শনিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
শনিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫
14 C
Dhaka

চীন বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া আরও সহজ করেছে

0

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকার চীন দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।দূতাবাস থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিসা আবেদনগুলো আরও সহজ করার জন্য— এই নোটিশের দিন থেকে আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব স্বল্পমেয়াদি ভিসা আবেদনকারীদের (চীনে ১৮০ দিনের বেশি নয়) ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক প্রবিধান অনুসারে, ডি, জে ১, কিউ ১, এস ১, এক্স ১ এবং জেড ভিসা ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীদের জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করা প্রয়োজন— যাদের চীনে প্রবেশের পরে রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে হবে। আরও তথ্যের জন্য ঢাকার চাইনিজ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।

 

 

৩ ইউনিটের ফল প্রকাশ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের

0

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ফল প্রকাশ করাহয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিফট ভিত্তিক মেধাতালিকা অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফল থেকে শিফট ভিত্তিক মেধাক্রম অনুসারে ভর্তি ও মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ ডিসেম্বর ‘সি’ ইউনিটের (কলা ও মানবিকী অনুষদ, আইন অনুষদ ও তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউট) মধ্য দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর সোমবার (২২ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হয় ‘বি’ ইউনিটভুক্ত সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও ‘ই’ ইউনিটের (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) পরীক্ষা।

 

নবদম্পতির জন্য চাইলেন দোয়া আসিফ আকবর

0

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানিয়েছেন, তার ছোট ছেলে শাফায়াত আসিফ রুদ্রবিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

আসিফ লিখেছেন, জনাব বাদল শাহরিয়ারের মেয়ে লামিয়া তানজিম শ্রেয়সী এখন তাদের পরিবারের নতুন সদস্য। রুদ্র ও শ্রেয়সী নতুন জীবনে পা রেখেছেন জানিয়ে নবদম্পতির দাম্পত্য জীবন সুখী ও সুন্দর হোক-এমন কামনাও করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ছেলে ও বৌমার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন গায়ক।

স্ট্যাটাসে আসিফ আরও উল্লেখ করেন, তার বড় ছেলে শাফকাত আসিফ রণ বর্তমানে কানাডার টরন্টোতে একটি ব্যাংকে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করছেন। ছুটি না পাওয়ায় তিনি বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। পাশাপাশি বড় বৌমা ইসমাত শেহরীন ঈশিতার পরীক্ষার কারণে তিনিও টরন্টোতেই ছিলেন। তাদের অনুপস্থিতি খুব মিস করছেন বলেও অনুভূতি প্রকাশ করেন আসিফ।

সবশেষে সবার উদ্দেশে ভালোবাসা জানিয়ে তিনি লেখেন, সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন। ভালোবাসা অবিরাম। গায়কের এই স্ট্যাটাসে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে ভাসছেন রুদ্র-শ্রেয়সী দম্পতি।

 

২২ প্রকল্প অনুমোদন হলও একনেক সভায় 

0

আজ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, খাদ্য এবং ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ, সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

একনেকে অনুমোদিত ২২টি প্রকল্প হচ্ছে

সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প, (১) ‘কর্ণফুলী টানেল (আনোয়ারা) হতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের গাছবাড়িয়া পর্যন্ত সংযোগ সড়ক (জেড-১০৪০) উন্নয়ন প্রকল্প (২) দিনাজপুর সড়ক বিভাগাধীন হিলি (স্থলবন্দর)-ডুগডুগি ঘোড়াঘাট জাতীয় মহাসড়ক (এন-৫২১) যথাযথ মানে উন্নীতকরণসহ ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিদ্যমান সরু/জরাজীর্ণ কালভার্ট সমূহ পুনর্নির্মাণ এবং বাজার অংশে রিজিডপেভমেন্ট ও ড্রেন নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প (৩) ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প : সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ এবং উভয়পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প নারায়ণগঞ্জস্থ আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা/কর্মচারিদের জন্য ৮টি ১৫তলা ভবনে ৬৭২টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্প, (১) ‘ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা একাডেমি স্থাপন’প্রকল্প (২) ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প (৩) ‘জলবায়ু সহনশীল জীবনমান উন্নয়ন’প্রকল্প (৪) ‘পটুয়াখালী জেলার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৫) ‘সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প: (১) ‘মোংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েন্টের (কমফ্লোট ওয়েস্ট) অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, (২) ‘সাভারে আর্মি ইনস্টিটিউট অফ ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন’প্রকল্প।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ’।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, ‘দুস্থ শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পুর্নিনির্মাণ কোনাবাড়ি, গাজীপুর (১ম সংশোধিত) প্রকল্প’।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প, ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যাডভান্সড নার্সিং এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (এনআইএএনইআর) শিক্ষা ও গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি’প্রকল্প।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প (১) ‘হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন’প্রকল্প, (২) ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৪টি প্রকল্প- (১) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কর্ণফুলী এবং সংযুক্ত নদীসমূহের (কাচালং, রাইখিয়ং ও শলকনদী) টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, (২) গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প, (৩) সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়) প্রকল্প, (৪) দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি প্রকল্প (উপাদান-১, বাপাউবো অংশ) (প্রস্তাবিত দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্প।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প- বগুড়া কৃষি অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ০১টি প্রকল্প দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।

এছাড়া সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টার নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ১০টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়।

সেগুলো হচ্ছে- ১. নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ফেনী জেলার ২টি সরকারি ও ২টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, ২. সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ প্রকল্প, ৩. শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (৩য় সংশোধিত), ৪. বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জ এবং নদীমাতৃক চরভূমির জন্য অভিযোজন উদ্যোগ (১ সংশোধন) প্রকল্প, ৫. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ঢোলভাঙ্গা-নদীর ডান তীর এবং উজানচর ইউনিয়নে লোয়ার তিতাস নদীর ডান তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্প, ৬. নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প, ৭. র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত), ৮. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ক্যাম্পাসের ভবন সমূহের স্থাপনাগত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মপরিবেশ উন্নতকরণ (১ম সংশোধনী) প্রকল্প, ৯. ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা লেক উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত) প্রকল্প, ১০. অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৩ (১ম সংশোধিত)।

বড় সুখবর এলো পেঁয়াজের দাম নিয়ে 

0

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে হিলি পেঁয়াজ বাজার ঘুরে জানা যায়, চার দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দামকেজিপ্রতি কমেছে ৪০ টাকা। পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় খুশি সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা।

গত শনিবার ভারত থেকে আমদানি করা যে পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি। দাম কমে তা আজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি হিসেবে।

খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। এদিকে দেশি মুড়ি পেঁয়াজ দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা কেজি দরে। যা চার দিন আগে বিক্রি হয়েছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের।

পেঁয়াজ কিনতে আসা লুৎফর রহমান বলেন, পেঁয়াজের বাজার কমে গেছে। এক সপ্তাহ আগেও ১০০ টাকার কাছে পেঁয়াজ কিনেছিলাম। আজ ৪০ টাকা খুচরা দামে এক কেজি নিলাম।

রফিকুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, পেঁয়াজ একটা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচা পণ্য। দাম কমলে আমাদের অনেক উপকার হয়। আজ বাজারে পেঁয়াজের দাম কম শুনে অনেকটা ভাল লাগছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ পাইকারি ব্যবসায়ী শাহাবুল ইসলাম বলেন, চলতি মাসের ৭ তারিখ থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। বর্তমান পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে, তাই দামও কমে গেছে। প্রকারভেদে ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৪০ কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করছি। আশা করছি পেঁয়াজের আমদানি স্বাভাবিক থাকলে দাম আরও কমে যাবে।

 

দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ৫, আহত ২০

0

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে জাগলার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতিয়ার কোষ্টগার্ডের মিডিয়া লে. কমান্ডার আবুল কাশেম।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাগলার চরের জমি সরকার এখন পর্যন্ত কাউকে বন্দোবস্ত দেয়নি। এ সুযোগে ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী জাগলার চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। এরপর সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী জাগলার চরের জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন বাহিনী আরও বেশি দামে কিছু জমি বিক্রি করে। এরপর দুটি গ্রুপ আলাদাভাবে চরের জমি বিক্রির চেষ্টা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, চর দখলে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিন সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার, বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠ। তারা কোপা সামছু বানিহীকে চর থেকে বিতাড়িত করে চরের জমি দখলে নিতে ডাকাত আলাউদ্দিনের বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করে। এ নিয়ে দুটি গ্রুপ একাধিকবার বিরোধে জড়ায়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে অপর পক্ষের ছোড়া গুলিতে আলাউদ্দিনসহ ৪জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। ৪ জনের মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, একটি মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। চারটি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

 

অর্ডার প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে ইসিকে সহযোগিতা করা সম্ভব নয়: আইজিপি

0
পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম।
পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ওগণভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে ডিসি-এসপিদের মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। নির্বাচনের আগে সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে পুলিশও। পুলিশের সক্ষমতা আছে সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন করার।

সর্বশক্তি দিয়ে এবারের নির্বাচনকে সফল করবে পুলিশ তবে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে ইসির সমর্থন চায় বলেও জানান তিনি।

এদিকে একই বৈঠকে জনপ্রশাসন সচিব এহছানুল হক বলেন, অতীতে জনপ্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা এবং আশ্বাস পেলে যে কোনো চ্যালেঞ্জ নিতে সক্ষম মাঠ প্রশাসনও।

মাঠ প্রশাসনের সক্ষমতা প্রমাণে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রটেকশনও চেয়েছেন জনপ্রশাসন সচিব।

আর আইনের শাসন নিশ্চিত করতে ডিসি-এসপিদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন (সিইসি) বলেন, যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে দেশ, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জবাব দিতে পারবো না। আর তাই দায়িত্বে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আইনের শাসন কাকে বলে তা এবার দেখিয়ে দিতে চায় ইসি।

ডিসি-এসপিদের উদ্দেশে সিইসি আরও বলেন, আপনারা কাজ না করলে অথরিটি কাজ করবে না। আপনাদের বুঝিয়ে বলার কোনো দরকার নেই। আপনারা মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। আপনারা ভালো জানেন।

যে দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়েছে তার কোনো রকম বিচ্যুতি ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই-এ কথা জানিয়ে সিইসি আরও বলেন, আইন সবার জন্য সমান, অপরাধী কাউকে ছাড় দিবেন না। আইনের শাসন কাকে বলে তা এবার দেখিয়ে দিতে চায় ইসি। খারাপ নির্বাচনের অপবাদ ঘুঁচিয়ে দিতে চায় এ নির্বাচনের মাধ্যমে।

 

জাইমা রহমানের, খালেদা জিয়াকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট

0

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) তিনি ফেসবুক পেজে তার দাদিকে (বেগম খালেদা জিয়াকে) নিয়ে স্মৃতিচারণ করে এপোস্ট দেন।

পোস্টে জাইমা রহমান লেখেন, দাদুকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি কতটা মমতাময়ী ছিলেন! আমার বয়স তখন এগারো। আমাদের স্কুলের ফুটবল টিম একটা টুর্নামেন্ট জিতেছিল, আর আমি মেডেল পেয়েছিলাম। আম্মু আমাকে সরাসরি দাদুর অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি যেন নিজেই দাদুকে আমার বিজয়ের গল্পটা বলতে পারি; তাকে আমার বিজয়ের মেডেলটা দেখাতে পারি। আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে গোলকিপার হিসেবে কী-কী করেছি, সেটা বলছিলাম; আর স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম, দাদু প্রচন্ড মনোযোগ নিয়ে আমাকে শুনছেন। তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে, পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।

তিনি লেখেন, আমি সবসময়ই জানতাম, আমার দাদুর কাঁধে একটা দেশের দায়িত্ব। তবুও আমার স্মৃতিতে দাদু হলেন পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দাদু’। আমাদের ‘দাদু’। তিনি সবসময় আমাদের খেয়াল রাখতেন, আমাদের জন্য সময় বের করতেন, আর যেসব মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলোতে আমাদের সাহস দিতেন, উজ্জীবিত করতেন।

এই ছোট-ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই। সেটি হলো, নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।

বাংলাদেশের বাইরে কাটানো সতেরোটা বছর আমার জীবন অনেকভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার শিকড় ভুলে যাইনি। কারণ, আমাদের সত্তার যে ভিত্তি, আমাদের যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ; সেটিই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও নিজ দেশের বাইরে, ভিন্ন দেশে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছি। লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। যদিও আমার হৃদয়-মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা লেখেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারও না কারও জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে, তাদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তার পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কথা সরণ করে তিনি লেখেন, আমি আমার দাদাকে কখনো দেখিনি। কিন্তু তার সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। ‘দাদু’ আর ‘আব্বু’ সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট-ছোট কাজের মাধ্যমে তাদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি।

দেশে ফেরার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, অনেকগুলো বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ আবারও সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক।

তিনি আরও লেখেন, আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে।

সংক্ষেপে, আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে। এই গল্পগুলোকে ধারণ করে, আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি।

 

বিশ্ব ফুটবলের চমকপ্রদ বছর হচ্ছে ২০২৫ সাল

0

মাঠের বাইরে-ভেতরে নানা রেকর্ড, নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে ফুটবল প্রেমীরা উদযাপন করেছে একস্মরণীয় বছর। চলুন, চোখ বুলিয়ে দেখি কেমন ছিল ২০২৫ সালের ফুটবল বিশ্ব।

পর্তুগালের আন্তর্জাতিক সাফল্যের উজ্জ্বল ছাপ

২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পর্তুগাল। স্পেনকে পরাস্ত করে দ্বিতীয়বার উয়েফা নেশনস লিগ জয়ের গৌরব অর্জন করে দেশটি। ফাইনালে ট্রফি হাতে তুলে নেন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৭ ইউরো ও অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটসাল ইউরোতেও পর্তুগালই চ্যাম্পিয়ন।

পিএসজির স্বপ্নপূরণ ও টটেনহ্যামের ইতিহাস

ক্লাব ফুটবলের বিশ্বে ছিল অনেক প্রতীক্ষার অবসান। ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়ে। ফাইনালে তারা ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপের সেরা দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আগস্টে উয়েফা সুপার কাপও জেতে পিএসজি। ব্যালন ডি’অর জিতে প্রথমবারের জন্য ফুটবল বিশ্বে নিজের নাম উজ্জ্বল করেন ওসমান দেম্বেলে। নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মান পায় আইনামা বোনমাতি।

অন্যদিকে, টটেনহ্যাম হটস্পার ইউরোপা লিগ জিতে ৪১ বছরের শিরোপার শূন্যতা ভেঙেছে। পাশাপাশি, চেলসি কনফারেন্স লিগ জিতে প্রথম ক্লাব হিসেবে উয়েফার সব পুরুষ ক্লাব প্রতিযোগিতার শিরোপা অর্জনের গৌরব অর্জন করে।

নারী ফুটবলের নতুন ইতিহাস

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত উয়েফা উইমেনস ইউরো ২০২৫ ছিল নারী ফুটবলের জন্য এক নতুন উচ্চতার মাইলফলক। পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৬ লাখ ৫৭ হাজার ২৯১ দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা একটি রেকর্ড। ৩১ ম্যাচের মধ্যে ২৯টি ছিল হাউসফুল। টিকিটের ৩৫% বিক্রি হয়েছিল আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে। বিশ্বব্যাপী টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে এই টুর্নামেন্টের দর্শকসংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছিল ৫০ কোটি।

মাঠে ছিল দারুণ উত্তেজনা; আগের সব উইমেনস ইউরোর চেয়ে বেশি গোল হয়েছে এবং সাতটি নকআউট ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। ফাইনালে ইংল্যান্ড স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শিরোপা ধরে রেখেছে, যেখানে কোচ সারিনা উইগম্যান তৃতীয়বার উইমেনস ইউরো জেতার ইতিহাস গড়েন। ডিসেম্বরে স্পেন জার্মানিকে হারিয়ে উইমেনস নেশনস লিগ ধরে রাখে।

যুব ফুটবলেও রেকর্ড ও নতুন দেশগুলোর উত্থান

২০২৫ সালে যুব ফুটবলেও ছিল স্মরণীয় মুহূর্ত। বার্সেলোনা রেকর্ড তৃতীয়বার উয়েফা ইয়ুথ লিগ জিতেছে। তুরস্কের ত্রাবজোনস্পোর প্রথমবার ফাইনালে উঠে চমক সৃষ্টি করেছে। মাল্টার হামরুন স্পার্টানস প্রথমবার ইউরোপীয় গ্রুপ পর্বে পৌঁছেছে।

নারী চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের জয়

উয়েফা উইমেনস চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিসবনে আর্সেনাল বার্সেলোনাকে পরাস্ত করে শিরোপা জিতেছে। এটি তাদের দ্বিতীয় ইউরোপীয় শিরোপা এবং বার্সেলোনার টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন শেষ করেছে।

২০২৫ ছিল ফুটবল ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও স্মরণীয় বছর। আন্তর্জাতিক থেকে ক্লাব পর্যায়, পুরুষ ও নারী, যুব থেকে সিনিয়র সবাই মিলিয়ে ফুটবল যেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এখন অপেক্ষা ২০২৬-এর জন্য, যেখানে আরও চমক অপেক্ষা করছে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য।

২০২৫ সালের উয়েফা শিরোপাসমূহ (সংক্ষেপে)

ইউরোপা লিগ: টটেনহ্যাম

চ্যাম্পিয়নস লিগ: পিএসজি

উইমেনস ইউরো: ইংল্যান্ড

কনফারেনস লিগ: চেলসি

নেশনস লিগ: পর্তুগাল

উইমেনস চ্যাম্পিয়নস লিগ: আর্সেনাল

উয়েফা সুপার কাপ: পিএসজি

ইউথ লিগ: বার্সেলোনা

ফুটসাল চ্যাম্পিয়নস লিগ: পালমা।

 

কৃষকের ফসল আসছে এবার বীমার আওতায় 

0

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বাংলাদেশে অক্সফাম, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও বিশ্ব খাদ্যকর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) যৌথভাবে আয়োজিত ‘এনহান্সিং মিডিয়া ক্যাপাসিটি অন ক্লাইমেট রিস্ক ইনস্যুরেন্স (সিআরআই)’ শীর্ষক কর্মশালায় ৮০ জনের বেশি জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক ও পরিবেশবিষয়ক সাংবাদিক, সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ও সিআরআই বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

কর্মশালার লক্ষ্য ছিল জলবায়ু ঝুঁকি বীমা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সুরক্ষায় এর ভূমিকা সম্পর্কে গভীরতর ধারণা তৈরি করা।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হলেও এখানে বীমা কাভারেজ অত্যন্ত সীমিত। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) মাত্র ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ নন-লাইফ বীমার আওতায় রয়েছে, ফলে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরার মতো দুর্যোগে কোটি মানুষের জীবিকা ও সম্পদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)-এর চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম বলেন, প্রতি বছর জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারাচ্ছে। তাই শক্তিশালী সামাজিক সুরক্ষা ও টেকসই বীমা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, প্রচলিত বীমা ব্যবস্থা অতীত ক্ষতির ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু জলবায়ু ঝুঁকি ভবিষ্যৎমুখী। সে কারণে প্যারামেট্রিক বা আবহাওয়াভিত্তিক বীমার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের প্রকৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে আইন সংস্কার, শক্তিশালী ডেটাবেস, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দৃঢ় নিয়ন্ত্রক সহায়তার মাধ্যমে একটি টেকসই জলবায়ু ঝুঁকি বীমা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

২০২৪ সালে কুড়িগ্রামে পরিচালিত সাম্প্রতিক পরীক্ষামূলক প্রকল্পে সিআরআই-এর সম্ভাবনা প্রমাণিত হয়েছে। ডব্লিউএফপি, অক্সফাম ও গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে সূচকভিত্তিক বন্যা বীমা প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজারের বেশি বন্যাকবলিত কৃষক মোবাইলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ৪০ বছরের বেশি সময়ের বন্যা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এ বীমা পণ্যে ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি যাচাই ছাড়াই কয়েক দিনের মধ্যে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অভিযোজিত হতে হবে। জলবায়ু বীমা দুর্যোগের ধাক্কা সামলাতে এবং দরিদ্র পরিবারগুলোকে ঋণের ফাঁদে পড়া থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, নারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সংকটকালে যদি আমরা তাদের সময়মতো সহায়তা দিতে পারি, তবে অসংখ্য জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং দেশের বিপুল সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ইনফ্লুয়েন্সিং, কমিউনিকেশনস, অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের প্রধান মো. সারিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মশালায় সাংবাদিকদের সিআরআই মডেল, তথ্যসূত্র ও নীতিগত প্রবণতা সম্পর্কে কারিগরি ধারণা দেওয়া হয়।

অংশগ্রহণকারীদের দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সমাধান, আর্থিক সুরক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক বর্ণনায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ডব্লিউএফপি বাংলাদেশ-এর প্রোগ্রাম পলিসি অফিসার নুরুল আমিন বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর সহায়তার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা বা অনিশ্চিত মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সিআরআই-এর মাধ্যমে আমরা দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্বানুমেয়তা যুক্ত করছি এবং এ বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কর্মশালায় প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে বোধগম্য করে উপস্থাপনের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ক্লাইমেট জাস্টিস ও ন্যাচারাল রিসোর্স রাইটস বিভাগের প্রধান ড. মোহাম্মদ এমরান হাসান বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা এই সংকট সৃষ্টি করেনি, অথচ তারাই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে। এই সুরক্ষা যেন দরিদ্রতম মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং গণমাধ্যম সেই রূপান্তর ঘটাতে পারে।

এ ছাড়া অক্সফাম ইন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার নাফিসা তাসনিম খান এবং ক্লাইমেট পলিসি স্পেশালিস্ট এস এম সাইফি ইকবাল জলবায়ু পরিবর্তন ও সিআরআই বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন। প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম হারুন বীমা ও সিআরআই নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা বক্তব্য রাখেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি বাড়তে থাকায় জাতীয় নীতি ও জনসচেতনতার সঙ্গে সিআরআই সংযুক্ত করা এখন আর কেবল বিকল্প নয়, বরং এটি অপরিহার্য।

জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় কার্যকর সমাধান প্রচারে সাংবাদিক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। অক্সফাম, ডব্লিউএফপি ও ইআরএফ সকল অংশীজনকে সিআরআই বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি ও নীতি সংস্কারে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বাংলাদেশ মানুষকেন্দ্রিক জলবায়ু অর্থায়নে একটি আঞ্চলিক নেতৃত্বের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।