রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫
রবিবার, নভেম্বর ৩০, ২০২৫
22 C
Dhaka

ব্যাংকিং খাতে শিল্প বিপ্লবের সুফল কাজে লাগাতে হবে

0

এই উপমহাদেশে গত ১০০ বছরে কত সীমানা বদলেছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত হয়েছে জাতি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আবার স্বৈরাচারী সামরিক শাসনের কঠিন বেড়াজালে বন্দি হয়েছে। আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার হয়েছে। স্বৈরাচার সামরিক শাসন বিদায় নিয়েছে। জনতার আন্দোলনের মুখে টিকতে পারেনি। এই সময়ে পৃথিবীটাও বদলেছে অনেক। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেছে। কিন্তু আমরা এখনও বেশ কিছু জায়গায় অনেক আগের মতো রয়ে গেছি। এই সময়ের চ্যালেঞ্জটাকে আমলে না নিয়ে নির্বিকার বসে থাকার সুযোগ নেইÑ এটা উপলব্ধি করতে হবে সব পক্ষকেই। এখন ডিজিটাল বেনো জলে ভেসে যাচ্ছে গোটা দুনিয়া। অন্তর্জালের এই সময়ে ডিজিটাল নো ম্যানস ল্যান্ডে মানুষের বসত। তাবৎ দুনিয়ার সিনেমা, টিভি সিরিজ পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় আজকের তরুণ-তরুণী। দেশি-বিদেশি নানা কনটেন্ট এখন ইচ্ছমতো তার মোবাইল ফোন সেট, টিভি, ল্যাপটপে দেখতে পারছে অবাধে। দুনিয়াজুড়ে এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর এর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবনযাপন, শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরন। আমাদের বাংলাদেশেও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ঢেউ লাগতে শুরু করেছে। তবে প্রশ্ন জাগছে, নতুন প্রেক্ষাপটে সামনে এসে দাঁড়ানো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশের ব্যাংক খাত কতটা প্রস্তুত? ব্যাংকগুলো যদি এখন থেকে সেভাবে নিজেদের যোগ্য এবং প্রস্তুত করে তুলতে না পারে তাহলে আগামি দিনগুলোতে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে ব্যর্থ হবে তারা।  বর্তমানে ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাতে প্রচলিত লেনদেন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির হাত ধরে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। নগদ লেনদেনের বদলে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে মানুষ ডিজিটাল লেনদেনে অধিক হারে আকৃষ্ট হয়েছে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হচ্ছে আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলমান উৎপাদন ও শিল্পব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় সমসাময়িক সংস্করণ। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আলোচিত নানা বিষয়ের মধ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বিষয়টি একটি অন্যতম অনুষজ্ঞ। এ বিপ্লব রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানো টেকনোলজি, কোয়ান্টাম, কম্পিউটিং, ব্যায়োটেকনোলজি, ইন্টারনেট অব থিংস, থ্রিডি প্রিন্টিং, সম্পূর্ণ স্বচালিত যানবাহন ও উদীয়মান প্রযুক্তির যুগান্তকারী যুগ হিসেবে চিহ্নিত। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এখন বিশ্বের দ্বারপ্রান্তে। এর ভিত্তি হিসেবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন, বিপণন ও ভোগের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মানুষের চিন্তা জগতে পণ্য উৎপাদন ও সেবা প্রদানে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। পৃথিবীর গতি প্রকৃতি ও মানুষের জীবন ধারাকে বদলে দিচ্ছে। বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের সক্ষমতাকে বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন করছে। আঠারো শতকের শেষার্ধে ইংল্যান্ডের যে শিল্প উৎপাদনের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয় সেটি হচ্ছে শিল্প বিপ্লব। শিল্প বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড দেশটি বিশ্বের প্রথম শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তাই কখনো কখনো ইংল্যান্ডকে ‘পৃথিবীর কারখানা’ বলা হতো। ১৭ শতাব্দীতে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার এর মাধ্যমে হস্তচালিত শিল্প ব্যবস্থাকে মেশিন চালিত পদ্ধতিতে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল। ইউরোপ ও আমেরিকায় বস্ত্র শিল্প, লৌহ শিল্প ও কৃষি শিল্পে এর প্রভাব পড়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ শিল্পে ও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ১৮৭০ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে। এ কালে জ্বালানির উৎসগুলোতে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস প্রভৃতি উৎপাদিত হয়। রেলপথ ও টেলিগ্রাফ নেটওয়ার্ক ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। মানুষ ও তার চিন্তাভাবনার দ্রুত স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হয়। ক্রমবর্ধমান বৈদ্যুতিকীকরণে কারখানাগুলোতে আধুনিক উৎপাদন লাইনের বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরবর্তী সময় কম্পিউটার প্রযুক্তি, সেমি কন্ডাক্টর, মাইক্রোচিপস ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি ও আণবিক শক্তির উদ্ভাবন নিয়ে হয়েছিল তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। এ সময়ে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা, ওষুধ শিল্প ও ব্যায়োটেকনোলজির ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়। ইন্টারনেট, মোবাইল যোগাযোগ এ শিল্পবিপ্লবের ফল। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বা ইন্ডাস্ট্রি- ৪.০০ হচ্ছে আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার। দ্রব্য উৎপাদনের ও সেবা প্রদানে বিপণন ও ভোগের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। শুধু যান্ত্রিক কৌশল নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চতর পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি, রোবটিক্স ও কম্পিউটারের উচ্চতর প্রযুক্তির ব্যবহার এ বিপ্লবের অন্যতম অনুষঙ্গ।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী গতি লক্ষ করা গেলেও বিশ্ব প্রযুক্তির সাথে তাল মিলাতে ও বেকারত্ব হ্রাস, বৈষম্য ও দুর্নীতি দূর করতে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা আনয়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। মানুষের দৈনন্দিন পথ চলায় ব্যাংক ও আর্থিক খাত গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সময়কালে এ খাতের প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নে গ্রাহকদের প্রযুক্তির সাথে সুপরিচিত করাও একটি চ্যালেঞ্জ। উন্নত ব্যাংকিং সেবা ও ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য শিক্ষিত ও জনশক্তি তৈরি করাও চ্যালেঞ্জ। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব প্রসার লাভ করলে শ্রমশক্তির চাহিদা যে হ্রাস পাবে শুধু তা নয় বরং অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য বর্তমানে বিদ্যমান পেশাগুলোতে চাহিদা দ্রুত কমে আসবে। অন্য দিকে উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন এমন পেশায় চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তাই দ্রুত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে ব্যাংকিং খাতের ঋণ আদায়ের গতি ও খেলাপি গ্রাহকদের থেকে অর্থ আদায়ের জন্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর সাথে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের প্রযুক্তি বৈষম্য দূর করতে হবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্রের সাথে সহাবস্থান করতে হবে। ফলে মানুষের কর্মক্ষেত্র সঙ্কুচিত হবে, অক্ষসমতা বৃদ্ধি পাবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমবে ও প্রযুক্তি জ্ঞানের ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়বে। এ জন্য আমাদের কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে তথ্যপ্রযুক্তির আদলে তৈরি করতে হবে। অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে জটিলতা দূর ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক সেবা খাতে প্রযুক্তির হাত ধরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। লেনদেন করতে এখন ব্যাংকে সশরীরে না গিয়ে ঘরে বসে স্মার্টফোনেই কাজ করা যায়। বর্তমানে চালু হচ্ছে ওপেন ব্যাংকিং অর্থাৎ অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই)। ভোক্তারা একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। ডিজিটাল টেকনোলজির মাধ্যমে (ডিএলটি) ব্লক চেইন নেটওয়ার্ক ভোক্তাদের কাছে আস্থা ও স্বচ্ছতা তৈরি করেছে। তবে ব্যাংকিং পরিষেবায় উন্নতি করতেও ভোক্তাদের আরো দ্রুত সেবা দিতে এবং এ খাতের দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করতে, ঋণ আদায়ের গতি ফিরিয়ে আনতে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। ব্যাংকিং খাতে সঠিক ডকুমেন্টেশন, ফেইক ডকুমেন্ট ডিটেক্ট এবং ডকুমেন্টস প্রিজারভেশনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে কিভাবে ঝুঁকি কমানো যায় তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি বাড়ানো উচিত। আমাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করতে হবে। নামজারি, রেজিস্ট্রেশন, খাজনা প্রদান ইত্যাদির ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা উচিত, যার ফলে ব্যাংক বিনিয়োগ ও মর্গেজকৃত সম্পত্তি সার্চিং ও যাচাই-বাছাইয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে নতুন সম্ভাবনার বিপরীতে ব্যাংকিং খাতে টানা ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। পাসওয়ার্ড হ্যাকিং, এটিএম বুথ থেকে অর্থ চুরি রোধসহ দেশীয়- আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফান্ড হস্তান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্বসহ দেখা উচিত। অর্থ কর্মকাণ্ডে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল রূপান্তর হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বুনিয়াদ। ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের সাথে গ্রাহকদের অন্তর্ভুক্তি করানোসহ সমাজকে প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে অভ্যস্ত করা, অদক্ষ শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতি ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তি প্রাপ্তি, শিল্প বিপ্লবের সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জব পলিসি, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য নিয়মনীতির সংস্কার করতে হবে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়ানো যায় তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশে তরুণের সংখ্যা পাঁচ কোটি, যা মোট জনশক্তির ৩০ শতাংশের বেশি। আগামী ৩০ বছরে এ তরুণেরা উৎপাদনশীল খাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল ভোগের বড় হাতিয়ার। ব্যাংকিং বা আর্থিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার (ফিনটেক) ভবিষ্যতে প্রথাগত ব্যাংকিং পরিষেবাকে অনেকটা সঙ্কুচিত করে দেবে। ছোট আকারের ফিনটেক প্রতিষ্ঠান অনেক কম খরচে বেশি দক্ষতার সাথে আর্থিক সেবা দিতে সমর্থ হবে। ডিজিটাল যুগে কার্যকর প্রযুক্তি পণ্য ও সেবার চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তির আবিষ্কারের সাথে ব্যাংক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। পণ্য ও সেবা উৎপাদন বণ্টনে ব্যয় অভাবনীয়ভাবে হ্রাস পাবে। কারণ মানুষকে সহায়তা করবে মেশিন। স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন করা সহজ হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। যেসব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিকে যত দ্রুত কাজে লাগাতে পারবে তারা তত দ্রুত এর সুফল ভোগ করবে।

২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবনযাপন সব কিছুতেই যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফলগুলো ভালোভাবে আত্তীকরণের মাধ্যমে নতুন সময়, নতুন প্রেক্ষাপটের আলোকে সর্বোত্তম গ্রাহকসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নানা রকম চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা, ব্যাংকগুলো সেই চ্যালেঞ্জগুলো সুন্দরভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। বিদ্যমান সুযোগ ও সম্ভাবনাগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য সমযোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়নে মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সততা, নিষ্ঠা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতার সর্বোত্তম প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো আরো বহুদূর পর্যন্ত এগিয়ে যাবে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অর্জিত সাফল্যের ভিত্তিতে আগামী দিনের সকল ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে আধুনিক যুগোপযোগী ব্যাংকিং সেবার প্রসার ঘটাবে এবং দিনে দিনে সাফল্য ও সমৃদ্ধির নতুন নতুন দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করবে  ব্যাংকিং খাত- তেমন দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে  সবাইকে একযোগে সর্বোচ্চ উদ্যোগী হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ মানেই আধুনিক কারিগরী প্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহার নয়। একজন মানুষ সে নারী কিংবা পুরুষ হোক না কেন তার সাজসজ্জা পোশাক-আশাক, চলন-বলন কথাবার্তা যতই আধুনিক, ধোপদুরস্ত স্মার্ট হলেই তাকে পরিপূর্ণ স্মার্ট হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। যদি তার চিন্তাভাবনা, মন-মানসিকতা, রুচিবোধ, জীবনদর্শন, সৃজনশীলতা ইত্যাদি স্মার্ট না হয়, তাহলে তাকে কোনোভাবেই স্মার্ট মানুষ বলা যাবে না। এখানে স্মার্টনেস বলতে আমরা বুঝবো পুরনো গতানুগতিক চিন্তাভাবনা, জীবনবোধ, মনমানসিকতা ঝেড়ে ফেলে কুসংস্কার, গোড়ামিমুক্ত মানবিক জীবনদর্শন অনুসরণ। ব্যক্তিজীবনে, পরিবারে, সমাজে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় এখনও অনেক পুরনো চিন্তাভাবনা, দর্শন, সংস্কার, ধ্যান-ধারণা জেঁকে বসে আছে। বাইরে থেকে দেখে যতই আধুনিক যুগোপযোগী মনে হোক না কেন ভেতরে ভেতরে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে লালিত চেতনা ও নীতিকে বহন করা হচ্ছে। যে কারণে এখনও সমাজে উপনিবেশিক প্রশাসনিক, বিধিবিধান, বিচারিক আইন-কানুন, বাল্যবিবাহ, প্রাচীন রীতিনীতি ও সংস্কার অনুসরণ প্রতিনিয়ত চরম সংকট ও অস্বস্তির কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার ও কলামিস্ট

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস আজ

0

আজ ৯ ডিসেম্বর, আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারও সরকারি-বেসরকারিভাবে জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবছরের মতো এবারও নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

২০০৩ সালে ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে জাতিসংঘ। সে হিসেবে এবার ২১তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। বাংলাদেশ আনকাকের সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালন শুরু করে। যদিও সরকারিভাবে ২০১৭ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসটি বরাবরের মতো এবারও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা এবং ৪৯৫টি উপজেলায় বড় পরিসরে উদযাপন করা হবে। একইসঙ্গে দেশের সকল সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ, সরকারি-আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং পিকেএসএফসহ অন্যান্য এনজিওতে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

যার মধ্যে রয়েছে সারাদেশে দুর্নীতিবিরোধী কার্টুন প্রদর্শনী, মানববন্ধন, সেমিনার ও আলোচনা সভা। যেখানে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করবে। জাতিসংঘ বিশ্বকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই ইউনাইটেড ন্যাশনস কনভেনশন অ্যাগেইনেস্ট করাপশনের (আনকাক) মাধ্যমে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

পাটগ্রামে এনসিসি ব্যাংকের “বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ”

0

এনসিসি ব্যাংক সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সাবেক ছিটমহলের প্রান্তিক ভূট্টাচাষীদের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করেছে।

এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী (চলতি দায়িত্ব) এম.শামসুল আরেফিন এর সভাপতিত্বে পাটগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মোট ৩৫০ জন প্রান্তিক ভূট্টাচাষীদের মাঝে বিভিন্ন প্রকারের ভূট্টা বীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ করেন।

এসময় এনসিসি ব্যাংক সিআরএম ডিভিশন এর এসভিপি মুহাম্মদ শাহিদুল ইসলাম, রংপুর শাখার ব্যবস্থাপক রবীন্দ্রনাথ রায়, জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মো. আনোয়ার হোসেন এবং পাটগ্রাম শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ নাজির হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

পাটগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম এনসিসি ব্যাংকের কৃষি উপকরণ বিতরণের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর আহবান তথা দেশের প্রতি ইঞ্চি জমি আবাদযোগ্য করার কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং কৃষকেদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এনসিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী (চলতি দায়িত্ব) এম.শামসুল আরেফিন বলেন, এনসিসি ব্যাংক প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গা চাষযোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এনসিসি ব্যাংক কৃষকদের পাশে দাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে কৃষি যন্ত্রপাতিসহ আরও উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ এবং কৃষি গবেষণা কাজে ও উৎপাদিত কৃষি পণ্য সংরক্ষণে কৃষকদের সহায়তায় এনসিসি ব্যাংক পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

যেসব ফল দ্রুত ওজন কমায়

0

শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষায় ফল খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি ফলে রয়েছে নানা উপকারী উপাদান। কিছু ফল ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

রোজ চারবার ফল খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের মাত্রা কমে যায়। আর এভাবেই ওজন কমাতে সাহায্য করে ফল। আর নির্দিষ্ট কিছু ফল এক্ষেত্রে বেশি উপকারী। আপেল উচ্চ আঁশ এবং ফ্লাভানয়েড পলিমারস সমৃদ্ধ, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পেতে খোসাসহ আপেল খাওয়া উচিত। এটা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকলে তা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রেখে ডায়াবেটিস হওয়া থেকে রক্ষা  করে। মিনারেল সমৃদ্ধ ফল হিসেবে পরিচিত। এর ক্যালরির পরিমাণও কম। এক কাপ অর্থাৎ ১৫০ থেকে ১৬০ গ্রাম তরমুজ থেকে মিলবে মাত্র ৪৬ থেকে ৬১ ক্যালরি।

ক্যালরি কম হলেও এতে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় আঁশ, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন- ভিটামিন সি, বেটাক্যারোটিন এবং লাইকোপেন। আর এর শর্করা ধীরে রক্তে মিশে। ফলে অন্যান্য খাবার খাওয়ার চাহিদা কমায়। অন্যান্য টক ফলের মতো কমলা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এবং ক্যালরি কম। আর এটা অনেক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তবে মনে রাখতে হবে রস করে খাওয়ার চাইতে আস্ত কমলা খাওয়া বেশি উপকারী। উচ্চ মাত্রায় ক্যালরি ও শর্করা থাকার কারণে ওজন কমাতে গিয়ে অনেকেই কলা খাওয়া এড়িয়ে যান। তবে ক্যালরি বেশি হলেও এই ফলে আরও রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আঁশ, বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন এ, বি-সিক্স এবং সি। এই ফলের শর্করাও শরীরে ধীরে শোষিত হয়। তাই বিভিন্ন পুষ্টি উপাদনে ভরপুর কলা দেহের ওজন কম রাখতে সাহায্য করে।

ব্লুবেরি বা স্ট্রবেরি এই ধরনের ফলে ক্যালরির মাত্রা কম কিন্তু অন্যান্য পুষ্টিগুণ অনেক। আমাদের দেশে ব্লুবেরি সহজলভ্য না হলেও স্ট্রবেরি পাওয়া যায়। এক কাপ বা ১৫২ গ্রাম স্ট্রবেরিতে ৫০-এর কম ক্যালরি থাকে। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, নাশপাতি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে কারণ এতে আছে ফ্লাভানয়েড পলিমারস। প্রতি ১৩৮ মি.গ্রা. বাড়তি ফ্লাভানয়েড পলিমারস ওজন কম হারে বাড়ায়। তাই, যারা ওজন কমাতে চায় তাদের ফ্লাভানয়েড সমৃদ্ধ ফল খাওয়া উচিত। খোসাসহ খাওয়া হলে এর আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ফলে এলোমেলো খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা যায়।

দেশের ৩ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত

0

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ৩ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এজন্য বিমানবন্দরে অতিরিক্ত আর্মড পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একটি সূত্র।

সূত্রটি জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) বর্তমান জনবলের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ সদস্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়োগ দেয়া হবে এপিবিএনের আরও অতিরিক্ত ৬০ সদস্য। পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত ৫৪ আনসার সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে।

এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে সিকিউরিটি পাশের অপব্যবহার রোধ, সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রেখে ফুটেজ যথাযথভাবে রেকর্ড করাসহ কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বেবিচক সূত্র জানায়, ৩০ নভেম্বর বিমান মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে এক সভায় বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা পর্যালোচনা করে বাড়তি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপর ৫ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আহম্মেদ জামিলের সই করা এক চিঠিতে নিরাপত্তা জোরদারের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানকে জানিয়ে দেয়া হয়। ওই চিঠিতে নিরাপত্তারক্ষী বাড়ানোসহ ১২টি নির্দেশনা দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বর্তমানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়োজিত রয়েছেন বেবিচকের নিজস্ব ৫৭৪ নিরাপত্তাকর্মী। এছাড়া ১০৮৫ জন এপিবিএন সদস্য, ৯০২ জন আনসার সদস্যও নিয়োজিত আছেন। ইন্সট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ারের আওতায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে বিমানবাহিনী ও জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে সংযুক্ত পুলিশ ও আনসারের আরও ২৮৩ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

এর বাইরে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বর্তমানে ২৪টি সংস্থা কাজ করছে। তাদের সবাইকে যার যার দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো, ধ্বংস করা যাবে না: রিজভী

0

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার ভাবছে বিএনপিকে সাজা দিয়ে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে। কিন্তু বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো, চেষ্টা করেও ধ্বংস করা যাবে না।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, একতরফা নির্বাচন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা ও ফরমায়েশি রায় দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাজা দেয়া হচ্ছে। দেশে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে যেখানে সত্য কথা, মানুষের অধিকারের পক্ষে কথা বলা সবচেয়ে বড় অপরাধ।

পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ‌বিএনপির পরবর্তী কর্মসূচি আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে। সেদিন গুম-খুনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সমন্বয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। ঢাকা মহানগরসহ জেলা সদরেও এই কর্মসূচি পালিত হবে। ঢাকায় মানববন্ধন হবে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১১টায়। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঢাকার বাইরের অন্যান্য জেলাগুলোতেও মানববন্ধনে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়েছে।

এসময় রিজভী আরও বলেন, সরকারের দিক থেকে বাধা-বিপত্তি যদি আসে, সব কিছুকে প্রতিহত করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে—এই মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে হবে।

বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনা দুর্ভিক্ষ ঘটানো: প্রধানমন্ত্রী

0
বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনা দুর্ভিক্ষ ঘটানো: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির পরবর্তী পরিকল্পনা দুর্ভিক্ষ ঘটানো: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি কীভাবে নির্বাচন করবে? তাদের নেতা কে? তাদের কোন নেতা নেই। বিএনপি চিন্তা করেছিল নির্বাচন হবে না। এখন নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে। এক সময় বলেছিল নির্বাচন হতে দেবে না। উস্কানি আছে যে, নির্বাচন ঠেকাও। নির্বাচনের সিডিউল হয়ে গেছে। এখন তারা মনে করছে নির্বাচন হয়েই যাবে। তাই তারা মার্চ মাসের দিকে দেশের এমন অবস্থা করবে, দুর্ভিক্ষ ঘটাবে। এটা হচ্ছে তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা। এটা শুধু দেশের নয়, বাইরের দেশেরও পরিকল্পনা আছে। যেভাবেই হোক দুর্ভিক্ষ ঘটাতে হবে।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) দুই দিনের গোপালগঞ্জ সফরের দ্বিতীয় দিনে নিজ নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যারা আগুন দিতে যাবে, তাদেরকে ধরে পুলিশের সোপর্দ করতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যদি আগুন সন্ত্রাসী বেশি হয়, তাহলে তাদের আগুনেই ফেলে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মা, বাবা, ভাই-বোন সবাইকে হারিয়েছি। আপনাদের ভালবাসা, আপনাদের আস্থা, বিশ্বাস সবচেয়ে বড় পাওয়া। যাদের নমিনেশন দিয়েছি তারা আসন পায় একটি। আমার হলো ৩০০ আসনের দায়িত্ব। তাই আমি বলতে পারি আমার মত সৌভাগ্য কারো নেই। আমার এলাকা নিয়ে ভাবতে হয় না, চিন্তাও করতে হয় না যেটা আপনারা করেন। আমি জানি না আর কোন প্রার্থী সৌভাগ্যবান কিনা, যতটা আমি। একটা দায়মুক্ত করে রেখেছেন। আমি স্বাধীনভাবে সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য চিন্তা করতে পারি, কাজ করতে পারি যার সুফলটা সবাই পায়।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখনও তারা জ্বালাও-পোড়াও করছে। এদের শিক্ষাটা বোধহয় ইসরায়েলের কাছ থেকে, যারা প্যালেস্টাইনের ওপর আক্রমণ করছে। নিজেরাই ক্ষমতায় থেকে সমানে অর্থ কামিয়েছে। অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়েছে। কিন্তু এরা মানুষকে কোনও দিন শান্তিতে থাকতে দেবে না। এটাই তাদের চরিত্র।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, এখন তারা নির্বাচন করবে না। ২০১৪ সালে একই কথা বলেছিল। আসলে তারা নির্বাচন করবে কীভাবে। বাস্তব কথাটা কী? বাস্তব হলো ২০০৮ সালের নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে তো কেউ কোনও প্রশ্ন তোলে না। কারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছিল।

এদিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে কোটালীপাড়া পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে সেখানে থেকে ফিরে যান টুঙ্গিপাড়ায়।

এ সভায় আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা ধরণের দিক-নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রতিনিধি মো. শহীদ উল্লা খন্দকার। এ সময় শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ও শেখ সারহান নাসেন তন্ময় এবং কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সৌদিতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

0

সৌদি আরবে প্রশিক্ষণ মিশনের সময় একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানটিতে থাকা দুই সেনাই নিহত হয়েছেন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) প্রশিক্ষণ মিশনের সময় যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার মো. জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির বরাত দিয়ে আল অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, ধাহরানের কিং আব্দুল আজিজ বিমানঘাঁটিতে একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দুর্ঘটনা ঘটে। কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

আল অ্যারাবিয়া অনুসারে, জুলাই মাসে অনুরূপ একটি ঘটনায় খামিস মুশাইতে প্রশিক্ষণ মিশনের সময় একটি সৌদি এফ-১৫ বিধ্বস্ত হয় এবং জাহাজে থাকা ক্রুদের সবাই মারা যান।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে কারিগরি ত্রুটির কারণে কিং আব্দুল আজিজ বিমানঘাঁটির প্রশিক্ষণ এলাকায় আরেকটি এফ-১৫ বিধ্বস্ত হয়। সেবার দুই কর্মকর্তা তাদের ইজেক্টর আসন ব্যবহার করে বেঁচে যান।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমরা চিন্তিত নই: ওবায়দুল কাদের

0

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চিন্তিত নই। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হবে, এখানে নিষেধাজ্ঞা এলে বিএনপির বিরুদ্ধে আসা উচিত। যুক্তরাষ্ট্র যদি নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় তাহলে বিএনপি ও তার দোসরা সেটার জন্য যোগ্য।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর পুরোপুরি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় গেছেন বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে পুরোপুরি সহযোগিতা করে যাচ্ছি।

নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনে রদবদলের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত করতে ইউএনও ও ওসিদের বদলি করা হচ্ছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের অনেক এমপি-মন্ত্রী কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন, যা বিরল।

কোনো বাধা নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না জানিয়ে কাদের বলেন, কোনো বাধা, হুমকি, অগ্নিসন্ত্রাস বা নাশকতা এই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। বিএনপি ও তার সহযোগীরা ভোটে আসেনি, কিন্তু জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

পোশাক খাত নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গার্মেন্ট সেক্টর নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে একটি মহল শ্রমিকদের ব্যবহারের পাঁয়তারা করছে। আমাদের অর্থনৈতিক স্বার্থে গার্মেন্টসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখতে হবে।

এসময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দী, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বলিউডে জয়ার অভিষেক

0

ব্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী জয়া আহসান। বর্তমানে অবস্থান করছেন ভারতে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফরম জিফাইভে মুক্তি পাবে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর ‘কড়ক সিং’।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে তার প্রথম অভিনীত হিন্দি সিনেমা ‘কড়ক সিংয়ের প্রিমিয়ারে অংশ নিয়েছেন। সেখান থেকে মুম্বাই গেছেন দ্বিতীয় প্রিমিয়ার শোতে অংশ নিতে। আজ কলকাতায় এই সিনেমার প্রিমিয়ারেও অংশ নেবেন জয়া।

কড়ক সিং সিনেমায় জয়ার চরিত্রের নাম নয়না। সিনেমাটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে জয়া বলেন, আমি সবসময় ভিন্ন চরিত্রের সন্ধানে থাকি, বিশেষ করে যে চরিত্রগুলো আমার জন্য কমফোর্ট জোনে নয়। যেহেতু আমি হিন্দিভাষী অভিনেত্রী নই, তাই অবশ্যই এ সিনেমা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা আমার বরাবরই ছিল।

তিনি তার সিনেমার গল্প এমনভাবে করেন যেটা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে। সিনেমাটিতে যখন তিনি আমাকে সিলেক্ট করলেন, তখন একটা মিটিংয়ে সবাইকে নিয়ে বসলেন। আমাকে স্ক্রিপ্ট দেওয়া হলো। আমার চরিত্রের চ্যালেঞ্জগুলো ওই সময় আমি স্পষ্টভাবেই বুঝতে পারছিলাম। এ চ্যালেঞ্জের কারণেই আমি সিনেমাটা না বলতে পারিনি।

বলিউড অভিষেকের অভিজ্ঞতা নিয়ে জয়া আহসান বলেন, কড়ক সিং আমার প্রথম বলিউড প্রজেক্ট। আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন জায়গা থেকে এখানে এসেছি। একেবারেই নতুন আমি। সব মিলিয়ে বলা যায়, নবাগত ছিলাম আমি। কিন্তু এটা আমি কখনই অনুভব করতে পারিনি। সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কাজ করেছি।

কড়ক সিং সিনেমার গল্পটা মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা নিয়ে। মনস্তাত্ত্বিক জটিলতার সঙ্গে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক নিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। সংকটের মুখে একটি পরিবারের একত্র হওয়ার আবেগধর্মী গল্প দেখা যাবে এ সিনেমায়। এর গল্প লিখেছেন রিতেশ শাহ, বিরাফ সরকারি ও অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী। অনিরুদ্ধর অন্যান্য সিনেমার মতো এতেও থাকবে মানসিক দূরত্ব, জটিলতা, ব্যক্তিজীবনের গল্প ইত্যাদি।