জাপানিদের এই বিশেষ জীবনযাপনের পদ্ধতিকে বলা হয় ‘হারা হাচি বু’। মূলত এই নিয়মের মূল কথা হলো
কখনোই পেট পুরে না খাওয়া, বরং পাকস্থলীর ২০ শতাংশ খালি রাখা।
ওকিনাওয়ার মতো জাপানের যেসব অঞ্চলে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, সেখানে এই প্রাচীন অভ্যাসটিই সুস্বাস্থ্যের প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত। কনফুসীয় দর্শন থেকে আসা এই অভ্যাসে কোনো কঠোর ক্যালরি গণনার ঝক্কি নেই, আছে শুধু পরিমিতিবোধ।
চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, আমাদের পেট যে পূর্ণ হয়েছে সেই সংকেত মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। ফলে দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আমরা অজান্তেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলি। ‘হারা হাচি বু’ আমাদের সেই অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ থেকে বিরত রাখে।
যখন একজন মানুষ তার পেটের ৮০ শতাংশ পূর্ণ হওয়া মাত্রই খাওয়া থামিয়ে দেন, তখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়।
২০১৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত খাবার এড়িয়ে চললে শরীরের কোষগুলোর কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়া ধীর হয়। ফলে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি নাটকীয়ভাবে কমে আসে।
পুষ্টিবিদদের মতে, এই অভ্যাস ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও জাদুর মতো কাজ করে। সাধারণত ডায়েট বলতে অনেক প্রিয় খাবার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবা হয়, কিন্তু ‘হারা হাচি বু’ পদ্ধতিতে কোনো খাবারই নিষিদ্ধ নয়।
শুধু খাবারের পরিমাণ ২০ শতাংশ কমিয়ে আনলেই শরীরের বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই নিয়ন্ত্রণে থাকে। এতে পরিপাকতন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে না বলে হজমশক্তি উন্নত হয় এবং অ্যাসিডিটি বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দূর হয়।
এছাড়া অতিরিক্ত খাওয়ার পর যে আলসেমি বা ঘুম ঘুম ভাব হয়, এই নিয়ম মেনে চললে তা হয় না; বরং সারা দিন কাজের শক্তি বজায় থাকে।
এই পদ্ধতি আয়ত্ত করার জন্য কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে। যেমন—ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া, ছোট থালায় খাবার পরিবেশন করা এবং খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল ব্যবহার না করে খাবারের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া।
শুরুতে পেট পুরোপুরি না ভরলে কিছুটা অতৃপ্তি মনে হতে পারে, কিন্তু কয়েক দিন নিয়মিত চেষ্টা করলে শরীর এই নতুন ছন্দের সঙ্গে মানিয়ে নেয়।
বিশেষজ্ঞেরা পরামর্শ দেন, খাবারের আগে পানি খেয়ে নেওয়া এবং প্লেটে আগের তুলনায় ২০ ভাগ কম খাবার নিয়ে শুরু করা।
শেষ পর্যন্ত ‘হারা হাচি বু’ কেবল একটি ডায়েট নয়, বরং এটি একটি টেকসই স্বাস্থ্যকর জীবনদর্শন বলে মনে করেন জাপানিরা।


