দ্বিতীয় সিজদা সম্পন্ন হওয়ার পর আবারও বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ এবং দোয়ায় মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। তবে প্রশ্ন হলো- নামাজের মধ্যে অমনযোগী হলে বা ভিন্ন চিন্তা আসলে সাহু সিজদা দিতে হবে কি?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, নামাজের মধ্যে অনেক সময় অমনযোগী হয়ে ভিন্ন চিন্তা আসায় কেউ কেউ ভুলে যান কত রাকাত সালাত আদায় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাহু সিজদা দিতে হবে। এজন্য যত রাকাতের ব্যাপারে প্রবণ ধারণা হবে, সেটি ধরে নিয়ে পুরো নামাজ সাহু সিজদাসহ আদায় করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, ৪ রাকাত নামাজে ভিন্ন চিন্তা আসার পর কেউ যদি কত রাকাত পড়া হলো সেটি ভুলে যান, তাহলে যদি ৩ রাকাত পড়া হয়েছে এমন প্রবল ধারণা হয়, তবে এটি ধরে নিয়েই বাকি নামাজ আদায় করতে হবে এবং শেষে সাহু সিজদা দিতে হবে। আর যদি দ্বিধা থাকে যে ৩ রাকাতও আদায় হতে পারে, ২ রাকাতও হতে পারে, সে ক্ষেত্রে কমটি ধরে নিয়ে বাকি নামাজ আদায় করে সাহু সিজদা দিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। অর্থাৎ, ৩ রাকাত বা ২ রাকাত নিয়ে দুটোর দিকেই সমান সন্দেহ হলে, কম হিসেবে ২ রাকাত ধরে নিয়ে বাকি নামাজ আদায় করে সাহু সিজদা দিতে হবে।

হাদিসেও এমনটাই এসেছে। যায়েদ ইবন আসলাম (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি তোমাদের কেউ নামাজের মধ্যে সন্দেহে পতিত হয় এবং সে এরূপ দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে যে, সে ৩ রাকাত আদায় করেছে, তখন সে যেন চতুর্থ রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে তা সিজদা সহকারে আদায় করে তাশাহহুদ পাঠের নিমিত্তে বসবে। এরপর তাশাহহুদ পাঠের পর বসা অবস্থায় দু’টি সিজদা দেবে এবং সবশেষে সালাম ফিরাবে (অর্থাৎ, সাহু সিজদা দেবে)। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১০২৭)

ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢামেক চিকিৎসকদের সংঘর্ষ,বন্ধ জরুরি বিভাগ 

0
ঢাকা মেডিকেল
ঢাকা মেডিকেল

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ওষুধ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, ওষুধ কেনাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাবি শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। চিকিৎসক নেতারা জানিয়েছেন, দায়িত্বরত অবস্থায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং কর্মস্থলের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা জরুরি সেবা চালু করবেন না। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে।

 

২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃত্যু হল হামের উপসর্গ নিয়ে

0
হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২৪৮ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮৯ জনের।

এদিকে, একদিনের মৃত্যুর তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামে মারা গেছে ২১ শিশু। এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৯। আর সন্দেহজনক হাম নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ৫৭৭। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ২৪১।

 

৭ ফুটবলার ‘পালালেন’ জাতীয় দলের ম্যাচ শেষ করেই 

0
ইরিত্রিয়া জাতীয় ফুটবল দল
ইরিত্রিয়া জাতীয় ফুটবল দল

দেড় যুগ পর ২০২৭ সালের আফকনে অংশ নিতে বাছাইপর্বে অংশ নিয়েছে ইরিত্রিয়া। কিন্তু চিত্র বদলায়নি, দেশের বাইরে খেলার সুযোগ পেয়েই দেশটির ৭ ফুটবলার পালিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আফ্রিকান এই দেশটি দেশের বাইরে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল ২০১৯ সালে। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে দুই লেগেই হেরেছিল তারা। তবে, সেই সময়ও কয়েকজন ফুটবলার পালিয়ে গিয়ে উগান্ডা আশ্রয় নিয়েছিল।

এই ঘটনার পর আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি ইরিত্রিয়া। ৮ বছর পর গত ২৫ মার্চ আফকনের বাছাইপর্বে এসওয়াতানিয়ার বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পায় ইরিত্রিয়া। পরে ৩১ মার্চ দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পায় দেশটি।

দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি ছিল ইরিত্রিয়ার হোম ম্যাচ। কিন্তু নিজ দেশে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম না থাকায় এই ম্যাচটি হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। ম্যাচ শেষে আর দেশে ফেরেননি ৭ জন ফুটবলার।

রয়টার্সকে ইরিত্রিয়া জাতীয় দলের কোচ হিশাম ইয়াকান বলেছেন, ‘পলাতক ফুটবলারদের বেশিরভাগ বদলি খেলোয়াড়। আমার মনে হয় না তারা আর ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবে। আমার বিশ্বাস, তারা অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার জন্য উন্নত দেশে সুযোগ খুঁজবে।’

এ বিষয়ে জানতে ইরিত্রিয়ার তথ্যমন্ত্রী ইয়েমেন গেব্রেমেসকেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে রয়টার্স। তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে ই-মেইল করা হলে, তারাও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ইরিত্রিয়া ফুটবল ফেডারেশনের একটি সুত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ‘পালিয়ে যাওয়া ফুটলাররা গরিব। প্রথমবার তারা দলের সঙ্গে বিদেশ গিয়েছিল। তারা কাজের মাধ্যমে জীবনযাত্রায় উন্নতি আনতে চায়।’

ভারত ফেরত পাঠাতে সম্মত হয়েছে হাদির হত্যাকারীদের : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

0
হাদির হত্যাকারী
হাদির হত্যাকারী

বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী শ্রী হরদীপ পুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় উভয়পক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।

শহীদ ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করায় ড. খলিলুর রহমান ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্যও বাংলাদেশ পক্ষ তাদের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত বিএনপি সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও উভয়পক্ষের সুবিধার ভিত্তিতে তার পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে।

আলোচনার সময় মন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করা হবে।

সম্প্রতি ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য খলিলুর রহমান মন্ত্রী হরদীপ পুরীকে ধন্যবাদ জানান এবং ডিজেল ও সারের সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

মন্ত্রী পুরী ইঙ্গিত দেন যে, ভারত সরকার এই অনুরোধটি সানন্দে ও অনুকূলভাবে বিবেচনা করবে। উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে আলোচনা করতেও সম্মত হয়।

তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার দিল্লি গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামীকাল ৯ এপ্রিল দুপুরে মরিশাসের উদ্দেশ্যে দিল্লি ছাড়বেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইরান ১০ লাখ ডলার টোল নেবে প্রতিটি জাহাজ থেকে 

0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্কাই নিউজকে বলেন, ‘পয়েন্টগুলো খুব ভালো এবং সেগুলোর বেশিরভাগই চূড়ান্ত হয়েছে। যদি এটি কার্যকর না হয়, তবে আমরা খুব সহজেই আগের অবস্থানে (যুদ্ধে) ফিরে যাব।’তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন আগামী দুই সপ্তাহ নতুন করে খুলে দেওয়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে ১০ লাখ ডলার করে আদায় করতে চাইছে ইরান। খবর ডেইলি মেইলের।

তবে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত ‘টোল’ ধার্য করতে চায় ইরান। কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলা এই সংঘাতের পর দেশ পুনর্গঠনের কাজে এই টোলের টাকা ব্যবহার করবে ইরান।

ইরানের দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রকে প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে হবে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার স্বীকার করতে হবে, ইরানের ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং এই অঞ্চল থেকে সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প এই চুক্তিকে ‘সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার আলোচকদের চুক্তির দিকে এগোনোর নির্দেশ দেওয়ার পরই এটি সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির ‘সবুজ সংকেত’ ছাড়া এই চুক্তি সম্ভব হতো না।

এদিকে, ইরানের এই টোল আদায়ের দাবির পর গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি এখন ‘তেহরান টোলবুথ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, জাহাজ মালিকদের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারী কোম্পানিগুলোকে জাহাজের কার্গো, গন্তব্য এবং মালিকানা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। ইরান প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য অন্তত এক ডলার টোল ধরছে—যা চীনা ইউয়ান বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পরিশোধ করতে হবে। একটি গড়পড়তা তেল ট্যাঙ্কারের জন্য এই চার্জ দাঁড়ায় ২০ লাখ ডলার। সব অনুমোদিত হলে আইআরজিসি-র বোটগুলো সেই জাহাজকে পাহারা দিয়ে পার করে দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী পাঁচ বছরে এখান থেকে ৫০ হাজার কোটি (৫০০ বিলিয়ন) ডলার আয় হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে জট কমাতে সাহায্য করবে এবং এখান থেকে প্রচুর অর্থ আয় হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলে তাদের অভিযানও বন্ধ থাকবে। তিনি তার এক পোস্টে বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা তদারকিতে ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার সুযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও মার্কিন আইনপ্রণেতা ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্ট তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ‘শেষ মুহূর্তের যুদ্ধবিরতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই হঠকারী সিদ্ধান্তগুলোকে মুছে দেয় না, যা আমাদের এই সংকটে ফেলেছে। আমাদের এই অবৈধ যুদ্ধে কখনোই জড়ানো উচিত হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন বিপজ্জনক যুদ্ধবাজ লোক, তিনি আমাদের এই সংকটে ঠেলে দিয়েছেন এবং যুদ্ধাপরাধ করার হুমকি দিয়েছেন।’

মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রাক্তন গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ভিক্টর লাগ্রুন এসব উদ্বেগের প্রতিধ্বনি করে বলেছেন, ‘ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা এবং এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র কী অর্জন করেছে- সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো অস্পষ্ট।’

লাগ্রুন আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের মতো আমিও বিশ্বাস করি, শান্তি একটি ভালো বিষয়; কিন্তু বর্তমান প্রশাসন যেভাবে বারবার সাফল্যের সংজ্ঞাকে পরিবর্তন করেছে (লক্ষ্যমাত্রা বদলেছে), তাতে আমি আশঙ্কা করছি, এই যুদ্ধ আমাদের আরও শত শত কোটি ডলার এবং মার্কিনীদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া অব্যাহত রাখবে।’

যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমেছে। ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৫ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৯৫ ডলারে নেমে এসেছে, যা মঙ্গলবার সকালেও ১১৬ ডলার ছিল।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ সকালে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তিনি এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি এই অঞ্চলের জন্য স্বস্তির মুহূর্ত নিয়ে আসবে। তিনি উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে ‘হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

এদিকে ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ব্যর্থ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের ইতিহাসে এমন রাজনৈতিক বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, ইসরায়েল তখন টেবিলের ধারেকাছেও ছিল না।’

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের মধ্যস্থতায় এবং শেষ মুহূর্তে চীনের হস্তক্ষেপে এই চুক্তিটি সম্ভব হয়েছে। বেইজিং মূলত যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করে তেহরানকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনায় বসবে। যদিও আল জাজিরা ও অন্যান্য সূত্রের মতে, এই পথ খুব একটা সহজ হবে না।

শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে নতুন বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর

0
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক সেমিনারে এ বার্তা দিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে নানা সংকটই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে থামিয়ে না রেখে নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতে বিশ্বযুদ্ধ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিংবা সামাজিক রূপান্তরের মতো ঘটনাগুলো নতুন নতুন শিল্প ও সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একইভাবে বর্তমান জ্বালানি সংকট, যানজট ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও নতুনভাবে ভাবতে হবে। আমরা সবকিছু কেন থ্রেট হিসেবে নেব? আমরা চাইলে এটাকে সুযোগ হিসেবেও নিতে পারি।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও অনেকাংশে পেপারলেস। সংসদ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ—সব জায়গায় ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে। শিক্ষার্থীদেরও সেই বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

এরপর নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব স্কুলে একযোগে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে; যেমন- ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ— এসব স্কুলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে হাইব্রিড পদ্ধতির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যাতে জ্বালানি সাশ্রয়, যানজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রস্তাবিত মডেলে সপ্তাহজুড়ে কিছুদিন অনলাইন এবং কিছুদিন অফলাইন ক্লাস থাকবে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে ট্রাফিক চাপ ও জ্বালানি ব্যবহার হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠক্রমের মধ্যেই থাকবে।

সরকারের নতুন উদ্যোগ সফল করতে শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন, এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন ইত্যাদি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও নমনীয় শিক্ষা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। এজন্য সরকার ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং পরীক্ষামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত গাড়িতে স্কুলে যাতায়াত করে, যা প্রতিদিন বিপুল জ্বালানি অপচয় ও যানজট সৃষ্টি করে। করোনাকালে হঠাৎ করে অনলাইন শিক্ষায় যেতে হয়েছিল, কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য আমাদের আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে।

 

দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া বন্ধ করলে যেসব পরিবর্তন দেখা দেবে শরীরে 

0
দুগ্ধজাত খাবার
দুগ্ধজাত খাবার

কখনও কি ভেবে দেখেছেন, হঠাৎ করে যদি এই পরিচিত খাবারগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখেন, তাহলে শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়? মাত্র ১৪ দিনের জন্য দুধ ও ডেইরি পণ্য বাদ দিলে শরীরের ভেতরে শুরু হয় কিছু চুপচাপ পরিবর্তন কখনও স্বস্তি, কখনও আবার নতুন চ্যালেঞ্জ। এই ছোট্ট সময়েই শরীর আপনাকে জানিয়ে দেয়, আসলে কী তাকে ভালো রাখে আর কী নয়।

অনেক সময়ই আমরা বুঝতে পারি না কোন খাবার আমাদের শরীরের সঙ্গে ঠিক মানাচ্ছে আর কোনটা নয়। তাই অনেকেই এখন ‘ডেইরি-ফ্রি’ ডায়েটকে ছোট্ট এক্সপেরিমেন্ট হিসেবে নিচ্ছেন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক দুধ-দই বাদ দিলে ১৪ দিনে শরীরে কী কী পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

পেট ফাঁপা কমে যেতে পারে

যাদের ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা আছে, তাদের জন্য দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার অনেক সময়ই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পেট ফাঁপা, গ্যাস, এমনকি হালকা ব্যথাও হতে পারে। এই ধরনের সমস্যা থাকলে ডেইরি বাদ দেওয়ার পর বেশিরভাগ মানুষই হালকা ও স্বস্তি অনুভব করেন। যেন হজমতন্ত্র একটু “ব্রেক” পায়।

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে

দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়ামের বড় উৎস। হঠাৎ করে এগুলো বাদ দিলে শরীরে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে যেতে পারে—যা হাড়, পেশি ও স্নায়ুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই—তিল, বাদাম, রাগি, টোফু বা শাকসবজি দিয়ে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব, যদি সচেতনভাবে খাবার বেছে নেয়া যায়।

অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ায় পরিবর্তন

দইয়ের মতো ফারমেন্টেড খাবার আমাদের অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়াতে সাহায্য করে। তাই এগুলো বাদ দিলে অন্ত্রের এই উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। কেউ কেউ এতে ভালো বোধ করেন, আবার কারও হজমে হালকা পরিবর্তন দেখা দেয়। এই সময় প্রোবায়োটিক বা ফারমেন্টেড প্ল্যান্ট-বেসড খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে।

ভিটামিন ডি নিয়ে সতর্কতা দরকার

অনেক দুগ্ধজাত খাবারে ভিটামিন ডি যোগ করা থাকে, যা ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। ডেইরি বাদ দিলে এই ভিটামিনের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়তে পারে, যদিও মাত্র দুই সপ্তাহে বড় সমস্যা হয় না। তবে দীর্ঘমেয়াদে সূর্যালোক, ফোর্টিফায়েড খাবার বা প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্টের দিকে নজর দেয়া জরুরি।

ত্বকে পরিবর্তন আসতে পারে

অনেকের ক্ষেত্রে বেশি দুগ্ধজাত খাবার খেলে ব্রণ বা ত্বকের সমস্যা বাড়তে দেখা যায়। তাই দুই সপ্তাহ ডেইরি বাদ দিলে কারও কারও ত্বক পরিষ্কার হতে পারে, ব্রণ কমে যেতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটা হয় না ত্বকের অবস্থা অনেকটাই নির্ভর করে হরমোন, পানি পান এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের ওপর।

দুধ-দই ছাড়ার এই ছোট্ট অভ্যাস কারও জন্য স্বস্তির, আবার কারও জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আসল বিষয় হলো আপনার শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা। ডেইরি থাকুক বা না থাকুক, খাবারের ভারসাম্যই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেয় আপনি কতটা সুস্থ থাকবেন।

সূত্র: এনডিটিভি

ইরান ও ওমান টোল আদায়ের অনুমতি পেল হরমুজ প্রণালিতে 

0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর আলটিমেটামের প্রেক্ষাপটে এই সমঝোতা হয়, যার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে ইরান ও ওমানকে।

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথে অবস্থিত এই কৌশলগত প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এতদিন আন্তর্জাতিক জলপথ হিসেবে বিবেচিত এই প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল আরোপের নজির ছিল না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, প্রাপ্ত অর্থ ইরান তাদের পুনর্গঠন কার্যক্রমে ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে। তবে ওমান এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি ভৌগোলিকভাবে উভয় দেশের জলসীমার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে বাংলাদেশ সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ইরানের ওপর পরিকল্পিত ‘বিধ্বংসী হামলা’ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হবে। এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগামী শুক্রবার রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে সরাসরি আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়। এই শর্ত পূরণ হলেই দুই সপ্তাহের ‘উভয়মুখী যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর থাকবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, শাহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিশেষ অনুরোধেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে দেয়া শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক প্রস্তাব এবং ইরানের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ১০ দফা পরিকল্পনা এই সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করেছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, শাহবাজ শরিফ বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এতে লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় তিনি এই উদ্যোগকে ‘বিচক্ষণ পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, উভয় পক্ষই অসাধারণ দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুলবুল এবার মুখ খুললেন বিসিবি ও অ্যাডহক কমিটি নিয়ে 

0
আমিনুল ইসলাম বুলবুল
আমিনুল ইসলাম বুলবুল

এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘ত্রুটিপূর্ণ ও আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। নবগঠিক অ্যাডহক কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক ও অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন বুলবুল।

সাবেক এই বিসিবি সভাপতির দাবি, গত ৫ এপ্রিল এনএসসির দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন আইনগতভাবে কোনো ভিত্তি রাখে না। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বৈধ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে বলেও স্পষ্টভাবে জানান তিনি।

এনএসসির তদন্তকে এখতিয়ারবহির্ভূত বলেও মন্তব্য করেন বুলবুল। তিনি বলেন, আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী সদস্য বোর্ডগুলোকে সরকারি হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রেখে পরিচালিত হতে হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে হওয়া এই তদন্তকে তিনি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেন।

তামিমের নেতৃত্বে হওয়া কমিটির বিষয়ে বুলবুলের ভাষ্য, ‘আমরা এই কমিটির কর্তৃত্ব স্বীকার করি না।’বিবৃতির শেষে আমিনুল সতর্ক করেন, সরকারের এই হস্তক্ষেপ বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা নষ্ট হওয়া এবং তরুণ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে আইসিসিকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান সাবেক বিসিবি সভাপতি।