মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
27 C
Dhaka

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে মৌলভীবাজারে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি, আলোচনায় নানা দাবি

0

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (১৭ জুন) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনের জন্য মৌলভীবাজার আসছেন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম তিনি এখানে সফরে আসছেন। তার আগমনকে সামনে রেখে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন থেকে জেলাবাসীর মধ্যে নানা রকম আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে নতুন করে পুরোনো দাবিগুলো আলোচনাতে ফিরে এসেছে।

একদিকে প্রশাসনিক ব্যস্ততা চলছে, অন্যদিকে রাস্তাঘাট সংস্কার, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ হচ্ছে। জেলা থেকে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত বিএনপি নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে সফল করতে বৈঠক, আনন্দমিছিলসহ নানামুখী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

দীর্ঘদিন থেকে মৌলভীবাজারে একটি মেডিকেল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, প্রবাসীবহুল ও পর্যটন এলাকা হিসেবে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, জেলার হাওরগুলোর উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণসহ নানা দাবি আলোচনায় এসেছে।

এদিকে প্রথমে জেলার শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরে তার সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করা হয়। পরে মানুষের স্থান সংকুলান হবে না বলে রাজনগরের সমাবেশটি সদরের মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এতে রাজনগর উপজেলার অনেকেই আশাহত হয়েছেন। অনেকেই বলেছেন, রাজনগর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হলে রাজনগর পৌরসভা ঘোষণা, রাজনগর উপজেলা সদরে গ্যাস-সংযোগসহ স্থানীয় কিছু দাবিদাওয়া পূরণের সুযোগ সৃষ্টি হতো। রাজনগরের মাওলানা মুফজ্জল হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজ সরকারিকরণের দাবিও আছে।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ জুন (বুধবার) মৌলভীবাজার জেলা সফর করবেন। সফরকালে তিনি শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং পরে দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় যোগদান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়ক, সিলেট-মৌলভীবাজার সড়কের দুপাশের ঝোপ পরিষ্কার করা হচ্ছে। জেলার সার্কিট হাউজ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। জেলা শহর ও শ্রীমঙ্গল শহরকে ফুটপাথ দখলমুক্ত করে পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। যে পথে প্রধানমন্ত্রী আসা-যাওয়া করবেন এসব পথের চারপাশ পরিষ্কার ও মেরামত করা হচ্ছে। সমাবেশেস্থল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংস্কার করে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যানের আগম উপলক্ষে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার আগমন উপলক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আমাদের জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশ্বকাপ ট্রফির অজানা ইতিহাস

0

বিশ্বাকপ ফুটবলের প্রথম পর্দা ওঠে ১৯৩০ সালে সুদূর উরুগুয়েতে। তখন এই ট্রফির নাম ছিল ‘ভিক্টরি’ বা বিজয়ের ট্রফি। পরে বিশ্ব ফুটবলের তৃতীয় সভাপতি জুলে রিমের অসামান্য অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এর নামকরণ হয় ‘জুলে রিমে ট্রফি’। ফরাসি ভাস্কর আবেল লাফ্লেউরের হাতে গড়া এই ট্রফিতে খোদিত ছিল গ্রিক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’-এর অবয়ব। সোনালি প্রলেপযুক্ত খাঁটি রুপা এবং মূল্যবান নীল রঙের ল্যাপিস লাজুলি পাথরের ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো ট্রফিটির উচ্চতা ছিল ৩৫ সেন্টিমিটার; আর ওজন প্রায় পৌনে ৪ কিলোগ্রাম।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রফিটি প্রচণ্ড হুমকির মুখে পড়েছিল। কিন্তু ইতালীয় ফুটবল কর্তা ওত্তোরিনো বারাসসি অসীম সাহসিকতায় নাৎসি বাহিনীর লুণ্ঠন থেকে ট্রফিটি বাঁচাতে সক্ষম হয়। ১৯৩৯ সালে তিনি রোমের একটি ব্যাংকের সিন্দুক থেকে ট্রফিটি গোপনে সরিয়ে বাড়ির বিছানার নিচে একটি জীর্ণ জুতার বাক্সে লুকিয়ে রাখেন। তার এই অসামান্য উপস্থিত বুদ্ধির ফলেই বিশ্বযুদ্ধের নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটতরাজ থেকে রক্ষা পায় ফুটবলের প্রথম সোনালি ইতিহাস।

১৯৬৬ সালে ফুটবলের জন্মভূমি ইংল্যান্ডে ঘটে আরেক বিপত্তি। বিশ্বকাপের মাত্র চার মাস আগে লন্ডনের একটি সুরক্ষিত প্রদর্শনী কেন্দ্র থেকে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায়। এ নিয়ে চারদিকে তোলপাড়, পুলিশের ঘুম হারাম এবং চোররা মুক্তিপণ দাবি করে বসেছে, ঠিক এক সপ্তাহ পর ঘটে এক নাটকীয় ঘটনা। ডেভিড করবেট নামের এক ব্যক্তি তার ‘পিকলস’ নামের কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হলে, পিকলসের প্রখর ঘ্রাণশক্তির জোরেই দক্ষিণ লন্ডনের একটি ঝোপের নিচ থেকে উদ্ধার হয় কাগজে মোড়ানো বিশ্বকাপ! এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের পর রাতারাতি তারকা বনে যায় পিকলস। জাতীয় সারমেয় প্রতিরক্ষা সংঘ থেকে পদক জয়ের পাশাপাশি সে পায় আজীবন বিনামূল্যে খাবারের সুযোগ এবং ইংল্যান্ড দলের রাজকীয় বিজয় উৎসবে অংশগ্রহণের বিরল সম্মান।

১৯৭০ সালে পেলে-জাদুতে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে জুলে রিমে ট্রফিটি চিরতরে নিজেদের করে নেয় ব্রাজিল। লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল তীর্থের আনন্দ বেশিদিন টেকেনি। ১৯৮৩ সালের শেষদিকে ব্রাজিলের ফুটবল সদরদপ্তরের দুর্ভেদ্য কাচ ভেঙে ট্রফিটি আবারও চুরি হয়। তদন্তে জানা যায় চোররা ট্রফিটি গলিয়ে সোনার বার বানিয়ে ফেলেছিল। ফলে সেই আদি মুকুটটি আর উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে ২০১৫ সালে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সদরদপ্তরের ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে ট্রফিটির ১৯৩০ সালের পুরোনো পাথরের ভিত্তিটুকু উদ্ধার করা হয়।

জুলে রিমে হাতছাড়া হয়ে গেলে ১৯৭৪ সাল চালু হয় বর্তমান নকশার বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ৫২টি নকশাকে পেছনে ফেলে ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগার তৈরি করা ট্রফিটি নির্বাচন করা হয়। ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি এবং ম্যালাকাইট পাথরের দুটি সবুজ বলয়যুক্ত এই ট্রফিতে দেখা যায়, দুজন মানবমূর্তি পরম উল্লাসে দুই হাতে পৃথিবীকে তুলে ধরেছে। এর উচ্চতা সাড়ে ৩৬ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৬ কিলোগ্রামের সামান্য বেশি। তবে এটি ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ফাঁকা। বিশ্বকাপ যদি পুরোটাই সোনার হতো তবে এর ওজন দাঁড়াত প্রায় ৭০-৮০ কিলোগ্রাম। যা একজন খেলোয়াড়ের পক্ষে উঁচিয়ে ধরা কখনোই হতো না।

১৯৩০ সাল থেকে ২২টি আসরে খেলা হওয়া মাত্র আটটি দেশ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে। সর্বোচ্চ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। জার্মানি ও ইতালি চারবার, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা তিনবার, ফ্রান্স ও উরুগুয়ে দুবার এবং ইংল্যান্ড ও স্পেন একবার করে এই মুকুট জয় করেছে। বিজয়ী দেশগুলোর নাম ট্রফির নিচের অংশে তাদের মাতৃভাষায় খোদাই করা থাকে। তবে ২০৩৮ বা ২০৪২ সালের পর এই ট্রফিতে নতুন কোনো চ্যাম্পিয়নের নাম লেখার জায়গা থাকবে না। তখন হয়তো নতুন ট্রফির কথা ভাবতে হবে ফিফাকে।

ফটিকছড়িতে চুরির অভিযোগে পাঁচ নারীকে পুলিশে দিলো স্থানীয়রা

0
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চুরির অভিযোগে পাঁচ নারীকে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
১৫ জুন সকালে ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার রশিদা পুকুর এলাকায় চুরির অভিযোগে পাঁচ নারীকে আটক করে, পরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয়রা।
আটককৃত নারীরা হলেন—হেলেনা আকতার (৩৫), ঝুমুর (২৫), কুলসুম (৪০), রুনা (৪০) ও রিনা (৪৫)। তারা কিশোরগঞ্জ, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই পাঁচ নারী আজম মার্কেটের একটি কক্ষের তালা ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে বলেন, একজন ঠিকাদার তাদের কাজের জন্য সেখানে পাঠিয়েছেন।তবে তাদের বক্তব্যের সত্যতা না পাওয়ায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।পরে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ নারীকে থানায় নিয়ে আসে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে

জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু: শিক্ষামন্ত্রী

0
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন

সোমবার (১৫ মে) মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু লেখাপড়া করলেই চলবে না, শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও মানবিক করে গড়তে পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম বা এক্সট্রা কারিকুলামের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায় গতি ফেরানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সেশনজট কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যাতে পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই স্কুলগুলোতে নতুন পরিমার্জিত ও সংশোধিত পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া হবে।

দেশের শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করতে হবে। এই লক্ষ্যেই বাজেটে শিক্ষায় জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় এবার ক্রীড়া, সংস্কৃতি, কুইজ, কাবিং ও বিতর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ২ কোটি ১৮ লাখ শিক্ষার্থী পর্যায়ক্রমে অংশগ্রহণ করেছে। জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিচ্ছে ৪০০ জন শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আতিকুর রহমানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সরকারের তোষামোদ নয়, সত্যকে সত্য হিসেবেই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সোমবার (১৫ জুন) টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বার্তা সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।  একই সঙ্গে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে দেশের টেলিভিশন শিল্পের বর্তমান সংকট, সাংবাদিকদের পেশাগত চ্যালেঞ্জ, চাকরির নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক নেতারা জানান, আলোচনার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম. ছালেহ জানান, অর্থনীতি ও সমাজনীতির পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। এ লক্ষ্যেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ জুন এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে টেলিভিশন শিল্পকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত একটি কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রয়োজন।

বৈঠকে গণমাধ্যমের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, সরকারের সহযোগিতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। এখন সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আগামী ১৮ জুনের সংলাপের দিকে, যেখানে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু

0
হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু

সোমবার (১৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৯৭২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ৯২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৬৪ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৩৮৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৬৪ জন, গত এক মাসে নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৩৮৭ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭১ হাজার ৪৬৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৮৭৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৫৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারিভাবে নতুন পাটকল স্থাপন নয়, সব যাবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: পাটমন্ত্রী

0

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। এদিন বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

পাটমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। সরকারঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বাকি মিলগুলোও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।

সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, সোনালি আঁশ পাট শিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও বন্ধ পাটকল চালুসহ নতুন পাটকল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আছে কিনা?

জবাবে মন্ত্রী বলেন, সোনালি আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৯টি মিল চালু আছে। ২০২০ সালের ১ জুলাইয়ের সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসি’র আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিলবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পাদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে।

অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে, যার মধ্যে ৩টি মিলের বিপরীতে চূড়ান্ত প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে, একটি মিলের বিপরীতে দাখিল করা এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (আগ্রহপত্র) প্রস্তাব মূল্যায়নের কাজ চলছে, ১টি মিলের জন্য আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ১টি মিলের ইজারা কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আর বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, ইজারা বহির্ভূত ৫টি মিলের মধ্যে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত হওয়ায় ৩টি মিল এবং মামলাজনিত কারণে ২টি মিল লিজের বাইরে রাখা হয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনও পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই সেক্টরে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার যাবেন বুধবার

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সিলেটে পৌঁছে তিনি সড়কপথে শ্রীমঙ্গলে যাবেন। দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এ কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।

পরে প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সদরে গিয়ে দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ১৫২টি পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার শহরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানস্থল দুটি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে নতুন আঙ্গিকে। টানা বৃষ্টির কারণে কাদাময় হয়ে পড়া মাঠে বালু ফেলে সমতল করা হচ্ছে। মঞ্চ নির্মাণ, প্রবেশপথ সংস্কার, নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি স্থাপনাগুলোও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

সফর উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাবেল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা করছেন। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি উল্লেখযোগ্য।

এ প্রসঙ্গে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর মৌলভীবাজারবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। শ্রীমঙ্গল থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ায় আমরা গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশাগুলোর বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হবে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী বিকেলে মৌলভীবাজারের দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক সভায় অংশগ্রহণ করবেন। সভা শেষে তিনি সিলেট হয়ে রাতে ঢাকায় ফিরে যাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল কর্মকর্তা-১ মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি সরকারি সফর। এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর বহুল প্রতীক্ষিত এ সফরকে কেন্দ্র করে পুরো মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রশাসন ও আয়োজকরা আশা করছেন, সফরটি জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী ৪ দেশ

0
‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের মুখেও নতি স্বীকার করবে না ইরান’

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এবার ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপের শীর্ষ চার শক্তি—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি।

রোববার (১৪ জুন) এই চার দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত।

যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো বলে, ‘ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নিলে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহারে আমরা প্রস্তুত। এই সুযোগ কাজে লাগাতে, আলোচনার গতি ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদি একটি কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে আমরা নিবিড়ভাবে কাজ করব।’

বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এ চুক্তির পেছনে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে কাতার ও পাকিস্তান। চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশা করি, সব পক্ষই আগামী দিনের আলোচনাগুলোতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে অংশ নেবে, যা এই অগ্রগতিকে আরও সুসংহত করতে সাহায্য করবে।’

আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের নেতারাও। একে বিশ্বশান্তি, নৌ নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই শান্তিচুক্তিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা স্মারকটি দ্রুত কার্যকর হবে, যা হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করবে এবং দ্রুততম সময়ে ইরানের পারমাণবিক বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মার্কিন ও ইরানি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি একটি পুনরুজ্জীবিত বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আরও নিরাপদ মধ্যপ্রাচ্যের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স আশা প্রকাশ করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করাসহ চুক্তির অন্যান্য শর্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তবে, পরিস্থিতি এখনও নাজুক উল্লেখ করে সব পক্ষকে এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘পুরো বিশ্ব দীর্ঘ সময় ধরে এই সুসংবাদের অপেক্ষায় ছিল। চুক্তিটি এই অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করবে বলে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি।’

একইসঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া পর্যন্ত সব পক্ষকে উসকানিমূলক বক্তব্য এবং যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ উল্লেখ করে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মহাসচিব আশা প্রকাশ করছেন যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই নতুন ইতিবাচক গতিধারাকে কাজে লাগাবে এবং চলমান সংকটের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে তাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করবে।

সোনার দামে আবারও বড় লাফ

0
খাঁটি সোনা

সোমবার (১৫ জুন) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন সোনার দাম, ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা, ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা, সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা।

এর আগে,  গত ১৩ জুন সোনার দাম সর্বশেষ সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিতে ২৩৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

রুপার নতুন দাম,  ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা, ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা, সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ৩ হাজার ৩২৪ টাকা।

বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ৭৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বৃদ্ধি এবং ৩৬ বার দাম হ্রাস করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রুপার দাম এ বছর ৪৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বেড়েছে এবং ২২ বার কমেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য পরিবর্তন এবং স্থানীয় পর্যায়ে পিওর গোল্ডের দামের ওঠানামার প্রভাবেই দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।