আর্জেন্টিনার তারকা ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেস নিজের অবস্থান জানালেন এবার। এর আগে জাতীয় দলের হয়ে বিদায়ী ম্যাচে লিওনেল মেসিও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। খবর টিওয়াইসি স্পোর্টসের।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) ‘এএফএ স্টুডিও’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ২০২৬ বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণা করেন লাউতারো মার্তিনেস। বিশেষ করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের কথা তুলে ধরেন ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার।
লাউতারো বলেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের অনেক শক্তি কেড়ে নিয়েছিল। আমরা নিজেদের সবটুকু দিয়েছিলাম। ফাইনালেও একইভাবে সর্বস্ব উজাড় করে খেলেছি। কয়েকজন খেলোয়াড়কে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। আমরা মাঠে নিজেদের সবটুকু দিয়ে এসেছিলাম, আর সেটি খেলাতেও স্পষ্ট ছিল। এমন খেলোয়াড়ও ছিল, যারা ঠিকমতো হাঁটতে পারছিল না, তবু দৌড়ে যাচ্ছিল।’
ফাইনালে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন লাউতারো। তার মতে, আর্জেন্টিনা যে জয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে, এসব দাবি সেই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে।
তিনি বলেন, ‘শেষ আক্রমণ পর্যন্ত আমাদের সুযোগ ছিল। মানুষ যখন এসব তত্ত্ব নিয়ে কথা বলে, তখন বিরক্ত লাগে। কারণ, আমরা যে নিজেদের সর্বস্ব দিয়েছিলাম, সেটি এতে অস্বীকার করা হয়। তবে আমরা জানি, আমরা সবকিছু দিয়েছি; এটাই আমাদের মানসিক শান্তি দেয়। প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে।’
বিশ্বকাপের পুরো যাত্রা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে লাউতারো আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপটি ছিল ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। সমর্থকেরা আমাদের সঙ্গে এবং আমাদের এই পথচলার সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পেরেছিলেন। এই বিশ্বকাপ আমাদের গড়ে তোলা সবকিছুরই নিখুঁত প্রতিফলন।’
আর্জেন্টিনা দলকে নিয়ে লাউতারোর ভাষ্য, ‘আমরা এমন একটি দল, যারা কখনো হাল ছাড়ে না, সব সময় আরও ভালো কিছু অর্জন করতে চায়। আর লিওর (লিওনেল মেসি) মতো একজন নেতা আমাদের শিখিয়েছেন, কখনো আত্মসমর্পণ করা যাবে না।’
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লাউতারো মার্তিনেস। তার গোলেই ফাইনালে ওঠার পথ নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণা করে লাউতারো বলেন, ‘এটি এমন একটি স্মৃতি, যা আমি চিরকাল লালন করব।’
গোলটির গুরুত্ব তখনই পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেননি বলেও জানান তিনি। লাউতারোর ভাষায়, ‘সেই দিনগুলোতে এত বেশি উত্তেজনা ছিল এবং ফাইনালও সামনে চলে এসেছিল যে, আমি যে গোলটি করেছি, সেটি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতনই ছিলাম না।’
লাউতারোর কাছে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি ছিল ফকল্যান্ডস যুদ্ধে অংশ নেয়া এক সাবেক যোদ্ধার প্রতিক্রিয়া। তার অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে আর্জেন্টিনার এই স্ট্রাইকার জানান, দেশের জন্য অতীতে যারা লড়াই করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানো তার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।


