সোমবার, মে ৪, ২০২৬
সোমবার, মে ৪, ২০২৬
24 C
Dhaka

শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধে নতুন সিদ্ধান্তে সরকার

0
শপিংমল ও দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত
শপিংমল ও দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে এ কথা জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত।

তিনি বলেন, তিন মাসের চাহিদা মেটানোর জন্য জ্বালানি তেল সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ থেকে সন্ধ্যা ৬টা নয়, শপিং মল বন্ধ হবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে। দোকান মালিক সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মজুদ আছে।

প্রায় তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেন সংরক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনমাসের পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ রয়েছে।

জ্বালানি তেল আমদানির ভালো কিছু উৎস পেয়েছেন বলেও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আগামী তিনমাসের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাশিয়ার তেল আমদানির বিষয়ে স্যাংশন ওয়েভার দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে দেখছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সরকার আশাবাদী ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে বাংলাদেশকে তেল আমদানির সুযোগ দেবে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টা পর শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তবে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ চেয়ে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ভয়ংকর ক্রুজ মিসাইলের মজুদ প্রায় শেষের পথে 

0
ক্রুজ মিসাইলের মজুদ প্রায় শেষের পথে
ক্রুজ মিসাইলের মজুদ প্রায় শেষের পথে

ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক ঘাঁটির ওপর উপর্যুপরি হামলা চালাতে গিয়ে নিজেদের সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালী ‘জেএএসএসএম-ইআর’ ক্রুজ মিসাইলের প্রায় পুরো ভাণ্ডারই খালি করে ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে বিশ্বের অন্য অঞ্চলে সম্ভাব্য যেকোনো বড় সংঘাত বা যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য আপদকালীন সংরক্ষিত মজুদ থেকেও এখন এই দূরপাল্লার বিধ্বংসী মিসাইলগুলো সরাতে বাধ্য হচ্ছে পেন্টাগন।

এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সরাসরি অবগত আছেন এমন এক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রতিটি ১৫ লাখ ডলার মূল্যের আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই মিসাইলগুলো গত মার্চের শেষ নাগাদ প্যাসিফিক কমান্ডের মজুদ থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন চলমান যুদ্ধক্ষেত্র এবং যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে এসব মারণাস্ত্র অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে দ্রুত মোতায়েন করা হচ্ছে।

সামরিক তথ্য অনুযায়ী চলমান এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে খোদ আমেরিকার কাছে সব মিলিয়ে সর্বমোট ২৩০০টি এই ‘জেএএসএসএম-ইআর’ ক্রুজ মিসাইলের শক্তিশালী মজুদ ছিল। কিন্তু যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহেই তারা অন্তত ১০০০টির বেশি মিসাইল খরচ করে ফেলেছে।

এদিকে, বর্তমানে এই স্থানান্তরের পর বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্য সব মিলিয়ে মাত্র ৪২৫টি এই ধরনের মিসাইল অবশিষ্ট থাকবে যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, ফুরিয়ে আসা এই সীমিত মজুদ দিয়ে মাত্র ১৭টি বি-১বি বোমারু বিমানের একটি একক মিশন পরিচালনা করা সম্ভব। এছাড়াও ত্রুটি বা যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে আরও ৭৫টির মতো মিসাইল বর্তমানে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।

যদিও হোয়াইট হাউস এবং ইসরায়েলের সামরিক কমান্ড যৌথভাবে দাবি করছে, তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বিশাল অংশ বোমাবর্ষণ করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে তবে রণক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। কারণ এই তথাকথিত সফলতার মধ্যেও গত শুক্রবার(৩ এপ্রিল) একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ফাইটার বিমান ইরানের ভূখন্ডে ভূপাতিত হয়েছে। শুধু তাই নয় এরপর একটি শক্তিশালী এ-১০ অ্যাটাক জেট এবং পাইলট উদ্ধার করতে যাওয়া দুটি বিশেষ হেলিকপ্টারও ইরানি বিমানবাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের হামলায় ১২টিরও বেশি পেন্টাগনের অত্যন্ত চৌকস এমকিউ-৯ ড্রোন আকাশে ছাই হয়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক উসকানিমূলক ভাষণে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তারা ইরানকে এমন এক চরম অবস্থায় নিয়ে যাবেন যা তাদের প্রাপ্য। মার্কিন মেরিন ও প্যারাট্রুপাররা ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল ‘খার্গ দ্বীপ’ সশরীরে দখলের গভীর পরিকল্পনা করছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। তবে দূরপাল্লার ও দামি মিসাইল শেষ হয়ে আসায় এখন বাধ্য হয়ে পুরোনো আমলের বি-৫২ বোমারু বিমান উড়িয়ে বেশ সস্তা ও সাধারণ জেডিএএম বোমা ফেলার এক চরম ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল নিচ্ছে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র।

আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা মার্কিন বাহিনীর বিপরীতে হাত গুটিয়ে বসে নেই ইরানও। আঞ্চলিক বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে ইরান ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ১৬০০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪০০০-এর বেশি আত্মঘাতী শাহেদ ড্রোন ছুড়েছে।

ইরানের ছোড়া ঝাঁকে ঝাঁকে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরক্ষামূলক দামি ক্ষেপণাস্ত্রও শেষের পথে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স কর্পোরেশন রাতদিন এক করে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালালেও যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় তা যৎসামান্য। ফলে দীর্ঘমেয়াদী এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আমেরিকার সামগ্রিক বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতা এবার সত্যিই এক বিশাল ও দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

ইরানের তীব্র প্রতিরোধের মাঝেও মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করা হলো যেভাবে 

0
মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করা হলো যেভাবে 
মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করা হলো যেভাবে 

রোববার (৫ এপ্রিল)  ইস্টার সানডের প্রথম প্রহরে এক বিশেষ বার্তায় নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে এই সফল অভিযানের কথা নিশ্চিত করেন তিনি। খবর সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার।

ট্রাম্প বলেন, একটি ‘দুঃসাহসিক’ অনুসন্ধান ও বিশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে নিখোঁজ থাকা ওই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে শত্রুর একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করা ওই সম্মানিত পাইলট কিছুটা আহত হয়েছেন, তবে তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ দুই দিন পর ওই পাইলটকে শত্রুর সীমানা থেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আমার সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাকে অক্ষত উদ্ধারের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমরাস্ত্রে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান পাঠায়। তিনি কিছুটা আহত হয়েছিলেন, তবে খুব দ্রুতই পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবেন।

এদিকে, আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শত শত চৌকস বিশেষ অভিযান বাহিনীর (স্পেশাল ফোর্স) কমান্ডো সদস্য এই ছায়া অভিযানে সরাসরি অংশ নেয়। মার্কিন এই কমান্ডোরা চরম ঝুঁকি নিয়ে ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে ওই বিমানচালককে উদ্ধার করে এবং তাকে নিরাপদে দেশ থেকে বের করে নিয়ে আসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে শুরু হওয়া এই নাটকীয় ও স্নায়ুক্ষয়ী অভিযান শেষ হয় দিনের আলো ফোটার পর। তবে পুরো অভিযানটি মোটেও পরিকল্পনা অনুযায়ী মসৃণভাবে এগোয়নি। উদ্ধারের সময় চারপাশ থেকে গর্জে ওঠা ইরানি বাহিনীর হালকা ও ভারী অস্ত্রের তীব্র গোলাগুলির মধ্যেই মার্কিন কমান্ডো বাহিনী ওই বিমানচালককে নিজেদের কব্জায় নিতে সক্ষম হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, এর আগে শনিবার প্রথম উদ্ধার অভিযানে আরেকজন পাইলটকেও সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় উদ্ধার অভিযানটি বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বা শত্রুরা সতর্ক হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় প্রথম অভিযানের খবরটি আগে প্রকাশ করা হয়নি।

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, “সামরিক ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনো শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরে ঢুকে পৃথকভাবে দু’জন মার্কিন পাইলটকে অক্ষত উদ্ধার করা হলো। আমরা কখনোই সমরাঙ্গনে কোনো মার্কিন বীর যোদ্ধাকে একা ফেলে আসি না! কোনো একজন মার্কিন সদস্যের বড় ক্ষতি ছাড়াই এই দুটি অতি গোপনীয় অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রমাণ করে যে, আমরা ইরানের আকাশে শতভাগ পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি। এটি এমন এক গৌরবময় মুহূর্ত, যা নিয়ে পৃথিবীর সব আমেরিকানের গর্ব করা উচিত।”

উদ্ধার হওয়া অসম সাহসী ওই পাইলটদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ট্রাম্প জানান, উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় সেনানী একজন ‘অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল’ এবং বর্তমানে তিনি ‘সম্পূর্ণ নিরাপদ’ জায়গায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এই সাহসী যোদ্ধা ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শত্রুদের ঠিক পেছনে লুকিয়ে ছিলেন এবং শত্রুরা ক্রমশ তার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছিল। তবে তিনি কখনোই একা ছিলেন না, কারণ মার্কিন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তার অবস্থান প্রতি মুহূর্তে নিখুঁতভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছিল।

এর আগে গত শুক্রবার সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ঘটনায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী আমেরিকার দুটি শক্তিশালী সামরিক বিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে জানিয়েছিল, পারস্য উপসাগরে সংঘর্ষের পর একটি মার্কিন ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমানও তারা গুলি করে সাগরে আছড়ে ফেলেছে।

 

৩ মে থেকে সারাদেশে হামের টিকা দেওয়া হবেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0
হামের টিকা
হামের টিকা

রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার নবাবগঞ্জে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, আপাতত বেশি সংক্রমিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি, ময়মনসিংহ ও বরিশাল এবং ৩ মে থেকে বাকি জেলা ও উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম রোগের ভয়াবহতা কোনোভাবে করোনা ভাইরাসের চেয়ে কম নয়। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। করোনার মতো হামও কন্ট্রোলে আনা সম্ভব।

এদিকে, গাজীপুরে হামের টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, টিকাদান কর্মসূচি চলবে এবং এতে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। সরকার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। যত বেশি শিশু এই টিকার আওতায় আসবে আমরা তত বেশি নিরাপদ থাকব।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। একটি শিশুও টিকার বাইরে থাকবে না। যারা টিকা আজকে দিচ্ছেন তারা বাড়ি গিয়ে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের শিশুদেরকে পাঠিয়ে দিবেন টিকা নেওয়ার জন্য।

 

ইরান ফাঁসি দিল দুই ‘গাদ্দারকে’ 

0

রোববার (৫ এপ্রিল) অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি জাতীয় সামরিক স্থাপনায় সশস্ত্র হামলা এবং বিদেশি অপশক্তির দালালি করার দায়ে তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।

ফাঁসি কার্যকর হওয়া ওই দুই ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ আমিন বিগলারি এবং শাহিন ওয়াহিদিপারস্ত। ইরানি গণমাধ্যমগুলো শুরু থেকেই তাদের দেশের সাথে বেঈমানি করা ‘শত্রু এজেন্ট’ ও ‘গাদ্দার’ হিসেবে অভিহিত করে আসছিল।

তাদের বিরুদ্ধে মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তাল দেশব্যাপী বিক্ষোভ চলাকালে তারা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজধানী তেহরানের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। শুধু তাই নয়, ওই ঘাঁটির সুরক্ষিত জাতীয় অস্ত্রাগার জোরপূর্বক দখল করে দেশের ভেতরে আরও বড় ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল তারা। পরবর্তীতে আদালতে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আজ সকালে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

উল্লেখ্য, ভয়াবহ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত জানুয়ারি মাসে ইরানে শুরু হওয়া সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ খুব দ্রুতই দেশব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের সেই অধিকার আদায়ের আন্দোলন একপর্যায়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বর্তমান শাসনব্যবস্থা আমূল পরিবর্তনের দাবিতে সরব হয়ে ওঠে।

১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে এটি অন্যতম ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী গণসংঘাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে হাজারো মুক্তিকামী মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছিল। তবে শুরু থেকেই ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর দাবি ছিল, মূলত বর্তমান সরকারকে গায়ের জোরে উৎখাতের অসৎ উদ্দেশ্যে বিদেশি শত্রুরাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কিছু ‘গাদ্দার’ ও দালাল সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভে সুকৌশলে অনুপ্রবেশ করেছিল।

এদিকে, গত সপ্তাহে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, ২ এপ্রিল গজল হেসার কারাগারে আমির হোসেন হাতামি নামে এক কিশোরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বিগলারি ও ওয়াহিদিপারস্তসহ আলী ফাহিম এবং আবুল ফজল সালেহি শিয়াভাশানি নামক আরও দুই ব্যক্তির প্রাণদণ্ডের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি।

ইতোমধ্যেই বিগলারি ও ওয়াহিদিপারস্তের দণ্ড কার্যকর হওয়ায় বাকিদের ভাগ্য নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো।

সরকারি-বেসরকারি অফিস আজ থেকে চলবে নতুন নিয়মে

0

শনিবার (৪ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছিল।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। জরুরি পরিষেবাগুলো নতুন অফিস সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে।

আদালতের সময়সূচি নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নিদের্শেনা দেবেন। আর বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার থেকে সরকারে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অফিস সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে ৭ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ওই বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টা পর শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং বিয়ে বাড়িতে আলোক সজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে, ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিপত্রে জানানো হয়, রোববার থেকে ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এ ছাড়া লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে শুক্রবার ও শনিবার।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকা) অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলো আগের নিয়মেই সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

 

বড় সুখবর হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য 

0
সুখবর হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য 
সুখবর হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য 

হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের যাতায়াতকে সহজ করতে এবং তাদের হজ ও ওমরাহর অভিজ্ঞতাকে আরও সুন্দর করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। খবর সৌদি গেজেটের।

মক্কা সিটি ও পবিত্র স্থানগুলোর রয়্যাল কমিশনের প্রধান নির্বাহী সালেহ আল-রাশিদ জানান, প্রকল্পটির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক চূড়ান্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দর গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।

সৌদি গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বে এই বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে জেদ্দার কিং আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যকারিতাও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।

অবশ্য এই প্রকল্প এখনও প্রাথমিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ পর্যায়ে রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হলেও নির্মাণ শুরুর সময়সূচি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য হজ ও ওমরাহ যাত্রীসংখ্যা বাড়ানো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।

বর্তমানে মক্কায় যেতে হলে জেদ্দা হয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। নতুন বিমানবন্দর হলে যাত্রীদের যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।

এছাড়া, মক্কা মেট্রো প্রকল্পের কাজও জোরেশোরে এগোচ্ছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা শেষ হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। ‘স্মার্ট মক্কা’ কর্মসূচির আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে জামারাত সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিড় কমাতে পূর্বাভাসভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

মক্কার বাস নেটওয়ার্ক এখন ১২টি রুটে প্রায় ৪০০টি বাস পরিচালনা করছে। এই নেটওয়ার্ক ৪৩০টির বেশি স্টপেজ ও চারটি কেন্দ্রীয় স্টেশনকে যুক্ত করেছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়ার পর থেকে এই সেবায় ১৮ কোটি ৫০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে এবং ৩৮ লাখের বেশি ট্রিপ সম্পন্ন হয়েছে।

‘মক্কা ট্যাক্সি’ সেবাও চালু করা হয়েছে। এই সেবার অধীনে আধুনিক গাড়ি, ট্র্যাকিং ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক পেমেন্ট এবং বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির সুবিধা রয়েছে। এর পাশাপাশি মক্কার রিং রোডের বড় অংশের কাজ শেষ হয়েছে এবং তা পবিত্র মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে যানজট কমেছে।

এছাড়া, আরাফাত ও মিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ হজস্থলগুলোতে উন্নয়ন কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত অবকাঠামো, বহুস্তরবিশিষ্ট তাঁবু, নতুন আবাসিক টাওয়ার এবং ২০০ শয্যার একটি জরুরি হাসপাতালও রয়েছে। এসব স্থানে পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে, যার অধীনে গাছ লাগানো, ছায়াযুক্ত পথ তৈরি এবং পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব উন্নয়ন বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করবে। তাদের লক্ষ্য, যাত্রী সন্তুষ্টির হার ৯০ শতাংশের বেশি করা। বিমানবন্দর ও মেট্রো প্রকল্প মক্কার ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

এপ্রিলে আসছে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহ

0
তীব্র তাপপ্রবাহ
তীব্র তাপপ্রবাহ

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশের অন্তত ২৭ জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সর্বত্র এবং ঢাকাসহ ৯ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়।

রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা ১৮। এর সঙ্গে ৯ জেলা যুক্ত হয়ে মোট ২৭ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। ঢাকা ছাড়া বাকি যে আট জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, সেই জেলাগুলো হলো ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, রাঙামাটি, বরিশাল ও পটুয়াখালী।

যখন কোনো এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন সেখানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়। তাপপ্রবাহের মাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। আর কোনো এলাকায় ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বয়ে গেলে তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির বেশি হয়ে গেলে তখন তাকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

গত শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর আছে রাজশাহী। দেশের উত্তরের এই নগরীর তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গত শুক্রবার রাজধানীতেও বয়ে গেছে তাপপ্রবাহ। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তবে রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের কিছু এলাকায় ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তাতে তাপপ্রবাহ কমে যেতে পারে সাময়িকভাবে।

একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভা সে বলা হয়েছে, আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতি মাসের শুরুতে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেয়। এপ্রিল মাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে। এ ছাড়া এ মাসে দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা আছে।

অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, এবারের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা তার কাছাকাছি থাকলেও গরমের তীব্র অনুভূতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (খুলনা বিভাগ), ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ বেশি হতে পারে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৭৬ বছরের মধ্যে দীর্ঘতম ৩৫ দিনের টানা তাপপ্রবাহ প্রত্যক্ষ করেছিল। তবে এবার তেমন পরিস্থিতি না–ও হতে পারে।

এর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি মাসে একাধিক বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা আছে। তেমনটা হলে তীব্র গরম পড়লেও তা প্রশমিত হয়ে যেতে পারে। আবার নতুন করে গরম পড়তে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ থাকবে, এ আশঙ্কা কম।

এপ্রিল মাসে গড়ে ৯টি বজ্রঝড় হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও তেমনটা হয়েছিল। এ মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ৭ দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখী বা বজ্রঝড় হতে পারে। এ ছাড়া সাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। আর এ লঘুচাপ থেকে একটি নিম্নচাপ বা সেখান থেকে ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে।

এখন তাপপ্রবাহের ধরন বদলেছে এবং এটি এখন বর্ষাকাল অর্থাৎ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখা যাচ্ছে। সেই দিকটি তুলে ধরে আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন তাপমাত্রা যা–ই থাকুক, গরমের তীব্রতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগামী জুন মাস পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসেও উঠে এসেছে, এ সময় তিন থেকে চারটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে এবং ছয় থেকে আটটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হতে পারে।

 

সাফ ফুটবল জয় করে দেশে ফিরল যুবারা

0
সাফজয়ী যুবারা
সাফজয়ী যুবারা

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। সেখানে তাদের অভ্যর্থনা জানান আগেভাগেই বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

শুক্রবার ভারতের বিপক্ষে মালদ্বীপ জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের দুই অর্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে শুরুতেই ভারতের ওপর চাপ তৈরি করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। ভারতের রিশি সিংয়ের প্রথম শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি। এরপর ভারত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

টাইব্রেকারের উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলে একের পর এক নাটকীয় মুহূর্ত। বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাকসাম শট মিস করলে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়। তবে ভারতের ওমাং দোদুমের শট গ্যালারিতে উড়ে গেলে আবারও স্বস্তি ফিরে আসে বাংলাদেশ শিবিরে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে নির্ণায়ক শট নিতে এসে ভারতের গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রোনান সুলিভান, আর তাতেই নিশ্চিত হয় শিরোপা জয়।

আগামীকাল সোহেল রানা সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন চিকিৎসার জন্য

0
অভিনেতা সোহেল রানা
অভিনেতা সোহেল রানা

শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এ তথ্য জানান এই গুণী অভিনেতা। তবে তিনি কী ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেননি।

ফেসবুক পোস্টে সোহেল রানা লিখেন, ইনশাআল্লাহ পরশু অর্থাৎ আগামী ৫ তারিখ রাতে অসুস্থতা পরীক্ষা করানোর জন্য সিঙ্গাপুরের পথে রওনা হব। আমার জন্য আপনারা দোয়া করবেন। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

তার এ ঘোষণার পর থেকেই চলচ্চিত্রাঙ্গনের সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে প্রিয় অভিনেতার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে অনেকেই দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন।

সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় এই নায়কের চলচ্চিত্রজগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রযোজক হিসেবে। ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কালজয়ী চলচ্চিত্র ওরা ১১ জন প্রযোজনার মাধ্যমে ঢালিউডে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে মাসুদ রানা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নায়ক হিসেবে পর্দায় আসেন এবং তখন থেকেই ‘সোহেল রানা’ নামেই পরিচিতি লাভ করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনা— তিন ক্ষেত্রেই অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশীয় চলচ্চিত্রের এক অনন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন।