যত দিন যাচ্ছে, পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ফুসফুসের ক্যানসারের পরেই পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে ক্যানসার ধরা পড়ে, তা হলো প্রস্টেট ক্যানসার।

চিকিৎসকদের মতে, বয়স ৫০ পার হওয়ার পর থেকেই এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক স্তরে রোগ ধরা পড়লে তা ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে না। কিন্তু সমস্যার জায়গা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্টেট ক্যানসারের লক্ষণগুলো ধরা পড়ে না। তবে ক্যান্সার যখন ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়, তখন কিছু স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দ্রুত চিহ্নিত করলে চিকিৎসা সহজ হয়।
প্রস্টেট ক্যান্সারের প্রধান লক্ষণসমূহ :
মূত্রসংক্রান্ত সমস্যা
*বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া, বিশেষ করে রাতে
*প্রস্রাব শুরু করতে বা থামাতে অসুবিধা হওয়া
*দুর্বল প্রস্রাবের প্রবাহ, অথবা মাঝপথে থেমে যাওয়া
*হাসলে বা কাশলে প্রস্রাব লিক হয়ে যাওয়া
*দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে না পারা
*প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বা ব্যথা অনুভব করা
*মলদ্বারে চাপ বা ব্যথা অনুভব করা
রক্তপাত
*প্রস্রাবে রক্ত আসা
*বীর্যে রক্ত দেখা
যৌনগত সমস্যা
*হঠাৎ ইরেকশন পেতে বা ধরে রাখতে নতুন করে সমস্যা শুরু হওয়া
*বীর্যপাতের সময় অস্বস্তি বা ব্যথা
*বীর্যপাতের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বীর্য নির্গত হওয়া
অ্যাডভান্স প্রটেস্ট ক্যান্সারের উপসর্গ
*নীচের অঙ্গের ফোলা
*নীচের অঙ্গের দুর্বলতা বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অচল হয়ে যাওয়া, প্রায়ই কনস্টিপেশনের সঙ্গে পায়খানার সমস্যা
*হাড়ে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে কোমর, নিতম্ব বা পিঠে স্থায়ী ব্যথা
*পায়ে টান ধরা বা অসাড় অনুভূতি
*হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ও শরীর দুর্বল হয়ে পড়া
*ক্লান্তি, বমি ভাব বা বমি হওয়া
করণীয় কী?
চিকিৎসকদের মতে, এসব লক্ষণ সবসময় প্রস্টেট ক্যান্সারের কারণে নাও হতে পারে। তবে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং PSA (Prostate-Specific Antigen) টেস্ট প্রস্টেট ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
সূত্র : ওয়েবএমডি


