বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬
বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬
23.7 C
Dhaka
Homeআন্তর্জাতিকআলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী আফগানিস্তান

আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী আফগানিস্তান

প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ ১১:২৭

পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি প্রধান শহরে বোমা হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা জানিয়েছেন, তারা আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে আগ্রহী। তবে এর বিপরীতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনাকে ‘খোলা যুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। খবর আল জাজিরার।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও অন্যান্য শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে। জবাবে সীমান্তে আফগান যোদ্ধারা প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে।পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের সঙ্গে ‘সর্বাত্মক সংঘর্ষ’ ঘোষণা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেন, ‘এখন আমাদের ও আপনাদের মধ্যে খোলা যুদ্ধ চলবে।’

আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাত সবসময় সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে, এখনও আমরা সংলাপের মাধ্যমেই বিষয়টি সমাধান করতে চাই।’ তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে কাবুল, কান্দাহার, পাকতিয়া, খোস্ত ও লঘমান এলাকায় পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী দাবি করেছেন, অভিযানে আফগান বাহিনীর অন্তত ২৭৪ জন সদস্য নিহত ও ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছে। অন্যদিকে ১২ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত ও ২৭ জন আহত হওয়ার খবর দিয়েছে তারা।

তবে জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে ও অনেককে বন্দী করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ১৩ জন আফগান সৈন্য নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে আফগান সরকার জানায়, খোস্ত ও পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় ১৯ জন বেসামরিক লোক নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর এটিই ছিল আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বিমান হামলা। বিশ্লেষক আব্দুল সাঈদ আল জাজিরাকে জানান, দুই দেশের জনগণের গভীর সম্পর্ক ও ডুরান্ড লাইন সীমান্তের জটিলতার কারণে পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বেশ কঠিন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সম্পর্কের চরম অবনতি হওয়ায় অক্টোবর থেকে সীমান্ত ক্রসিংগুলো মূলত বন্ধ রয়েছে। কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় এর আগে কয়েক দফা আলোচনার চেষ্টা হলেও তা স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি রাশিয়া, ইরান ও ইরাক অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর