আদা খেলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও পরবর্তীতে সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। তবে একটু সচেতনতায় শুরুতে পদক্ষেপ নিলে সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় গ্যাস-অ্যাসিডিটি।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন উপায়ের কথা বলা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে―প্রতিদিন সকালে আদার কুঁচি চিবিয়ে খাওয়া। এতেই নাকি গ্যাস-অ্যাসিডিটর সমস্যা কমে থাকে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ব্যাপারে কথা বলেছেন কলকাতার পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার।
- পুষ্টিগুণে ভরপুর আদা:
এ পুষ্টিবিদ বলেন, অতি পরিচিত ভেষজ আদায় ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, আয়রন, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, ফোলেট, রাইবোফ্ল্যাভিন ও নিয়াসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব উপাদান রয়েছে। এছাড়া খুব প্রয়োজনীয় কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। এ জন্য সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত আদা খাওয়া যেতে পারে। - গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যায় আদা উপকারিতা:
এ ব্যাপারে পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী বলেন, আদায় এমন কিছু রাসায়নিক রয়েছে, যা আপনার হজমের জন্য উপকারী। হজমক্ষমতা চাঙা থাকলে স্বাভাবিকভাবেই গ্যাস-অ্যাসিডিটির সমস্যা কম থাকার সম্ভাবনা থাকে। আদার গুণাগুণ পেট ব্যথাও রোধ করে। এ জন্য ছোট ছোট সমস্যা থেকে পরিত্রাণে আদা বেশ কার্যকরী। - খাওয়ার উপায়:
পুষ্টিবিদের ভাষ্যমতে―গ্যাস ও অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাঁচা আদা ভালো ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রায় বাড়িতে তাজা বা ভালো আদা থাকে না। তাই যত্রতত্র আদা না খেয়ে বরং রান্নায় অল্প অল্প করে আদার পরিমাণ বাড়াতে পারেন। এতে ধীর গতিতে হলেও পেটের সমস্যা ঠিক হবে। - বমির সমস্যা থেকেও মুক্তি:
আদায় বিদ্যমান জিঞ্জেরল নামক উপাদান বমি বমি ভাব দূর করতে কাজ করে। বমির সমস্যায় এটি খুবই কার্যকরী। কেমোথেরাপির পর বা অন্তঃসত্ত্বার সময় রান্নায় বেশি পরিমাণে আদা মিশিয়ে খেলে বমি বমি ভাব কাটিয়ে ওঠা যায়।
এছাড়া আদায় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে, যা ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়তা করে।
- ডায়াবেটিসেও আদা:
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে হাই ব্লাড সুগার একটি জটিল সমস্যা। এ জন্য হাই ব্লাড সুগার থেকে দূরে থাকা বুদ্ধিমানের কাজ। আপনাকে এ কাজে সহযোগিতা করতে পারে আদা। রান্নায় নিয়মিত পরিমিত পরিমাণ আদা খাওয়া হলে সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


