বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ৮, ২০২৬
25 C
Dhaka
Homeজীবনযাপনঘুম থেকে উঠেই চা-কফি? হার্টের জন্য কতটা নিরাপদ সকালের ক্যাফেইন

ঘুম থেকে উঠেই চা-কফি? হার্টের জন্য কতটা নিরাপদ সকালের ক্যাফেইন

প্রকাশ: অক্টোবর ৮, ২০২৬ ৯:৩৭

ঘুম থেকে উঠে চোখ মেলতেই এক কাপ গরম চা কিংবা কফি দিয়েই দিনের শুরু করেন অনেকে। কিন্তু বিছানা ছাড়ার পর প্রথমেই ক্যাফেইন শরীরে গেলে তা কি সত্যিই ক্ষতিকর? বাড়তে পারে কি রক্তচাপ বা হৃদস্পন্দন? কারা নিয়মিত কফি পান করেও নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, আর কাদের একটু সতর্ক হওয়া দরকার?

সকালের ঘুমঘুম ভাব কাটাতে এক কাপ চা বা কফি যেন অনেকের ‘রিচার্জ বাটন’। এক চুমুকেই চোখ খুলে যায়, কাজে মন বসে, শরীরও কিছুটা চাঙা লাগে। কিন্তু এই অনুভূতির পেছনে কাজ করে ক্যাফেইন এক ধরনের উদ্দীপক উপাদান। আর এই ক্যাফেইনই কখনো কখনো হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা কিংবা রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়ার কারণ হতে পারে। তবে তাই বলে সকালবেলার চা বা কফিকে বিপজ্জনক বলে এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি নির্ভর করে কতটা ক্যাফেইন খাচ্ছেন এবং আপনার শরীর সেটিকে কীভাবে গ্রহণ করছে তার ওপর।

 

ক্যাফেইন শরীরে গিয়ে অ্যাডেনোসিন নামের একটি রাসায়নিকের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করে। অ্যাডেনোসিন সাধারণত শরীরকে শিথিল ও ঘুমঘুম অনুভূতি দিতে ভূমিকা রাখে। ফলে ক্যাফেইন গ্রহণের পর সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়ে। এ কারণেই ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কফি অনেকের কাছে এতটা কার্যকর মনে হয়। তবে এর সঙ্গে সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া সমান নয়।

কারও এক কাপ কফি খেয়েও কোনো সমস্যা হয় না, আবার কারও বুক ধড়ফড় করতে পারে। এর পেছনে ব্যক্তির জিনগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণের অভ্যাস, ওষুধ এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ভূমিকা থাকতে পারে। অর্থাৎ, পাশের মানুষটি দিনে তিন কাপ কফি খাচ্ছেন বলে আপনার শরীরও একই পরিমাণ ক্যাফেইন সহ্য করবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

 

অন্ত্রের অণুজীবের সঙ্গে স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে পুষ্টিবিদের পরামর্শ
দিনে কতটা ক্যাফেইন নিরাপদ

এখানেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পরিমাণ। কার্ডিওলজিস্ট ডা. অংশু কবরা আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে দিনে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত নিরাপদ।

তবে এক কাপ বললেই ক্যাফেইনের পরিমাণ নির্দিষ্ট হয়ে যায় না। এক কাপ কফি, চা বা অন্য কোনো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ে উপাদানটির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। এমনকি একই পানীয়ের কাপের আকার ও তৈরির পদ্ধতিতেও পার্থক্য থাকতে পারে।

কফি কি হার্টের জন্য খারাপ

কফি খেলেই বুক ধড়ফড় করে এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, কফি কি হার্ট বা হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে। জবাবে ডা. কবরা জানান, পর্যবেক্ষণভিত্তিক একাধিক গবেষণায় পরিমিত কফি পানের সঙ্গে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, স্ট্রোক এবং হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কফি কোনো ওষুধ বা হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধের চিকিৎসা। বরং স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত কফি গ্রহণ করা যেতে পারে। অর্থাৎ, কফিকে হৃদযন্ত্রের ওষুধ ভাবার যেমন কারণ নেই, তেমনি সবার জন্য হৃদযন্ত্রের শত্রু ভাবারও প্রয়োজন নেই।

 

কারা একটু বেশি সতর্ক থাকবেন

কফি পান করার পর যদি বারবার মনে হয় ‘বুকটা কেমন ধড়ফড় করছে’, সেটিকে একেবারে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।বিশেষজ্ঞের মতে, ক্যাফেইন গ্রহণের পর যদি—

হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায়,
বুক ধড়ফড় করে,
অস্থিরতা বা উদ্বেগ বাড়ে,
ঘুমের সমস্যা হয়,
রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়,
তাহলে ক্যাফেইনের পরিমাণ কমানোর কথা ভাবা উচিত। বিশেষ করে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্‌যন্ত্রের ছন্দের সমস্যা বা হার্টের রিদম ডিজঅর্ডার রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের ক্যাফেইন গ্রহণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

শুধু কফি নয়, কাপে কী দিচ্ছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ

অনেকে কফিকে স্বাস্থ্যকর ভাবেন কিন্তু দেখা যায় কাপে প্রচুর চিনিকিংবা ভারী ক্রিমার দিচ্ছেন। এক কাপ সাধারণ কফি অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ ও উচ্চ-ক্যালরির ক্রিমার দিয়ে তৈরি করলে সেটি আর আগের সেই সাধারণ কফি থাকে না। ডা. কবরা তাই অতিরিক্ত চিনি, ফ্লেভারড সিরাপ ও উচ্চ-ক্যালরির ক্রিমার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ, কফির পাশাপাশি কফির ভেতরে কী ঢালছেন, সেটাও নজরে রাখুন। সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ যদি পরিমিত ক্যাফেইন গ্রহণ করেন এবং তার শরীরে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া না হয়, তাহলে শুধু সকালে চা বা কফি পান করার কারণে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেয়া জরুরি।

এক কাপ কফির পর যদি আপনি সতেজ বোধ করেন তাহলে বিষয়টা নিয়ে ভাবনা নেই। কিন্তু একই কফির পর যদি বুক ধড়ফড় করে, অস্থির লাগে কিংবা রক্তচাপ বেড়ে যায়, তাহলে সবার জন্য নিরাপদ এই ধারণা ধরে পান করে যাওয়াও ঠিক নয়। তাই কফি পানের পর কেমন বোধ করছেন সে দিকে নজর নিন।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর