বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬
29 C
Dhaka
Homeজীবনযাপনকিডনি নষ্ট করে ঘন ঘন ব্যথার ওষুধ খেলে

কিডনি নষ্ট করে ঘন ঘন ব্যথার ওষুধ খেলে

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ৮:৫৯

আজ মাথাব্যথা কাল হয়তো হাটুতে কষ্ট আর এমন করে অনেকেই ঘন ঘন ব্যথার ওষুধ খান। আর এই অভ্যাসের বিষয়ে অনেক সময় বলা হয় যে এতে নাকি কিডনি নষ্ট হতে পারে। আবার অনেকে দেখা যায় কিছু হলেই ভরসা রাখেন অ্যান্টিবায়োটিকে আর এমন করলেও নাকি কিডনির ক্ষতি হয় বলেন কিছু মানুষ। তবে এর পেছনে চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলছে সেটা কি ভেবে দেখেছেন? এমন বিষয় উঠে এসেছে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে, যেখানে বিশেষজ্ঞদের কথা উঠে এসেছে।

অনেকে দেশেই চিকিৎসকের অনুমোদন ছায়া ওষুধ বিক্রি করা নিষেধ। সম্প্রতি ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে একটি পরামর্শ জারি করেছে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (সিডিএসসিও) নিউ ড্রাগস ডিভিশন। সেখানে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ বারবার বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস বা এনএসএআইডি যেগুলো সাধারণত ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয় ভুলভাবে বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে কিডনির বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হতে পারে।

নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক নয়

সিডিএসসিও জানিয়েছে, চিকিৎসার প্রয়োজন না থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে বেশির ভাগ সাধারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে নির্ধারিত নিয়মেই তা খেতে হবে। অন্যের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ভাগ করে নেয়া কিংবা আগের প্রেসক্রিপশনের বেঁচে যাওয়া ওষুধ পরে নিজের মতো করে খাওয়াও উচিত নয়। ব্যথা, জ্বর বা অন্য কোনো উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা বারবার ফিরে এলে নিজের মতো করে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে কিংবা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি আছে, তাদের ব্যথানাশক ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে বিষয়টি জানাতে হবে। পানিশূন্যতা, হৃদরোগসহ কিছু শারীরিক অবস্থাতেও ব্যথানাশক ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে সিডিএসসিওর পরামর্শ হলো রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্য রোগ, চলমান অন্যান্য ওষুধ ও কিডনি-সংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনা করে ব্যথানাশক দিতে হবে। প্রয়োজন হলে সবচেয়ে কম কার্যকর ডোজে এবং যত কম সময় সম্ভব এসব ওষুধ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার ক্ষেত্রে কোন জীবাণু সংক্রমণের জন্য দায়ী হতে পারে, সংক্রমণের স্থান ও তীব্রতা এবং প্রয়োজন হলে পরীক্ষার ফল বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক একসঙ্গে দেয়া, ভুল অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন, ভুল মাত্রায় ওষুধ দেয়া কিংবা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দিন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সিডিএসসিও।

সব মিলিয়ে বলা যায় চিকিতসকের পরামর্শ ছায়া ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না। একবার চিকিৎসক আপনাকে বলেছে তার মানে এই নয় যে এরপর আপনি তার পরামর্শ ছাড়া সেই ওষুধ নিতে পারবেন। সব ব্যথা কিংবা রোগ এক নয়। তাই কারণ না জেনে অ্যান্টিবায়োটিকে ও ব্যথানাশক কিডনির ক্ষতি করার পাশাপাশি নানান জটি৮লতার কারণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ নিন।

আমাদের দেশেও ফার্মেসি, খুচরা বিক্রেতা ও ওষুধ সরবরাহকারীদের প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ বিক্রির নিয়ম কঠোর করলে অনেকেই এই ভুল থেকে বেড়িয়ে আসতে পারবেন। পাশাপাশি দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে পারে মানুষকে সঠিক পরামর্শ দিতে। সব মিলিয়ে নিজে থেকে কখনও ওষুধ খাওয়া যাবে না। কোনও সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে তবেই ওষুধ নেবেন এতে আপনার কিডনিও ভালো থাকবে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর