সাধারণত প্রস্রাবের গন্ধ হালকা হয়ে থাকে এবং এটি সচরাচর নজরে আসে না। তবে অনেকেরই হঠাৎ করে প্রস্রাব থেকে তীব্র, অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশই বিষয়টি অবহেলা করে থাকেন, যা মোটেও উচিত নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে জীবনযাপনের ছোট পরিবর্তনের জন্য সাময়িক গন্ধ হতে পারে। তবে এই সমস্যা কয়েকদিন বা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
- প্রস্রাবের গন্ধ: মুম্বাইয়ের নেফ্রোলজিস্ট ডা. আদিত্য নায়ক ও ইউরোলজিস্ট ডা. প্রদীপ রাওয়ের মতে, প্রস্র্রাবের গন্ধ পরিবর্তনের সাধারণ কারণ হচ্ছে পানিশূন্যতা। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না থাকলে প্রস্রাব ঘনীভূত হয় এবং এতে অ্যামোনিয়ার মতো তীব্র গন্ধ হয়। কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকেই শীতে কম পানি পান করেন, যা সরাসরি প্রস্রাবের গন্ধে প্রভাব ফেলে।
- খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা: খাদ্যাভ্যাসও প্রস্রাবের গন্ধে ভূমিকা পালন করে। রসুন, পেঁয়াজ, অ্যাসপারাগাসের মতো খাবার খাওয়া হলে প্রস্রাবে বিশেষ ধরনের গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার অতিরিক্ত কফি বা অ্যালকোহল গ্রহণের কারণেও প্রস্রাবের স্বাভাবিক গন্ধ পরিবর্তন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গন্ধ ক্ষতিকর নয় এবং খাদ্যাভ্যাস স্বাভাবিক হলে তখন আপনাআপনিই গন্ধ কমে যায়।
- ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স: অনেক সময় ভিটামিন বা ওষুধ গ্রহণের কারণেও প্রস্রাব থেকে গন্ধ বের হয়ে থাকে। বিশেষ করে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স জাতীয় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা হলে প্রস্রাব উজ্জ্বল রঙের ও তীব্র গন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার কিছু অ্যান্টিবায়োটিক বা ওষুধের ক্ষেত্রেও এমনটা হয়ে থাকে, তবে এসব ক্ষতিকর নয়।
- মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণ: প্রস্রাবের দুর্গন্ধ যদি জ্বালাপোড়া, ব্যথা বা অস্বস্তির সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে বুঝতে হবে মূত্রনালীর সংক্রমণের লক্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) হলে ব্যাকটেরিয়া জমে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এ অবস্থায় কিছুক্ষণ পরপর প্রস্রাবের বেগ হওয়া, জ্বালাপোড়া, তলপেটে ব্যথা বা জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- ডায়াবেটিসে গন্ধ: ডায়াবেটিস থেকেও প্রস্রাবের গন্ধ পরিবর্তন হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হলে প্রস্রাবে গ্লুকোজ বা কিটোনের উপস্থিতির জন্য মিষ্টি বা অ্যাসিডিক ধরনের গন্ধ হতে পারে। কখনো কখনো রোগী উপলব্ধিই করতে পারেন না, তার রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় প্রস্রাবের গন্ধ এই সমস্যার ইঙ্গিত দেয়া শুরু করে।
- কিডনির সমস্যা: ডা. আদিত্য নায়কের মতে, প্রস্রাবের দুর্গন্ধ কয়েকদিন যদি থাকে, প্রস্রাবের সময় যদি ব্যথা হয়, রং গাঢ় বা অস্বাভাবিক হওয়া, জ্বর বা কাঁপুনি দেয়া বা তলপেট ও কোমরের পাশে ব্যথা হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ: প্রস্রাবজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সাধারণত প্রস্রাব পরীক্ষা, এর কালচার, রক্তে শর্করার পরীক্ষা ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন এবং ওষুধ উল্লেখ করেন। সময়মত চিকিৎসা নিয়ে রোগ শনাক্ত করতে পারলে বড় জটিল রোগ এড়ানো যায় এবং অল্পতেই সুস্থ হওয়া সম্ভব হয়।


