শীতে ত্বক শুষ্ক হওয়া ও কুঁচকে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন থাকেন। ছোট থেকে প্রাপ্ত বয়স্কসহ সবারই দেখা দেয় এই সমস্যা। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, কেন এই সমস্যা দেখা দেয়, আর এর সমাধানই বা কী? সম্প্রতি ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ব্যাপারে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মৃদুলা পাত্র পাল কথা বলেছেন। তাহলে ত্বকের এই সমস্যার ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-
- তালু কুঁচকে যাওয়ার কারণ:
ডা. মৃদুলা জানিয়েছেন, শরীরে যেমন কোষ থাকে, একইভাবে ত্বকের মধ্যেও একাধিক কোষ রয়েছে। যার ৭০ শতাংশ জলীয়। শীতে বাতাসে যেমন ময়েশ্চারাইজার কমে যায়, একই ঘটনা ঘটে ত্বকের কোষের ক্ষেত্রেও। ফলে হাতের তালু শুষ্ক হয়ে কুঁচকে যায়। এ কারণে হাত দিয়ে কোনো কিছু ধরতে সমস্যা হয়।
শীতে এই সমস্যা শুধু হাতে নয়, পায়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। পানির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ হাত বা পা রাখলে ত্বকের ওপর থাকা সিবাম ধুয়ে যায়। সিবাম হচ্ছে ত্বকের মধ্যে থেকে নিঃসৃত হওয়া তেল। এ জন্য হাতের তালুর মধ্য দিয়ে পানি শরীরে প্রবেশ করে। যা হাতের তালু কুঁচকে যাওয়াকে প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে চামড়া ঝরে পড়ার সমস্যাও হয়। ডা. মৃদুলার মতে―শীতে শুধু হাতের তালু কুঁচকে যায় না, অনেক সময় চামড়াও ঝরে পড়ে।
- চামড়া ঝরার কারণ:
ডা. মৃদুলা জানিয়েছেন, হাত ও পায়ের চামড়া নিয়মিত ঝরে পড়ে। যা অনেক সময় খালি চোখে দেখা যায় না। তবে শীতে চামড়া পড়ার প্রবণতা কিছুটা বেশিই চোখে পড়ে। ফলে হাত শুষ্ক ও কুঁচকে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এসব খুব বেশি ক্ষতিকর না হলেও চামড়া ঝরে অনেক সময় খাবারের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যা পেটে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। - সমাধান:
দিনে অন্তত কয়েকবার করে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। পানি থেকে হাত বের করার পর ভালো করে মুছে নিয়ে ক্রিম বা তেল লাগিয়ে নিতে পারেন। ডা. মৃদুলা জানান, হাতে চামড়া ওঠা বা ঝরে পড়া কিংবা কুঁচকে যাওয়ার বড় কারণ শীতে পানি কম পান করা হয়। শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে শুষ্ক দিনে এ ধরনের সমস্যা ব্যাপক হাড়ে বাড়ে।
একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের দিনে ২.৫ থেকে ৩ লিটার পরিমাণ পানি পান করা প্রয়োজন। যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের এই পরিমাণ পানির প্রয়োজন নেই। তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করবেন। শীতে যেসব মৌসুমি শাক-সবজি পাওয়া যায়, সেসব রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। তবেই ত্বক ও শরীর সুস্থ থাকবে।


