অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও নৈরাজ্যকর বাণিজ্যের প্রতিবাদে এবং মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানতে ৭ দফা দাবি উত্থাপন
করেছে সংগঠনটি। শনিবার (৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে ক্যাব।
সংস্থাটির ভাষ্য, এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ২৫৪ টাকা হলেও ব্যবসায়ীরা ২ হাজার টাকার বেশি রাখছেন। এলপিজি, ভোজ্যতেল ও চিনির দামে ধারাবাহিক বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে ক্যাব বলছে, আমদানি ও মিল পর্যায়ে উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। বিশেষ করে রমজান মাসকে সামনে রেখে সুকৌশলে চিনির দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের প্রতিবছরের চিরাচরিত কারসাজি।
আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাত দেখিয়ে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে ক্যাবের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, টিসিবির তথ্যমতে, গত এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম খুচরা পর্যায়ে ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এলপিজির ক্ষেত্রে বিইআরসি দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই। আমদানিকারক ও পরিবেশকদের কারসাজিতে ভোক্তারা একতরফাভাবে উচ্চমূল্যের চাপ বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সংগঠনটি মনে করছে, যদি এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সিন্ডিকেটের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।
সরকারের কাছে উত্থাপন করা ক্যাবের ৭ দফা দাবি—
- মিল পর্যায়ে চিনির উৎপাদন ও মজুত যাচাই করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করা।
- সিন্ডিকেট ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
- আন্তর্জাতিক বাজারদর ও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে স্থানীয় মূল্যের যৌক্তিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা।
- পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের ব্যবধান কমাতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ জোরদার করা।
- নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিদপ্তরের সমন্বিত তদারকি।
- এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশকদের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো।
- কোনো অজুহাতেই যেন বাজার তদারকি প্রশাসনের অগ্রাধিকার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা।


