মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬
মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬
25 C
Dhaka

মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে কোটি ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

0

শুক্রবার (১৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস’ পরিচালিত ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস প্রোগ্রাম’ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।কর্মসূচির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই ব্যক্তিরা ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিভিন্ন শাখার নেতৃত্ব দেন ও পরিচালনা করেন এবং তারা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সংগঠন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক ব্যানারে ‘ইরানি সন্ত্রাসী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে। সেখানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির পাশাপাশি আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় রয়েছেন- ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমায়েল খতিব, উপপ্রধান কর্মকর্তা সৈয়দ আলী আসগর হিজাজি, মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রহিম সাফাভি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস্কান্দার মোমেনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ব্যক্তি আইআরজিসির বিভিন্ন শাখার নেতৃত্ব কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ওয়াশিংটনের অভিযোগ অনুযায়ী তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযান পরিকল্পনা ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। এসব ব্যক্তির অবস্থান বা তাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলে তথ্যদাতারা পুনর্বাসনের সুযোগ পেতে পারেন এবং আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হতে পারে। তথ্যদাতারা এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম বা টর নেটওয়ার্কের নিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মসূচির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হতে পারে, যা এই কর্মসূচির আওতায় ঘোষিত বড় পুরস্কারগুলোর একটি।

ওয়াশিংটন অভিযোগ করছে, আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত ইরানের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে নিহত হন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। এরপর তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সূত্র: রয়টার্স

ইরানে ঢুকতে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে রওনা হয়েছে মার্কিন সেনারা

0

ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিধ্বংসী সংঘাতের ১৫তম দিনে (১৪ মার্চ) দেশটিতে বড় ধরনের স্থল অভিযানের সংকেত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে জাপানের ওকিনাওয়া থেকে রওনা হয়েছে মার্কিন মেরিন সেনাদের একটি শক্তিশালী দল। জাপানে অবস্থানরত ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের এই সদস্যরা এখন উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’র সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হচ্ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউএসএস ত্রিপোলি একটি বিশেষায়িত ‘অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ’, যা সমুদ্র থেকে সরাসরি স্থলভাগে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম নামিয়ে দিতে সক্ষম। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধে এবারই প্রথম সরাসরি স্থলসেনা মোতায়েনের আভাস দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রয়োজনে ইরানের উপকূলীয় কোনো অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কিংবা কৌশলগত কোনো পয়েন্টে ঝটিকা অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যেই এই মেরিন বাহিনীকে পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে, যা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রণক্ষেত্রে যখন সেনাসংখ্যা বাড়ছে, তখন কূটনৈতিক টেবিলেও কিছুটা নড়াচড়া লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যুদ্ধ শেষ করার একটি অস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও ইরান এর আগে স্পষ্ট জানিয়েছিল, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শান্তির লক্ষ্যে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন।

পেজেশকিয়ানের উত্থাপিত ৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: ইরানের সার্বভৌম অধিকারের পূর্ণ স্বীকৃতি, পরবর্তীতে দেশটির ওপর আর কোনো হামলা হবে না এমন আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি এবং একটি টেকসই শান্তি চুক্তি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল এখন পর্যন্ত এই দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালিয়ে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। এর জবাবে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে ইরান।

ভোটের কালি মোছার আগেই আমরা সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শনিবার (১৪ মার্চ) ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, আজকের ব্যতিক্রমধর্মী এই অনুষ্ঠানে আপনারা এমন কিছু মানুষ একত্রিত হয়েছেন, কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মানুষ যাদের সম্মান করে, জীবনের অনেক কঠিন মুহূর্তে যাদের কাছে দুটো ভালো উপদেশের আশা করে। এই অনুষ্ঠানে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ইমাম-খতিব-মুয়াজ্জিন রয়েছের। একইসঙ্গে রয়েছেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ধর্মের ধর্মীয় নেতৃত্ব। পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ। যে উদ্দেশ্যে আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি, ইতোমধ্যেই আপনারা সেটি জেনেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, তাদের জন্য আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থিক বৈষম্য দূর করে আমরা সবাই মিলে ভালো থাকব। জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই আমরা আমাদের সব প্রতিশ্রুতি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।

তারেক রহমান বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে এই কার্ড সারাদেশে সবাই পাবেন। আগামী ১৪ এপ্রিল তথা পয়লা বৈশাখ থেকে চালু হচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’। আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি। আজ থেকে চালু হলো খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি।

তিনি আরও বলেন, যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে এ সহায়তা দেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে করে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। আমি বার বার একটি কথা বলি, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনও শক্তিশালী হতে পারে না।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে। তবে নাগরিকদেরও কিন্তু রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি কিছু দায়-দায়িত্ব রয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি। আমি আশা করি, দ্রুততম সময়ের আমরা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

তারেক রহমান বলেন, দুনিয়ার কল্যাণের পাশাপাশি আখেরাতের কল্যাণের জন্য প্রার্থনার কথা পবিত্র কোরআনুল কারিমে রয়েছে। ইহকালীন-পরকালীন কল্যাণ বিষয়ক নির্দেশনা নিঃসন্দেহে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ীও নির্দেশিত রয়েছে। সুতরাং, ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকেই আপনারা আপনাদের শিক্ষা দীক্ষা ও যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে কীভাবে আরও বেশি করে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারেন, সেই চিন্তা এবং চেষ্টা অব্যাহত রাখাও জরুরি।

তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে। আমরা সারাদেশের এই মসজিদগুলোকে ধর্মীয় সামাজিক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে পারি। স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু করেছিলেন।

১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়া সরকারের সময় দেশে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু হয়েছিল। বর্তমান সরকারও ইমাম মুয়াজ্জিনদের একটি নির্দিষ্ট হারে সম্মানী ভাতা দেওয়ার পাশাপাশি আপনাদের যোগ্যতাকে আরও কীভাবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়, সরকার সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

তিনি আরও বলেন, খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিনদের সম্মানিত ভাতা দেওয়ার যে কর্মসূচি আপনাদের সরকার চালু করেছে, এই কর্মসূচির অধীনে প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং স্কিমের আওতায় মোট ৪৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। সবাইকেই পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য সরকারের এইসব অর্থনৈতিক কর্মসূচি উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কেউ মসজিদে কিংবা যার যার ধর্মীয় উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে চাইলে, আপনাদের সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নেও সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মিটিংয়ে একজন ইমাম-খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়ালো চীন, দিলো সহায়তার ঘোষণা

0

শুক্রবার (১৩ মার্চ) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এই সহায়তার কথা নিশ্চিত করেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জরুরি মানবিক সহায়তা হিসেবে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে এই অর্থ প্রদান করবে চীনের রেড ক্রস সোসাইটি। মূলত স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি সমবেদনা এবং ‘ক্ষতিপূরণ’ হিসেবে এই অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

মুখপাত্র জিয়াকুন বলেন, স্কুলে হামলা এবং নিরপরাধ শিশুদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এটি মানবতা ও মানব বিবেকের মৌলিক সীমা অতিক্রম করেছে। চীন সব সময় মানবিক চেতনায় বিশ্বাসী এবং এই কঠিন সময়ে ইরানের জনগণের পাশে থেকে সংকট কাটিয়ে উঠতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বেইজিং মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

চীনের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সব দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে। সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপে ফিরতে হবে যাতে সংঘাত আর ছড়িয়ে না পড়ে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৫ জন স্কুলছাত্রী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ১৬টি জ্বালানি জাহাজ, পথে আরও তিনটি

0

মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য পরিশোধিত জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১৬টি জাহাজ। যা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। আগামী কয়েক দিনে আরও তিনটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে।বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের প্রথম দশ দিনে কাতার থেকে তিনটি এলএনজিবাহী জাহাজ—‘আল জুর’, ‘আল জাসাসিয়া’ ও ‘লুসাইল’—প্রায় ৬২ হাজার টন করে এলএনজি নিয়ে খালাস সম্পন্ন করেছে।

১২ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছানো ‘আল গালায়েল’ জাহাজ থেকে ২৬,১৬৫ টন এলএনজি ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে খালাস করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এলপিজিবাহী জাহাজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল। মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে আসা জাহাজগুলো ইতিমধ্যেই মোট ১৯,৩১৬ টন এলপিজি খালাস করেছে। আরও কয়েকটি এলপিজি ট্যাঙ্কারে খালাস প্রক্রিয়া চলছে, যা মার্চের মাঝামাঝি শেষ হবে।

এলএনজি ও এলপিজি ছাড়াও পরিশোধিত জ্বালানি, ফার্নেস অয়েল, গ্যাস অয়েল, ডিজেল এবং বেজ অয়েলসহ শিল্পখাতের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বন্দরে এসেছে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি এবং চার হাজার টন বেজ অয়েল দেশে এসেছে।

সম্প্রতি হরমুজ প্রণালির ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা জাহাজ চলাচল ও বিমা খরচকে প্রভাবিত করছে। তবে বন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মাসে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং গৃহস্থালির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরণের বিঘ্নের আশঙ্কা নেই।

যার যা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে স্বনির্ভর দেশ গড়ে তুলতে পারব: প্রধানমন্ত্রী

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ইমাম ও মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বিহার অধ্যক্ষদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন কিছু মানুষ এখানে একত্রিত হয়েছেন, কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়া মানুষ যাদের সম্মান করে। জীবনের কঠিন মুহূর্তে যাদের কাছ থেকে মানুষ সঠিক পরামর্শ আশা করে এবং পেয়েও থাকে।

তিনি বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যারা অর্থনৈতিকভাবে হয়তবা কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের জন্য একটি সম্মানি বা আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে বৈষম্য দূর করে আমরা সবাই মিলে একটু শান্তিতে, একটু ভালোভাবে থাকব— জাতীয় নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে সে রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা থেকে ইমাম ৫ হাজার, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার করে পাবেন টাকা। আর প্রতিটি মন্দিরের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা থেকে পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

এ ছাড়া প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। প্রতি খ্রিস্টান চার্চের জন্য থাকছে ৮ হাজার টাকা, যা পালক বা যাজক ৫ হাজার টাকা, সহকারী পালক বা যাজক ৩ হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ জানান, প্রতি বছর ধর্মীয় উৎসবে মসজিদে কর্মরতদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা করে বছরে ২ বার এবং দুর্গাপূজা বা বৌদ্ধপূর্ণিমা বা বড়দিনের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা করে বোনাস দেয়া হবে। তবে যেসব মসজিদ সরকারি ও দেশি বা বিদেশি সংস্থার অনুদানপ্রাপ্ত, সেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার বাইরে থাকবে।

তিনি আরও জানান, এ সম্মানি দেওয়ার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মার্চ-জুনে ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। প্রতি অর্থবছরে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ৪ বছরে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া হবে। এ সম্মানী ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে এটি চালু হবে।

ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানি প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই প্রকল্পের সূচনা করেন। এর ফলে দেশের হাজার হাজার মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মন্দির, বিহার ও গির্জার সেবকরা প্রথমবারের মতো সরাসরি রাষ্ট্রীয় ভাতার আওতায় এলেন।উল্লেখ্য, সরকারের এই উদ্যোগের আওতায় ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদান করা হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ থেকে ইমাম ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন। এছাড়া মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্বশীল ব্যক্তি (পুরোহিত/অধ্যক্ষ/যাজক) পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী দায়িত্বশীল ব্যক্তি (সেবাইত/উপাধ্যক্ষ/সহকারী পালক) পাবেন ৩ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ অনুষ্ঠানে সম্মানির পাশাপাশি উৎসব বোনাস প্রদানের ঘোষণাও দেন। তিনি জানান, মসজিদে কর্মরতদের জন্য ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় ১ হাজার টাকা করে বছরে দুবার বোনাস দেওয়া হবে।

অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধ পূর্ণিমা বা বড়দিনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় নেতাদের ২ হাজার টাকা করে বোনাস প্রদান করা হবে। তবে যে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সরকারি বা বিদেশি সংস্থার নিয়মিত অনুদান পায়, তারা আপাতত এই সুবিধার বাইরে থাকবে।

অস্ট্রেলিয়া ঘোষণা করল ঈদের তারিখ

0
ঈদের তারিখ ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া
ঈদের তারিখ ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া

আগামী ২০ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল।কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং চাঁদ দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এসব সংস্থা অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নতুন বাঁকা চাঁদ (হিলাল) পর্যবেক্ষণ নিয়ে কাজ করে। ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিন হবে।

কাউন্সিল আরও জানায়, সূর্যাস্তের আগে সুনির্দিষ্ট জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে চাঁদের জন্ম হওয়া, সূর্যাস্তের পর তার দৃশ্যমান থাকার সময়কাল এবং অস্ট্রেলিয়া ও আশপাশের অঞ্চলে সেটি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে ঈদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রমজানের শুরু ও শেষ, শাওয়াল মাসের সূচনা এবং ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণ করে অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি এবং অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই মানদণ্ড বিশ্বের বিভিন্ন স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক ও ফিকহভিত্তিক পরিষদ এবং ইসলামি সংস্থাও অনুসরণ করে থাকে।

এদিকে বাংলাদেশে ঈদের চাঁদ নিয়ে চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে। তবে সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়। সবকিছু নির্ভর করছে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর।

বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। এক মাস রোজা রাখার মাধ্যমে ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও উদারতার চর্চা শেষে এই উৎসব পালন করা হয়। চলতি বছর রমজানের প্রথম রোজা শুরু হয়েছিল গত ১৯ ফেব্রুয়ারি। ইসলামি মাস সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনের হয় এবং এর শুরু ও শেষ নির্ধারিত হয় চাঁদ দেখার ওপর। তাই রমজান প্রতি বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের একই তারিখে পড়ে না।

চাঁদের গতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত ইসলামি ক্যালেন্ডারের ১২ মাসের মধ্যে রমজান নবম মাস। এই চন্দ্রবর্ষ গ্রেগরিয়ান বছরের তুলনায় প্রায় ১০ দিন ছোট হওয়ায় রমজানের সময় প্রতিবছর কিছুটা এগিয়ে আসে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

পরনে বিয়ের শাড়ি,হাতে মেহেদি,শুধু দেহে নেই প্রাণ

0

আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টায় জানাজার নামাজ শেষে দাফন করা হয়েছে নববধূ মিতু আক্তার, তার ছোট বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা ও নানিকে। শেষ বিদায়ের সময় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় খুলনার কয়রা উপজেলার মেয়ে মিতু আক্তারের সঙ্গে বাগেরহাটের মোংলার যুবক সাব্বিরের বিয়ে হয়। সারাদিনজুড়ে ছিল বিয়ের আয়োজন, আত্মীয়স্বজনের ভিড়, হাসি-আনন্দ আর নতুন সংসারের স্বপ্নে ভরা পরিবেশ। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরপক্ষের সদস্যরা রাতটিও কাটান কনের বাড়িতেই। কেউ ভাবেনি আনন্দের সেই রাতের পরই অপেক্ষা করছে এমন নির্মম পরিণতি।

বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ের সাজেই নতুন জীবনের পথে রওনা দেন মিতু। একটি মাইক্রোবাসে করে তিনি যাচ্ছিলেন বরের বাড়ি। একই গাড়িতে ছিলেন তার ছোট বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য।

কিন্তু নিয়তি যেন ওত পেতে ছিল পথেই। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মাইক্রোবাসে বর পরিবারের ১১ জন, কনে পরিবারের ৩ জন এবং চালকসহ মোট ১৫ জন ছিলেন। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় বর পরিবারের ৯ জন, কনে পরিবারের ৩ জন এবং চালকসহ মোট ১৩ জন নিহত হন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর সাব্বির, নববধূ মিতু আক্তার, তার বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা ও নানি আনোয়ারাসহ আরও অনেকে।

দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে একের পর এক মরদেহ আনা হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নবদম্পতিসহ নিহতদের মরদেহ দেখে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল চত্বর।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে পড়ে কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়ন। স্থানীয়রা জানান, সকালে যে মেয়েটি বিয়ের সাজে বিদায় নিয়েছিল, বিকেলের মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর শুনে কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।

যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও বিয়ের সানাই বাজছিল, সেই বাড়িতেই এখন শুধু কান্নার শব্দ। মুহূর্তেই আনন্দ ভেঙে বিষাদের সাগরে ডুবে গেছে দুটি পরিবার। পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

প্রধানমন্ত্রী আগামী সোমবার শাহাপাড়া খাল খনন উদ্বোধন করবেন

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সোমবার (১৬ মার্চ) উপজেলার সাহাপাড়া থেকে তার এ কর্মসূচি উদ্বোধন করার কথা আছে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে সাহাপাড়া–বলরামপুর খাল পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুরের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, সাদিক রিয়াজ ও সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পাউবোর উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সরফরাজ বান্দাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট হয়েছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাহিদ হোসেন জানান, সাহাপাড়ার প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননের ফলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। এতে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা মিলবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, শুধু খনন নয়, খালের পাড় রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে। খালের পানি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে ১৬ মার্চ তিনি আকাশপথে সৈয়দপুরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে কাহারোলের সাহাপাড়ায় গিয়ে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং একটি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। পরে দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর কবরস্থানে তার নানা–নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন। এরপর স্থানীয় সুধীজন ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেবেন।