শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬
শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬
31 C
Dhaka
Homeরাজনীতিসিইসির কাছে ‘নালিশ’ দিলো জামায়াত

সিইসির কাছে ‘নালিশ’ দিলো জামায়াত

প্রকাশ: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬ ৭:৪৬

নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্তা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সিসিক্যামেরা স্থাপনসহ নানা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দলটি এ তথ্য জানায়।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং সাবেক সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলামসহ চারজন।

বৈঠক শেষে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনসহ বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকায় নারী কর্মীরা প্রচারণায় নামলে তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। নারী কর্মীদের অপদস্থ করা হচ্ছে এবং লজ্জাজনকভাবে তাদের নেকাব খোলার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে। অনেকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। নারীদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া একটি ইতিবাচক দিক, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি জানান, নারীরা বাসায় গিয়ে এনআইডি বা বিকাশ নম্বর চাচ্ছেন— এমন দাবি সম্পূর্ণ অসত্য। মূলত জামায়াতের প্রতি নারীদের ব্যাপক সমর্থন দেখেই একটি বড় দল ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য এমন করছে।

ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের বিষয়ে জামায়াতের এই নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ইসি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের যে সার্কুলার দিয়েছে, তা এখনও দৃশ্যমান নয়। যেসব কেন্দ্রে ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক এবং ক্যামেরাগুলো মূলত কেন্দ্রের বাইরের দিকে মুখ করা। আমরা চাই কেন্দ্রের ভেতরেও ক্যামেরা থাকুক যাতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলে তার প্রমাণ থাকে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতার জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বলেও জানান।

নির্বাচনে ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কেন রক্ষা করা হয়নি— এমন প্রশ্নের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নারী প্রার্থীদের বিষয়ে আমাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আমাদের দলে তৃণমূলের পরামর্শ অনুযায়ী প্রার্থী ঠিক করা হয়। নারীরা রাজনীতিতে ৪ শতাংশের বেশি সক্রিয় থাকলেও পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেকেই সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তবে আগামীতে এই সংখ্যা বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।

প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের সময়সীমা নিয়ে সংশয় দূর করে তিনি জানান, ৩০ বা ৩১ তারিখের মধ্যে পোস্টাল ব্যালট পাঠালেও তা ১২ তারিখের মধ্যে পৌঁছালে গ্রহণ করা হবে বলে ইসি আশ্বস্ত করেছে। এছাড়া প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একপাক্ষিক আচরণের বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিকার চেয়েছেন তারা।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটি সুষ্ঠু ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করবে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর