মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
26.9 C
Dhaka

জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিতব্য ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

তিনি বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সেজন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এ টুর্নামেন্টে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক-৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ জন, বালিকা-৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারা দেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।

বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

ফটিকছড়িতে ভোলার হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

0
ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর থেকে ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম। ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার আব্দুর রহিম (ভূট্টো) মামলায় ১৮জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার মামলা নং-০৪, তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ২ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো. আমজাদ (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলাটি আব্দুর রহীম ওরফে ভূট্টো হত্যা সংক্রান্ত।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, পলাতক আসামি মো. আমজাদ চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের আবুল হোসেন মার্কেট এলাকায় অবস্থান করছেন।
এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭-এর একটি আভিযানিক দল গত বুধবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত মো. আমজাদ ভোলা জেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর এলাকার আলতাফ রাড়ীর ছেলে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
র‌্যাব-৭, চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাটহাজারী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।পরবর্তীতে তাকে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে।
র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা চিহ্নিত আসামিদের গ্রেফতারে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানের গোপন সেল

0
‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের মুখেও নতি স্বীকার করবে না ইরান’

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বা সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে একটি নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আটটি ইরাকি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বা পশ্চিমা গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে এই সেলগুলো ইরাকের প্রতিষ্ঠিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ বাইরে থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

রয়টার্সের তিনটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে-র মধ্যে এই নতুন সেলগুলো কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলো মূলত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি প্রত্যন্ত মরুভূমি এলাকা থেকে পরিচালনা করা হয়।

সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, গঠিত তিন বা চারটি সেলের প্রতিটিতে প্রায় ১০ জন করে ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তাদের অনেককেই ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামের জোটভুক্ত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে বাছাই করে নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন এই সেলগুলো ওই জোটের প্রথাগত কমান্ড কাঠামোর বাইরে থেকে সরাসরি আইআরজিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি তাদের দীর্ঘদিনের রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ইরাকের পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডারের মতে, নতুন এই গোপন সেল গঠন তেহরানের সেই কৌশলগত পরিবর্তনেরই একটি বড় প্রতিফলন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো দেশটিতে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় ডজনখানেক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে ইরাকের ভেতরে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

মূলত গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে অস্ত্র ত্যাগ করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মনোযোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল। অবসরপ্রাপ্ত ইরাকি সেনা জেনারেল জাসিম আল-বাহাদলি এবং ইরাকের শাসক জোটের দুজন আইনপ্রণেতার মতে, স্থানীয় মিলিশিয়াদের এই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই আইআরজিসি সরাসরি তাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নতুন ও অনুগত গোষ্ঠী গঠনে উৎসাহিত হয়ে থাকতে পারে।

শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসি কর্তৃক গঠিত নতুন এই দলগুলো আকারে তুলনামূলকভাবে বেশ ছোট, আদর্শিকভাবে অনেক বেশি কঠোর এবং ইরানের দ্বারা অধিক নিয়ন্ত্রিত। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ও তীব্র অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সীমিত রাখার কৌশলগত প্রয়োজন থেকেই ইরান এমন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

সপ্তাহের বাজারে গিয়ে চাপে সাধারণ মানুষ

0
রাজধানীতে বৃষ্টির প্রভাব কাঁচাবাজারে

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, সবজির বাজারে বেগুন আকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ভেন্ডি ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, লতি ৮০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা ও জালি কুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।শাকের বাজারে লালশাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ও লাউশাক ৩০ টাকা, কচুশাক ও কলমিশাক ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি ২৫ টাকা।

সবজির বাজারের মতো একই অবস্থা মাংস ও মাছে বাজারের। মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা, লেয়ার ও সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়।

মাছের বাজারে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং ছোট আকারের ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া রুই ও কাতল মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় সিলভার কার্প ২০০ টাকা, ছোট সিলভার কার্প ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, বোয়াল ৭০০ টাকা, হাইব্রিড ট্যাংরা ৮০০ টাকা, পোয়া মাছ ৫০০ টাকা এবং কাচকি মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়াও মসলার বাজারে দেশি রসুন ১০০ টাকা, আমদানি করা বড় রসুন ১৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা এবং আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে মুদি দোকান ঘুরে দেখা যায়, চালের বাজারে স্বর্ণা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, মিনিকেট ও মোজাম্মেল চাল ৮৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা এবং পাইজাম চাল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডালের মধ্যে দেশি চিকন মসুর ডাল ১৬০ টাকা, বড় মসুর ডাল ১০০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই ধরনের ডাল সুপারশপে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ছুটির দিনে সকালে মিরপুর-১০ নম্বরে কেনাকাটা করতে এসে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শাহিন মিয়া। তিনি বলেন, বাজারে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই বেশি রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তার ভাষ্য, আয় বাড়েনি কিন্তু সংসার চালানোর খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও সবজির দাম মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও বর্তমান উচ্চমূল্যে স্বস্তি পাচ্ছেন না বলে জানান শাহিন।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

0
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯ জন। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৮০৪ জনে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হামরোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১৩৯ জন। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭৩৩ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪ হাজার ১৮৪ জন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০  হাজার ৫০৩ জন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হলেও ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহজনক হামে মোট ৫৭৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে মারা গেছে ৯৩ জন।

ঘুমের মধ্যে মানুষ কথা বলে কেন 

0

ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কথা বলে ওঠা অনেক মানুষেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। কেউ বিড়বিড় করেন, কেউ আবার স্পষ্ট বাক্য বলেন, এমনকি কেউ কেউ হেসেও ওঠেন। অনেকের বিশ্বাস, ঘুমের মধ্যে বলা কথাগুলো মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা গোপন সত্য বা অব্যক্ত ইচ্ছার প্রকাশ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবতা ভিন্ন।

ঘুমের মধ্যে কথা বলা কোনো রোগ নয়, বরং এটি মানুষের ঘুমের একটি স্বাভাবিক আচরণ। শিশুদের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সের মানুষই ঘুমের মধ্যে কথা বলতে পারেন।

কেন কথা বলে মানুষ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের মধ্যে কথা বলাকে বলা হয় ‘সোমনিলোকুই’। এটি ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘটতে পারে। কখনও পুরো বাক্য, কখনও অস্পষ্ট শব্দ, আবার কখনও হাসি বা চিৎকারের মতো শব্দও শোনা যেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ঘুমের মধ্যে কথা বলেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার আরও বেশি। প্রায় অর্ধেক শিশু ঘুমের মধ্যে কথা বলে।

আমেরিকান ঘুমবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ জেনিফার মার্টিনের মতে, বেশিরভাগ শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও এটি ফিরে আসতে পারে।

ঘুমের মধ্যে কি সত্যি কথা বেরিয়ে আসে?

অনেকের ধারণা, ঘুমের মধ্যে মানুষ মনের গোপন কথা বলে ফেলে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা।

গবেষকদের মতে, ঘুমের মধ্যে বলা কথার বেশিরভাগই অসংলগ্ন এবং এর সঙ্গে বাস্তব জীবনের গোপন সত্যের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের মধ্যে বলা প্রায় অর্ধেক কথাই স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। গবেষণায় রেকর্ড করা কথাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ ছিল ‘না’।

শিশুদের মধ্যে বেশি কেন দেখা যায়?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মস্তিষ্ক তখনও বিকাশের পর্যায়ে থাকে। ঘুমের বিভিন্ন ধাপ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াও তখন পুরোপুরি পরিণত হয় না। এ কারণেই শিশুদের মধ্যে ঘুমের মধ্যে কথা বলার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কারণ কী?

গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমের মধ্যে কথা বলার পেছনে বংশগত কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মধ্যে এই অভ্যাস দেখা যায়।

এছাড়া কিছু ঘুমজনিত সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঘুমের ব্যাঘাত বা অন্যান্য ঘুমসংক্রান্ত সমস্যার কারণে এ প্রবণতা বাড়তে পারে।

স্মৃতির সঙ্গে আছে সম্পর্ক?

গবেষকদের ধারণা, ঘুমের মধ্যে বলা কথাগুলো অনেক সময় সেই স্মৃতির অংশ হতে পারে, যা ঘুমের সময় মস্তিষ্ক প্রক্রিয়াকরণ করে।

অর্থাৎ, ঘুমের মধ্যে উচ্চারিত শব্দ বা বাক্য সব সময় সচেতন চিন্তা বা ইচ্ছার প্রতিফলন নয়, বরং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমেরই অংশ।

এটি কি উদ্বেগের কারণ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে কথা বলা ক্ষতিকর নয় এবং চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না।

তবে একই বিছানায় বা পাশে ঘুমানো মানুষের জন্য এটি কিছুটা বিরক্তিকর হতে পারে।

জেনিফার মার্টিনের পরামর্শ, কেউ ঘুমের মধ্যে কথা বলতে শুরু করলে তাকে আলতোভাবে স্পর্শ বা হালকা ধাক্কা দিলে অনেক সময় তা বন্ধ হয়ে যায়।

তাই ঘুমের মধ্যে কথা বললে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি সাধারণত মানুষের ঘুমের স্বাভাবিক আচরণ, যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দেয় না।

ঢাকাসহ ১৬ অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝোড়ো বৃষ্টির আভাস

0
রাতের মধ্যে ঢাকাসহ ৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, রংপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কমে গেছে জ্বালানি তেলের দাম

0

এরই ধারাহিকতায় শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ০.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৩১ ডলারে নেমে এসেছে আন্তর্জাতিক বাজারে। একই সময়ে ৪৬ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ১৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম।

আগেরদিনই; অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেলের দাম মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজের চলাচল শুরু হওয়া। এসব জাহাজের মধ্যে সৌদি আরবের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাঙ্কারও ছিল, যেগুলোতে মোট ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ৮ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল আবার বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে বাজারে আরও তেল সরবরাহ বাড়বে।

বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ব্যবসায়ীরা এখনো নিশ্চিত হতে চাইছেন যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সত্যিই স্বাভাবিক হচ্ছে কি না। নিয়মিতভাবে জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়া পর্যন্ত বাজারে কিছুটা সতর্কতা বজায় থাকবে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি কার্যকর থাকলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এ পথের বাণিজ্য পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও পুনরায় নিজেদের রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাকালে জারি করা সব ধরনের জরুরি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

সেইসঙ্গে ইরাকের তেলমন্ত্রী বাসিম মোহাম্মদ বলেছেন, দেশটির তেলক্ষেত্রগুলো আবার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং ধীরে ধীরে আগের উৎপাদন সক্ষমতায় ফিরে যাওয়া হবে।

ইসরায়েল অবশ্য এখনও লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে কতটা টিকে থাকবে, তা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের গাড়িতে গুলি, নিহত ১

0

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপের বেস ক্যাম্প করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেখানে একাধিক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বহনকারী উবারের গাড়িতেও ঘটেছে গুলির ঘটনা।

সেই ঘটনায় একজন নিহত ও অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বহনকারী উবার চালকও রয়েছেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে শহরের বিভিন্ন স্থানে গুলির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ইন্টারস্টেট ৭০ ও ইন্টারসস্টেট ৬৭০ হাইওয়েতে কয়েকটি গুলি চালানো হয়, যা অ্যারোহেড স্টেডিয়ামের কাছাকাছি এলাকায় আর্জেন্টিনা–আলজেরিয়া ম্যাচ চলাকালীন ঘটে।

২২ বছর বয়সী সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি এখনও পলাতক এবং তাকে ‘সশস্ত্র ও বিপজ্জনক’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মতে, একটি গাড়ি তাদের উবারের পাশে এসে গুলি চালায়। এতে চালকের পায়ে গুলি লাগে, তবে প্রথমে তারা ভেবেছিল টায়ার ফেটে গেছে।

আহত সেই চালককে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার আঘাত প্রাণঘাতী ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে একই ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং একজন পরে হাসপাতালে মারা যান। এই ঘটনার পর বিশ্বকাপ কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এক রেলপথে যুক্ত হচ্ছে সৌদি, কুয়েত ও কাতারসহ ৬ দেশ 

0

উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, গালফ রেলওয়ে শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়; এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও লজিস্টিক সংযোগের নতুন যুগের সূচনা করবে।

জিসিসি রেলওয়ে নেটওয়ার্কটি সম্পন্ন হলে একক রেলপথে যুক্ত হবে কুয়েত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ওমান। প্রায় ২ হাজার ১১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নেটওয়ার্ক কুয়েত সিটি থেকে শুরু হয়ে সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও ইউএই হয়ে ওমানের রাজধানী মাসকাট পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

জিসিসি পরিবহন মন্ত্রীদের বৈঠকে প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, রেলপথ চালু হলে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নির্ভরতা কমবে, পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ এরইমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো নেটওয়ার্ক চালু করা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে কুয়েত। শাদাদিয়া থেকে সৌদি সীমান্তবর্তী নুয়াইসিব পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার রেলপথের নকশা প্রণয়নের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে দেশটি। এছাড়া, সৌদি আরবের সঙ্গে রেল সংযোগের রুট ও করিডর অনুমোদন করেছে কুয়েত পৌর কাউন্সিল।

অন্যদিকে, কুয়েত-সৌদি রেল সংযোগ প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ এগিয়ে নিচ্ছে সৌদি আরবও। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুয়েত সীমান্ত থেকে ইউএই সীমান্ত পর্যন্ত সৌদি অংশের রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঘণ্টায় ২০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে যাত্রীবাহী ট্রেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কুয়েত সিটি থেকে সৌদি রাজধানী রিয়াদ পর্যন্ত যাত্রা দুই ঘণ্টারও কম সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া, পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত ও কম খরচে পণ্য পরিবহন করা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গালফ রেলওয়ে প্রকল্প চালু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক একীকরণ আরও শক্তিশালী হবে। এটি শুধু বাণিজ্য নয়, পর্যটন, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার এবং আন্তঃদেশীয় যোগাযোগেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে সমুদ্রপথে সম্ভাব্য বিঘ্ন বা সংকটের সময় বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবেও এই রেল নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।