সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫
সোমবার, ডিসেম্বর ১, ২০২৫
21 C
Dhaka

আবুধাবিতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

0

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে উৎসবমুখর পরিবেশে যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দূতাবাস ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেখানকার সব কর্মকর্তার-কর্মচারীসহ বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, জনতা ব্যাংক, বাংলাদেশ বিমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠানের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে দূতাবাসের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর পর বিভিন্ন সংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী সব শহিদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করার মধ্যে দিয়ে আলোচনা সভা শুরু হয়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সংগঠন ও কমিউনিটির নেতারা বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, আজ বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্ব প্রকাশের অবিস্মরণীয় গৌরবময় দিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের কারণে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল ও প্রগতিশীল রাষ্ট্র এবং উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত। এ উন্নয়ন টেকসই করতে হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি এবং দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন রাষ্ট্রদূত।

দুই মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করেছেন জাফর সাদেক

0

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাত্র ১৫ দিনে ইউরোপ মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এলব্রুস এবং আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কিলিমানজারো জয় করেছেন জাফর সাদেক। মাউন্ট এলব্রুসের উচ্চতা ৫ হাজার ৬৪২ মিটার (১৮ হাজার ৫১০ ফুট) এবং মাউন্ট কিলিমানজারোর উচ্চতা ৫ হাজার ৮৯৫ মিটার (১৯ হাজার ৩৪১ ফুট)।

জাফর সাদেকের জন্ম কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামে। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত। ঢাকা কলেজে বাংলা সাহিত্যে অধ্যয়নের সময় ভ্রমণের দিকে আকৃষ্ট হন তিনি। বাংলাদেশের পাহাড়গুলোতে ঘোরাঘুরি করে পর্বতারোহণে মনোনিবেশ করেন। তার লক্ষ্য—সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গে অভিযান করা। তারই অংশ হিসেবে গত ২৭ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ১৫ দিনে ইউরোপের এলব্রুস এবং আফ্রিকার কিলিমানজারো জয়ের মাধ্যমে সেভেন সামিটের প্রথম পদক্ষেপ শেষ করেছেন তিনি।

এর আগে এত অল্প সময়ে বাংলাদেশের কেউ মাউন্ট এলব্রুস এবং কিলিমানজারো পর্বতশৃঙ্গে উঠতে পারেননি। ২০২৪ সালে দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত একঙ্কাগুয়া এবং ওশেনিয়া মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কারস্টেন পিরামিডে অভিযানের পরিকল্পনা আছে জাফর সাদেকের।

চলুন, জাফর সাদেকের মুখে শুনি মাউন্ট এলব্রুস ও মাউন্ট কিলিমানজারোর চূড়ায় পা রাখার অভিজ্ঞতা।

মাউন্ট এলব্রুস:
সেভেন সামিটের প্রথম পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত জুলাই মাসের ২১ তারিখ ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশের দুটো সর্বোচ্চশৃঙ্গ জয়ের উদ্দেশ্যে বের হন জাফর। ২৪ ঘণ্টা বিরতিহীন ভ্রমণ শেষে রাশিয়ার এলব্রুস সিটির ছিগেটের স্নো লেপার্ড হোটেলে আপাতত যাত্রাবিরতি। এখানে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে পিচঢালা পথের দুই পাশে পাইনগাছের সারি। এর চতুর্দিকে সর্পিলাকারে বয়ে চলেছে আজাউ হিমবাহের বরফগলা বকসান নদী। চার পাশে সুউচ্চ পর্বতের চূড়ায় বিকেলের নরম রোদ প্রতিফলিত হয়ে নয়নাভির দৃশ্যের অবতারণা করেছে। এই সৌন্দর্যের টানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযাত্রীরা এখানে ভিড় করেন।

আমার এবারের গন্তব্য ইউরোপ মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এলব্রুস। এলব্রুস জর্জিয়ার সীমান্তের কাছে রাশিয়ার কাবারডিনো বলকানিয়া রিপাবলিকের পশ্চিম ককেশাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ চূড়া। এটি ইউরোপ মহাদেশেরও সবচেয়ে উঁচু শৃঙ্গ। মূল অভিযানে যাওয়ার আগে অতি উচ্চতায় ট্রেকিং করে আবহাওয়ার সাথে শরীরকে অভিযোজন করতে হয়। অতি উচ্চতায় পাতলা বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকে। ফলে, ফুসফুসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় নানা রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। এজন্য পর্বতারোহীদের ‘ক্লাইম্ব হাই, স্লিপ লো’ নিয়ম মেনে চলতে হয়।

গত ২৩ জুলাই সকালে রুকস্যাক কাঁধে ছিগেট পাহাড়ের দিকে বেরিয়ে এলাম। মৃদু বাতাসে শরীর ও মন আন্দোলিত। পথের চার পাশে রঙ-বেরঙের ফুলের সমারোহ। জর্জিয়ার সীমান্তঘেঁষা কোকোতাইবা পর্বতের নিচে একটা জলপ্রপাত বয়ে চলেছে। অন্য পাশে গ্লেশিয়ার লেক। এই লেকের পাশ দিয়ে দুই ঘণ্টা ট্রেকিং শেষে ১০ হাজার ৫০ ফুট উচ্চতার ছিগেটের চূড়ায় পৌঁছে আজকের হাইকিংয়ের সমাপ্তি।

দ্বিতীয় দিন আজাউ হিমবাহের পাদদেশে ১২ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতার এলব্রুস লেকের পাশে হাইকিং করলাম। এই হিমবাহ থেকে বকসান নদীর উৎপত্তি। এক্লামেটাইজ হাইকিং শেষে ২৫ জুলাই এলব্রুস পর্বতের হাইক্যাম্প গ্যারা বাসিতে পৌঁছালাম। চমৎকার রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার ফলে ককেশাস পর্বতমালার চূড়াগুলো জ্বলজ্বল করছিল। আমাদের পাঁচ সদস্যের টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আলেকজান্ডার এলেক্স। আইসবুট, আইসএক্স, হারনেস, ক্রাম্পনসহ পর্বতারোহণের টেকনিক্যাল গিয়ার পরিহিত অবস্থায় রোপের সাথে এঙ্কর করে এলব্রুস পর্বতের দক্ষিণ প্রান্তে শোল্ডার পর্যন্ত উঠে পুনরায় বেসক্যাম্পে ফিরে এলাম। দলের সবাই এক লাইনে আর গাইড এলেক্স সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

বেজ ক্যাম্পে প্রত্যাবর্তনের পর এলেক্স আবহাওয়ার খোঁজ-খবর নিয়ে আমাদের জানিয়ে দিলো, আজকে রাতেই সামিটের জন্য পারফেক্ট উইন্ডো। তাই সন্ধ্যা ৬টায় ডিনার সেরে আমাদের বিশ্রামের পরামর্শ দিলো। শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে এলব্রুস হাইক্যাম্পে সাজ সাজ রব শুরু হয়ে গেছে। দলে দলে অভিযাত্রীরা বেরিয়ে এসেছে। আকাশে এক ফালি চাঁদ। তার আলোয় ককেশাস পর্বতমালার গিরিশিরাগুলো জ্বলজ্বল করছিল। নিচে আজাউ গ্লেসিয়ার গলে সর্পিলাকারে বয়ে চলা বকসান নদী। চরাচরের গহীন নিরবতায় কান পাতলেই তার কলকল ধ্বনি শোনা যায়। জর্জিয়া-রাশিয়ার সীমান্তে এশিয়া থেকে ইউরোপকে বিচ্ছিন্নকারী দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ককেশাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আমায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে আমাকে যেতে হবে এলব্রুসের চূড়ায়।

২৭ আগস্ট রাত দ্বিপ্রহরে আমরা সামিটের জন্য তৈরি হয়ে হাইক্যাম্প থেকে বেরিয়ে এলাম। বাইরের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে মাইনাস ১৮/২০! তার সাথে তীব্র বাতাস মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইসবুটে ক্রাম্পন বাঁধার জন্য হাতের গ্লাভস খুলতেই ঠান্ডায় হাতটা জমে গিয়েছে। এই হাত দিয়ে কোনোভাবেই ক্রাম্পনের ফিতা শক্ত করে বাঁধতে পারছি না। দূর থেকে এলেক্স এটা বুঝতে পেরে বলল, ‘দ্রুত গ্লাভস পড়ে নাও, আমি বিষয়টা দেখছি।’

রাত ২টার দিকে এলব্রুস সামিটের উদ্দেশে রওয়ানা দিলাম। মাশরুমের মতো নরম বরফের ওপর দিয়ে খাড়া উপড়ে ওঠার কষ্ট বোঝানো কঠিন। দাঁতে দাঁত চেপে বরফের দেয়াল বেয়ে গন্তব্যের দিকে ছুটছিলাম। কয়েকশ পর্বতারোহী দলে দলে ভাগ হয়ে একই গন্তব্যে ঊর্ধশ্বাসে ছুটছে। রাতের আঁধার শেষে পূর্বাকাশে আবির রঙের খেলা চলছে। সূর্যোদয়ের প্রাক্কালে নিস্তব্ধ প্রকৃতি তার রঙ-রূপ আর সৌন্দর্যের ডালি মেলে ধরেছে। এই সৌন্দর্যের উৎস কোথায়, কেউ জানে না।

ককেশাস পর্বতমালায় সেদিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সূর্যোদয়ে দৃশ্য অবলোকন করার সময় প্রমিথিউসের কথা মনে পড়ল। পৌরাণিক কাহিনী মতে, স্বর্গ থেকে আগুন চুরি করে মানব সভ্যতাকে এগিয়ে দেওয়ার অপরাধে প্রমিথিউসকে শিকলে বেঁধে ককেশাস পর্বতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিদিন সকালে একটা ঈগল প্রমিথিউসের বুক ছিড়ে কলিজা বের করে নিয়ে যায়। রাতে পুনঃপ্রতিস্থাপন করা হয়। এভাবেই অনন্তকাল চলবে। এসব ভাবনার মধ্যে আমি এলব্রুসের পাদদেশে পৌঁছে গেলাম। এখানে অভিযাত্রীদের জটলা। ৪০০ মিটার ফিক্সড রোপে ক্যারাবিনার মাধ্যমে নিজেকে আটকে রিজলাইন ধরে চূড়ার দিকে সাবধানে এগিয়ে যেতে হবে। এই এলাকায় প্রায়ই বরফধ্বসের কারণে পর্বতারোহীগণ দুর্ঘটনায় পতিত হণ। একটু পা হড়কালেই কয়েক হাজার ফিট নিচে পতন হওয়ার আশঙ্কা। ফিক্সড রোপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতেই দেখি, একটা টিম চূড়ায় উঠে গেছে। এই সেই কাঙিক্ষত গন্তব্য। বহুদিনের স্বপ্ন পূরণের স্থান থেকে আমি মাত্র কয়েক কদম দূরে। রুকস্যাক থেকে লাল-সবুজের পতাকাটা আইসএক্সে বেঁধে উড়িয়ে দিলাম। কয়েক কদমের দূরত্ব যেন শেষ হয় না। সময় এখানে থমকে গেছে! সবকিছু ধীর গতিতে চলছে। ২৭ জুলাই সকাল ৯টা ৩৮ মিনিটে আমি ৫ হাজার ৬৪২ মিটার (১৮ হাজার ৫১০ ফুট) উচ্চতায় এলব্রুসের চূড়ায় পৌঁছালাম। এ যেন এক মিলনমেলা! যুদ্ধজয়ের পর রণাঙ্গনের সৈন্যরা যেমন আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন, তেমনই বিভিন্ন দেশের অভিযাত্রীরা একে অন্যকে অভিবাদন জানিয়ে নিজ নিজ দেশের পতাকা হাতে ফটাফট কিছু ছবি তুলে সময়টাকে বন্দি করে রাখার বৃথা চেষ্টা করছিলাম। কে যেন কানে কানে বলে গেলো, এখানে থেমো না, যেতে হবে বহুদূর। সত্যিই তো বহু পথ এখনো বাকি। দ্রুত নেমে আমাকে যেতে হবে আফ্রিকার পথে।

মাউন্ট কিলিমানজারো:
এলব্রুস অভিযান শেষে পরবর্তী গন্তব্য আফ্রিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত কিলিমানজারো। কিলিমানজারো পূর্ব আফ্রিকার তানজানিয়া-কেনিয়া সীমান্তে অবস্থিত একটা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি। কিলিমানজারো পর্বতের পাদদেশ থেকে শীর্ষ পর্যন্ত পাঁচটি ভিন্ন জলবায়ু স্তর দেখা যায়। পাদদেশের সন্নিকটে আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ এবং বছরজুড়ে স্থিতিশীল থাকে। প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত চাষাবাদযোগ্য আবহাওয়া বিদ্যমান। এর পর শুরু হয় রেইনফরেস্ট স্তর। এখানের তাপমাত্রা কিছুটা উষ্ণ এবং বায়ু আর্দ্র থাকে। প্রায় ২ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতার পর শুরু হয় জলাভূমি জলবায়ু স্তর। রেইনফরেস্ট থেকে এর বাতাস শুষ্কতর এবং তাপমাত্রা কম। এর পর থেকে প্রতিটি স্তরে তাপমাত্রা কমতে থাকে এবং বাতাস শুষ্ক হতে থাকে। ৪ হাজার মিটার উচ্চতায় শুরু হয় মরু জলবায়ু। এখানে প্রাণের কোনো নামগন্ধ নেই। ৫ হাজার মিটার থেকে পর্বতের চূড়া পর্যন্ত আর্কটিক জলবায়ু স্তর বিদ্যমান। এই স্তর পাথুরে এবং বরফে আচ্ছাদিত। এমন বিচিত্রভাবে স্তরে স্তরে জলবায়ুর ভিন্নতা একে অনন্য করে তুলেছে। কিলিমানজারোর আরেকট বিচিত্র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই পর্বতে যাওয়া জন্য ছয়টি রুট আছে। প্রতিটি রুটের শুরুতে রেইন ফরেস্ট তারপর মোরল্যান্ড এবং সর্বশেষ আল্পাইন ডেজার্ট পেরিয়ে কিলিমানজারোর চূড়ার পাদদেশে হাইক্যাম্প থেকে সামিটের উদ্দেশ্যে যেতে হয়।

প্রাচীন যুগ থেকে কিলিমানজারো পর্বত অঞ্চলে বিভিন্ন জাতি বসবাস করে আসছে। ওয়াকোনিঙ্গো, বান্টু পিগমিসহ আরও কয়েকটি ক্ষুদ্র জাতি এখানে বসতি স্থাপন করেছিল। একসময় উম্বু জাতির আক্রমণে ওয়াকোনিঙ্গোরা এখান থেকে পালিয়ে যায়। এখানে ওয়াঙ্গাসা নামক আরেকটি জাতির স্থাপনা পাওয়া যায়। আদিকাল থেকে এরা কিলিমানজারো অঞ্চলে বসবাস করছে, এমন দাবি করে এই জাতি। তার পর ৪০০ বছর পূর্বে এখানে ওয়াচাগা জাতির আগমন ঘটে। বহু বছরের যুদ্ধ, বিবাদের পর একসময় এরা সকলে এক নেতার নেতৃত্বে চাগা জাতি হিসেবে একতাবদ্ধ হয়।

কিলিমানজারোতে ছিল বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ অভিযান। ১ আগস্ট মস্কো থেকে তানজানিয়ার পথে বের হওয়ার আগেই খবর পেলাম, ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে মুজিব ভাই এবং কলকাতা থেকে লক্ষ্মী দিদি তানজানিয়ার রাজধানী দার-এস-সালামে পৌঁছেছেন। এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি মোশি শহরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হলো মারাঙ্গু গেট দিয়ে আমরা কিলিমানজারো আরোহণ করব।

আমাদের তিন সদস্যের অভিযাত্রীর সাথে প্রধান গাইড ছিল মোদি। তার সাহযোগী হামিদ এবং তিনজন পোর্টার, পাচকসহ সাত সদস্যের সাপোর্ট স্টাফ। ৭ আগস্ট সকাল ১০টায় মারাঙ্গু গেট থেকে মানদারা হাটে যাওয়ার সময় পুরো পথটা ছিল বৈচিত্র্যময় রেইন ফরেস্ট। এত ঘন জঙ্গল যে, কোথাও কোথাও সূর্যালোক পৌঁছাতে পারে না। সাদা বানর, হনুমান আর পাখির কিচিরমিচির গানে চারপাশ মাতোয়ারা। বন্য প্রাণিরা ঝিরিতে পিপাসা নিবারণে মত্ত। তাদের কোনোদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। জলপ্রপাতে গড়িয়ে পড়া জলের শব্দ সঙ্গীতের দ্যোতনা সৃষ্টি করেছে।

রেইন ফরেস্ট পেরিয়ে দ্বিতীয় দিনের গন্তব্য হরম্বো হাট। এখানে মোরল্যান্ড প্রকৃতিতে এক আশ্চর্য রঙের খেলা। গাছপালা সাইজে ছোট হয়ে গেছে। বাহারি ফুল ফুটে আছে। কখনো মেঘ এসে সবকিছু ঢেকে দিচ্ছে। দৃষ্টিসীমায় কিছুই দেখা যায় না ।মোরল্যান্ড পাড়ি দিয়ে চলে আসলাম আল্পাইন ডেজার্ট এরিয়ায়। বৃক্ষহীন বিরান মরুভূমিতে মুক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে উহুরু পর্বতচূড়া, অন্য পাশে পাথুরে মাওয়েনজি পর্বত। ১০ আগস্ট পড়ন্ত বিকেলে ৪ হাজার ৭৫০ মিটার উচ্চতায় কিবো হাটে পৌঁছালাম। রাংগাই এবং মারাঙ্গুর পথে যারা এসেছে, তাদের সবার হাইক্যাম্প কিবো হাট। তাই, এখানে অভিযাত্রীদের জটলা তুলনামূলক বেশি। মোদি চৌকস গাইড এবং আমুদে প্রকৃতির লোক। তার কাছ থেকে তানজানিয়ার ওয়াকোনিঙ্গো, বান্টু পিগমি, উম্বু, ওয়াঙ্গাসা, চাগাসহ বিভিন্ন উপজাতির ইতিহাস, আফ্রিকান উপকথা, কিংবদন্তি এবং রূপকথার গল্প শোনা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত তানজানিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতিগোষ্ঠী হিসেবে চাগা জাতির নাম উচ্চারিত হয়। জার্মান উপনিবেশকালে এই জাতির সদস্যরা পশ্চিমা সংস্কৃতির স্পর্শে অনেকটাই নিজস্ব রীতি-ঐতিহ্য থেকে সরে আসে। তবে, এখনও এরা নিজেদের চাগা হিসেবে পরিচয় দেয়। চাগা সমাজে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে কলা এবং কফি। বহুকাল ধরে প্রাচীন বিনিময় প্রথা প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে এরা মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য করা শুরু করেছে।

বিকেল হলেই অভিযাত্রীদের মনোরঞ্জনের জন্য গাইড-পৌর্টাররা গানের আসর জমাতো। নাচ-গানের মাধ্যমে অতি উচ্চতায় ট্রেকিংয়ের ক্লান্তি ভুলে যেতাম। ডিনারের পর মোদি জানালো, আজকে রাতেই আমরা সামিটে যাব। চারদিকে সাজ সাজ রব উঠেছে। মধ্যরাতে হাইক্যাম্প থেকে বেরিয়ে দেখি, চাঁদের আলোয় ঝলমল করছে চারপাশ। হাজার হাজার মাইল দূর থেকে নক্ষত্রেরা মিটিমিটি জ্বলছে। হেডল্যাম্পের আলোতে অভিযাত্রীরা ছুটছে আপন গন্তব্যে। গিলমান্স পয়েন্টের সামনে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়ের দৃশ্য অবলোকন করছিলাম। এই সৌন্দর্যের বর্ণনা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। ২০০মিটার ট্রেকিং করলেই গন্তব্যে পৌঁছে যাব। গিলমান্স থেকে স্টেলা পয়েন্ট, গ্লেশিয়ার পেরিয়ে ১১ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে ৫ হাজার ৮৯৫ মিটার (১৯ হাজার ৩৪১ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত কিলিমানজারোর সর্বোচ্চ পয়েন্ট উহুরু পর্বতের চূড়ায় পৌঁছলাম।

এলব্রুস থেকে কিলিমানজারো—দীর্ঘ পথের পরিক্রমা। মাত্র পনের দিনে ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের দুটি সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় আরোহণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কঠিন বিষয়। আমি সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি বলেই হয়ত প্রকৃতি সদয় হয়ে আমায় গন্তব্যে পৌঁছানোর সকল বন্দোবস্ত করে দিয়েছিল।

চাকা সাহিত্য সম্মান পুরস্কার পেলেন যারা

0

কবি বিনয় মজুমদার স্মরণে প্রবর্তিত চাকা সাহিত্য সম্মান প্রদান করেছে কবি বিনয় মজুমদার স্মৃতিরক্ষা কমিটি ও কবি বিনয় মজুমদার সাধারণ গ্রন্থাগার।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) কবি বিনয় মজুমদারের ১৮তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ঠাকুরনগরের শিমুলপুরে কবির নিজ বাসভবন বিনোদিনী কুঠিতে আয়োজিত সাহিত্য-সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।

এ বছর চাকা সাহিত্য সম্মান পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশের কবি ও সম্পাদক এহসান হায়দার। এছাড়াও বিনয় স্মারক সম্মান পেয়েছেন হিন্দোল ভট্টাচার্য। সেঁজুতি বড়ুয়া পেয়েছেন একুশ সাহিত্য সম্মান। সুদীপ সিংহ শুকচাঁদ সরকার পুরষ্কার ও ড. বাসুদেব মণ্ডল পেয়েছেন বিনয় মেধা সম্মান পুরষ্কার।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এহসান হায়দার এবং পশ্চিমবঙ্গের কবি, শিক্ষক, সম্পাদক স্নিগ্ধদীপ চক্রবর্তীর যৌথ সম্পাদনায় জীবন-শিল্পের প্রতিমা বিনয় মজুমদারের অভূতপূর্ব কর্ম ও জীবন নিয়ে দুই বাংলার প্রখ্যাত ও বিনয় জীবদ্বশায় সম্পৃক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের স্মৃতি-বিস্মৃতি, কথামালা আর বিশ্লেষণ, নিবেদন নিয়ে এক মলাটের মধ্যে সময়ের বৃহৎ ও সমৃদ্ধ সংকলন ‘এক আশ্চর্য ফুল বিনয় মজুমদার’ প্রকাশিত হয়েছে। বলা যায় বিনয়প্রেমিদের জন্য দুর্লভ গ্রন্থও।

গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রন্থ সম্পাদনা ও বিনয় মজুমদার প্রসঙ্গে সম্পাদক এহসান হায়দার বলেন, ‘অনেক বছরের প্রচেষ্টা ছিল এই গ্রন্থ। এটির মধ্যে দিয়ে নতুনভাবে কবি বিনয় মজুমদারের কবিতার জগতকে জানা যাবে। তার জীবন-কর্ম একটি বিস্ময়। যারা কবিতা ভালোবাসেন শুধুমাত্র তারা নয়- গ্রন্থটি অন্যদের নিকটও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কারণ বিনয় শুধু কবি নন, তিনি একজন গণিতজ্ঞও। বিনয়ের সমাজ ভাবনা, কাব্যভাবনা সাধারণকেও চমৎকৃত করতে পারে, আকৃষ্ট করতে পারে- তার কবিতার শব্দ চয়ন এবং বিনয় দর্শনের গভীর থেকে ভাবলে তাই-ই ঘটে। চাকা সাহিত্য সম্মান পুরস্কার আমার কাজের সম্মানসূচক। আনন্দ হচ্ছে না তা বলবো না-তারচেয়ে বেশি সম্মানবোধ করছি।’

বিজয়ের দিনে বাংলাদেশের মেয়েদের ইতিহাসগড়া জয়

0

এক বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে পৃথিবীর মানচিত্রে জাতি নিজেদের জন্য বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাম সংযোজিত করেছিল। সেই ১৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। ঘড়ির কাটায় এ দেশে এখন ১৭ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহর হলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বাফেলো পার্কে এখনো ঠিক ১৬ ডিসেম্বরই আছে। বিজয়ের এমন দিনেই ঐতিহাসিক এক বিজয় উপহার দিলো বাংলাদেশের মেয়েরা।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্ক স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে মুর্শিদা খাতুনের ১০০ বলে অপরাজিত ৯১ রানে ভর করে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পুঁজির রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ২৫০ রান তোলে টাইগ্রেসরা।

পরে বোলিংয়ে নেমে প্রোটিয়া ব্যাটারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মাতলেন নাহিদা-ফাহিমারা। বাংলাদেশের বোলিং তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডার। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরা অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ১৩১ রানে। ১১৯ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

এই সংস্করণে রানের হিসাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় এটি। ২০১১ সালে সাভারের বিকেএসপিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে ৮২ রানে জয় ছিল আগের রেকর্ড।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৯ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এটি তৃতীয় জয়, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম। ২০১২ সালে মিরপুরে ২ উইকেটে ও ২০১৭ সালে কক্সবাজারে জয় ছিল ১০ রানে।

ইষ্ট লন্ডনে শনিবার এই সংস্করণে নিজেদের সর্বোচ্চ ২৫০ রান বাংলাদেশ করে স্রেফ ৩ উইকেট হারিয়ে। ২০২২ বিশ্বকাপে হ্যামিল্টনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩৪ রান ছিল আগের রেকর্ড।

বাংলাদেশের স্পিনারদের দাপটে দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে যায় ১৩১ রানে। ১০০ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৯১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে রেকর্ড গড়া জয়ের নায়ক মুর্শিদা।

১২ চারে সাজানো ইনিংসে ম্যাচের সেরাও তিনি।

একটি রেকর্ডও গড়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। তার ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে এসেছে ৪৮ রান, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের যা সর্বোচ্চ। মুর্শিদা ছাড়িয়ে গেছেন সালমা খাতুনকে। ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে সালমার ৭৫ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে এসেছিল ৪৪ রান।

ব্যাটিংয়ে ৪৮ বলে ৩৮ রানের কার্যকর ইনিংসের পর উইকেটের পেছনে স্পিনারদের বলে তিনটি ক্যাচ নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন অধিনায়ক নিগার।

শেষের মতো ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটাও হয় এ দিন ভালো। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শামিমা সুলতানা ও ফারজানা হকের নৈপুণ্যে প্রথম ১৪ ওভারে আসে বিনা উইকেটে ৬৬ রান। ওই স্কোরেই পরের ওভারে শুরুর জুটি ভাঙে শামিমার বিদায়ে (৪৮ বলে ৩৪)।

দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে দলের স্কোর একশ পার করেন ফারজানা ও তিনে নামা মুর্শিদা। শামিমার মতো ফারজানাও থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৫ রান করতে তিনি খেলেন ৭৬ বল।

এরপরই ইনিংসের সেরা জুটি বাংলাদেশ পায় মুর্শিদা ও অধিনায়ক নিগারের সৌজন্যে। মুর্শিদা ফিফটি পূর্ণ করেন ৬০ বলে। ছাড়িয়ে যান তার আগের সেরা ৫৪ রানকে।

ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে আগেই থামেন নিগার। তার বিদায়ে ভাঙে ৮৭ বলে ৮০ রানের জুটি। চতুর্থ উইকেটে স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে ৫৩ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলের স্কোর আড়াইশতে নিয়ে যান মুর্শিদা। স্বর্ণা ২৮ বলে ২ চারে করেন ২৭ রান।

বোলিংয়েও বাংলাদেশের শুরুটা হয় দারুণ। দ্বিতীয় ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক লরা উলভার্টকে ফিরিয়ে দেন সুলতানা। উইকেটের পেছনে ক্যাচ নেন নিগার। পরের ওভারে দারুণ ডেলিভারিতে আরেক ওপেনার তাজমিন ব্রিটসকে এবিডব্লিউ করে দেন পেসার মারুফা আক্তার।

তৃতীয় উইকেটে ৪১ রানের জুটি গড়ে ফেলেন আনেকা বোশ ও সুনে লুস। পাওয়ার প্লের পর নাহিদা ও রাবেয়া আক্রমণে আসার পর ফের একটু পরপরই উদযাপনের উপলক্ষ পায় বাংলাদেশ।

আনেকাকে নিগারের ক্যাচ বানিয়ে জুটি ভাঙেন নাহিদা। এরপর তিনি বিদায় করেন লুসকেও। রাবেয়া নিজের পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন নাদিনে ডি ক্লার্ক ও ডেলমি টাকারকে।

ফাহিমা আক্রমণে আসেন ২৫তম ওভারে। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ধরেন জোড়া শিকার। দারুণ এক ডেলিভারিতে সিনালো জাফটাকে বোল্ড করার পরের বলে ননকুলেকো এমলাবাকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান তিনি।

একশর আগে ৮ ব্যাটারকে হারানোর পর মার্কসের ইনিংস সেরা ৩৫ রানের সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয়ের ব্যবধানই কমে শুধু।

এই সফরে এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জয় দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল এই সংস্করণে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েদের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় এবং দেশটির মাটিতে প্রথম জয়।

এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ওয়ানডে জয়ও ধরা দিল। সেটি এলো আবার বাংলাদেশের বিজয় দিবসে।

আগামী বুধবার সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে পচেফস্ট্রুমে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নামবে বাংলাদেশ দল।

দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক আওয়ামী লীগের

0

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়ে দুই ঘণ্টা অভ্যন্তরীণ বৈঠকে করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে সন্ধ্যায় আরও এক দফা অভ্যন্তরীণ বৈঠক করে দলটি।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আধা ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করে আওয়ামী লীগ।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে রাত পৌনে নয়টায় আবারও আলোচনার টেবিলে বসে ক্ষমতাসীনরা। বৈঠক শেষ হয় রাত পৌনে ১১টায়।

সূত্র জানিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কার্যালয়ে আসেন। এরপর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।

প্রায় আধা ঘণ্টার মতো বৈঠক করে নেতারা কার্যালয় ত্যাগ করেন।

রাত পৌনে ৯টার দিকে আবার আসেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সালমান এফ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত ও উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান।

রাত পৌনে ১১টায় বৈঠক শেষ করে বের হয়ে যান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ সময় গণমাধ্যমকর্মীরা অপেক্ষমাণ থাকলেও বৈঠকের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি।

গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মৃত্যু!

0

কলকাতায় ২০২২ সালে নজরুল মঞ্চে পারফর্ম করার সময় গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছিল গায়ক কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ ওরফে কেকে’কে। ঠিক একই ঘটনার যেন আবারও পুনরাবৃত্তি হলো!

মাত্র ৩০ বছর বয়সী গায়ক পেড্রো হেনরিক গান গাইতে উঠেছিলেন মঞ্চে। বাহারি আলো আর লাইভ মিউজিকে মজেছিলেন দর্শক। কিন্তু সেই সময়েই হাতে মাইক নিয়ে মঞ্চেই পড়ে যান পেড্রো।

সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

পেড্রো হেনরিকের অকালমৃত্যুতে শোকে পাথর তাঁর প্রিয়জনেরা। প্রকাশিত হয়েছে এক শোকবার্তাও। তাতে লেখা, ‘পেড্রো এক হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। একজন ভাল স্বামী ও একজন ভাল বাবাও ছিলেন একই সঙ্গে। তোমার গলায় গান বাঁচিয়ে রাখবেন তোমার স্ত্রী ও তোমার শিশু সন্তান।’

গায়কের পরিবার ও প্রিয়জন দ্রুত এই গভীর ক্ষত সারিয়ে উঠুন এমনটাই চাইছেন তাদের শুভানুধ্যায়ীরা। সামাজিক মাধ্যমেও গায়কের স্মরণে নিজেদের শোক প্রকাশ করছেন অনুরাগীরা।

প্রয়াত হেনরিক মৃত্যুকালে তাঁর স্ত্রী সুইলান ব্যারেটো এবং তাঁর ২ মাস বয়সী কন্যা জোকে রেখে গেছেন। তাঁর শেষকৃত্য হবে পোর্তো সেগুরো শহরে, যেখানে গায়ক জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি সাও পাওলোর গুয়ারুলহোসে থাকতেন।

কুয়েতে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা

0

আমির শেখ নওয়াফ আল-আহমাদ আল জাবের আল-সাবাহর মৃত্যুতে তিনদিন সরকারি ছুটিসহ ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে কুয়েত। খবর খালিজ টাইমসের।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয় আমির শেখ নওয়াফের। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন আমির হিসেবে তার সৎ ভাই মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর নাম ঘোষণা করা হয়। ৮৩ বছর বয়সী মিশাল দেশটির ক্রাউন প্রিন্সের দায়িত্বে ছিলেন।

কুয়েতের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা কুয়েত নিউজ এজেন্সি (কুনা) জানিয়েছে, আগামী বুধবার (২০ ডিসেম্বর) থেকে আবারও সরকারি অফিসের কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া আগামী ৪০ দিন রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন দেশের সব প্রতিষ্ঠানে পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

আলাদা এক ঘোষণায় কুয়েতের রয়্যাল কোর্ট প্রয়াত আমির শেখ নওয়াফের নামাজে জানাযা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে। রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বিলাল বিন রাবাহ মসজিদে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শেখ নওয়াফের জানাযা হবে। এরপর তাকে দাফন করা হবে। ওই সময় শুধুমাত্র তার পরিবারের সদস্যরা থাকবেন।

এদিকে আল সাবাহর মৃত্যুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) দেশটিতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। এছাড়াও কুয়েতের আমিরের মৃত্যুতে ভারতেও একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) ৮৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয় শেখ নওয়াফের। ২০২০ সালে তিনি আমির হয়েছিলেন। মাত্র তিন বছর ক্ষমতায় থাকার পর তিনি পরলোক গমন করেন।

তার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন আমির হিসেবে তার সৎ ভাই মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহর নাম ঘোষণা করা হয়। ৮৩ বছর বয়সী মিশাল এর আগে দেশটির ক্রাউন প্রিন্সের দায়িত্বে ছিলেন।

মোহাম্মদপুরে দোকানে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১

0

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা উদ্যান এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে শফিক (৬০) নামে একজন নিহত হয়েছে।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) আহত অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুল হক ভূঞা বলেন, মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় ভোলা টেলিকম নামে একটি দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শফিক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, শফিক ঢাকা উদ্যান এলাকায় থাকতেন। তার বাড়ি ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন থানার রামকেশব গ্রামে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার রাকিব হাসান জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কন্ট্রোল রুমে খবর আসে ঢাকা উদ্যান এলাকায় একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় দোকানে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় মাহিকে শোকজ

0

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে শোকজ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী ও তানোর) আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু সাঈদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে তাকে শোকজ করা হয়।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের অনলাইন ভার্সনে ‌‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোট চাচ্ছেন মাহি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন মাহি। এসব ছবিতে দেখা যায়, এলাকায় ভোট চাইছেন ঢাকাই এই চিত্রনায়িকা।

কারণ দর্শানোর জন্য তাকে আগামী ১৭ ডিসেম্বর রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী ও তানোর) আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম-জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু সাঈদের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেয়া এক ভিডিওবার্তায় মাহি বলেন, ‘কিছু কিছু নিউজ পোর্টাল খবর প্রকাশ করেছে যে, আমি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মাঠে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছি। তবে বিষয়টি এমন নয়।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবার উদ্দেশে বলতে চাই- ফেসবুকে আমি একটি পোস্ট করেছি। যেখানে ক্যাপশনে লেখা- গোদাগাড়ী উপজেলা, চরআষাঢ়দহ ইউনিয়ন, রাজশাহী ও শেষে ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩। মূলত গোদাগাড়ী উপজেলার চরআষাঢ়দহ ইউনিয়নের জনসাধারণের সঙ্গে দেখা করতে গেছিলাম আমি। এটি বিচ্ছিন্ন একটি গ্রাম। সেখানের কেউ আমাকে চেনে না। আমি তাদের সঙ্গে পরিচিত হতেই সেখানে গেছিলাম। তবে সেখানে গিয়ে আমি কোনো ভোট চাইনি।’

দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি

0

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে থাকা সকল বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের এই দিনে আমরা অর্জন করেছি কাঙ্ক্ষিত বিজয়। আমরা পেয়েছি একটি সার্বভৌম দেশ, স্বাধীন জাতিসত্তা, পবিত্র সংবিধান, নিজস্ব মানচিত্র ও লাল-সবুজ পতাকা।

বিজয়ের আনন্দঘন এদিনে আমি দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই বিজয়ের শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভিনন্দন।

তিনি বলেন, আমি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা।

আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, বিদেশি বন্ধু, যুদ্ধাহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে, যারা আমাদের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। জাতি তাদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। তবে এ অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনা, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের করুণ ইতিহাস। ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে তা পূর্ণতা পায়।

তারই নেতৃত্ব ও দিক নির্দেশনায় পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।

বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য ছিলো রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সদ্যস্বাধীন দেশে ফিরে জাতির পিতা সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। ডাক দিয়েছিলেন কৃষি বিপ্লবের। আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন দুর্নীতি, কালোবাজারি, মুনাফাখোরী, লুটেরাদের বিরুদ্ধে।

কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী ঘাতকচক্রের হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাসহ তার পরিবারের আপনজনদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে উন্নয়নের সেই অভিযাত্রা থমকে দাঁড়ায়। রুদ্ধ হয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথ। উত্থান ঘটে স্বৈরশাসন ও অগণতান্ত্রিক সরকারের।

দেশ আজ গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে পরিপূর্ণতা দেয়ার লক্ষ্যে সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০২১’ সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ‘রূপকল্প ২০৪১’।

সরকারের গৃহীত জনকল্যাণমুখী কর্মসূচির ফলে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়নসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নয়নের অনন্য মাইলফলক স্বপ্নের পদ্মাসেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ প্রকল্প ও ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্প, খুলনা-মোংলা ও আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ প্রকল্প, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ৩য় টার্মিনাল, চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানাসহ বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্র্যাজুয়েশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের পারমাণবিক ক্লাবের সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

করোনা মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে উঠার আগেই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের ফলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ, বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা প্রদানসহ ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আমি আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে আমরা এ সংকটও কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো- ইনশাল্লাহ। এজন্য সকলের সহযোগিতার পাশাপাশি দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতভিন্নতা যাতে উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত না করে সেদিকে সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ জাতির পিতা ঘোষিত এ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বশান্তিতে বিশ্বাসী। যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। বাংলাদেশ মনে করে আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনের গাজাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিরীহ-নিরস্ত্র জনগণের ওপর বর্বরোচিত বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানায় বাংলাদেশ।

ফিলিস্তিনি জনগণের যেকোনো ন্যায্য অধিকার আদায়ে বাংলাদেশ সবসময় তাদের পাশে থাকবে। আন্তর্জাতিক সমস্যার মানবিক সমাধানে বাংলাদেশ সর্বদা আন্তরিক। ইতোমধ্যে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত ও নির্যাতিত লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাস্তবভিত্তিক কার্যকর অবদান রাখবে- এই প্রত্যাশা করি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। আমাদের প্রবাসী ভাইবোনেরা তাদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশে প্রেরণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। জাতি তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে। আমি আশা করি, বিশ্বমন্দা ও অর্থনীতির এই ক্রান্তিকালে প্রবাসী ভাইবোনরা রেমিট্যান্স প্রেরণ অব্যাহত রাখবেন এবং দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবেন।

লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তাই আসুন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরো বেশি অবদান রাখি, দেশ ও জাতিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে নিয়ে যাই, গড়ে তুলি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ এবং প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’- মহান বিজয় দিবসে এই আমার প্রত্যাশা।