সোমবার, মে ৪, ২০২৬
সোমবার, মে ৪, ২০২৬
24 C
Dhaka

বিয়ের পিড়িতে বসছেন সিমরিন লুবাবা

0
শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা
শিশুশিল্পী সিমরিন লুবাবা

গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেই বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে একটি পোস্টের মাধ্যমে লুবাবা জানান, তিনি ঘর বেঁধেছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন। এই পোস্টের পর থেকেই ভক্ত ও নেটিজেনদের শুভকামনা আর অভিনন্দনে ভাসছেন তিনি।

বিয়ের খবর দিলেও নিজের জীবনসঙ্গীর পরিচয় এখনই আড়ালেই রেখেছেন লুবাবা। পোস্ট করা ছবিতে বর-কনের মুখ স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে তার স্বামী কে বা তিনি কী করেন— তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়েছে। লুবাবা পাত্রের বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না জানানোয় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

একটা সময় নিয়মিত নাটক ও বিজ্ঞাপনে দেখা গেলেও লুবাবা গত কয়েক বছর ধরে শোবিজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ধর্মীয় অনুশাসন ও ব্যক্তিগত জীবনকেই তিনি প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।

হঠাৎ করে বিয়ের পিঁড়িতে বসার এই খবরে লুবাবার ভক্তরা যেমন চমকে গেছেন, তেমনি তার নতুন জীবনের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা জানিয়েছেন সবাই।

 

মিনিমালিস্ট জীবনধারা বেছে নেবেন কেন ?

0
মিনিমালিস্ট জীবনধারা
মিনিমালিস্ট জীবনধারা

মিনিমালিজম কেবল ঘর সাজানোর কোনো আধুনিক ট্রেন্ড নয়, বরং এটি এক গভীর জীবনদর্শন, যার মূলমন্ত্র হলো— ‘লেস ইজ মোর’ বা অল্পেই তুষ্টি। অপ্রয়োজনীয় বস্তুগত ও মানসিক বোঝা ঝেড়ে ফেলে জীবনের প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাওয়াই এই জীবনধারার লক্ষ্য।

  • ভোগবাদের মরীচিকা ও শূন্যতার ফাঁদ

বর্তমান বিশ্ব এক অদ্ভুত ‘ভোক্তাবাদ’ বা কনজিউমারিজম-এর কবলে। বিজ্ঞাপন আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাকচিক্য আমাদের প্রতিনিয়ত বোঝাতে চায় যে, নতুন মডেলের ফোন বা দামী আসবাবই সুখের চাবিকাঠি। কিন্তু বস্তুগত সম্পদ জমানোর এই নিরন্তর ইঁদুর দৌড় আদতে মানুষের ভেতরে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতা ও অপূর্ণতা তৈরি করে। এই চক্র থেকে মুক্তি পেতেই বিশ্বজুড়ে মানুষ এখন ঝুঁকছে মিনিমালিজমের দিকে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে এই ধারণার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে।

  • কেন বেছে নেবেন মিনিমালিস্ট জীবনধারা?

মিনিমালিজম চর্চার সুফল বহুমুখী। এটি চর্চার ফলে জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম জিনিস মানে কম উদ্বেগ; ফলে মানসিক প্রশান্তি বাড়ে। একইসঙ্গে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে গিয়ে সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি হয়।

শুধু তা-ই নয়, জীবনের প্রতিটি স্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে মিনিমালিজম। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

  • মানসিক প্রশান্তি: ঘরে জিনিসের জঞ্জাল যত কম, মস্তিষ্কে দুশ্চিন্তার ভারও তত হালকা। এটি সরাসরি মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
  • আর্থিক সচ্ছলতা: হুজুগে কেনাকাটা বন্ধ করলে সঞ্চয়ের হার বাড়ে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ এড়িয়ে চলাই এর মূল দর্শন।
  • পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা: যত কম পণ্য কেনা হবে, কার্বন ফুটপ্রিন্ট তত কমবে। মিনিমালিজমের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ে। এটি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম পথ।
  • মনোযোগ ও সৃজনশীলতা: চারপাশ ছিমছাম থাকলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। এতে কাজের মান ও গতি—দুই-ই বাড়ে। ফলে জীবনের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
  • সম্পর্কের উন্নয়ন: মানুষ যখন বস্তুর পেছনে ছোটা কমিয়ে দেয়, তখন সে প্রিয়জন ও পরিবারকে দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় ও মানসিক শক্তি খুঁজে পায়। ফলে সম্পর্কের উন্নয়নে আসে অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবর্তন।

টেকসই পণ্য ও সচেতন কেনাকাটা: মিনিমালিস্টরা সস্তা ও ক্ষণস্থায়ী জিনিসের চেয়ে টেকসই ও গুণগত মানসম্পন্ন (Quality over Quantity) পণ্যকে প্রাধান্য দেন। নতুন কিছু কেনার আগে তারা নিজেকে প্রশ্ন করেন—এটি কি আমার জন্য সত্যিই প্রয়োজনীয়? উত্তর যদি ‘না’ হয়, তবে সেটি কেনার প্রয়োজন নেই। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, মিনিমালিস্টরা অপ্রয়োজনীয় খরচ থেকে বিরত থাকেন এবং শুধুমাত্র সেই জিনিস কেনেন যা তাদের জীবনে সত্যিকার অর্থে কাজে লাগবে।

  • অন্দরসজ্জায় নান্দনিক মিনিমালিজম

ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ক্ষেত্রে মিনিমালিজম মানে ঘরকে শূন্য করে ফেলা নয়, বরং ফাঁকা জায়গার সঠিক ব্যবহার। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— ১. সাদা, ধূসর বা হালকা নিউট্রাল রঙের আধিক্য। ২. আসবাবপত্রে বাহুল্য বর্জন এবং জ্যামিতিক লাইনের প্রাধান্য। ৩. প্রতিটি বস্তুর নির্দিষ্ট কার্যকারিতা থাকা।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি আদর্শ মিনিমালিস্ট শয়নকক্ষে কেবল একটি আরামদায়ক বিছানা, প্রয়োজনীয় ল্যাম্পশেড আর দু-একটি ব্যক্তিগত স্মারক থাকতে পারে। এতে ঘরটি হয়ে ওঠে খোলামেলা ও প্রশান্তির নীড়।

  • প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

মিনিমালিজম নিয়ে সমাজে কিছু ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন এটি এক ধরনের কৃচ্ছ্রসাধন বা সন্ন্যাস জীবন। আসলে তা নয়। এর অর্থ হলো নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া। এটি আপনাকে শপিং মলের ভিড় আর অনলাইন সেলের প্রলোভন এড়িয়ে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক মনস্তত্ত্ব গঠনে সহায়তা করে।

বস্তুত, মিনিমালিজম আমাদের শেখায় যে জীবনের সৌন্দর্য জিনিসের সংখ্যায় নয়, বরং অভিজ্ঞতার গভীরতায় নিহিত। এটি কেবল একটি পছন্দ নয়, বরং একবিংশ শতাব্দীর অস্থিরতা থেকে বাঁচার একটি কার্যকর কৌশল।

হামের লক্ষণ কী, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা ও টিকার ডোজ নিয়ে করণীয় কি

0
হামের লক্ষণ কী
হামের লক্ষণ কী

হাম কী, এর প্রাথমিক লক্ষণ, এটি কীভাবে ছড়ায়. এর চিকিৎসা ও টিকার ডোজ সংক্রান্ত ব্যাপারে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর লালবাগের উদয় ডক্টর কনসালটেন্সি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড–১৯ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আইভি আক্তার।

➤ হাম কী:
হাম হচ্ছে রুবোলা ভাইরাসজনিত একটি সংক্রামক ও গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। এটি শিশু ও তরুণদের মধ্যে বেশি আক্রমণ করে। যা সাধারণত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায় এবং কখনো কখনো আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মাধ্যমে ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। হাম হলে জ্বর, হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং মুখে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে।

➤ আতঙ্ক নয়, সচেতনতা প্রয়োজন:
হাম ভাইরাসজনিত রোগ। যদিও এখনো বিশ্বজুড়ে শিশুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এটি বড় হুমকি। তবে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা ও টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে এটি এখন অনেকটা হ্রাস পেলেও টিকার ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি অভিভাবক ও নাগরিকের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি অন্যদেরও এ ব্যাপারে অবহিত করার বিকল্প নেই।

➤ প্রাথমিক উপসর্গ:
সাধারণত হামের শুরু সাধারণ সর্দি-কাশি-হাঁচির মতো মনে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, মুখের ভেতর সাদা দানা হওয়ার মতো লক্ষণগুলো অবহেলা করা যাবে না। এছাড়াও যদি ১০৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত জ্বর, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, মুখের ভেতর ঘা, সাধারণ জ্বরের ৪/৫ দিনের দিন চুলকানি-সহ লালচে র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে বসে থাকা যাবে না। এসব লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।

উল্লেখ্য, র‌্যাশ সাধারণত কানের পেছনে বা মুখ থেকে শুরু হতে পারে, যা পরবর্তীতে ঘাড়ে ছড়ায় বা বুক-পিঠ পর্যন্ত বিস্তার করে এবং সবশেষ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আইভি আক্তার বলেন―

হাম হলে এপিথেলিয়াল লেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ জন্য ডায়রিয়া এবং সচরাচর কানের ও বুকে নিউমোনিয়ার মতো ইনফেকশনও হয়ে থাকে। তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেন ঘাটতি দেখা দিতে পারে, পানি স্বল্পতা ও প্রস্রাবের পরিমাণ কমতে পারে এবং মারাত্মক সংক্রমণে খিঁচুনিও হতে পারে।

➤ কীভাবে ছড়ায়:——-
হাম শুধু কাশিতে নয়, এটি বাতাসে ভাসমান ড্রপলেট ও এয়ারোসোল থেকেও ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি রুম ছেড়ে যাওয়ার ২ ঘণ্টা পরও বাতাসে ভাইরাস থাকতে পারে। এ জন্য হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে টিকা না নেয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

➤ হাম প্রতিরোধে চিকিৎসা ও পরিচর্যা:——–
হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল নেই। এ জন্য চিকিৎসাগুলো কেবলই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে উল্লেখযোগ্য কিছু করণীয় রয়েছে; যা মেনে চলা অত্যাবশ্যক।

বিশ্রাম: রোগীকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রাখতে হবে।
তরল গ্রহণ বাড়ানো: প্রচুর পানি বা তরল খাবার খেতে হবে।
জ্বর নিয়ন্ত্রণ: জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্যারাসিটামল খেতে পারেরন।
আইসোলেশন: লাল ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ শুরু হওয়ার পর অন্তত ৪ দিন অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন।
অ্যান্টিবায়োটিক: শুধু ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হবে।
উল্লেখ্য, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি পরামর্শ করে ভিটামিন এ গ্রহণ করতে হবে। কেননা, ভিটামিন এ শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, জটিলতা বাড়ায় এবং দ্রুত সুস্থ হতে ভূমিকা পালন করে।

➤ ডোজ:——

৬ মাস – 50,000 IU
১১ মাস – 100,000 IU
১২ মাস – 200,000 IU
ডোজের সময়সূচি:
১ম দিন এবং ২য় দিন
সিভিয়ারের (Severe) ক্ষেত্রে ১৪তম দিন ৩য় ডোজ।
এছাড়া ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ, চোখের এবং মুখগহব্বরের যত্ন নিতে হবে।

➤ কার্যকর প্রতিরোধ:——-

MMR/MR টিকা (২ ডোজ)

১ ডোজ = ৯৩ থেকে ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা
২ ডোজ = ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা
মনে রাখতে হবে, কোনো টিকাই শতভাগ কার্যকরী নয়। টিকা নেয়ার পরও রোগ হতে পারে। তবে টিকা নেয়া হলে জটিলতা অনেকাংশে কম হয়। পাশাপাশি সবসময় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করার মাধ্যমে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সবশেষ শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আইভি আক্তার বলেন―

হাম শুধু র‌্যাশ নয়, হাম হলে শরীরের আগের সব রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার ‘মেমোরি’ বা স্মৃতি নষ্ট হয়। যাকে ইমিউন অ্যামনেসিয়া বা অনাক্রম্য বিস্মৃতি বলা হয়। ফলাফল রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়া। হাম কেবল রোগ নয়, এটি নানা রোগের কারণ হয়। এ জন্য হাম থেকে মুক্তির পরও আক্রান্ত ব্যক্তি ২-৩ বছর অন্যান্য রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। এর জটিলতা প্রাণঘাতীও হতে পারে। এ জন্য আইসোলেশন, সময়মত টিকা প্রদান এবং সঠিক পরিচর্যা অপরিহার্য।

যুদ্ধবিরতি নয়, যুদ্ধের পূর্ণ সমাপ্তি চায় ইরান: আরাগচি

0
আব্বাস আরাগচি
আব্বাস আরাগচি

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ)আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চায় না; বরং পুরো অঞ্চলে চলমান যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকটের যেকোনও সমাধানে ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ থাকতে হবে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে যোগাযোগ হচ্ছে, তা কোনও আলোচনার অংশ নয়; বরং সরাসরি বা আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, অতীতের মতো এখনও তিনি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছেন। তবে এটিকে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব বার্তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পৌঁছানো হয় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যেও কিছু যোগাযোগ রয়েছে। তবে ইরানের ভেতরে কোনও নির্দিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কোনও আলোচনা চলছে না।

আরাগচি জানান, এই বার্তা আদান-প্রদান সরকারি কাঠামোর মধ্যেই হচ্ছে এবং তা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব বার্তায় সতর্কবার্তা ও উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয় এবং এটি নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরান সাড়া দিয়েছে বলে যে প্রতিবেদন সামনে এসেছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, কোনও জবাব পাঠানো হয়নি এবং তেহরান এখন পর্যন্ত কোনও প্রস্তাব বা শর্তও দেয়নি। তিনি বলেন, আলোচনার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি এবং ইরানের জনগণকে হুমকি দিয়ে কিছু অর্জন করা যাবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে ইরানের সঙ্গে সম্মানজনকভাবে কথা বলার আহ্বান জানান।

সমুদ্র নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা রয়েছে। তবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতায় জড়িত, তাদের জন্য এই পথ সীমিত করা হতে পারে। একই সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইরান যুদ্ধের কারনে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া

0
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সময় যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম ৪ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এ দাম ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের মোটর ক্লাব ‘এএএ’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ০২ ডলারে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় এক ডলারেরও বেশি। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর চার বছর আগে মার্কিন চালকদের পাম্পে সর্বশেষ এই চড়া দামে জ্বালানি কিনতে হয়েছিল।

এ দাম একটি জাতীয় গড় হিসাব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে চালকদের বেশ কিছুদিন ধরেই ৪ ডলারেরও অনেক বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কর হারের ভিন্নতার কারণে অঙ্গরাজ্যভেদে এই দামের পার্থক্য দেখা যায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক হারে ওঠানামা করছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব

জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্য সাধারণ ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা পরিবারগুলোকে এখন তেলের বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে অন্য খাতের বাজেটে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে ইউটিলিটি বিল থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে মুদি পণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে, কারণ এসব পণ্য বারবার পরিবহনের প্রয়োজন হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন।

পরিবহন ও বিতরণ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি গ্যালন ডিজেল যেখানে ৩ দশমিক ৭৬ ডলারে পাওয়া যেত, বর্তমানে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। ইউনাইটেড পোস্টাল সার্ভিস (ইউপিএস) ইতোমধ্যেই তাদের কিছু সেবায় সাময়িকভাবে ৮ শতাংশ অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।

যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এ দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে প্রণালিটি দিয়ে বর্তমানে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ। এছাড়া ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—সব পক্ষই তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানোয় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

দাম কমাতে জরুরি মজুদ উন্মুক্ত

বাজার স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সদস্য দেশগুলোর জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে রিজার্ভ তেলের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।

এছাড়া ভেনেজুয়েলা এবং সাময়িকভাবে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেলের প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে শতবর্ষী পুরোনো আইন ‘জোনস অ্যাক্ট’-এর (যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রপথ ও জাহাজ চলাচল সম্পর্কিত আইন, যা জাহাজ চলাচল এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে) বাধ্যবাধকতা আগামী ৬০ দিনের জন্য শিথিল করা হচ্ছে।

তবে এই প্রচেষ্টাগুলো সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কতটা স্বস্তি বয়ে আনবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিশোধনাগারগুলো আগেভাগেই চড়া দামে অপরিশোধিত তেল কিনে রাখায় নতুন সরবরাহের সুফল পেতে সময় লাগবে। তাছাড়া বছরের এ সময়ে আমেরিকায় তেলের চাহিদা এমনিতেই বেশি থাকে। আবার উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে শোধনাগারগুলোকে গ্রীষ্মকালীন ব্যবহার উপযোগী জ্বালানি তৈরি করতে হয়, যা শীতকালীন জ্বালানির চেয়ে ব্যয়বহুল।

তেল রপ্তানিকারক দেশ হয়েও কেন এই সংকট?

যুক্তরাষ্ট্র নিজে তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববাজারের এই ধাক্কার বাইরে থাকতে পারছে না। এশিয়ার দেশগুলোর মতো সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারও প্রভাবিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র মূলত ‘লাইট সুইট ক্রুড’ (হালকা সালফারযুক্ত তেল যা সহজে পরিশোধন করা যায়) উৎপাদন করে। কিন্তু দেশটির পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলো ‘হেভি সোর ক্রুড’ (যে তেল পরিশোধন তুলনামূলক কঠিন) প্রক্রিয়াজাত করার উপযোগী করে তৈরি। ফলে চাহিদার প্রয়োজনে দেশটিকে আমদানির ওপরও নির্ভর করতে হয়।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত সবসময়ই জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা নিয়ে আসে। ২০২২ সালের জুনে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর চার মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে তেলের গড় দাম রেকর্ড ৫ ডলার ছাড়িয়েছিল। মঙ্গলবার সেই রেকর্ড ছোঁয়ার পথে আবারও ৪ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করল দেশটির জ্বালানি বাজার।

ইরানের ড্রোন হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুন

0
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুন
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ আগুন

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে ইরানের ড্রোন হামলায় ‘ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড’ ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা কুনা বুধবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হামলার ফলে জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে, তবে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানি ড্রোন হামলার পর একটি কোম্পানির স্থাপনায় আগুন নেভাতে কাজ করছে তারা।

অন্যদিকে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরান এবং তাদের সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলায় দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ‘স্পষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু’ হয়েছে বলে কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

দেশটির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজহি বলেন, বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে, যার ফলে ঘটনাস্থলে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি জানান, জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং শুধু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ চলাকালে ইরান-সমর্থিত ড্রোন একাধিকবার কুয়েতের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কুয়েতি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং যাত্রী টার্মিনালেরও ক্ষতি হয়েছে।

কুয়েত সিটিতে চলমান এই যুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই এমন সতর্ক সংকেত শোনা যাচ্ছে এবং এটি কার্যত এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল, বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় রাডার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই আরও তীব্র হয়ে উঠছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

 

আজ থেকে ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএমপির অভিযান

0
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএমপির অভিযান
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ডিএমপির অভিযান

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনদুর্ভোগ কমাতে কঠোর অভিযানে নামছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ট্রাফিক আটটি বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা মহানগরীর সড়কের পাশে বিভিন্ন দোকান পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হবে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলদারত্বের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এই অভিযান সাধারণ হকারদের বিরুদ্ধে নয়, বরং সেই সব সামর্থ্যবান ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যারা সড়কের ওপর রেস্টুরেন্টের কিচেন বা স্থায়ী স্থাপনা বানিয়ে জনপথ আটকে রেখেছেন। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ জায়গার বাইরে অতিরিক্ত আকারে ফুটপাত দখল করে ব্যবহার করছে, আমরা এবার তা দখলমুক্ত করবো। এছাড়া, হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

এর আগে, গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় খাবার রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ, আসবাবপত্র ও পোশাকের দোকানগুলো তাদের কার্যক্রম ফুটপাত ও মূল সড়কে সম্প্রসারণ করেছে। রেস্টুরেন্টের রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল বা কাবাব তৈরির মেশিন, ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র রাস্তার ওপর রাখার ফলে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো প্রায়ই ফুটপাত ও সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করে। এতে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় একদিকে যেমন নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম যানজট।

ডিএমপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় আগামীকাল থেকে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনস্বার্থে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যাতে নগরবাসী নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

 

হরমুজ প্রণালি খোলার পরও অস্থিরতা থাকবে দীর্ঘদিন 

0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি

জার্মান শিপিং কোম্পানি হ্যাপাগ-লয়েডের কর্মকর্তা নিলস হাউপ্ট বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেও লজিস্টিকস সংকট তখনই শুরু হবে।

তার মতে, প্রণালি খুলে গেলেই সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে না। তখন শত শত জাহাজ একসঙ্গে উপসাগরীয় বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করবে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২ হাজার জাহাজ এই অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ জাহাজ ওমান উপসাগরে অপেক্ষা করছে।

অনেক জাহাজ বিকল্প পথ হিসেবে সুয়েজ খাল বা আফ্রিকার দক্ষিণে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পণ্য পরিবহন করছে।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ৪০টির বেশি জ্বালানি স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের জ্বালানি কোম্পানিগুলো উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়, ফলে তেল ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে মাসের পর মাস সময় লাগতে পারে।

ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে প্রণালি আংশিক বন্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রণালি খোলা নয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের সময় জাহাজে হামলার ঘটনায় ঝুঁকি বেড়েছে এবং বীমা খরচ ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

মেরিটাইম খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে অনেক কোম্পানি বিকল্প বাণিজ্য পথ খুঁজতে বাধ্য হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে এই সংকট বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে, যা ভবিষ্যতে এই প্রণালির গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।

খেলোয়াড়রা প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্রীড়া কার্ড’ পেয়ে আবেগাপ্লুত

0
প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্রীড়া কার্ড’ পেয়ে আবেগাপ্লুত খেলোয়াড়রা
প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্রীড়া কার্ড’ পেয়ে আবেগাপ্লুত খেলোয়াড়রা

‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’— এই বৈপ্লবিক স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল ১২৯ জন কৃতী খেলোয়াড়ের হাতে তুলে দিয়েছেন বহু প্রতীক্ষিত ‘ক্রীড়া কার্ড’।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেবল সম্মাননাই নয়, বরং অ্যাথলেটদের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে মাসিক ১ লাখ টাকা সম্মানী, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চেপে এই আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের মাঝে ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকার আর্থিক পুরস্কার ও ভাতা তুলে দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন খেলোয়াড়কে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

সাফ জয়ী নারী ফুটসাল দল থেকে শুরু করে কাবাডি, ভলিবল, আরচারি, ব্যাডমিন্টন, সেপাক টাকরো এবং প্যারা-অ্যাথলেটদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই কাঠামোর বাইরে থাকলেও, অন্যান্য অবহেলিত খেলার মানোন্নয়নে সরকারের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত অ্যাথলেটরা। নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, এটি আমাদের জন্য বিশাল এক সারপ্রাইজ। এখন খেলোয়াড়রা চোখ বন্ধ করে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তবে এই সম্মান ধরে রাখা আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

টেবিল টেনিস তারকা খই খই সাই মারমা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, কখনও ভাবিনি মাসে এক লাখ টাকা ভাতা পাব। এটি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে প্রতি চার মাস অন্তর পরিবর্তিত হবে, যা খেলোয়াড়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। অন্যদিকে, স্বর্ণজয়ী প্যারা-সাঁতারু মো. শহিদুল্লাহ বলেন, সরকার আমাদের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী খেলোয়াড়দের কষ্ট বুঝতে পেরেছে, এটি আমাদের জন্য অনেক গর্বের।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ‘ক্রীড়া কার্ড’ একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

এই উদ্যোগের ফলে দেশের তরুণ প্রজন্ম এখন অনিশ্চয়তা কাটিয়ে খেলাধুলায় আরও বেশি আগ্রহী হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্যের পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস নেয়া হবে মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে 

0
সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস নেয়া হবে
সপ্তাহে ৩ দিন অনলাইন ক্লাস নেয়া হবে

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করা হবে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চলবে। এর মধ্যে তিন দিন অনলাইনে এবং তিন দিন সরাসরি (অফলাইন) শ্রেণিকক্ষে পাঠদান হবে।

তিনি আরও জানান, জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্লাস নেবেন, তবে নির্ধারিত দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যুক্ত হবে।

এর আগে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বিকল্প পদ্ধতিতে পাঠদান চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে অনলাইন ও অফলাইনের সমন্বয়ে নতুন এই ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে একদিকে জ্বালানি সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতাও বজায় রাখা সম্ভব হবে।