সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬
33.9 C
Dhaka

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত

0

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বহুল আলোচিত প্রযুক্তির নাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। গত মার্চে গোল্ডম্যান স্যাকস ইকোনমিক রিসার্চের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই এআইয়ের পেছনে বৈশ্বিক বিনিয়োগ ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছবে। আর মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে এত বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আকর্ষণ করায় মোট দেশজ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এবার জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় সেই এআই ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনের দশম দিনে জাতিসঙ্গের ক্লাইমেট চেইঞ্জ টেকনোলজি নির্বাহী কমিটি (টেক) এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কমিটি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) কাজে লাগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনের নির্বাহী সচিব সাইমন স্টিয়েল বলেন, আমরা ক্রমবর্ধমান প্রমাণ দেখছি যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একটি অমূল্য যন্ত্র হিসেবে প্রমাণ করতে পেরেছে। যদি আমরা এআই-এর সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন থাকি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শক্তিকে কাজে লাগানোর এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিতে উদ্ভাবকদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেই তাহলে জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করা সম্ভব হবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিমন্ত্রী ওমর সুলতান আল ওলামা বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং রিমোট ওয়ার্ক অ্যাপ্লিকেশনগুলো জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমিত করার জন্য কৌশলগত সম্পদ হিসাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর জন্য এটিকে জাতীয় নীতি ও পরিকল্পনার সাথে একীভূত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইন্টিগ্রেশন রিয়েল-টাইম জলবায়ু ডেটার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তননীতিকে একীভুত করতে ডেটা বিশ্লেষণের ব্যবহারকে সহজতর করে। যার ফলে এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং শক্তির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে অগ্রসর করে। এই ব্যবস্থা এবং নীতিগুলিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়, বরং একটি সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসাবে দেখা উচিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতিমধ্যেই জলবায়ু প্যাটার্ন এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলির পূর্বাভাস দিতে, ফসলের ফলন উন্নত করতে, জলের ব্যবহার কমাতে বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবস্থাকে অপ্টিমাইজ করতে ব্যবহার করা হচ্ছে৷

সম্মেলনে বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি ও মন্ত্রী শান্তাল মুনরো-নাইট বলেছেন, আমরা দ্বীপের উন্নয়নে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্ততার কার্যনকারিতা পরীক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক কাজ করছি। তিনি বলেন, জলবায়ু প্রশমন এবং ছোট দ্বীপ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে।

সেনেগালের যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির মন্ত্রী মুসা বোকার থিয়াম বলেন, ডিজিটাল বিভাজন, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের মধ্যে, প্রযুক্তিকে খাপ খাওয়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এই উদীয়মান প্রযুক্তি সরঞ্জামগুলিতে স্থানীয় ভাষার সাথে চ্যাটবট ভয়েসের একীকরণ করা হলে তা কার্যকর হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জলবায়ু উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির সহকারী আলী জাইদি বলেন, আমাদের অবশ্যই ঝুঁকিগুলি পরিচালনা করতে হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেমনটি এআই বা কৃত্তিম বৃদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট বাইডেন সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাহী আদেশ প্রদান করেছেন। একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে, আমরা দায়িত্বের সঙ্গে এই উদীয়মান প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগাতে পারি এবং এ দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, আমাদের সবাইকে আরও টেকসই এবং স্থিতিস্থাপক করে তোলে এবং সবার জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত পরিচ্ছন্ন শক্তির ভবিষ্যত গড়ে তুলতে পারে।

টেকনোলজি মেকানিজম ইনিশিয়েটিভ অন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন-এর উদ্যোগে স্বল্পোন্নত দেশ এবং ছোট দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলির ওপর ফোকাস রেখে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে জলবায়ু সমস্যার সমাধানগুলোকে সমাধানের জন্য কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের কাছে ৪ উইকেটে হারলো বাংলাদেশ

0

প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় জয় পাওয়ায় আবার সিরিজ জয়ের সুযোগ এসেছিলো বাংলাদেশের সামনে। তবে শেষ পর্যন্ত সিরিজ জেতা হলো না বাংলাদেশের। বলা যায়, ফিলিপস বাধায় সিরিজ জিততে পারেনি শান্ত-তাইজুল-মিরাজরা।

ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ধসের পর বীরদর্পে ব্যাটিং করে দলকে লিড এনে দিয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। দ্বিতীয় টেস্টেও ব্যাটিং ধস সামলে স্যান্টনারের সাথে জুটি গড়ে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। এই জুটিতে ভর করে কিউইরা জিতেছে ৪ উইকেটে। ফলে সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের দেওয়া ১৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও টম লাথাম ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই এ জুটিতে আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। শরিফুলের পেসে পরাস্ত হয়ে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন কনওয়ে। আউট হওয়ার আগে ২ রান করেন তিনি।

দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন কেন উইলিয়ামসন। কিন্তু তিনিও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন। ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে এসে তাইজুলের বলটি মিস করেন। পরে সেই সুযোগে স্ট্যাম্পিং করেন সোহান। এরপর বাইশ গজে নিজেদের মেলে ধরার আগেই সাজঘরের পথ ধরেছেন হেনরি নিকোলস । নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে কিউইরা।

এরপর টম লাথামের সঙ্গী হন ড্যারিল মিচেল। এই জুটিতেই ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা সাজায় কিউইরা। তবে খুব একটা পার্থক্য গড়তে পারেননি লাথাম-মিচেল। মিরাজের হাতেই বিদায় নেন লাথাম। ৬০ বল খেলে ফেলা লাথাম প্রথম স্লিপে শান্তর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ২৬ রান।

এমন হতাশার পর টম ব্লান্ডেল এসে সেটি আরও বাড়িয়ে দেন। মিরাজের আগের ওভারেই ব্লান্ডেলের সাজঘরে ফেরা হয়ে যেত। অল্পের জন্য এলবিডব্লিউ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্লান্ডেলকে পরের ওভারে সোহানের গ্লাভসে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান তাইজুল।

এদিকে প্রথম ইনিংসে ভয়ংকর হয়ে ওঠা গ্লেন ফিলিপস এবার ফিরতে পারতেন ডাক হয়ে। যদি না স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর হাত থেকে ক্যাচটা ফস্কে যেত। তবে শান্ত তৃপ্তি পেলেন মিচেলের ক্যাচ লুফে নিয়ে। মিরাজের বলেই রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটে পাননি বল, এর আগেই তার গ্লাভসে হালকাভাবে স্পর্শ করে যায়।

আম্পায়ার বুঝতে না পারলেও বাংলাদেশ দল মাতে উদযাপনে। এরপর শান্ত রিভিউ নিয়ে ১৯ রান করে ফেলা মিচেলের আউট নিশ্চিত করেন। ৬৯ রানের আগেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজিল্যান্ড। সপ্তম উইকেটে গ্লেন ফিলিপস ও মিচেল স্যান্টনার ২১ রানের জুটি গড়ে চা বিরতিতে যায়।

তৃতীয় সেশনে মাঠে নেমেই জয়ের জন্য প্রয়োজন বাকি ৪৭ রান তুলে নেয় ফিলিপস-স্যান্টনার জুটি। ৪০ ওভারেই জয় তুলে নিয়ে সিরিজ ড্র করে কিউইরা। পুরো ম্যাচে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ও বল হাতে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন ফিলিপস।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন মাহমুদুল হাসান জয় ও জাকির হাসান। তবে ম্যাচের শুরুতেই উইকেট বিলিয়ে দেন জয়। অ্যাজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে ২ রানেই থামেন এ ডানহাতি ব্যাটার।জয়ের বিদায়ে উইকেটে আসেন টাইগার দলপতি নাজমুল হোসেন শান্ত। অতি আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তিনিও নিজের ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হন।

টাইগার দলপতিকে থামিয়েছেন কিউই অধিনায়ক টিম সাউদি। আউট হওয়ার আগে ১৫ রান করেন এ বাঁহাতি ব্যাটার। এরপর ক্রিজে আসেন মুমিনুল হক। তবে নিজের ব্যক্তিগত ইনিংস লম্বা করতে পারেননি তিনি। অ্যাজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন এ ব্যাটার। পরে বাইশ গজে এসে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

স্যান্টরারের বলে আউট হওয়ার আগে ৯ রান করেন এ ডানহাতি ব্যাটার। এরপর শুধু আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন টাইগার ব্যাটাররা। এরপর শুধু আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন টাইগার ব্যাটাররা। ব্যাট হাতে দুই অঙ্কের ঘর ছোঁয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন শাহাদাত হোসেন দিপু ৪, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩, নুরুল হাসান সোহান ০ ও নাঈম হাসানরা ৯।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় লক্ষ্য থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। তবে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নিয়েছেন টাইগার ওপেনার জাকির হাসান। তার ফিফটিতে ভর দিয়েই লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করেছে শান্ত বাহিনীরা। শেষ পর্যন্ত ১৪৪ রানে বাংলাদেশের ইনিংস ধামলে ১৩৬ রানের লিড পায় টাইগাররা।

মারা গেছেন অভিনেত্রী লক্ষ্মীকা

0

মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা গেলেন মা অভিনেত্রী লক্ষ্মীকা সঞ্জীবন। মালায়লাম সিনেমা ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় মুখ ছিলেন তিনি।

ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অভিনেত্রী লক্ষ্মীকা সঞ্জীবন মারা গেছেন। সেখানে একটি ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ২৪ বছর।

মালায়লাম শর্ট ফিল্ম ‘কাক্কা’র জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন লক্ষ্মীকা সাজীবন। এই সিনেমায় তিনি পঞ্চমী নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। দর্শকদের পাশাপাশি সমালোচকদেরও প্রশংসা কুড়ায় পঞ্চমী চরিত্রটি।

তার আকস্মিক মৃত্যুতে মালায়লাম বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ছিল ২ নভেম্বর, যেখানে তিনি সূর্যাস্তের একটি সুন্দর ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘আশা। সমস্ত অন্ধকার সত্ত্বেও আলো।’ তার অকাল মৃত্যুর খবর ভাইরাল হওয়ার পরপরই, ভক্তরা তার শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মন্তব্য বিভাগে বন্যা শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত, ‘পুজয়াম্মা’, ‘পঞ্চভারনাথথা’, ‘সৌদি ভেল্লাক্কাৎ, ‘উয়ারে’, ‘ওরু কুত্তানাদান ব্লগ’, ‘ওরু ইয়ামান্দান প্রেমকথা’ এবং ‘নিত্যহরিতা নয়াগান’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন লক্ষ্মীকা সঞ্জীবন। তাকে সর্বশেষ ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কুন’ সিনেমায় দেখা গেছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধের আহ্বান

0

‘রাজনীতি যার যার, অর্থনীতি সবার’ এই মূলমন্ত্র স্মরণে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত এফবিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভা (২০২২-২০২৩) এ বক্তৃতা প্রদানকালে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহবুবুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির প্রাণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে, দেশকে সমৃদ্ধ করতে সকল ভেদাভেদ ভুলে ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ শিল্পোদ্যোক্তা থেকে শুরু করে দেশের সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বর্তমান বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের ফলে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে মন্তব্য করে মাহবুবুল আলম বলেন, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে আমাদের ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাণিজ্য সংক্রান্ত পরিস্থিতি ও নীতিমালা ক্রমশ আধুনিকায়ন করতে হচ্ছে।

গত বার্ষিক সাধারণ সভার কার্য বিবরণী, এফবিসিসিআই’র বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২-২৩, এফবিসিসিআইয়ের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং নতুন একটি প্রতিষ্ঠানকে নিরীক্ষক দেয়ার বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেয়া হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, শমী কায়সার, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী (রনি), মো. মুনির হোসেন, পরিচালক বৃন্দ এবং এফবিসিসিআই এর সাধারণ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৩৬২

0

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসের ৯ দিনে ডেঙ্গুতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬২ জন। এর মধ্যে ঢাকা সিটির ৯৪ জন এবং ঢাকা সিটির বাইরে ২৬৮ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২ হাজার ৪১২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৩ জন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩ লাখ ১২ হাজার ৭০৯ জন। মারা গেছেন ১ হাজার ৬৫২ জন। এরমধ্যে ঢাকা সিটির ৯৫৪ জন এবং ঢাকা সিটির বাইরের ৬৯৮ জন।

২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশে ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।

২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে এডিস মশাবাহী এই রোগে আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিলো।

রোববার সারাদেশে বিএনপির মানববন্ধন

0

ঢাকাসহ সারাদেশের জেলা সদরে আগামীকাল ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে মানববন্ধন করবে বিএনপি। গুম-খুন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ মানববন্ধন করবে দলটি। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দলগুলো ও জোট এ কর্মসূচি পালন করবে। এ কর্মসূচি নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। তবে এতে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের বেশি জমায়েতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে বিএনপি। বেলা ১১টায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীকে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপি সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলাও মানববন্ধন সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারের দিক থেকে যদি বাধা-বিপত্তি আসলে সবকিছুকে প্রতিহত করে মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করা হবে বলে জানিয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা।

 জানা গেছে, আগামীকালের মানববন্ধন থেকে নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে বলে। তবে এখন হরতাল বা অবরোধের মত কর্মসূচি পরিহার করবে বিএনপি। নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি দেয়া হতে পারে।

গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসাবেশ কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় টানা অবরোধ ও হরতাল পালন করে বিএনপি। হরতাল ও অবরোধের ডাক দিয়েও মাঠে থাকেনি নেতারা। কর্মীদের উপস্থিতও ছিল কম। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দলগুলো ১৫-২০ মিনিটের মিছিল করে দ্বায় সেরেছে। অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয় এসব কর্মসূচি।

আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বানের আগে মাঠের রাজনীতি জোরদার করতে চায় বিএনপি। নেতাকর্মী মাঠে নামেতে আগামীকালের মানববন্ধন গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিএনপির হাইকমান্ড। সেভাবেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

দুর্নীতিবাজদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন: প্রধান বিচারপতি

0

দুর্নীতিবাজদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

তিনি বলেন ‌‘দুর্নীতি যেমন বৈষম্য, সামাজিক অনৈক্য ও অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে, তেমনই তা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই আমি মনে করি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের গুরুদায়িত্ব দুদকের হলেও এককভাবে কমিশনের পক্ষে দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও আইন বিভাগের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও জনগণের সক্রিয় উদ্যোগই পারে সমাজ থেকে দুর্নীতি নামক বিষবৃক্ষকে নির্মূল করতে।’

শনিবার (৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা সেই জাতি যারা অন্যায়-অবিচার, দুঃশাসন-অপশাসন, বৈষম্য-জুলুমের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশকে স্বাধীন করেছি। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেও জয়লাভ করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ। প্রধান বিচারপতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান থাকবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ধারণ করে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ করে দুর্নীতিবাজদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ। জাতীয় শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে দুদক।

ভারতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে দেয়াল ধস, নিহত ৬

0

ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানের সময় দেয়াল ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

শুক্রবার (০৮ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে মউ জেলার ঘোসি রোডওয়েজ স্ট্যান্ডের কাছে একটি সীমানা প্রাচীর ধসে চার নারী, দুই শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। শিশু দুইটির বয়স ৩ ও আড়াই বছর।

ঘোসি কোতোয়ালি এলাকার মাদাপুর সমাসপুরে অবস্থিত একটি বেসরকারি স্কুলের কাছে নির্মিত প্রাচীরটি ধসে পড়ে। তখন স্থানীয় নারীরা বিয়ের আঞ্চলিক অনুষ্ঠান (গায়ে হলুদ) পালন করছিলেন।

ধসে পড়া সীমানা প্রাচীরের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েন নারীরা। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসক সুমিত সিং-এর কর্মকার্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

এসপি অবিনাশ পান্ডে বলেছেন, চার মহিলা ও দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় ২২ জন মহিলা আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে।

 আহত নারীদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানান এসপি।

ডিসেম্বরেই ৪৩তম বিসিএসের ফল

0

সব কাজ শেষ করে চলতি ডিসেম্বর মাসেই ৪৩তম বিসিএসের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হবে।

শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিসিএসে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও শূন্যপদ না থাকায় নন-ক্যাডারের অপেক্ষায় থাকতে হয় অনেক প্রার্থীকে। ফলে আনন্দ রূপ নেয় বিষাদে। হতাশায় ভোগেন অপেক্ষায় থাকা এসব প্রার্থী।

বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ৪৩তম বিসিএস থেকে ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের ফল একসঙ্গে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। চলতি ডিসেম্বরেই ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা।

পিএসসি সূত্রে জানা যায়, গত ২১ নভেম্বর ৪৩তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে। ৪৩তম বিসিএসের ক্যাডার পদে সুপারিশের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে নন-ক্যাডারের পদে পছন্দক্রম নেওয়া হবে। সব কাজ শেষ করে চলতি মাসেই ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হবে।

জানা গেছে, ৪৩তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর। পিএসসি লিখিত পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করে ২০২২ সালের জুলাইয়ে। গত ২০ আগস্ট লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে উত্তীর্ণ হন ৯ হাজার ৮৪১ জন প্রার্থী।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৪৩তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ কর্মকর্তা নেওয়া হবে। এরমধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১০০, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫, শিক্ষা ক্যাডারে ৮৪৩, অডিটে ৩৫, তথ্যে ২২, ট্যাক্সে ১৯, কাস্টমসে ১৪ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ করা হবে।

ব্যাংকিং খাতে শিল্প বিপ্লবের সুফল কাজে লাগাতে হবে

0

এই উপমহাদেশে গত ১০০ বছরে কত সীমানা বদলেছে, দেশ স্বাধীন হয়েছে। পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত হয়েছে জাতি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আবার স্বৈরাচারী সামরিক শাসনের কঠিন বেড়াজালে বন্দি হয়েছে। আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন জোরদার হয়েছে। স্বৈরাচার সামরিক শাসন বিদায় নিয়েছে। জনতার আন্দোলনের মুখে টিকতে পারেনি। এই সময়ে পৃথিবীটাও বদলেছে অনেক। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেছে। কিন্তু আমরা এখনও বেশ কিছু জায়গায় অনেক আগের মতো রয়ে গেছি। এই সময়ের চ্যালেঞ্জটাকে আমলে না নিয়ে নির্বিকার বসে থাকার সুযোগ নেইÑ এটা উপলব্ধি করতে হবে সব পক্ষকেই। এখন ডিজিটাল বেনো জলে ভেসে যাচ্ছে গোটা দুনিয়া। অন্তর্জালের এই সময়ে ডিজিটাল নো ম্যানস ল্যান্ডে মানুষের বসত। তাবৎ দুনিয়ার সিনেমা, টিভি সিরিজ পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় আজকের তরুণ-তরুণী। দেশি-বিদেশি নানা কনটেন্ট এখন ইচ্ছমতো তার মোবাইল ফোন সেট, টিভি, ল্যাপটপে দেখতে পারছে অবাধে। দুনিয়াজুড়ে এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আর এর সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে জীবনযাপন, শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরন। আমাদের বাংলাদেশেও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ঢেউ লাগতে শুরু করেছে। তবে প্রশ্ন জাগছে, নতুন প্রেক্ষাপটে সামনে এসে দাঁড়ানো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশের ব্যাংক খাত কতটা প্রস্তুত? ব্যাংকগুলো যদি এখন থেকে সেভাবে নিজেদের যোগ্য এবং প্রস্তুত করে তুলতে না পারে তাহলে আগামি দিনগুলোতে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে ব্যর্থ হবে তারা।  বর্তমানে ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাতে প্রচলিত লেনদেন ব্যবস্থায় প্রযুক্তির হাত ধরে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। নগদ লেনদেনের বদলে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে মানুষ ডিজিটাল লেনদেনে অধিক হারে আকৃষ্ট হয়েছে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হচ্ছে আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলমান উৎপাদন ও শিল্পব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় সমসাময়িক সংস্করণ। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী আলোচিত নানা বিষয়ের মধ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বিষয়টি একটি অন্যতম অনুষজ্ঞ। এ বিপ্লব রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানো টেকনোলজি, কোয়ান্টাম, কম্পিউটিং, ব্যায়োটেকনোলজি, ইন্টারনেট অব থিংস, থ্রিডি প্রিন্টিং, সম্পূর্ণ স্বচালিত যানবাহন ও উদীয়মান প্রযুক্তির যুগান্তকারী যুগ হিসেবে চিহ্নিত। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এখন বিশ্বের দ্বারপ্রান্তে। এর ভিত্তি হিসেবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন, বিপণন ও ভোগের ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রভাব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মানুষের চিন্তা জগতে পণ্য উৎপাদন ও সেবা প্রদানে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। পৃথিবীর গতি প্রকৃতি ও মানুষের জীবন ধারাকে বদলে দিচ্ছে। বিশ্বের রাষ্ট্রনায়কদের সক্ষমতাকে বড় ধরনের পরীক্ষার সম্মুখীন করছে। আঠারো শতকের শেষার্ধে ইংল্যান্ডের যে শিল্প উৎপাদনের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয় সেটি হচ্ছে শিল্প বিপ্লব। শিল্প বিপ্লবের ফলে ইংল্যান্ড দেশটি বিশ্বের প্রথম শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তাই কখনো কখনো ইংল্যান্ডকে ‘পৃথিবীর কারখানা’ বলা হতো। ১৭ শতাব্দীতে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার এর মাধ্যমে হস্তচালিত শিল্প ব্যবস্থাকে মেশিন চালিত পদ্ধতিতে রূপান্তরের মাধ্যমে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হয়েছিল। ইউরোপ ও আমেরিকায় বস্ত্র শিল্প, লৌহ শিল্প ও কৃষি শিল্পে এর প্রভাব পড়েছিল। তৎকালীন ব্রিটিশ শিল্পে ও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ১৮৭০ থেকে ১৯১৪ সালের মধ্যে। এ কালে জ্বালানির উৎসগুলোতে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস প্রভৃতি উৎপাদিত হয়। রেলপথ ও টেলিগ্রাফ নেটওয়ার্ক ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। মানুষ ও তার চিন্তাভাবনার দ্রুত স্থানান্তরের সুযোগ তৈরি হয়। ক্রমবর্ধমান বৈদ্যুতিকীকরণে কারখানাগুলোতে আধুনিক উৎপাদন লাইনের বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পরবর্তী সময় কম্পিউটার প্রযুক্তি, সেমি কন্ডাক্টর, মাইক্রোচিপস ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতি ও আণবিক শক্তির উদ্ভাবন নিয়ে হয়েছিল তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। এ সময়ে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা, ওষুধ শিল্প ও ব্যায়োটেকনোলজির ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন হয়। ইন্টারনেট, মোবাইল যোগাযোগ এ শিল্পবিপ্লবের ফল। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বা ইন্ডাস্ট্রি- ৪.০০ হচ্ছে আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার। দ্রব্য উৎপাদনের ও সেবা প্রদানে বিপণন ও ভোগের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। শুধু যান্ত্রিক কৌশল নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উচ্চতর পর্যায়ের তথ্যপ্রযুক্তি, রোবটিক্স ও কম্পিউটারের উচ্চতর প্রযুক্তির ব্যবহার এ বিপ্লবের অন্যতম অনুষঙ্গ।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী গতি লক্ষ করা গেলেও বিশ্ব প্রযুক্তির সাথে তাল মিলাতে ও বেকারত্ব হ্রাস, বৈষম্য ও দুর্নীতি দূর করতে এবং ব্যাংকিং সেক্টরে শৃঙ্খলা আনয়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। মানুষের দৈনন্দিন পথ চলায় ব্যাংক ও আর্থিক খাত গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সময়কালে এ খাতের প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়নে গ্রাহকদের প্রযুক্তির সাথে সুপরিচিত করাও একটি চ্যালেঞ্জ। উন্নত ব্যাংকিং সেবা ও ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য শিক্ষিত ও জনশক্তি তৈরি করাও চ্যালেঞ্জ। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব প্রসার লাভ করলে শ্রমশক্তির চাহিদা যে হ্রাস পাবে শুধু তা নয় বরং অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য বর্তমানে বিদ্যমান পেশাগুলোতে চাহিদা দ্রুত কমে আসবে। অন্য দিকে উচ্চ শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন এমন পেশায় চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তাই দ্রুত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে ব্যাংকিং খাতের ঋণ আদায়ের গতি ও খেলাপি গ্রাহকদের থেকে অর্থ আদায়ের জন্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর সাথে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের প্রযুক্তি বৈষম্য দূর করতে হবে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন যন্ত্রের সাথে সহাবস্থান করতে হবে। ফলে মানুষের কর্মক্ষেত্র সঙ্কুচিত হবে, অক্ষসমতা বৃদ্ধি পাবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমবে ও প্রযুক্তি জ্ঞানের ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়বে। এ জন্য আমাদের কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে তথ্যপ্রযুক্তির আদলে তৈরি করতে হবে। অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে জটিলতা দূর ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক সেবা খাতে প্রযুক্তির হাত ধরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। লেনদেন করতে এখন ব্যাংকে সশরীরে না গিয়ে ঘরে বসে স্মার্টফোনেই কাজ করা যায়। বর্তমানে চালু হচ্ছে ওপেন ব্যাংকিং অর্থাৎ অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই)। ভোক্তারা একটি অ্যাকাউন্ট থেকেই ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। ডিজিটাল টেকনোলজির মাধ্যমে (ডিএলটি) ব্লক চেইন নেটওয়ার্ক ভোক্তাদের কাছে আস্থা ও স্বচ্ছতা তৈরি করেছে। তবে ব্যাংকিং পরিষেবায় উন্নতি করতেও ভোক্তাদের আরো দ্রুত সেবা দিতে এবং এ খাতের দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করতে, ঋণ আদায়ের গতি ফিরিয়ে আনতে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। ব্যাংকিং খাতে সঠিক ডকুমেন্টেশন, ফেইক ডকুমেন্ট ডিটেক্ট এবং ডকুমেন্টস প্রিজারভেশনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে কিভাবে ঝুঁকি কমানো যায় তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তদারকি বাড়ানো উচিত। আমাদের ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করতে হবে। নামজারি, রেজিস্ট্রেশন, খাজনা প্রদান ইত্যাদির ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা উচিত, যার ফলে ব্যাংক বিনিয়োগ ও মর্গেজকৃত সম্পত্তি সার্চিং ও যাচাই-বাছাইয়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে নতুন সম্ভাবনার বিপরীতে ব্যাংকিং খাতে টানা ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। পাসওয়ার্ড হ্যাকিং, এটিএম বুথ থেকে অর্থ চুরি রোধসহ দেশীয়- আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফান্ড হস্তান্তরের বিষয়গুলো গুরুত্বসহ দেখা উচিত। অর্থ কর্মকাণ্ডে ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল রূপান্তর হচ্ছে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বুনিয়াদ। ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের সাথে গ্রাহকদের অন্তর্ভুক্তি করানোসহ সমাজকে প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে অভ্যস্ত করা, অদক্ষ শ্রমিকদের চাকরিচ্যুতি ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তি প্রাপ্তি, শিল্প বিপ্লবের সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জব পলিসি, প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য নিয়মনীতির সংস্কার করতে হবে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়ানো যায় তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশে তরুণের সংখ্যা পাঁচ কোটি, যা মোট জনশক্তির ৩০ শতাংশের বেশি। আগামী ৩০ বছরে এ তরুণেরা উৎপাদনশীল খাতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফল ভোগের বড় হাতিয়ার। ব্যাংকিং বা আর্থিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার (ফিনটেক) ভবিষ্যতে প্রথাগত ব্যাংকিং পরিষেবাকে অনেকটা সঙ্কুচিত করে দেবে। ছোট আকারের ফিনটেক প্রতিষ্ঠান অনেক কম খরচে বেশি দক্ষতার সাথে আর্থিক সেবা দিতে সমর্থ হবে। ডিজিটাল যুগে কার্যকর প্রযুক্তি পণ্য ও সেবার চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সূক্ষ্ম সমন্বয় করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তির আবিষ্কারের সাথে ব্যাংক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। পণ্য ও সেবা উৎপাদন বণ্টনে ব্যয় অভাবনীয়ভাবে হ্রাস পাবে। কারণ মানুষকে সহায়তা করবে মেশিন। স্বল্প সময়ে অধিক উৎপাদন করা সহজ হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। যেসব ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিকে যত দ্রুত কাজে লাগাতে পারবে তারা তত দ্রুত এর সুফল ভোগ করবে।

২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবনযাপন সব কিছুতেই যুগান্তকারী পরিবর্তন ঘটছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফলগুলো ভালোভাবে আত্তীকরণের মাধ্যমে নতুন সময়, নতুন প্রেক্ষাপটের আলোকে সর্বোত্তম গ্রাহকসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নানা রকম চ্যালেঞ্জ থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা, ব্যাংকগুলো সেই চ্যালেঞ্জগুলো সুন্দরভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। বিদ্যমান সুযোগ ও সম্ভাবনাগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর জন্য সমযোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়নে মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, সততা, নিষ্ঠা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতার সর্বোত্তম প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো আরো বহুদূর পর্যন্ত এগিয়ে যাবে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অর্জিত সাফল্যের ভিত্তিতে আগামী দিনের সকল ধরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশ ও জাতির কল্যাণে আধুনিক যুগোপযোগী ব্যাংকিং সেবার প্রসার ঘটাবে এবং দিনে দিনে সাফল্য ও সমৃদ্ধির নতুন নতুন দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করবে  ব্যাংকিং খাত- তেমন দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে  সবাইকে একযোগে সর্বোচ্চ উদ্যোগী হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ মানেই আধুনিক কারিগরী প্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহার নয়। একজন মানুষ সে নারী কিংবা পুরুষ হোক না কেন তার সাজসজ্জা পোশাক-আশাক, চলন-বলন কথাবার্তা যতই আধুনিক, ধোপদুরস্ত স্মার্ট হলেই তাকে পরিপূর্ণ স্মার্ট হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। যদি তার চিন্তাভাবনা, মন-মানসিকতা, রুচিবোধ, জীবনদর্শন, সৃজনশীলতা ইত্যাদি স্মার্ট না হয়, তাহলে তাকে কোনোভাবেই স্মার্ট মানুষ বলা যাবে না। এখানে স্মার্টনেস বলতে আমরা বুঝবো পুরনো গতানুগতিক চিন্তাভাবনা, জীবনবোধ, মনমানসিকতা ঝেড়ে ফেলে কুসংস্কার, গোড়ামিমুক্ত মানবিক জীবনদর্শন অনুসরণ। ব্যক্তিজীবনে, পরিবারে, সমাজে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় এখনও অনেক পুরনো চিন্তাভাবনা, দর্শন, সংস্কার, ধ্যান-ধারণা জেঁকে বসে আছে। বাইরে থেকে দেখে যতই আধুনিক যুগোপযোগী মনে হোক না কেন ভেতরে ভেতরে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে লালিত চেতনা ও নীতিকে বহন করা হচ্ছে। যে কারণে এখনও সমাজে উপনিবেশিক প্রশাসনিক, বিধিবিধান, বিচারিক আইন-কানুন, বাল্যবিবাহ, প্রাচীন রীতিনীতি ও সংস্কার অনুসরণ প্রতিনিয়ত চরম সংকট ও অস্বস্তির কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার ও কলামিস্ট