বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬
27 C
Dhaka

দূরপাল্লার বাসযাত্রীদের জন্য নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ

0
দূরপাল্লার বাসযাত্রায় নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ
দূরপাল্লার বাসযাত্রায় নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ

জ্বালানি তেল ডিজেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ এপ্রিল বাসভাড়া সমন্বয় করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তবে ওই দিন ভাড়ার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় দূরপাল্লার বাসে ভাড়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিআরটিএর ওয়েবসাইটে দেখা যায়, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর রুটে পুনর্নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। জ্বালানি মূল্য সমন্বয়ের পর দূরপাল্লার বাসভাড়ার নতুন তালিকায় দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটের ভাড়া তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা (সায়েদাবাদ)

-চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯০০ টাকা ও ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ১৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিলেট রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৫৮০ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৭৪০ টাকা। সায়েদাবাদ-বরিশাল রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪৬৪ টাকা, আর ৪০ আসনের বাসে ৫৯২ টাকা। সায়েদাবাদ-খুলনা রুটে ৫১ আসনের বাসভাড়া ৫৪১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসভাড়া ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সবচেয়ে দীর্ঘ রুট সায়েদাবাদ-টেকনাফে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ৪৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ৩৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গাবতলী রুট:

ঢাকা (গাবতলী)-পঞ্চগড় রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১ হাজার ৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ২৮১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-রংপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৫১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯১১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-দিনাজপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৯৭৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১ হাজার ২৪১ টাকা।

ঢাকা (গাবতলী)-ঝিনাইদহ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৫০১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৬৩৯ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-রাজশাহী রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৯১ টাকা। ঢাকা (গাবতলী)-মেহেরপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭৭৬ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯৮১ টাকা।

মহাখালী রুট:

ঢাকা (মহাখালী)-ময়মনসিংহ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ২৯৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৩৭৫ টাকা। ঢাকা (মহাখালী)-জামালপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৩৮৬ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৪৯২ টাকা।

ঢাকা (মহাখালী)-শেরপুর রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪২১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৩৭ টাকা। ঢাকা (মহাখালী)-কিশোরগঞ্জ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৪০১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাতে সরকার জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা করা হয়।

এরপর ২৩ এপ্রিল ভাড়া সমন্বয় করে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে ৫২ আসনের বাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা করা হয়। আন্তজেলায় ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকায় মিনিবাসে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ন্যূনতম ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

 

হঠাৎ বিকট শব্দের আতঙ্কে সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে

0
সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজে হঠাৎ বিকট শব্দ, আতঙ্কে সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে
সাংবাদিকদের সঙ্গে নৈশভোজে হঠাৎ বিকট শব্দ, আতঙ্কে সরিয়ে নেওয়া হলো ট্রাম্পকে

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের মন্ত্রিসভার সদস্যসহ অনেক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা গেলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান।

ঘটনার সময় ট্রাম্প, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ অন্যদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা চিৎকার করে সবাইকে নিচে ঝুঁকে থাকতে বলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্পসহ অনেকেই টেবিলের আড়ালে আশ্রয় নিচ্ছেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।

এরপর সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা ট্রাম্পকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে সশস্ত্র নিরাপত্তা সদস্যরা ঘটনাস্থলটি ঘিরে ফেলে। হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উইজিয়া জিয়াং গণমাধ্যমকে বলেন, অনুষ্ঠানটি পুনরায় শুরু হবে এবং শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।

 

লিমন-বৃষ্টির বসা হলোনা বিয়ের পিড়িতে

0
পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি
পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি

লিমন-বৃষ্টি দুজন প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং খুব শীঘ্রই বিয়ের পিঁড়িতে বসার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে সেই স্বপ্ন চিরতরে বিলীন হয়ে গেল।

নিহত লিমনের বড় ভাই জুবায়ের আহমেদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, জামিল ও বৃষ্টি একে অপরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় লিমন সবসময় বৃষ্টির প্রশংসা করতেন। বৃষ্টিকে তিনি খুব প্রতিভাবান মনে করতেন—যিনি একইসঙ্গে চমৎকার গান গাইতেন এবং রান্নাও জানতেন। লিমনের কাছে বৃষ্টি ছিলেন একজন গুণী মানুষ।

লিমনের পরিবার জানিয়েছে, লিমন ছিল অত্যন্ত ভদ্র ও হাসিখুশি একজন মানুষ। গত দুই বছর ধরে তিনি দক্ষিণ ফ্লোরিডার সংকুচিত জলাভূমি নিয়ে জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে গবেষণা করছিলেন। পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করাই ছিল তার বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

এদিকে, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বোন আর আমাদের সঙ্গে নেই।’ বিবিসি বাংলাকে জাহিদ জানিয়েছেন, মার্কিন পুলিশ তাকে ফোন করে এই দুঃসংবাদ দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাসার ভেতরে একটি মরদেহের অবশিষ্টাংশের সঙ্গে বৃষ্টির ডিএনএ মিলেছে। তবে পুরোপুরি মরদেহ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন এই দুই শিক্ষার্থী। প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু এলাকা থেকে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ পাওয়া যায়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিখোঁজ নাহিদাকে খুঁজে পেতে এখনো তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু ও এর আশেপাশের পানিতে ডুবুরি দল এখনো তল্লাশি চালাচ্ছে।

 

৩ টি কবিরা গুনাহ যা সাধারণ ক্ষমায় মাফ হয় না

0
কবিরা গুনাহের মধ্যে যে ৩ গুনাহ সাধারণ ক্ষমা চেয়ে মাফ হয় না
কবিরা গুনাহের মধ্যে যে ৩ গুনাহ সাধারণ ক্ষমা চেয়ে মাফ হয় না

সগিরা গুনাহ বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে মাফ হলেও উত্তমরূপে তওবা ছাড়া কবিরা গুনাহ মাফ হয় না। এমনকি কোনো কোনো কবিরা গুনাহের ক্ষেত্রে তওবা না করে মারা গেলে নিশ্চিত জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে।

তাই পরকালে সফল হতে হলে ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীতে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। সেই সঙ্গে মহান রবের হুকুম পালনের পাশাপাশি সর্বকালের সেরা আদর্শ প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ ও সুন্নত অনুসরণ করে উত্তম আমল করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য একান্ত অপরিহার্য। কারণ, গুনাহ বা পাপ মানুষকে মহান রবের রহমত থেকে বঞ্চিত করে। সেই সঙ্গে এটি ধীরে ধীরে মানুষকে পাপাচারের দিকে ধাবিত করে। হাদিসে এসেছে, মানুষ তার পাপকাজের কারণে তার প্রাপ্য রিজিক থেকেও বঞ্চিত হয়। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৪০২২)

এ ক্ষেত্রে কবিরা গুনাহের মধ্যে কিছু গুনাহ বা পাপ রয়েছে যেগুলোর জন্য সাধারণভাবে মহান রবের কাছে ক্ষমা চাইলে সেগুলো মাফ হয় না। এর জন্য খাস নিয়তে উত্তমরূপে তওবা করা আবশ্যক। নিচে এমন ৩টি কবিরা গুনাহের কথা তুলে ধরা হলো।

শিরক

শিরকের চেয়ে বড় কবিরা গুনাহ নেই। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- কবিরা গুনাহগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে শরিক (শিরক) করা, প্রাণ সংহার করা, পিতা-মাতার অবাধ্য-হওয়া আর মিথ্যা বলা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪০৫)

আল্লাহর সঙ্গে শিরককারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা অবশ্যই কুফরি করেছে যারা বলে, মারইয়াম পুত্র মাসীহই হচ্ছেন আল্লাহ। মাসীহ তো বলেছিল, হে বনি ইসরাঈল! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো যিনি আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অংশীস্থাপন করে তার জন্য আল্লাহ অবশ্যই জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন, আর তার আবাস হলো জাহান্নাম। জালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।‘ (সুরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৭২)

অপর আয়াতে মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সঙ্গে কাউকে শরিক করা ক্ষমা করবেন না। এটি ছাড়া অন্য সব পাপ ক্ষমা করেন যেগুলো তিনি চান। আর যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করলো, সে এক মহাঅপবাদ আরোপ করলো। (সুরা নিসা, আয়াত: ৪৮)

এছাড়াও জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন- আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি আল্লাহর সম্মুখে হাজির হবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তার সম্মুখে উপস্থিত হবে এমন অবস্থায় যে, সে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৭২)

কারও হক নষ্ট করা

হক মূলত দুই প্রকার। একটি হলো আল্লাহর হক। অর্থাৎ, আল্লাহ যেসব আদেশ-নিষেধ করেছেন সেগুলো পালন করা। যেমন- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, রোজা রাখা ইত্যাদি। আর দ্বিতীয়টি হলো বান্দার হক, যেমন- ইসলামে প্রতিবেশীর হক আদায়ের কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, আল্লাহর হক আদায় না করলে মহান রাব্বুল আলামিন চাইলেই ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু বান্দার হক নষ্ট করলে, যার হক নষ্ট করা হয়েছে ওই ব্যক্তি ক্ষমা না করা পর্যন্ত আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।

এ কারণে ইসলামে বান্দার হক নষ্ট করার বিষয়ে কঠোর নিষেধ রয়েছে। এর জন্য পরকালেও আছে ভয়ংকর শাস্তি। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি কসমের (মিথ্যা কসম) মাধ্যমে কোনো মুসলিমের হক বিনষ্ট করে তার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম অবধারিত করে রেখেছেন এবং জান্নাত হারাম করে রেখেছেন। এ সময় জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রাসুল! অতি সামান্য বস্তু হলেও? জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, আরাক গাছের (বাবলা গাছের মতো এক ধরনের কাঁটাযুক্ত গাছ) ডাল হলেও এ শাস্তি দেয়া হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫২)

এমনকি সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমেও কারও হক নষ্ট করা যাবে না। বিশেষ করে এতিমদের হকের বিষয়ে ইসলামে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই যারা ইয়াতিমদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে তারা তো তাদের পেটে আগুন খাচ্ছে। আর অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০)

অপর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা অন্যায়ভাবে পরস্পরের সম্পদ গ্রাস করো না এবং জানা সত্ত্বেও অসৎ উপায়ে কারও সম্পদ গ্রাস করার উদ্দেশে তা বিচারকের কাছে নিয়ে যেও না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)

এ বিষয়ে আদী ইবনু উমাইরাহ্ আল-কিন্দী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন- আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শুনেছি- আমরা তোমাদের মধ্যে যাকে আদায়কারী নিযুক্ত করি, আর সে যদি একটি সূচ পরিমাণ বা তার চাইতেও কম সম্পদ আমাদের কাছে গোপন করে, তাই আত্মসাৎ বলে গণ্য হবে এবং তা নিয়েই কিয়ামতের দিন সে উপস্থিত হবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৬৩৭)

প্রকাশ্যে গুনাহ বা পাপ করা

পবিত্র কুরআনে প্রকাশ্যে ও গোপনে- উভয় প্রকার পাপ বা গুনাহ থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন পাপ ত্যাগ কর। নিশ্চয়ই যারা পাপ অর্জন করে, তাদের অচিরেই প্রতিদান দেয়া হবে, তারা যা অর্জন করে তার বিনিময়ে। (সুরা আন’আম, আয়াত: ১২০)

আরেক আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘বল, আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ- যা প্রকাশ পায় এবং যা গোপন থাকে, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সঙ্গে তোমাদের শরিক করা, যে ব্যাপারে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহর উপরে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না’। (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩৩)

অন্যদিকে পরকালে প্রকাশ্যে পাপ বা গুনাহকারীর পরিণতি হবে ভয়াবহ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমার সব উম্মত মাফ পাবে, তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয়ই এ বড়ই ধৃষ্টতা যে, কোনো ব্যক্তি রাতে অপরাধ করল যা আল্লাহ গোপন রাখলেন, কিন্তু সে ভোর হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক! আমি আজ রাতে এমন এমন কর্ম করেছি। অথচ, সে এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করল যে, আল্লাহ তার কর্ম গোপন রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহর পর্দা খুলে ফেলল। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪৩)

তবে মনে রাখতে হবে, মহান রাব্বুল আলামিন পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যার ফলে তিনি বান্দার অনেক গুনাহ বা পাপই ক্ষমা করে দেন। পবিত্র কুরআনে খোদ মহান আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আর তোমাদের প্রতি যে মুসিবত (বিপদ) আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩০)

তাই সর্বাবস্থায় মুমিনের উচিত মহান রবের রহমত প্রত্যাশা করা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি (জুলুম) করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সব পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৫৩)

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি জাফর সম্পাদক ইমন

0
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ও সম্পাদক আলী আজগর ইমন
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ও সম্পাদক আলী আজগর ইমন

শনিবার ২৫ এপ্রিল দুপুর ২টায় সংগঠনের এক ভার্চুয়াল সবশেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় দেশের বিভিন্ন এলাকার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

সারাদেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধে বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের অংশগ্রহণে শীঘ্রই এ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

সাংবাদিক নির্যাতন মুক্ত আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সহযোগী সংগঠন হিসেবে এ সংগঠনটি মাঠে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে করোনা কালীন সময়ে দেশে অব্যাহত সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেলে এ সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু শাখা কমিটি গঠন করে সংগঠিত করা হয়।

সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ভার্চুয়াল মিটিংয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হলে সভাপতি ও সম্পাদক মনোনীত করার মধ্য থেকে বাকি পদগুলো দ্রুত গঠন করা হবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ কমিটিতে সাংবাদিকদের পাশাপাশি আইনজীবী, ইমাম, পুরোহিত, চিকিৎসক, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, নারী নেত্রী, ছাত্র নেতা, এনজিও প্রতিনিধি, আইটি বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক নেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা সম্পৃক্ত হবেন।

মাঠে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এনারামো

0
সুপার ঈগলস তারকা স্ট্রাইকার মাইকেল এনারমো
সুপার ঈগলস তারকা স্ট্রাইকার মাইকেল এনারমো

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) কাদুনার উঙ্গওয়ান ইয়েলওয়ায় অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচ চলাকালে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বিবিসি

ম্যাচের প্রথমার্ধে স্বাভাবিকভাবেই খেলেছিলেন ৪০ বছর বয়সী এনারামো। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিট পর হঠাৎ করেই মাঠে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা মাঠে প্রবেশ করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং দ্রুত তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগজনিত সমস্যার কারণে-বিশেষ করে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে তার মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানায়, এটি দেশের ফুটবলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি বলেন, এটা ভীষণই মর্মান্তিক। এই মুহূর্তে ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। তিনি আরও জানান, এনারামোর পরিবার এবং পুরো ফুটবল সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন সময়।

জাতীয় দলের হয়ে ২০০৯ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ১০টি ম্যাচ খেলেছিলেন এনারামো। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামাইকার বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ দিয়ে। এরপর একই বছরের মে মাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে করেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। ২০১০ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এক ম্যাচে তার করা গোল নাইজেরিয়াকে ২-২ সমতায় ফিরিয়ে আনে, যা শেষ পর্যন্ত দলটির বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখে। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি তার।

ক্লাব ফুটবলে এনারামোর ক্যারিয়ার ছিল বেশ সমৃদ্ধ। তিউনিসিয়ার এসপেরান্স স্পোর্টিভ ডি টিউনিস এ খেলার সময় তিনি ভক্তদের কাছে ‘দ্য ট্যাঙ্ক’ নামে পরিচিতি পান, তার শক্তিশালী শারীরিক উপস্থিতি ও আক্রমণাত্মক খেলার জন্য। এই ক্লাবের হয়ে একাধিক শিরোপা জিততে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পরবর্তীতে তুরস্কের বেসিকতাস, সিভাস্পোর এবং ইস্তানবুল বাশআকশেহির মতো ক্লাবেও খেলেছেন। এছাড়া তার ক্যারিয়ারে আলজেরিয়া ও সৌদি আরবের ক্লাব ফুটবলেও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল।

তিউনিসিয়ার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও তা প্রত্যাখ্যান করে নিজের জন্মভূমি নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন এনারামো। এই সিদ্ধান্ত তার দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

এনারামোর আকস্মিক মৃত্যু আবারও ফুটবলে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। অতীতেও মাঠে হৃদরোগজনিত সমস্যায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ক্যামেরুনের মার্ক ভিভিয়েন ফোয়ে, আইভরি কোস্টের চেক টিওট এবং ঘানার রাফায়েল ডোয়ামেনার মতো ফুটবলাররাও একই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রাণ হারিয়েছেন।

২০০৯ সালে ফিফা সমর্থিত একটি চিকিৎসক দল গবেষণায় দেখেন যে, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের মধ্যে খেলা চলাকালে হৃদরোগজনিত ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে আইভরি কোস্ট ও চেলসির সাবেক তারকা দিদিয়ের দ্রগবা তার দেশের সকল পেশাদার ফুটবলারের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

মাইকেল এনারামোর মৃত্যু শুধু নাইজেরিয়ার ফুটবল নয়, গোটা আফ্রিকান ফুটবল অঙ্গনের জন্যই এক বড় ক্ষতি। মাঠে তার শক্তি, পরিশ্রম ও গোল করার ক্ষমতা যেমন ভক্তদের মুগ্ধ করেছে, তেমনি তার হঠাৎ বিদায় গভীর বেদনা হয়ে রয়ে গেল সহখেলোয়াড়, সমর্থক এবং ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে।

ফের দুঃসংবাদ এলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে

0
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব আকস্মিকভাবে বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কেন্দ্রটির সব ইউনিটের উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে থমকে গেছে। ফলে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার রাত দশটার দিকে কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় বয়লারের পাইপ ফেটে গিয়েছিল এবং কুলিং ফ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে মেরামতের কাজ চলে। টানা ৪৮ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রমের পর শুক্রবার রাত আটটার দিকে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রচেষ্টায় পাওয়া সেই স্বস্তি টেকেনি একদিনও। উৎপাদন শুরুর অল্প সময়ের ব্যবধানেই নতুন করে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় এবং কেন্দ্রটি আবারও অচল হয়ে পড়ে।

কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার কারণে ইউনিটটি চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বয়লারের স্টিম ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চলছে। এটি একটি সময়সাপেক্ষ কাজ। পুরো মেরামত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পাঁচ থেকে ছয় দিন পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

 

এই যুদ্ধে ইরান মজুত ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই ব্যবহার করেনি 

0
মজুত ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই ব্যবহার করেনি ইরান
মজুত ক্ষেপণাস্ত্রের বেশিরভাগই ব্যবহার করেনি ইরান

আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘প্রেস টিভির’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মুখপাত্র রেজা তালাইনিক বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান ব্যাপক অস্ত্র খরচ করলেও তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ইরানে এখনও এক হাজারের বেশি ধরনের অস্ত্র উৎপাদিত হচ্ছে। এই উৎপাদন ব্যবস্থা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার দেশীয় কোম্পানি এই কাজে সহায়তা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শত্রুপক্ষ যেকোনো স্থাপনায় হামলা চালালেও আমাদের সামগ্রিক অস্ত্র উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ হবে না।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে তেহরানের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন তালাইনিক। তিনি এই কৌশলগত জলপথকে ইরানের ‘নিয়ন্ত্রণের লিভার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ইরান এই জলপথের প্রভাব ব্যবহার করে নিকটবর্তী সমুদ্রসীমার উন্নয়ন ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই বক্তব্য মূলত ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে দেওয়া একটি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি। বিশেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ জোরদার করার চেষ্টা করছে, তখন ‘অব্যবহৃত মিসাইল ভাণ্ডার’ এবং ‘অবিরাম অস্ত্র উৎপাদনের’ ঘোষণা দিয়ে তেহরান নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করল।

চলতি বছর রাজধানীতে ম্যালেরিয়া নিয়ে আক্রান্ত হয় ৪৬০ জন

0
জীবাণুবাহী অ্যানোফিলিসক পার্বত্য অঞ্চলের মশা
জীবাণুবাহী অ্যানোফিলিসক পার্বত্য অঞ্চলের মশা

গত বছর আক্রান্ত ছিলো ১০ হাজারের বেশি, মৃত্যু হয় ১৬ জনের। জীবাণুবাহী অ্যানোফিলিসকে পার্বত্য অঞ্চলের মশা মনে করা হলেও তা খোদ রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে। রাজধানীতে এ রোগের বিস্তার শুরু হলে নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।

দেশজুড়ে হাম সংক্রমণের মধ্যে জরিপ দল দিলো সতর্কবার্তা। ৩ থেকে ৭ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটির ৬টি জোনে ম্যালেরিয়ার বাহক স্ত্রী এলোফিলিস মশার উপস্থিতি মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপের এ ফলে এক সপ্তাহে ৯৮টি ম্যালেরিয়ার বাহক এনোফিলিস মশার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। চলতি বছর ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এ ৬ জোনে এনোফিলিস মশা পাওয়া গেছে আড়াই হাজারের বেশি।

অথচ চলতি বছর ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও ২০৩০ সালে নির্মূলের পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে গেল বছর ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয় ১০ হাজার ১৬২, মৃত্যু হয় ১৬ জনের। চলতি বছর প্রথম ৩ মাসেই আক্রান্ত হয় ৪৬০ জন। এদের সবাই তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলা।

তবে গত ১৭ এপ্রিল বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর পর আলোচনায় কোথা থেকে সংক্রমিত হলেন তিনি। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুর কয়েকদিন আগে আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুন সফর করেছিলেন। তিনি সেখানেই আক্রান্ত হয়েছেন নাকি ঢাকায়, সেই প্রশ্ন পাশে রেখেই বলা যায়, রাজধানীতে এনোফিলিস মশার অস্তিত্ব পাওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ৯ প্রজাতির অ্যানোফিলিস মশা ঢাকাতে পেয়েছি। এখন ঢাকায় ম্যালেরিয়া ছড়াবে কিনা, সেটা বিস্তর গবেষণার বিষয়। যেহেতু অ্যানোফিলিসের প্রজাতি এখানে আছে এবং সংখ্যায় কম না, বেশ ভালো ডেনসিটিতেই আছে, সেজন্য একদম উড়িয়ে দেয়া যায় না যে, ঢাকায় ম্যালেরিয়া কখনও হবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার এ রোগে আক্রান্ত হলে, দ্রুতই শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ অকার্যকর হয়ে যায়। এ অবস্থায় সংক্রমণ বাড়লে মৃত্যুহার কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।

বিএমইউ ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফজলে রাব্বী চৌধুরী বলেন, সিভিয়ার ম্যালেরিয়া হলে এটা দ্রুত আপনার অর্গানগুলোকে ড্যামেজ করে দিতে পারে। সমস্ত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে আরও ব্রেইনকে ড্যামেজ করতে পারে যেটা আমরা স্নায়ুর ইনফেকশন বলি। চোখের ক্ষতি করতে পারে এবং এটা খুব দ্রুত ফ্যাটাল হয়, খুবই দ্রুত মারা যায়।

দেশে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও খোলা বাজারে পাওয়া যায় না ম্যালেরিয়ার কোনো ওষুধ। আক্রান্ত রোগীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ওষুধ সরবরাহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ অবস্থায় রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি পর্যন্ত ওষুধের প্রস্তুত রাখার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, বহু ওষুধ প্রতিরোধী যে ম্যালেরিয়ার জীবাণু সেটি এবং আরেকটি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার, ভারত থেকে ম্যালেরিয়া প্রবণ লোকজন বা ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহন করে বাংলাদেশে এসে ছড়িয়ে দেয়। এ প্রেক্ষাপটে আমি মনে করছি ঢাকাতে অ্যানোফিলিস মশা পাওয়া যাচ্ছে এবং ম্যালেরিয়া পাওয়ার বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে, অতএব আমাদের নতুন করে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী কার্যক্রমকে ভাবা দরকার।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গেল বছরগুলোতে যেসব রোগী পাওয়া গেছে তার সবই পাহাড়ি অঞ্চল বা বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস আছে। তবে সব ধরণের প্রস্তুতি রেখেছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, এক সময় ম্যালেরিয়া ইরাডিকেশন প্রোগ্রাম ছিলো। সেটা যখন ইরাডিকেট হয়ে গেল তখন এ প্রোগ্রামগুলো সব বন্ধ হয়ে গেল। এটা স্বাভাবিক নিয়মেই বন্ধ হয়। এখন স্পোর্যাডিক যেখানে ম্যালেরিয়া দেখা দিবে বা হবে, সেখানে আমাদের ওইভাবেই অ্যাড্রেস করতে হবে। সরকার ম্যালেরিয়ার যে ট্রিটমেন্টটা করছেন, এটার জন্য সাফিশিয়েন্ট ম্যালেরিয়া ট্রিটমেন্ট, ভ্যাকসিন, ওষুধপত্র এগুলো মজুদ আছে।

করোনার পর পুরোনো সব ভাইরাস আবারও সক্রিয় হচ্ছে, এ অবস্থায় নতুন সংক্রমণ তৈরি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

 

সাঁতার না জেনেও পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন পূর্ণিমা

0
জনপ্রিয় নায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা
জনপ্রিয় নায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে পূর্ণিমা জানান, তার এক ছবির শুটিংয়ে এমন একটি দৃশ্য ছিল যেখানে তাকে পুকুরে ঝাঁপ দিতে হয়। সেই ছবির পরিচালক ছিলেন রাজ্জাক। কিন্তু বাস্তবে তিনি সাঁতার জানতেন না।

পূর্ণিমা বলেন, ঝাঁপ দেওয়ার পর তিনি ডুবে যেতে থাকেন। পরে শুটিং দলের একজন সদস্য দ্রুত তাকে উদ্ধার করেন। অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পান তিনি।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পূর্ণিমা নাটক ও টেলিফিল্মেও কাজ করেছেন। তবে সে সময় অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। অনেকে বলেছিলেন, সিনেমার নায়িকা হয়ে নাটকে কাজ করলে ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রে সুযোগ কমে যাবে।

এ প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেন, তিনি নিজের মতো করেই কাজ করেছেন। নাটক ও টেলিফিল্মেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তাই সেসব মাধ্যমেও কাজ চালিয়ে গেছেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে এ জীবন তোমার আমার ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন পূর্ণিমা। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দেশের শীর্ষ নায়কদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

তার অভিনীত জনপ্রিয় ছবির মধ্যে রয়েছে মনের মাঝে তুমি, ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না-সহ আরও অনেক সিনেমা। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেছেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া এই নায়িকার এমন ঝুঁকিপূর্ণ শুটিংয়ের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।