বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬
29 C
Dhaka

অরাজকতার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বললেন রাষ্ট্রপতি

0
অনলাইন ডেস্ক । জনতা মেইল
অনলাইন ডেস্ক । জনতা মেইল

রাষ্ট্রপতি হিসেবে জাতীয় সংসদে আজ প্রথম ভাষণ দেন মো. সাহাবুদ্দিন। দীর্ঘ বক্তব্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দেশের উন্নয়ন, সংসদ ও সংসদ সদস্যদের ভূমিকাসহ নানা বিষয় তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সহিংসতা ও নৈরাজ্যের পথ পরিহার করে সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণ ও গণতন্ত্রের কল্যাণে অহিংস পন্থায় গঠনমূলক কর্মসূচি পালন করবে। সরকারও এ ক্ষেত্রে সংযত আচরণ করবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রের জন্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন অত্যন্ত যুগান্তকারী ঘটনা, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় হয়েছে দেশের জনগণের, জয় হয়েছে গণতন্ত্রের।’

নির্বাচনকে ঘিরে একটি মহল সহিংসতা ও সংঘাতের সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল—মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের গণতন্ত্রবিরোধী ও সহিংস কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে জনগণকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রাখলেও গণতন্ত্রের শাণিত চেতনা ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখতে পারেনি। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্যই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব পদক্ষেপ সার্থক হয়েছে। নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে।

দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক শক্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই, জনগণের রায় মেনে নিয়ে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দীর্ঘ ভাষণে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, করোনা অতিমারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও গত প্রায় দেড় দশক যাবৎ জিডিপির গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি। এ সময় বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলার এবং জাতীয় বাজেটের আকার ৯ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়, বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে গত দেড় দশকে আর্থসামাজিক খাতসহ সব খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এ জন্য দেশবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ অর্জন সম্ভব হয়েছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নয়নের মূল ভিত্তি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্রের অব্যাহত চর্চা। গণতন্ত্রের স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হলে উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়। গত দেড় দশকে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বজায় থাকার কারণে দেশের এ উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। উন্নয়নকে স্থায়ী ও টেকসই করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মজবুত, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে। উন্নয়নের এ গতিধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় সংসদ গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মূল ভিত্তি। জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত মহান এ প্রতিষ্ঠান জনগণের সব প্রত্যাশার ধারক ও বাহক। তাদের চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নাগরিকদের কল্যাণে জাতীয় সংসদ যথাযথ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জনগণ অনেক আশা নিয়ে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে, যাতে তাদের চাওয়া-পাওয়া আপনারা সংসদে তুলে ধরেন। এটাই সংসদ সদস্য হিসেবে আপনাদের মূল দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের সব নাগরিকের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিভিন্ন গোষ্ঠী, দল ও সংগঠনের চাওয়া-পাওয়া গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমন্বয় সাধন করতে হয় জাতীয় সংসদকে। সংসদের গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ—আইন প্রণয়ন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসমূহে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার জন্য তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

বিরোধী দলের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক নীতি-আদর্শ, মত-পথের ভিন্নতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সংসদকে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার ক্ষেত্রে কোনো মতদ্বৈততা জনগণ প্রত্যাশা করে না। তাই সংসদকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে সবার প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘করোনা অতিমারির ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো এবং রাশিয়ার মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিভিন্ন অবরোধ আরোপের ফলে খাদ্য, জ্বালানিসহ বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আমাদের দেশেও জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব জনজীবনে পড়েছে। সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে জনজীবনে স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতকরণের চেষ্টা করেছে।’

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য কৃষি খাতের উৎপাদনব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে, উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব দিয়ে রপ্তানি নিশ্চিত করার জন্য উন্নত কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের পণ্যগুলো রপ্তানি বাজারে যাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়, সে লক্ষ্যে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর ও কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গভীর সমুদ্রে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পাশাপাশি নতুন নতুন শ্রমবাজারের অনুসন্ধান করতে হবে, যাতে দক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানি সম্ভব হয়। আর্থিক খাতের সংস্কার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সতর্ক আছি, মিয়ানমারের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় তীব্র লড়াই চলছে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির। বাংলাদেশে এসে পড়েছে সেই সংঘাতের মর্টারশেল। এ ঘটনায় বাংলাদেশ মিয়ানমারে দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ সরকার বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরাকান আর্মি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চলছে। সেই সংঘাতের মর্টারশেল আমাদের দেশে এসে পড়েছে। এটি আমরা অবশ্যই নজর রাখছি।

তিনি বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষীরা সতর্ক আছে এবং মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ আছে। আমরা আশা করবো সেখান থেকে কোনও মর্টারশেল এখানে আসবে না। আমরা সতর্ক আছি।

ফের মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রচণ্ড গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনায় সীমান্তের এপারে কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ির বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।

তারা সীমান্তের কাছে হেলিকপ্টার উড়তে দেখেছেন। ভারী মর্টারশেলের শব্দও তারা শুনতে পাচ্ছেন। আতঙ্কে থাকার কথা বলেছেন ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গারাও।

রবিবার ওপার থেকে বাংলাদেশের ভেতরে অন্তত ৫টি মর্টারশেল ছিটকে আসার বিষয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।

মর্টারশেল উড়ে আসার বিষয়ে উদ্বিগ্ন কি-না, এমন প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা আশা করব যে, সেখান থেকে কোনো মর্টারশেল আমাদের দেশে আসবে না। তবে আমরা সতর্ক আছি এ ব্যাপারে।

আবারও সংঘাতের ফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশের কোনো শঙ্কা করছেন কি না, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, এখনও কোনো কিছু দৃশ্যমান হয়নি।

উল্লেখ্য, দেশটিতে সংঘাতের মধ্যে ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্টের পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আগে থেকে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার ক্যাম্পগুলোতে এখন ১১ লাখ রোহিঙ্গার বাস।

পাঠ্যপুস্তকে বিভ্রান্তিকর কিছু থাকলে সংশোধন করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

0

শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী জানিয়েছেন নতুন পাঠ্যপুস্তকে বিভ্রান্তিকর কিছু থাকলে তা সংশোধন করা হবে। এ সময় শিক্ষাক্রমের বিরোধিতার নামে অপরাজনীতি না করার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে স্বাধীনতা মাদ্রাসাশিক্ষক পরিষদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে মাদ্রাসাশিক্ষকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে তারা মাদ্রাসার জন্য প্রণীত পাঠ্য বইয়ে তাদের মতামত প্রদান ও অবদান রাখতে পারবেন।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, এ উপমহাদেশের হাজার বছর ধরে বহমান ইসলামী ভাবধারা দেশের আলীয়া মাদ্রাসায় চর্চা করা হয়। ইসলাম শিক্ষার বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে মাদ্রাসায় নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা সাদরে গ্রহণ করেছেন। নতুন শিক্ষাক্রম দক্ষতামূলক, যা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। এর সঙ্গে ধর্মের কোনো বিরোধ নেই।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বীনি শিক্ষার উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ১৮০০ মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ করেছে। এছাড়াও প্রচুর সংখ্যক মাদ্রাসা এমপিওভূক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী এ সময় মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং যৌক্তিক দাবিসমূহ বিবেচনা করা হবে বলে জানান।

সভায় সারা দেশ থেকে আগত শিক্ষকগণ জানান, নতুন শিক্ষাক্রম মাদ্রাসার সঙ্গে জড়িত সকলেই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাভীতি কমেছে, যা ঝরে পড়া রোধে সহায়তা করবে।

প্রতিটি ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার চেষ্টা করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

0

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার চেষ্টা করা হবে। সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেও থাকতে চান না। পেশাদারিত্বে সাথে যদি কমিটি তৈরি হয় এবং স্বচ্ছতার সাথে যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সেক্ষেত্রে কেন মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে তাঁকে নাক গলাতে হবে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দর সাথে মতবিনিময় সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মন্ত্রণালয় তথ্য নিয়ে কৌশলগত এবং প্রশাসনিক দুই ধরণের বিষয়ই আছে। প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে যদি সারাক্ষণ তিনি ব্যস্ত থাকেন তাহলে কৌশলগত বিষয় নিয়ে চিন্তা করবে কখন এবং চিন্তা করে সেগুলোকে মোকাবিলা করার রাস্তা বের করবে কখন।

তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করার জন্য কিছু সময় বরাদ্দ রাখতে হবে। চিন্তা করাটাও একটা কাজ। সারাক্ষণ তিনি প্রত্যেকটা কমিটিতে, প্রত্যেকটা কাজে, প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত থাকলে তাহলে মৌলিক জায়গাগুলোতে সমাধান বের করা তাঁর সহজ হবে না।

অধ্যাপক আরাফাত মনে করেন, গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা যতটা দরকার ঠিক ততোটুকুই অপতথ্যকে দমন করা দরকার। এ ব্যাপারেও কারো কোনো দ্বিমত নাই। আবার একই সাথে অপতথ্য যে সমাজে আছে এ ব্যাপারেও কারো কোনো দ্বিমত নাই। এগুলো যদি সত্যি হয় তাহলে দমন করার উপায় আমাদের বের করতে হবে। তিনি এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা চান।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু বাণিজ্যিক বিষয় আছে, কিছু স্বার্থের বিষয় থেকে যায়। সামাজিকভাবে কেউ স্বার্থে ঊর্ধ্বে নয়। কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা সবাইকে খুশি করতে পারবো না। সবকিছু ভারসাম্য রক্ষা করে সঠিক সিদ্ধান্ত কীভাবে নেয়া যায়, সেই চেষ্টা করা হবে। কিন্তু সিদ্ধান্তটা নিতে হবে দিনশেষে বৃহত্তর স্বার্থ চিন্তা করে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিমন্ত্রী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

ক্ষমতার জন্য নয়, বাকশাল বিদায় করতেই বিএনপির আন্দোলন: মঈন খান

0

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, আমাদের আন্দোলন বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। আমাদের আন্দোলন একদলীয় বাকশালী সরকারকে বিদায় করে হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী। ৭ জানুয়ারি দেশের জনগণ ডামি নির্বাচনের ভোট বর্জন করেছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যর্থ এবং জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত। দেশের জনগণ অতীতেও আপস করেনি, এবারও ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রশ্নে আপস করবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যকে উধাও করে দিয়েছে। তারা বহুবার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। ৭৫ সালে ১১ মিনিটের ব্যবধানে সংসদে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। পরে সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন। আজকে বিগত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রহরণ করেছে। বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন টাইমসের প্রবন্ধে বলা হয়েছে- আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে বাকশাল-২ কায়েম করেছে।

ড. মঈন বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রকে নতুনভাবে জনগণের হাতে তুলে দিতে চায়। সেজন্যই আমরা রাজপথে আন্দোলন করে যাচ্ছি। কর্মসূচি পালন করে আসছি। বাংলাদেশের হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

প্রস্তুত বিশ্ব ইজতেমার ময়দান, উপস্থিত হবেন রেকর্ড সংখ্যক মুসল্লি

0

‘কহর দরিয়া’ খ্যাত গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার জন্য ময়দান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর রেকর্ড সংখ্যক মুসল্লি বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক ইসলামি এ মহাসম্মেলনে যোগ দেবেন দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি।

ইজতেমাকে সফল করতে আয়োজকদের পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন সংস্থা। সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থাও গ্রহণ করেছে নানা ব্যবস্থা।

আয়োজকরা জানান, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার থেকেই সারাদেশ ও বিদেশ থেকে মুসল্লিরা আসতে শুরু করবেন। এবার হয়তো মুসল্লিদের সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের এ ঢল অব্যাহত থাকবে।

জানা যায়, প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমায় ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অংশ নেবেন মাওলানা যোবায়েরের অনুসারীরা। চার দিন বিরতি দিয়ে মাওলানা সা’দ কান্ধলভীর অনুসারীরা ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন। প্রথম পর্বে আগামী ২, ৩ ও ৪ ফেব্রুয়ারি ইজতেমার আয়োজন করছেন মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা এবং চার দিন বিরতি দিয়ে ৯, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে তাবলিগের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের আয়োজনে।

২০১৮ সালে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারী ও মাওলানা জুবায়ের আহমদের অনুসারীরা আলাদা হয়ে যান। এরপর থেকে তারা টঙ্গীর তুরাগতীরে বিশ্ব ইজতেমা পৃথকভাবে পালন করে আসছেন। এবছরও দুপক্ষ ২ পর্বে ইজতেমার আয়োজন করেছে।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে মাওলানা জুবায়েরেপন্থীদের ইজতেমা। আগত মুসল্লিরা জেলাওয়ারি খিত্তায় (তাঁবু) অবস্থান করবেন।

প্রতি বছরের মতো এবারও উর্দু ভাষায় বয়ান করা হবে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মুসল্লিদের সুবিধার্থে বয়ানের সঙ্গে বাংলা ও আরবি ভাষায় তর্জমা করা হবে।

সরেজমিনে ইজতেমার ময়দান ঘুরে দেখা যায়, আগত মুসল্লিদের সুবিধার্তে তুরাগে এ বছর ছয়টি ভাসমান সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে পাঁচটি সেতু নির্মাণ করেছে সেনাবাহিনী ও একটি বিআইডব্লিউটিএ। এসব ব্রিজ দিয়ে সাময়িকভাবে মুসল্লিরা এপার থেকে ওপারে যাতায়াত করতে পারবেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১২টি উৎপাদন নলকূপে ১২ কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হবে। প্রায় ৮ হাজার অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। ময়দানের চাহিদা মোতাবেক ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ ও ২৫টি ফগার মেশিনে মশক নিধনেরও ব্যবস্থা নিয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন।

বরাবরের মতো এবারও বিদেশিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আয়োজক কমিটি। দেখা যায়, বিদেশিদের আবাসস্থলে টিনের ছাপরা, শৌচাগার নির্মাণসহ ইজতেমায় আগত বিদেশি মুসল্লিদের জন্য ময়দানের উত্তর-পশ্চিম পাশে টিনের ছাউনি দিয়ে তার নিচে চটের ছাউনির প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। বিদেশি মেহমানদের উন্নত মানের অজু, গোসল ও বাথরুমের পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের রান্নার জন্য সরবরাহ করা হয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস।

বিশেষ করে বিদেশি মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য তাদের পুরো ছাউনিটি আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। নিরাপত্তার দিকে বিশেষ নজর দেয় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বিদের গুরুত্বপূর্ণ বয়ানগুলো বিদেশিদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে শোনানোর ব্যবস্থাও থাকছে। বিদেশি ছাউনির পূর্ব পাশে তৈরি করা হয়েছে মূল বয়ান মঞ্চ। সুউচ্চ এ মঞ্চ থেকেই দেশ-বিদেশের বরেণ্য আলেমরা বয়ান পেশ করবেন। আর সেসব বয়ান বিভিন্ন ভাষায় তর্জমা করে প্রচার করা হবে এ মঞ্চ থেকেই।

মঞ্চের চারপাশে লাগানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। ময়দানে মাইক ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, এবারের বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তায় সাড়ে ৭ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার ও রুফটপ থেকে পুরো ইজতেমা ময়দানের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ ছাড়া স্পেশালাইজড টিমসহ প্রতিটি খিত্তায় সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রতি খিত্তায় এবার দুটি করে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা হবে। তুরাগে নৌ-টহলও থাকবে।

ইজতেমা ময়দানের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, দুই পর্বের ইজতেমা সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। ইজতেমা ময়দান ও শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে মুসল্লিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। রোগী পরিবহনের জন্য সার্বক্ষণিক ওই হাসপাতালসহ চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে অন্তত ১৫টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন থাকবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে মুসল্লিদের চলাচলের সুবিধার্থে ১৭টি বিশেষ ট্রেন চলবে। দুই পর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন (৪ ফেব্রুয়ারি ও ১১ ফেব্রুয়ারি) সুবর্ণ, সোনার বাংলা, কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেস ছাড়া সব আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটার ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে তিন মিনিট করে যাত্রাবিরতি করবে। অর্থাৎ, এই দুদিন চারটি ট্রেন বাদে বাকি সব ট্রেন টঙ্গীতে থামবে। ইজতেমার মুসল্লিদের সুবিধার্থে দুপর্বের আখেরি মোনাজাতের দিন বলাকা কমিউটার, বনলতা এক্সপ্রেস ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচলের সময় পরিবর্তন করা হবে। ইজতেমা উপলক্ষে সব আন্তঃনগর, মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল ট্রেনে যাত্রী চাহিদা ও প্রাপ্যতা সাপেক্ষে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে।

ফের সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে পেঁয়াজ!

0

সপ্তাহ জুড়ে বাজারে নতুন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা থাকলেও রোববার থেকে হঠাৎ পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খুচরা বাজারে দাম বাড়তে বাড়তে ফের সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে পেঁয়াজ।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দাম বৃদ্ধির এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারের বেশিরভাগ দোকানেই নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে।

রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়া বাজারে বাজার করতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, গত ৪-৫ দিন আগে পেঁয়াজ কিনলাম ৮০ টাকায় আর আজ কিনতে এসে দেখি দাম হয়ে গেছে ১০০ টাকা। ২-১ দিনের মধ্যে হঠাৎ কিভাবে দাম ২০ টাকা বেড়ে যায়? দেশে বাজার মনিটরিং বলে কী কিছু আছে? যারা অসাধু ব্যবসায়ী তারা হঠাৎ সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে ফেলে।

রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা এক গার্মেন্টস কর্মী বলেন, পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে জানলাম পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এক কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা তাই আধা কেজি পেঁয়াজ কিনলাম। সব জিনিসের দাম বাজারে অতিরিক্ত বেশি, এরমধ্যে আবার বাড়লে পেঁয়াজের দাম। সব কিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার পরিচালনা করাই কঠিন।

পেঁয়াজ পাইকারি কেনা দামই বেশি পড়ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে জানিয়ে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এক মুদির দোকানি বলেন, আজ সকালে দোকানে বিক্রির জন্য কয়েক পাল্লা পেঁয়াজ কিনে এনেছি। সেখানে প্রতি পাল্লা (৫ কেজিতে এক পাল্লা) দাম পড়েছে ৪৭০ টাকা, মানে প্রতি কেজি পড়েছে ৯৪ টাকা। এরপর আছে রিকশায় করে আনার খরচ। সব মিলিয়ে আজ খুচরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ১০০ টাকায়। তিন দিন আগেই পাইকারি পেঁয়াজ কিনেছি ৭০ টাকায় তখন বিক্রি করেছি ৮০ টাকা কেজি। কিন্তু গতকাল থেকে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি বাজারে কেনা বেশি তাই খুচরা বাজারেও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী গতকাল রাজধানীতে প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।

টিসিবির সহকারী পরিচালক (বাজার তথ্য) নাসির উদ্দিন তালুকদার জানান, গতকাল নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, ঠিক এক দিন আগে এটার দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। সেই সঙ্গে গত মাসে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল তাই সে সময়ও নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। তবে গত বছর এই সময় নতুন পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ছুটি বাতিল

0

সারাদেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করবে। এর অংশ হিসেবে চলমান বাজার মনিটরিং ও অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনসহ প্রতিদিন নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার খাদ্য অধিদপ্তর নির্দেশ দিয়েছে।

রবিবার (২৮ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগ  এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, সারাদেশে ধান, চাল, আটা ও ময়দার বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে খ্যাদ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বাজার মনিটরিং ও অবৈধ মজুত বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে।

এ পরস্থিতিতে চলমান বাজার মনিটরিং ও অবৈধ মজুত বিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনসহ প্রতিদিন নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা মুজিব: একটি জাতির রূপকার

0

২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দর্শক জরিপে মুজিব: একটি জাতির রূপকার সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন শ্যাম বেনেগাল।

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এছাড়া সেরা শিশুতোষ চলচ্চিত্র হয়েছে প্রভাস। ভারতীয় এই চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন বিপুল শর্মা। এছাড়াও দর্শক জরিপে বিশেষ সেরা চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে ‘বিজয়ার পরে।’ ভারতীয় এই চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন অভিজিৎ শ্রীদাস।

স্প্রিচুয়াল চলচ্চিত্র বিভাগে সেরা নির্বাচিত হয়েছে রাশিয়ান চলচ্চিত্র ‘তুদা আই অবরান্তো’। এটি পরিচালনা করেছেন আসাদুলিন। সেরা ডকুমেন্টারি নির্বাচিত হয়েছে ‘কুনানফিন্ডা: দ্য ল্যান্ড অফ ডেথ।’

এই উৎসবের পর্দা নামছে আজ। এবারের আসরে ৭৫টি দেশের ২৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। এরমধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য ১২৯টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্র ১২৩টি। এর মধ্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ৭১টি।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নব-নির্বাচিত সাংসদদের কাজ করতে হবে: স্পিকার

0

জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের প্রত্যাশা পূরণ ও কল্যাণে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

রবিবার (২৮ জানুয়ারি) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, গত ৭ জানুয়ারি অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। তাদের প্রত্যাশা পূরণে ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বলেন, আমাদের সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোট পাঁচবারের ও টানা চারবারের প্রধানমন্ত্রী। জনগণের ভোট ও সমর্থন নিয়ে তিনি নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদের প্রতিটি ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত সচেতন ও মনোযোগী।

এসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু ও চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।

এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।