নবীজি (সা.) বলেছেন- রমজানের সিয়ামের (রোজা) পর সর্বোত্তম সওম হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররমের সওম এবং ফরজ সালাতের (নামাজ) পর সর্বোত্তম সালাত হলো রাতের সালাত (তাহাজ্জুদ)। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৪৫)
এ ক্ষেত্রে মধ্যরাতের পর থেকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া ভালো। তবে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করার সবচেয়ে উত্তম সময় হলো শেষ রাতে। কারণ, প্রতি রাতে এই সময়ে মহান রাব্বুল আলামিন প্রথম আসমানে এসে বান্দাদের জন্য ক্ষমার ঘোষণা দেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহামহিম আল্লাহ তা’আলা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন- কে আছে এমন যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেবো। কে আছ এমন যে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দেবো। কে আছ এমন আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করবো। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৭৯)
অন্য সব নামাজের মতো তাহাজ্জুদের নামাজেও সুরা-কেরাত পাঠের পাশাপাশি রুকু-সিজদা আদায় করতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব (সর্বোত্তম ৮ রাকাত) নফল এই নামাজ আদায় করতে হয়।
এ ক্ষেত্রে ফজিলতপূর্ণ এই নামাজ নিয়ে প্রায়সময়ই একটি কথা শোনা যায় যে, তাহাজ্জুদে কেরাতে ভুল হলে গুনাহ হয়। আবার কেউ কেউ এমনও বলে থাকেন, ফজিলতপূর্ণ এই নামাজে কেরাত ভুল হলে পাগল হয়ে যায়! আসলেই কি কুরআন-হাদিসে এমন কিছু আছে?
ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ’র মতে, তাহাজ্জুদের নামাজে কেরাত ভুল হলে গুনাহ হয় কিংবা পাগল হয়ে যায় এসব একেবারেই কুসংস্কারাচ্ছন্ন কথা। কুরআন ও হাদিসে এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই। কেরাতে ভুল হলে কোনো অসুবিধা নেই। গুনাহও হবে না, আর পাগল হওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না।
জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, অন্য নামাজে যেমন ভুল হতে পারে, তাহাজ্জুদ নামাজেও তেমন ভুল হতে পারে। সুতরাং, তাহাজ্জুদের নামাজের কেরাতে ভুল হলে সেটি অন্য নামাজের ভুলের মতো সংশোধন করে নিতে হবে। কিন্তু এর কারণে কোনো গুনাহ বা অন্য কোনো ক্ষতি হবে না।


