মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
33.8 C
Dhaka

আর্জেন্টিনা ফ্যানদের শোভাযাত্রায় থ্রি-পিস বিলালেন ব্রাজিল সমর্থকরা

0

বৃহস্পতিবার (১১ মে) বিকেলে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আকাশি-সাদা জার্সি পরে শহরের শহিদ আব্দুর শুক্কুর স্টেডিয়ামে জড়ো হন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। সেখান থেকে শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রায় নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। কারও হাতে আর্জেন্টিনার পতাকা, কারও গায়ে প্রিয় দলের জার্সি। ভুভুজেলার শব্দ, গান ও নাচে পুরো শহর উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দোয়েল চত্বরে পৌঁছানোর আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন ব্রাজিল সমর্থকরা। শোভাযাত্রাটি কাছে আসার পর আর্জেন্টিনা সমর্থকদেরকে খেজুর ও থ্রি-পিস উপহার দেন তারা। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের এমন উপহারে অবশ্য রাগ করেননি আর্জেন্টিনা সমর্থকরা; বরং তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

ব্রাজিল সমর্থক মো. ইব্রাহিম বলেন, আগে আর্জেন্টিনা সমর্থকরা তাদের শোভাযাত্রায় আপ্যায়ন করেছিলেন, সেই স্মৃতি থেকেই এবার পাল্টা আয়োজন করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনা সমর্থক মো. নাছির উদ্দিন বলেন, ম্যারাডোনার সময় থেকে বাংলাদেশের মানুষ আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করে আসছে এবং এবারও দলটি ভালো খেলছে।

অন্য সমর্থকরা জানান, অতীত নয়, বর্তমান পারফরম্যান্সই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে আবার আশা প্রকাশ করেন, মেসির হাত ধরেই আর্জেন্টিনা আবারও শিরোপা জিতবে।

শোভাযাত্রাটি পরে রিজার্ভ বাজার এলাকার ওয়াই-আকৃতির আর্জেন্টিনা সেতুতে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে হাজারো সমর্থক গান, স্লোগান ও উল্লাসে মেতে ওঠেন।

তিন বছর কোমায় থাকার পর মারা গেলেন থাই রাজকন্যা

0

টানা তিন বছরের বেশি সময় কোমায় থাকার পর মৃত্যুবরণ করেছেন থাইল্যান্ডের রাজকন্যা বাজরাকিতিয়াবা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।

রয়্যাল হাউসের ঘোষণায় জানানো হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে ব্যাংককের চুলালংকর্ন হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি নিজের পোষা কুকুরদের নিয়ে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারান। পরে চিকিৎসকেরা জানান, তার হৃদযন্ত্রে গুরুতর অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দেয়, যা সংক্রমণজনিত জটিলতার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।

চিকিৎসা চললেও তার শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ চিকিৎসা ও সেবার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বাজরাকিতিয়াবা ছিলেন রাজা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সন্তান। তিনি আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

কর্মজীবনে তিনি জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ দপ্তরের সঙ্গে কাজ করেছেন, অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিচারব্যবস্থা সংস্কার ও নারী বন্দিদের অধিকারের বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তার মৃত্যুতে থাই রাজপরিবারের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও প্রভাবশালী সদস্যকে হারাল দেশটি। রাজপরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

দেশের ৭ অঞ্চলে ঝোড়ো বৃষ্টির আভাস

0
রাতের মধ্যে ঢাকাসহ ৯ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস

শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বার্তায়।

২০৩৫ সাল পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ খাতে করহার শূন্য শতাংশের প্রস্তাব

0

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার বিদ্যমান ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া রিফাইনারির মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহে উৎসে করের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস সৌরবিদ্যুতের প্রসারে এ খাতসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর শূন্য শতাংশ নির্ধারণ করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এ সুবিধা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তবে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমসহ সংশ্লিষ্ট পণ্যের রেয়াতি সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০ জুনের পর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের আশা, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশে এসব পণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে উঠবে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।

এদিকে স্থানীয় ট্রান্সফরমার শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ১ কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার আমদানির ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার এবং অতিরিক্ত ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর রেয়াত সুবিধার মেয়াদও ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এর মধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালন ও অন্যান্য ব্যয় ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

একই সময়ে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এই ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন বাজেটে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা: মির্জা ফখরুল

0
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা পেশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে বাংলাদেশের অর্থনীতি শুধু ভঙ্গুরই হয়ে পড়েনি, একইসঙ্গে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মাঝখানের গভর্মেন্টও (অন্তর্বর্তীকালীল সরকার) ঠিক সেভাবে দেশকে একটা ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে, সমস্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে একটা এলোমেলো অবস্থার মধ্যে দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং দায়িত্ব এসে পড়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রেক্ষাপটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাতে সরকারের আন্তরিকতা ও অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন ঘটেছে। আমার কাছে এই বাজেটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সৃজনশীলতা। এতে এমন অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগে খুব কমই দেখা গেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারপ্রধান নারী এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন। তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একইভাবে কৃষকদের জন্যও বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচব্যবস্থা, পানি সংরক্ষণ এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

বাজেটে দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন,  স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদনের বিকাশে কর-সুবিধা ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যেসব পণ্য দেশে উৎপাদিত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিদেশি আমদানির ওপর যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, এই বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতিরর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া খাতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে, নতুন ক্রীড়া আয়োজন করা হবে এবং খেলাধুলার পরিবেশ পুনরুজ্জীবিত করা হবে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা এবং দেশের ৬৪ জেলায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এসএমই খাতের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল ও প্রবাসী কার্ড চালু, হাইটেক পার্কে ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ০১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমানের নির্দেশনা ও চিন্তাভাবনার আলোকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি উৎপাদনবান্ধব, বিনিয়োগবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আনা হয়েছে। কর প্রদান, তথ্য জমা দেওয়া এবং রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বয়ংক্রিয় করা হবে। ফলে ব্যবসায়ীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্যও বিভিন্ন কর-ছাড় ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হন।

মির্জা ফখরুল বলেন, রপ্তানিমুখী ও উৎপাদনমুখী খাতগুলোর জন্য কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে শুল্ক-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগও প্রশংসনীয়। এসব পদক্ষেপ দেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। সব মিলিয়ে, এই বাজেট বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্যও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়লে মূল্যস্ফীতি স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টকে এবার ৩০ বছরের কারাদণ্ড

0

শুক্রবার (১২ জুন) ইউন সুক ইওলকে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

রায়ে আদালত বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে আন্তঃকোরীয় উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন ইউন সুক ইওল। আর এই লক্ষ্যেই ওই সময় উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালত মনে করেছেন যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি এবং সামরিক আইন জারির যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এসব ড্রোন অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।

অভিযোগপত্রে প্রসিকিউটররা বলেন, ইউন সুক ইওল উত্তর কোরিয়াকে উসকানি দিতে এবং পিয়ংইয়ংয়ের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে দেশে সামরিক আইন জারির পক্ষে যুক্তি শক্তিশালী করতে ড্রোন অভিযানের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে ইউনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তার ঘোষিত সেই সামরিক আইন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় পরিষদের ভোটে বাতিল হয়ে যায়।

সামরিক আইন জারির চেষ্টা, তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং ২০২৩ সালে এক মেরিন কর্মকর্তার মৃত্যুসহ বিভিন্ন ঘটনায় বর্তমানে মোট আটটি মামলায় ফেঁসে আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল।

নতুন বাজেট প্রস্তাবের পর যে অবস্থা কাঁচাবাজারে

0
রাজধানীতে বৃষ্টির প্রভাব কাঁচাবাজারে

বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে শুক্রবার (১২ জুন) কাঁচা বাজারে এর কোনো প্রভাব দৃশ্যমান হয়নি। আগের মতোই বাজারে ৫০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

আজকের বাজারে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, গোল বেগুন প্রতি কেজি ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ৭০ টাকা, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৬০ টাকা ও ঝিঙা প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া, প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ধন্দুল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৫০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ থেকে টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়।

ঢাকার মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসে সাইদুর রহমান বলেন, বাজেটের পরের দিন বাজারে এলাম। সব ধরনের সবজির দাম আগের মতোই রয়েছে। দাম বাড়েওনি আবার কমেওনি। ‌সব ধরনের সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে, তবে দুই একটি সবজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা ইয়াসিন আলি বলেন, চলতি মাসের শুরুতে সবজির দাম যেমন বাড়তি ছিল সেই তুলনায় বর্তমানে সবজির দাম কম যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সবজির বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুম না হওয়ায় টমেটো প্রতি কেজি ১২০ টাকায়, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাকি সবজিগুলোর দাম বলতে গেলে আগের চেয়ে কম রয়েছে। মোটামুটি এক সপ্তাহ ধরে সবজির বাজার ৫০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে।

এদিকে, এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের ঠিক আগে কিছুটা চড়া ছিল। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজিতে।

অন্যদিকে ফার্মের মুরগির ডিমের দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়।

মসলার বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এখন প্রতি কেজি দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা রসুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বাজারে আলুর কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন বলেন, বাজেটে কর কমানোর কথা শুনছি, কিন্তু সেই সুবিধা আমাদের পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ আমরা আগের কেনা দামেই মালামাল বিক্রি করছি। তবে এবার ভালো দিক হলো, বাজেটের পর কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি। এখন পাইকারি বাজারে দাম কমলে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারবো।

​শান্তিনগর বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, অন্যান্য বছর বাজেট ঘোষণার পরদিনই অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবার অন্তত সেই আতঙ্কটা নেই। ডিম, মুরগি, পেঁয়াজ বা তেলের দাম আগের মতোই আছে।

দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ‘৫-জি‘ পৌঁছে দিতে চায় সরকার

0

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট উপস্থাপনায় এ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি এবং টেলিকম একটি বিপুল সম্ভাবনাময় সেক্টর। এ সেক্টর হতে পারে আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। অথচ, বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান মাত্র ১-২ শতাংশ। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, ওয়ারলেস ও ওয়ারলাইন কানেক্টিভিটি সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, ওয়ান সিটিজেন-ওয়ান আইডি-ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবস্থা চালুকরণ, বিনিয়োগ বান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে এ সেক্টরকে সরকার থ্রাস্ট (অগ্রাধিকার) সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, আইসিটি খাতের উন্নয়নের জন্য সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম এবং ফাইবার বেইজড কানেক্টিভিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেট সেবার মান উন্নয়ন ও বৈশ্বিক মানদন্ডে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়নসহ ব্যাপক টেলিকম সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সরকার ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক স্থাপনসহ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরইমধ্যে ট্রেন ও বিমানবন্দরগুলোতে উচ্চ গতির ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা চালু করা হয়েছে, যার সুফল জনগণ ভোগ করছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিকেল ৩টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় এই বাজেট অধিবেশন। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

মোবাইল সিমে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব

0

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনে এ প্রস্তাব রাখেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইসিটিকে থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে গড়ে তুলতে এ খাতে ট্যাক্স, ভ্যাট ও লাইসেন্সিং নীতিমালা সংস্কারের ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।

তিনি বলেন, বর্তমানে টেলিকম সেক্টরে করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তা প্রায় ২৫ শতাংশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এ হার অনেক বেশি। তাই এ খাতের বিকাশে সরকার এ ধরনের ট্যাক্স ক্রমান্বয়ে যৌক্তিক হারে কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এর অংশ হিসেবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে মোবাইল সেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রতিটি মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা হারে কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহারের প্রস্তাব করছি।

এ প্রস্তাব পাস হলে আগামী অর্থবছরে মোট ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব হ্রাস পাবে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এছাড়া, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

ট্রিমিং না শেভ পুরুষদের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?

0

পুরুষদের মধ্যে শরীরের লোম ট্রিমিং বা শেভ করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। কেউ পরিচ্ছন্নতা ও আরামের জন্য, কেউ আবার সৌন্দর্যচর্চা কিংবা খেলাধুলার সুবিধার্থে এই অভ্যাস অনুসরণ করেন। তবে প্রশ্ন থেকে যায় শরীরের লোম ট্রিম বা শেভ করা কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, নাকি এটি শুধুই ব্যক্তিগত পছন্দ?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের লোম থাকা বা না থাকা সরাসরি ভালো বা খারাপ স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং নিয়মিত গোসল, ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং সঠিক পরিচর্যাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের লোম মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অংশ এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এটি কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে শরীরের লোম ছোট করে রাখলে ঘাম ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে বগলের মতো স্থানে লোম বেশি থাকলে ঘাম আটকে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়, যা দুর্গন্ধের কারণ হতে পারে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সিং বলেন, লোম ট্রিম করে রাখলে ঘাম কম জমে এবং ত্বক পরিষ্কার রাখা সহজ হয়। ফলে গরমের সময় দুর্গন্ধ কিছুটা কমতে পারে। এ কারণেই অনেক ক্রীড়াবিদ ও ফিটনেস সচেতন ব্যক্তি শরীরের লোম ট্রিম করে রাখেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের লোম ট্রিম বা শেভ করলে সরাসরি কোনো স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যায় না এবং এটি কোনো রোগ প্রতিরোধও করে না। যদিও এটি ব্যক্তিগত আরাম ও পরিচ্ছন্নতার অনুভূতি বাড়াতে পারে, তবে লোম অপসারণের ফলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত হয় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

ডা. সিংয়ের ভাষ্য, ট্রিমিং দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, তবে এর উল্লেখযোগ্য কোনো চিকিৎসাগত সুবিধা নেই।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভুলভাবে শেভ করলে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে,  ত্বক কেটে যাওয়া, রেজর বার্ন, ত্বকে জ্বালা ও র‍্যাশ, ইনগ্রোন হেয়ার ও হেয়ার ফলিকলের সংক্রমণ।

বিশেষ করে সংবেদনশীল স্থানে শেভ করার সময় এসব ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শেভ করার সময় কিছু বিষয় মেনে চললে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। যেমন: পরিষ্কার ও ধারালো রেজর ব্যবহার করা, শেভিং জেল বা ফোম ব্যবহার করা, লোমের বৃদ্ধির দিক অনুসরণ করে শেভ করা, শেভের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা, অন্যের রেজর ব্যবহার না করা এবং নিয়মিত ব্লেড পরিবর্তন করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের লোম ট্রিম বা শেভ করা স্বাস্থ্যগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। এটি মূলত ব্যক্তিগত পছন্দ, আরাম ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। লোম রাখা বা অপসারণ দুটোর কোনোটিই সরাসরি স্বাস্থ্য উন্নত বা রোগ প্রতিরোধ করে না। তবে সঠিক পরিচর্যা ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে ট্রিমিং বা শেভ থেকে আরাম ও পরিচ্ছন্নতার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ত্বকের যথাযথ যত্ন নেওয়া।

সূত্র: এনডিটিভি