আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন), বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব নাবিক দিবস। সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে যেসব নাবিক দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের অবদান, ত্যাগ এবং সাহসিকতাকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।
জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ২০১০ সালে এই দিবসের সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতি বছরের ২৫ জুন বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। নাবিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং কর্মপরিবেশের বিষয়েও সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এই দিবসের।
এবারের বিশ্ব নাবিক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “বিশ্ব বাণিজ্য বহন করছি, ঝুঁকিও বহন করছি”। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে সমুদ্রে কর্মরত নাবিকদের কঠিন বাস্তবতা, ঝুঁকি এবং আত্মত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে দায়িত্ব পালনকারী নাবিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই এবারের মূল লক্ষ্য।
বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য সমুদ্রপথে পরিবহন করা হয়। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ, শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অসংখ্য পণ্য পৌঁছে যায় নাবিকদের নিরলস পরিশ্রমে। অথচ তাদের জীবন সবসময় নিরাপদ নয়। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা, বৈরী আবহাওয়া, জলদস্যুতা, যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই তারা দায়িত্ব পালন করেন।
আইএমও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি, লোহিত সাগর, কৃষ্ণ সাগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে নাবিকদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। অনেক নাবিককে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যেও বিশ্ব বাণিজ্যের চাকা সচল রাখতে কাজ করতে হচ্ছে।
আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ নাবিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন সচল রাখতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোরিও গুতেরেস বলেছেন, দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত দেখা দিলে অনেক সময় নাবিকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন। তাই তাদের কখনোই ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।
বিশ্ব নাবিক দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি সমুদ্রের বুকে নিরন্তর সংগ্রাম করে যাওয়া লাখো নাবিকের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতীক। বিশ্ব বাণিজ্যের এই নীরব যোদ্ধাদের অবদান স্মরণ করতেই আজকের এই বিশেষ দিন।


