মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
27 C
Dhaka
0
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

মূলধারার বাইরে এখন সিটিজেন জার্নালিজম তৈরি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

মূলধারার বাইরে এখন সিটিজেন জার্নালিজম তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

সোমবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, মূলধারার বাইরে এখন সিটিজেন জার্নালিজম তৈরি হয়েছে, যেটা অস্বীকার করার কিছু নেই। এই জার্নালিজম নিয়ে নীতিমালা তৈরীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেসব সিটিজেন জার্নালিজম শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে, তারা সরকারের শিল্প প্রতিষ্ঠান চলার যে নিয়ম আছে সেই অনুযায়ী চালাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম কমিশন দাঁড় করাতে পারলে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হবে সেটা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করে গণতন্ত্র চর্চার মানদণ্ড বিনাশ করেছে ফ্যাসিবাদী সরকার। গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা না করলেও জনগনের বাকস্বাধীনতা নষ্টের জন্য গণমাধ্যমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সাংবাদিকতার জগত আর ফ্যাসিবাদী সময়ের চেয়ে অনেকটা ভিন্ন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম কাজ। গণমাধ্যমের সংস্কারে সরকার অংশীদার হতে চায়।

ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানের সরকার গণমাধ্যমকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

পুশইনে বিএসএফকে সহায়তা করা ৭ বাংলাদেশি আটক

0

সোমবার (১৫ জুন) রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

আটক সাতজনই গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন— দোস মোহাম্মদের ছেলে বাবুল আক্তার (৪০), আব্দুল লতিফের ছেলে এমদাদুল হক (৩৮), ওবায়দুল রহমানের ছেলে রয়েল (২৮), কালুমদ্দিনের ছেলে আজম (৩৫), জমসেদ আলীর ছেলে আলম (৩৮), নাইমুলের ছেলে আসমাউল হক (৩৩) এবং ধুলুর ছেলে মেসবাহুল হক (৩০)।

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরে আলম জানান, সোমবার রাতে রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন বাংলাদেশি ওই ব্যক্তিদের প্রবেশে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেন।

তিনি আরও জানান, ভোর ৪টার দিকে বিজিবি আটক চারজনকে গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করে। পরে একই অভিযোগে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে বিজিবি-১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, বিএসএফের ৮৮ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা রাতে নৌকাযোগে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির টহল দলের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

সীমান্তে পুশ-ইনের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিজিবি বলছে, সীমান্তে নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

জেনেনিন গভীর ঘুমের সহজ ৮ টি উপায়

0

কখনো ঘুম এলেও কিছুক্ষণ পর বা মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে দেখা যায়, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্ত ও দুর্বল লাগে। এসব সমস্যায় অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

আধুনিক জীবনে কর্মব্যস্ততা, অনিয়মিত খাবার খাওয়া, রাত জাগা, ডিজিটাইল ডিভাইসে সময় কাটানো এবং মানসিক চাপ―সবকিছু মিলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে থাকে। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতে ভালো ঘুমের ব্যাপারে কয়েকটি উপায় জানিয়েছেন এমস প্রশিক্ষিত ক্যালিফোর্নিয়া নিবাসী চিকিৎসক সৌরভ শেঠি। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

১. রাতে ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে সব খাওয়া-দাওয়া শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. সৌরভ শেঠি। রাতে ঘুমের সময় শরীর ও হজমতন্ত্র সংস্কার কাজ শুরু করে। খুব দেরিতে খাওয়া হলে তখনও হজমের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। এ কারণে ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখতে হবে। গরমের সময় ঘর ঠান্ডা রাখলে ঘুম ভালো হয়। ঘুমের সময় শরীরের তাপমাত্রা কম থাকা উচিত, তা না হলে ঘুম আসবে না।

৩. সকাল সকাল সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসতে হবে। এতে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা জৈব ঘড়ির ছন্দ স্বাভাবিক থাকবে। ফলে রাতে নির্দিষ্ট সময় ঘুম আসতে পারে।

৪. অনেকেই ঘুম না হলেও দীর্ঘসময় বিছানায় পড়ে থাকেন। এমনটা মোটেও ঠিক নয়। এতে মস্তিষ্ক বিছানাকে ঘুমের পরিবর্তে জাগরণের পরিসর হিসেবে শনাক্ত করতে থাকে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ, ঘুম না এলে বিছানা থেকে ওঠে শান্তভাবে কোনো কাজ করতে থাকুন, তারপর যখন ঘুম আসে চোখে, তখন বিছানায় শুয়ে পড়ুন।

৫. কেউ কেউ মনে করেন, মদ্যপান করলে দ্রুত ঘুম আসে। এটি ঠিক নয়, এতে ঘুমের মান নষ্ট হয়। এতে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ক্লান্ত লাগতে পারে। অ্যালকোহল সেবনের পরিমাণ কম হলে ধীরে ধীরে ঘুম আসতে পারে।

৬. ঘুমানোর প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে হালকা গরম পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নিলে ঘুম গভীর হয়ে থাকে। এতে শরীরের তাপমাত্রা ক্রমশ কমতে থাকে। এই তাপমাত্রা কমা মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত প্রদান করে।

৭. ঘুমের সময় ঘরের সব আলো বন্ধ করে দিন। তা না হলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদন কমে যাবে। ঘরে বা রুমে আলো থাকলে মস্তিষ্ক ভাবতে থাকবে, এখনো ঘুমের সময় হয়নি।

৮. শোয়ার সময় বিছানার পাশে মোবাইল ফোন রাখা উচিত নয়। অনেকেরই অভ্যাস, কিছুক্ষণ পরপর ফোন হাতে নিয়ে দেখা। এতে নীল আলো এবং মেজাজ খিটখিটে হয়। ফোনে অ্যালার্ম দেয়াও ঠিক নয়। অ্যালার্ম দেয়ার জন্য আলাদা ঘড়ি ব্যবহার করা ভালো, এতে অন্তত ফোন দূরে থাকবে। এছাড়া ঘুমে ব্যাঘাত বা কোনো কারণে নিয়মিত যদি ঘুম খারাপ হতে থাকে, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ম্যারাডোনাকে ঘিরে উন্মাদনার কথা কতটা জানতেন ম্যারাডোনা

0
ডিয়েগো ম্যারাডোনা
ডিয়েগো ম্যারাডোনা

আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চে দুই দেশের অবস্থান একদমই বিপরীত মেরুতে। শক্তিমত্তার দিক দিয়ে দুই দলের এতই ব্যবধান যে, একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাহলে কীভাবে ম্যারাডোনাকে পৌঁছানো হয় হৃদয়ের অর্ঘ্য? একটি জনগোষ্ঠী তার জন্য যে উন্মাতাল, সেটা কীভাবে তার নজরে আসে? আসলে সে সময় তেমন সুযোগই ছিল না। তার নাগাল পাওয়াটা ছিল একরকম অসম্ভব। তবে সান্ত্বনা হতে পারে, ভালোবাসার তীব্রতা গভীরতর হলে কোনো না কোনোভাবে তা বোধকরি উদ্দিষ্ট জনের কাছে পৌঁছে যায়।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনা বাংলাদেশের দর্শকদের যে মুগ্ধতার আবেশে জড়িয়ে ফেলেন, সেই অনুরাগ পরবর্তীকালে ক্রমশ গভীরতর হয়। ১৯৯০ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যারাডোনাকে এ দেশের মানুষের অন্তরের আরও কাছে নিয়ে আসে। যদিও সেবারের আর্জেন্টিনা দলটির পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক ছিল না। তারপরও যেভাবে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ফাইনালে উঠে, তাতে দলটির সাফল্যের জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলেন সমর্থকরা। রোমে ফাইনাল ম্যাচে খেলার ৮৫ মিনিটে বিতর্কিত এক পেনাল্টি গোলে পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে যায় ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। জার্মানরা শক্তিশালী দল হলেও অপেক্ষাকৃত দুর্বল আর্জেন্টনা তাদের গ্যাঁড়াকলে ফেলে দেয়। কোনো রকম স্বস্তিই দেয়নি। খেলাটি টাইব্রেকারে গড়ানোর দিকে ধাবিত হলেও পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সব এলোমেলো করে দেয়।

এ ম্যাচে এমন সব ঘটনা ঘটেছে, এর আগে ফাইনালে তেমনটি দেখা যায়নি। যার সূত্রপাত ঘটে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোর মাধ্যমে। মেক্সিকোর রেফারি কোডেসাল মেন্ডিসের অনেক সিদ্ধান্তই মানতে পারেনি আর্জেন্টিনা দল। খেলা শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েন আপাতদৃষ্টিতে কঠিন হৃদয়ের অধিকারী ম্যারাডোনা। আর এ কান্না ছুঁয়ে যায় বাংলাদেশজুড়ে। তা যে কতটা হৃদয়স্পর্শী, তা বোঝানো যাবে না। সেদিন কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ম্যারাডোনা বলেন, ‘আমি অনেকক্ষণ ধরেই কাঁদছিলাম। ফুটবলই আমার জীবন। দ্বিতীয় স্থান পাওয়ার জন্য আমি কাঁদি না। যেভাবে আমাদের হারানো হয়েছে, সেই দুঃখেই কেঁদেছি। রেফারির ‘অশুভ কালোহাত’ জার্মানদের জিতিয়ে দিয়েছে।

ম্যারাডোনার কান্না আর ক্ষোভে সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তার ভক্ত-অনুরাগীরা তা একদমই মানতে পারেননি। দুঃখ-ক্ষোভ-বেদনায় মুষড়ে পড়ে কেউ কেঁদেছেন। কেউ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কেউ কেউ ফুঁসে উঠে রাজপথে নেমেছেন। সোচ্চার হয়েছেন রেফারির বিরুদ্ধে। নানান রকম স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠেন। রেফারির কালোহাত ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি তার ফাঁসি দাবি করা হয়েছে। পোস্টার, ব্যানার, দেওয়াল লিখনে ছেয়ে যায় চারপাশ। জাতীয় সংসদে রেফারির পক্ষপাতিত্বের তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় একজন সংসদ সদস্য একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করলে সরকার ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানান। দীর্ঘ বিতর্কের পর স্পিকার প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন।

এরশাদ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর এক সভায় ‘পথকলি ট্রাস্ট্র’-এর সৌজন্যে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচে অংশ গ্রহণের জন্য ম্যারাডোনাকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ম্যারাডোনাকে নিয়ে বাংলাদেশে যেভাবে আলোড়ন, আন্দোলন ও বিক্ষোভ হয়েছে, বোধকরি আর্জেন্টিনায়ও তেমনটা হয়নি। কিন্তু এত সব কর্মকাণ্ড যাকে ঘিরে, সেই ম্যারাডোনার তা কর্ণগোচর হয়েছে কি-না সেটা অবশ্য জানা যায়নি।

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে বাংলাদেশে ম্যারাডোনার জনপ্রিয়তা হয়ে উঠে আকাশচুম্বী। গ্রিস আর নাইজেরিয়াকে উড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে যথারীতি তিনি ক্যারিশমা দেখিয়েছেন। গ্রিসের বিপক্ষে একটি গোল আর দুরন্ত গতির নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জয়সূচক গোলটির জন্য ডি-বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি-কিক নেওয়ার সময় বল ঠেলে দেন বাঁ প্রান্তে দাঁড়ানো ক্যানিজিয়াকে। এক গোল হজমের পর উপুর্যুপরি দুই গোল দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন রিভার প্লেতের দুর্দান্ত গতির এই উইঙ্গার।

এ ম্যাচটি যে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ম্যারাডোনার অন্তিম ম্যাচ হবে, কেউ কি ভাবতে পেরেছিলেন? কারণ দুই ম্যাচ জিতে চাপমুক্ত আর্জেন্টিনার এরপর হালকা মেজাজে বুলগেরিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথা। এ ম্যাচে ম্যারাডোনার জন্য অপেক্ষা করছিল বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার মাইলফলক। কিন্তু ম্যাচের আগেই দুঃস্বপ্নের মতো হাওয়ায় বেগে ছড়িয়ে পড়ে ম্যারাডোনার খেলতে না পারার মর্মবিদারী খবর। ডোপ টেস্টে নিষিদ্ধ ড্রাগ (এফিড্রিন) ধরা পড়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়।

মাদক সেবনের অভিযোগে বিশ্বকাপ ফুটবল হতে বহিষ্কৃত হওয়ার পর আর কখনও না খেলার কথা জানিয়ে আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে অশ্রুসিক্ত ম্যারাডোনা বলেন, ‘তারা আমাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি আমার পাওনা পরিশোধ করেছি, তারা বিবেকের দংশন ছাড়াই আমার মাথায় আঘাত করেছে, আমার পা কেটে রেখেছে’। নিজের মেয়েদের মাথায় হাত রেখে শপথ করে বলেন, ‘আমি নিষিদ্ধ ঔষধ সেবন করিনি। যখন ড্রাগ নিয়েছি, তখন তা স্বীকার করেছি। বিচারকের কাছে গিয়েছি এবং অর্থদণ্ড পরিশোধ করেছি। কিন্তু এবার শপথ করে বলছি, আমি নিষিদ্ধ ঔষধ সেবন করিনি’।

ম্যারাডোনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করায় স্বপ্ন ভঙের বেদনায় ক্ষোভের অনলে পুড়তে থাকে বাংলাদেশের ম্যারাডোনার সমর্থকরা। ম্যারাডোনা আর খেলতে পারবেন না, এই খবর যেন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আত্মীয় বিয়োগের চাইতেও মর্মন্তুদ দুঃসংবাদ হয়ে আসে। পুরো দেশে নজিরবিহীন ক্ষোভের জন্ম দেয়। গভীর জনরোষ ও তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। মর্মাহত ভক্তরা আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের সমর্থনে অগ্নিগর্ভ বিক্ষোভের আয়োজন করে। ‘বাংলাদেশ ম্যারাডোনা ইয়ুথ ফ্যান ক্লাব’ বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম মিনিটে ভক্তদের টেলিভিশন বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে একটি প্রচারণার আয়োজন করে। পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠে ম্যারাডোনা ফ্যান ক্লাব। ম্যারাডোনার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে এই ক্লাবগুলো স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করে।

ম্যারাডোনার প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন ভবনের শিখরে উড়ান হয় আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রঙের পতাকা। তার ছবি শোভা পায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। ফিফার নিন্দা এবং বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবি করে ইংরেজী ও বাংলা ভাষায় লেখা পোস্টার বিভিন্ন স্থানে টানানো হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ম্যারাডোনার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মিছিল করা হয়। সবার হাতে ছিল ম্যারাডোনার প্রতিকৃতি। ব্যানার, ফেস্টুনে লেখা ছিল ‘ফিফা নিপাত যাক’, ‘ম্যারাডোনার বহিষ্কারাদেশ বাতিল কর’, ‘ষড়যন্ত্র হতে ফুটবলকে রক্ষা কর’ ইত্যাদি। স্লোগানে স্লোগানে মিছিলকারীরা রাস্তা মুখরিত করে রাখেন। ম্যারাডোনার ছবির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।

যে সব প্রতিষ্ঠান ছবি ও কার্ডের ব্যবসা করেছে, ম্যারাডোনার হাজার হাজার রঙিন ছবি ছাপিয়েও তারা চাহিদা মিটাতে হিমসিম খেয়ে যায়। ম্যারাডোনাবিহীন বিশ্বকাপ সমর্থকদের কাছে আকর্ষণহীন হয়ে যায়। শোকে-দুঃখে অনেকেই টেলিভিশনে খেলা দেখাই ছেড়ে দেন। তাদের মনে হয়েছে, এ তো ‘ডেনমার্কের রাজপুত্র ছাড়া হ্যামলেট নাটক মঞ্চস্থ’ হওয়ার মতো। কোথাও কোথাও ফিফা সভাপতি জোয়াও হ্যাভেলাঞ্জের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। ভক্তরা এই বহিষ্কারকে একটি অবৈধ ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করে এবং ম্যারাডোনাকে পুনর্বহাল করার দাবি জানায়।

বাংলাদেশের একজন আইনজীবী ফিফা প্রধানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে, টুর্নামেন্ট থেকে ম্যারাডোনাকে বহিষ্কার করাটা ছিল বেআইনি এবং এর ফলে বাদী মানসিক বিপর্যয় শিকার হয়েছেন। মামলার জবাব দিতে বাংলাদেশের একটি আদালত ফিফার সভাপতি জোয়াও হ্যাভেলেঞ্জকে তলব করে। পুরো ফুটবলদুনিয়া জেনে যায়, বাংলাদেশের বিক্ষুব্ধ ম্যারাডোনা সমর্থকদের কথা। এই বিপুল সমর্থন বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের কাছে ম্যারাডোনার কিংবদন্তিতুল্য প্রায় পৌরাণিক মর্যাদাকে তুলে ধরে এবং ডোপিং বিতর্ককে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এত সব আলোড়ন সৃষ্টিকারী কাণ্ডকীর্তি কি ম্যারাডোনা জানতে পেরেছেন?

অবশ্যই জানারই কথা। এত এত মানুষের ভালোবাসার কথা তার কাছে না পৌঁছানোর কারণ নেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, তার সফরসঙ্গী এবং তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে নিশ্চয়ই জেনেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় আর্জেন্টাইন ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, যারা বাংলাদেশে এসেছেন বা কাজ করেছেন, তারাও ম্যারাডোনার কাছে এ দেশের সমর্থকদের আবেগের গল্প অবহিত করার কথা। তার অগণিত সমর্থকদের উন্মাদনা ও কর্মকাণ্ড, বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের সমর্থকদের বিশাল জমায়েত ও আর্জেন্টিনা দলের প্রতি ভালোবাসার দৃশ্য প্রায়ই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হতো। তা তার গোচরে যাবে না, এমনটা ভাবার কারণ নেই।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ম্যারাডোনাকে এ দেশে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তার এজেন্টদের সঙ্গে প্রায়শই যোগাযোগ করতেন এবং তার ঢাকা সফরের পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছিল। সে বিষয়টি অবশ্যই তার গোচরে থাকবে না? ২০১১ সালে সেপ্টেম্বরে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। দলের কোচ থাকলে ম্যারাডোনার আসার সম্ভাবনা ছিল। তবে এই দলে ছিলেন তার মেঝো মেয়ে জিয়ানিন্নার স্বামী ফুটবলার সার্জিও আগুয়েরো। জামাইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার অনুরাগীদের সম্পর্কে কি জানতে পারেননি?

বাংলাদেশে ম্যারাডোনাকে ঘিরে আবেগ, উচ্ছ্বাস, উত্তেজনা, প্রমত্ততা বা ক্ষিপ্রতার কথা তিনি কম-বেশি অবহিত হয়েছেন, তা ধরেই নেয়া যায়। কিন্তু সেটা কতটা? একটা ভূখন্ড যে তার জন্য আকুল হয়ে কেঁদেছে এবং তীব্রভাবে কেঁপে উঠেছে, তা তিনি কতটা অনুভব বা অনুধাবন করতে পেরেছেন, সেই কৌতূহলটুকু অবশ্য রয়েই গেছে।

শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানল ইন্দোনেশিয়ায় 

0
ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানল শক্তিশালী ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানল শক্তিশালী ভূমিকম্প

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী পালু শহরের পূর্ব-দক্ষিণপূর্ব দিকে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং পালু থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো ঝুঁকি ছিল না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি হাসপাতালের রোগীদের ভবন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে কিছু ভবনের আংশিক ছাদ ধসে পড়া, দেয়াল ফেটে যাওয়া এবং ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, হতাহত কিংবা বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে এখনো তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।

পালুর একটি চার তারকা হোটেলের ব্যবস্থাপক এফেন্দি নাতালি জানান, ভূমিকম্পের পর হোটেলের সব অতিথিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক অতিথি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তবে সবাই নিরাপদ আছেন।’ হোটেলটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পালুর বাসিন্দা নুরহাইদার জানান, তিনি রান্নাঘরে রান্না করছিলেন, এমন সময় হঠাৎ প্রবল কম্পন অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল পুরো ঘর কেঁপে উঠছে এবং ছাদ যেকোনো সময় ধসে পড়বে। আমি দ্রুত শিশুদের নিয়ে বের হয়ে যাই।’

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত নিয়মিত ঘটে থাকে এই অঞ্চলে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে পালু শহরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে। ওই ভূমিকম্পের পর সুনামি এবং ‘লিকুইফ্যাকশন’ নামের বিরল ভূতাত্ত্বিক ঘটনার ফলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং বহু এলাকা মাটির নিচে তলিয়ে যায়।

আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল

0
জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নির্বাচনের এই সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বটি উত্থাপিত হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদের জানান, সরকারের বাজেটের প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে এই নির্বাচনগুলো আয়োজন করা হবে। তবে সব সংস্থার মধ্যে শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ দেশের মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও এই একই সময়সীমা তথা আগামী এক বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী দেশের অন্যান্য উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য উপজেলা পরিষদের ভেতরে একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণ করা হবে। এই লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলার জন্য ইতিমধ্যে ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এ ছাড়া ঢাকা মহানগরীর পানির চাহিদা ও শুদ্ধতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বর্তমানে দৈনিক পানির চাহিদা ৩২০ থেকে ৩২৫ কোটি লিটার। এর বিপরীতে ঢাকা ওয়াসার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ২৯৫ থেকে ৩০০ কোটি লিটার। ওয়াসা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে অত্যাধুনিক কেমিক্যাল পিএসি অ্যালাম সালফেট ও ক্লোরিনেশনের মাধ্যমে পানি পরিশোধন করে এবং প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪০ থেকে ৫০টি নমুনা পরীক্ষা করে পানির গুণগত মান নিশ্চিত করে থাকে।

একই সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিয়ে জনভোগান্তি দূর করতে ‘ভার্সন ২’ সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী, যেখানে অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ছোট কাভার্ড ভ্যানের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপায়ে বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা এবং যুবসমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রকল্পের তথ্যও সংসদে জানানো হয়।

 

শিশুদের সাথে নিয়ে খেলোয়াড়রা মাঠে নামেন কেন?

0

এর পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের একটি ইতিহাস, আন্তর্জাতিক প্রচারণা এবং শিশুদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করার এক মানবিক উদ্যোগ।

  • যেভাবে শুরু

এই প্রথার সঠিক সূচনা নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও ধারণা করা হয়, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে এটি জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ১৯৯৬ সালে ইংল্যান্ডের লিভারপুল ও এভারটন এর একটি ম্যাচে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শিশুদের মাঠে নামতে দেখা যায়, যা তখন আলোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তীতে ২০০০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে শিশুদের মাঠে প্রবেশ এই প্রথাকে আরও পরিচিত করে তোলে।

তবে বিশ্বব্যাপী এই ধারণা জনপ্রিয়তা পায় ২০০২ সালের বিশ্বকাপে, যখন ফিফা এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে ‘শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলুন’ প্রচারণা চালায়। সেই সময় প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে শিশু মাঠে প্রবেশ করত, যা শিশু অধিকার ও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করে।

  • কেন মাঠে শিশুদের আনা হয়

বর্তমানে বিভিন্ন ক্লাব ও টুর্নামেন্টে এই প্রথার উদ্দেশ্য একাধিক। প্রধান লক্ষ্য হলো ফুটবলকে পরিবারবান্ধব পরিবেশে উপস্থাপন করা এবং শিশুদের খেলাধুলার সঙ্গে আগ্রহী করে তোলা।

অনেক সময় বড় স্পন্সরদের উদ্যোগেও শিশুদের সুযোগ দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্বকাপের দীর্ঘদিনের স্পন্সর ম্যাকডোনাল্ডস বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী শিশুদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ দেয়।

এছাড়া দাতব্য উদ্যোগের অংশ হিসেবেও এই প্রথা ব্যবহৃত হয়। কিছু ক্লাব শিশুদের অভিজ্ঞতা আরও বিশেষ করে তুলতে কঠিন রোগে আক্রান্ত বা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আমন্ত্রণ জানায়, যাতে তারা তাদের প্রিয় তারকাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেতে পারে।

  • শিশু নির্বাচন কীভাবে হয়

সাধারণত ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের এই সুযোগ দেওয়া হয়। খুব ছোট শিশুরা দর্শকভিড় ও চাপ সামলাতে পারে না, আর ১৭ বছরের বেশি বয়সীদের আর শিশু হিসেবে ধরা হয় না এই কারণেই এই বয়সসীমা।

নির্বাচনের পদ্ধতিও বিভিন্ন রকম। অনেক ক্লাব তাদের দীর্ঘদিনের সমর্থকদের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেয়। আবার কোথাও লটারি বা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সুযোগ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে স্পন্সর বা একাডেমির মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে ইংল্যান্ডের চেলসি ক্লাব প্রতি বছর শত শত আবেদন থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিশুকে সুযোগ দেয়, যদিও জনপ্রিয়তার কারণে সেখানে দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা থাকে।

  • ম্যাসকট নাকি প্লেয়ার এসকর্ট

ফুটবল জগতে এই শিশুদের সাধারণত দুইভাবে পরিচয় দেওয়া হয়“ম্যাসকট” এবং “প্লেয়ার এসকর্ট”। যদি একজন শিশু পুরো দলের সঙ্গে থাকে, তাকে ম্যাসকট বলা হয়। আর যদি নির্দিষ্ট একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে মাঠে নামে, তবে তাকে প্লেয়ার এসকর্ট বলা হয়।

  • মানবিক ও অনুপ্রেরণার দিক

এই প্রথা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি শিশুদের জন্য এক অসাধারণ অনুপ্রেরণার মুহূর্ত। হাজারো দর্শকের সামনে প্রিয় তারকার হাত ধরে মাঠে নামা অনেক শিশুর জীবনে স্বপ্নের বীজ বপন করে।

এমনকি ফুটবল ইতিহাসে এমন উদাহরণও আছে যেখানে সাবেক ম্যাসকট পরবর্তীতে বড় ফুটবলার হয়েছেন। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ওয়েন রুনিও ছোটবেলায় এভাবেই মাঠে প্রবেশ করেছিলেন।

খেলোয়াড়দের সঙ্গে শিশুদের মাঠে প্রবেশের এই ঐতিহ্য এখন বিশ্ব ফুটবলের একটি সুন্দর মানবিক প্রতীক। এটি শুধু খেলার অংশ নয়, বরং নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানোর একটি মাধ্যম যেখানে একটি ছোট মুহূর্তই ভবিষ্যতের বড় স্বপ্নের জন্ম দিতে পারে।

রামিসা হত্যাকাণ্ড: স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

0
শিশু রামিসা
শিশু রামিসা

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বিশেষ এই বেঞ্চের কার্যতালিকায় মামলাটি শুনানির জন্য রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য বিজি প্রেস থেকে পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। বর্তমানে এর যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় এখন যেকোনো দিন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরু হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত।

এর আগে, গত ৯ জুন ঢাকার নিম্ন আদালত থেকে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের নথি হাইকোর্টে আসে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরের পর এই ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছিল।

গত ৭ জুন আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মূল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠক চলছে

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।

রেকর্ড পতনের পর আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

0
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে যে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩.৪২ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড  ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১.১২ ডলারে উঠেছে।

এর আগে সোমবার (১৫ জুন) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা হওয়ার ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন হয়।  আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৩ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, তা নিয়েও বাজারে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ কারণেই তেলের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  এতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নথিটিতে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, প্রেসিডেন্ট নিজে এই নথিতে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন, কারণ তিনি সফলভাবে এই প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটানোর ব্যাপারে তার অঙ্গীকার দেখাতে চেয়েছিলেন।