শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬
32 C
Dhaka
Homeজেলার খবরফটিকছড়িতে কোয়ার্টার সংকটে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, যাতায়াতেই যাচ্ছে কর্মঘণ্টা

ফটিকছড়িতে কোয়ার্টার সংকটে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, যাতায়াতেই যাচ্ছে কর্মঘণ্টা

প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৭:৪০

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে ভুগছেন সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

কোয়ার্টারের সংকটের কারণে অনেক কর্মকর্তাকে চট্টগ্রাম শহর ও হাটহাজারী থেকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।এতে একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

আয়তনের দিক দিয়ে ফটিকছড়ি দেশের বৃহৎ একটি উপজেলা। এরই মধ্যে সম্প্রতি ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ নামে নতুন উপজেলা গঠিত হয়েছে। তবে নতুন উপজেলায় এখনো সব সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ায় আগের মতোই ফটিকছড়ির বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এর পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন দায়িত্ব তাঁদের ওপর থাকায় প্রশাসনিকভাবে কাজের চাপও অনেক বেড়েছে।

ফটিকছড়িতে কর্মরত এক বিসিএস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ ফটিকছড়িতে কর্মরত কর্মকর্তাদের থাকার জন্য এখানে পর্যাপ্ত সরকারি কোয়ার্টার নেই। ফলে শহর থেকে প্রতিদিন আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে, ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে।এতে করে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অফিসে এসে আবার দিন শেষে শহরে ফিরতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর।’

কর্মকর্তারা আরো জানান, চট্টগ্রাম শহর থেকে ফটিকছড়িতে যাতায়াতের প্রধান পথ নাজিরহাট-অক্সিজেন সড়ক। হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকায় এ সড়কে প্রায়ই যানজট দেখা যায়।

ফলে সকাল ৯টার অফিস ধরতে অনেক কর্মকর্তাকে সকাল ৬টার আগেই বাসা থেকে বের হতে হয়। কর্মদিবস শেষে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শহরে ফিরতে হয়।প্রতিদিনের এই দীর্ঘ যাতায়াতে কর্মশক্তির একটি বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘ফটিকছড়িতে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য পর্যাপ্ত সরকারি আবাসনের ব্যবস্থা নেই। মানসম্মত বাসাও সহজে পাওয়া যায় না। এ কারণে অনেক কর্মকর্তা হাটহাজারী বা চট্টগ্রাম শহর থেকে যাতায়াত করে দায়িত্ব পালন করছেন।’

এভাবে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা যাতায়াত করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি বাড়ছে। বর্ষা বা বন্যার সময়ে সড়কে সমস্যা হলে এই ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনকে শুধু ব্যক্তিগত সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে সরকারি সেবার মান, কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা এবং জরুরি সময়ে দ্রুত কর্মস্থলে উপস্থিতির বিষয়টিও সরাসরি জড়িত।

বিশেষ করে বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিংবা আকস্মিক প্রশাসনিক প্রয়োজনে কর্মস্থলের কাছাকাছি কর্মকর্তাদের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁদের মতে, ফটিকছড়ির মতো বড় ও ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য পর্যাপ্ত ও স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সরকারি কোয়ার্টার নির্মাণ করা হলে কর্মকর্তাদের আবাসনসংকট যেমন কমবে, তেমনি কর্মঘণ্টার অপচয় রোধের পাশাপাশি জরুরি সময়ে দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসকের

স্টাফ অফিসার জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।

আরও পড়ুন
spot_img

জনপ্রিয় খবর