মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
33.8 C
Dhaka

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর

0

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে এই ঋণ সুবিধার প্রস্তাব রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা; যেমন-জাপানিজ, কোরিয়ান, মান্দারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সরকার তৃতীয় ভাষাজ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা করবে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী দেওয়া হবে।

বক্তব্যে মিড ডে মিলের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

প্রযুক্তিশিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকল্পে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

পৃথিবীতে ১০ মহাবিপদ ডেকে আনছে ‘সুপার’ এল নিনো

0

তীব্র খরা, দাবানল আর অতিবৃষ্টির শঙ্কা জাগিয়ে পৃথিবীর বুকে ধেয়ে আসছে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’। জলবায়ুর সম্ভাব্য এই ভয়ংকর অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে আগামী নভেম্বর কিংবা তারও বেশি সময় পর্যন্ত। এরই মধ্যে এই ‘এল নিনো’ ঘিরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ।

আর বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এ মুহূর্তে বিশ্বব্যাপী এল নিনোর তাণ্ডব চালানোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রেকর্ডভাঙা তাপমাত্রা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। এ অবস্থায় যদি সুপার এল নিনো সক্রিয় হয়, তাহলে আরও খারাপ হতে পারে পরিস্থিতি।

প্রকৃতির এক বিধ্বংসী রূপের নাম ‘এল নিনো’। এটি এমন একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর ফিরে আসে। এর স্থায়িত্ব হয় প্রায় নয় থেকে ১২ মাস। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাতাস, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

এই এল নিনোর প্রভাব শুধু জলবায়ুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, পুরো বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ চেইনকে ঝুঁকিতে ফেলে দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর ওপর আঘাত হানে এটি। জলবায়ুর এই বিশেষ পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যমূলক অর্থনীতিকে ঠেলে দিচ্ছে আরও সংকটের মুখে।

সম্ভাব্য এই সুপার এল নিনোর প্রভাবে চোখ রাঙাতে থাকা ১০ মহাবিপদ সম্পর্কে সচেতন করেছেন যুক্তরাজ্যের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ের অধ্যাপক বেঞ্জামিন সেলউইন। এগুলো হলো—

  • তীব্র খরা

বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল কৃষিনির্ভর অঞ্চলগুলো খরার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু অংশে এল নিনোর কারণে শস্যের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা এবং খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এবার এই এল নিনো এমন এক সময়ে আসছে যখন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যে একটি বড় সার সংকট চলছে। ফলে তীব্র ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • বিশ্ব খাদ্য সরবরাহ চেইনে বড় ধাক্কা

বিশ্বের মানুষের দৈনিক ক্যালরি চাহিদার ৬০ শতাংশেরও বেশি আসে মাত্র চারটি ফসল—গম, ধান, ভুট্টা এবং সয়াবিন থেকে। ভুট্টা এবং ধান এল নিনোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। খরার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম এবং ব্রাজিলের মতো প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোতে এগুলোর ফলন কমে যায়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও চীনের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশে গম এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় সয়াবিন উৎপাদন ব্যাহত হয়।

  • দাবানলের ঝুঁকি

এল নিনো কিছু অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। দক্ষিণ আমেরিকায় এটি বর্ষাকালের বৃষ্টিপাত কমিয়ে দেয়, যার ফলে গাছপালা ও বনাঞ্চল শুষ্ক এবং সহজেই অগ্নিগ্রাহী হয়ে ওঠে। ২০১৬ এবং ২০২৪ সালে ব্রাজিলে ভয়াবহ দাবানলে লাখ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল, যা আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক দশক সময় লাগবে।

  • অতিবৃষ্টি ও বন্যা

এল নিনোর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণ আমেরিকা, হর্ন অব আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তীব্র ঝড় ও অতিবৃষ্টির কারণে মাটি পানি শোষণ করতে পারে না। ফলে পানি শুষে নেওয়ার বদলে তা ওপর দিয়ে বয়ে যায় (রান-অফ) এবং বৃষ্টির মধ্যবর্তী দীর্ঘ খরা দিনগুলোতে মাটির আর্দ্রতা দ্রুত হারিয়ে যায়।

  • কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি

অতিরিক্ত গরমের কারণে বিশ্বের কিছু অংশে কয়লার ব্যবহার রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যেতে পারে। এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, যা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সৃষ্টি করে। ফলে এসি বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের চাহিদা বহুগুণ বাড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর ভারত ৭০ শতাংশ এবং চীন প্রায় ৫৫ শতাংশ নির্ভরশীল।

  • বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা গ্রিড বিকল

খরা বা অনাবৃষ্টির কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়, যা বিদ্যুৎ গ্রিড বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন—কলম্বিয়া তার মোট বিদ্যুতের ৬৫ শতাংশ জলবিদ্যুৎ থেকে পায়। ২০১৫-১৬ সালের এল নিনোর সময় দেশটিতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বিদ্যুতের দাম বেড়ে যায় এবং ব্ল্যাকআউট বা লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। ১৯৯২ সালের এল নিনোর সময় কলম্বিয়া সরকারকে বিদ্যুৎ রেশনিং করতে হয়েছিল।

  • মাছের সংখ্যা হ্রাস

এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে নিচ থেকে ঠান্ডা ও পুষ্টিকর পানি ওপরে উঠে আসার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের মতো কণা উদ্ভিদের পুষ্টি কমে যায় এবং অ্যানচোভি ও সার্ডিনের মতো ছোট মাছ পর্যাপ্ত খাবার পায় না। বড় শিকারি মাছগুলো তখন খাবারের খোঁজে অন্যত্র চলে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া, মেক্সিকো, পেরু, ইকুয়েডর থেকে শুরু করে পাপুয়া নিউগিনি ও মাইক্রোনেশিয়ার মৎস্য শিল্প এর ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে।

  • ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা

চরম আবহাওয়া বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাপমাত্রা বাড়লে ফসলের উর্বরতা কমে যায়, ফলে কৃষকরা জমিতে বেশি সার ব্যবহার করতে বাধ্য হন। বর্তমান বৈশ্বিক সার সংকটের প্রেক্ষাপটে চীন, কিছু উপসাগরীয় দেশ এবং আলজেরিয়া নিজেদের সার রপ্তানি সীমিত করতে সুরক্ষাবাদী নীতি গ্রহণ করেছে। রাশিয়া অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের (সারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান) রপ্তানি লাইসেন্স স্থগিত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ সার উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে সাধারণ একটি কৃষি উপকরণ এখন বৈশ্বিক রাজনীতির নতুন বিরোধের কারণ হয়ে উঠছে।

  • হিট স্ট্রোক ও গরমজনিত অসুস্থতা

তীব্র গরমের প্রভাব সমাজে সবার ওপর সমানভাবে পড়ে না। যারা বাইরে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করেন, যেমন—কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিক, তাদের হিট স্ট্রোক এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে গরমের মৌসুমে তাপমাত্রা প্রায়ই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, যা লাখ লাখ শ্রমিকের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

  • গৃহযুদ্ধ ও সামাজিক সংঘাত

ফসলের কম ফলন এবং দুর্বল অর্থনীতি প্রায়শই সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনোর বছরগুলোতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশগুলোতে গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ১৯৫০ সালের পর থেকে বিশ্বের প্রায় ২১ শতাংশ সংঘাত এই ধরনের জলবায়ুগত পরিবর্তনের সাথে জড়িত। যেমন সুদানের দারফুরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা ও ফসলহানি সম্পদের সংকট তৈরি করেছিল, যা পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

অধ্যাপক বেঞ্জামিন সেলউইনের মতে, সম্ভাব্য এই পরিবেশগত ও সামাজিক সংকট থেকে মুক্তির দুটি উপায়ও রয়েছে। এগুলো হলো—

নবায়নযোগ্য শক্তি: জীবাশ্ম জ্বালানি পরিহার করে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করার প্রযুক্তি ও জ্ঞান আমাদের রয়েছে। তবে, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন, জ্বালানি এবং বাণিজ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন না করলে এই সমাধানগুলোর সুফল গরিব দেশগুলো পাবে না।

টেকসই কৃষিব্যবস্থা: এমন প্রতিরোধী কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে। তবে রাসায়নিক-নির্ভর এবং কেবল রপ্তানিমুখী কৃষিব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে বড় ধরনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও রূপান্তর প্রয়োজন।

চলতি মাসেই চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী 

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত সপ্তম চায়না-সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ তথ্য জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে চীন সফরের সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বক্তব্যে কায়সার কামাল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০২ সালের সফর সেই সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতার মতো চ্যালেঞ্জ এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এজন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বহুপক্ষীয় সংলাপের বিকল্প নেই।

তিনি সার্ককে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে চীনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কায়সার কামাল বলেন, আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো, বাণিজ্য করিডোর, ডিজিটাল সংযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এতে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ যেমন জোরদার হবে, তেমনি বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলাও সহজ হবে।

ফোরামের পাশাপাশি বাংলাদেশি সংসদীয় প্রতিনিধিদল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, পর্যটন, তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণ এবং চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

চীনা নেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এর আগে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দল ১০ম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এবারের প্রদর্শনীতে থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ ৮৪টি প্যাভিলিয়ন নিয়ে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের ৯০টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ বাণিজ্য মেলা কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থ বিল স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি

0

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির কক্ষে তিনি বিলে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, অর্থসচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ অন্যান্যরা।

এর আগে সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়।

পরে মন্ত্রিসভা অনুমোদিত বাজেট ফাইলে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রী।

রাষ্ট্রপতি সংসদ ভবনের ষষ্ঠ তলার নির্ধারিত গ্যালারি থেকে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শোনেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

ফ্যামিলি কার্ডে বিশাল বরাদ্দ, ভাতা বাড়ছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের

0

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে এই প্রস্তাব রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এই কাঠামোর মূল দর্শন অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জন।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের ‘সিগনেচার’ এই কর্মসূচি এরই মধ্যে পাইলট আকারে চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবারের প্রধান নারী মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে এই কর্মসূচি দেশব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে এই কার্ডের আওতায় আনতে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া, ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ট্রেন ভ্রমণে শতভাগ ফ্রি বা বিনামূল্যে যাতায়াত এবং মেট্রোরেল ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।

সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়িয়ে এবার প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৮ লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে মাসিক ভাতা হবে ১ হাজার টাকা। এছাড়া, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখে উন্নীত করার পাশাপাশি শিক্ষার স্তরভেদে মাসিক ভাতা ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে মা-শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৮ লাখ ৯৫ হাজার মা ও শিশুকে প্রতি মাসে ৮৫০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ক্যানসারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন বাজেটে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট উত্থাপন শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। তার আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট এটি। বিশাল নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রতিগুলো পূরণে দেশের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে বড় বাজেট তৈরি করেছে সরকার। টাকার অঙ্কে প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বিরাট এ বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের এই বিশাল ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

নতুন এ বাজেটের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

নতুন বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে সিগারেটের দাম

0

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ সংক্রান্ত প্রস্তাব ঘোষণা করবেন বলে জানা গেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য নিম্নস্তরে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ বা প্রিমিয়াম স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। বর্তমানে এসব স্তরে ১০ শলাকার সিগারেটের দাম যথাক্রমে ৬০, ৮০, ১৪০ ও ১৮৫ টাকা।

নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম প্যাকেট প্রতি ২ টাকা বাড়বে। মধ্যম স্তরের সিগারেটের প্যাকেটে দাম বাড়বে ১০ টাকা। আর উচ্চস্তরের সিগারেটের প্যাকেটের ক্ষেত্রে মূল্য বাড়বে ২০ টাকা।

জানা গেছে, বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের এটি প্রথম বাজেট।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

বাজেটের বিশাল এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক-দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।

মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদিত হলো প্রস্তাবিত বাজেট

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যরা অংশ নেন। বিকেলে অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট। এছাড়া বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি আমির খসরুর প্রথম বাজেট উপস্থাপন।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের আগে বাজেটটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হবে এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি জানিয়ে সই করবেন। ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে নতুন এই অর্থবছর।

১৯৭২ সালে ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ এখন ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের দ্বারপ্রান্তে। পাঁচ দশকের বেশি সময়ের এই যাত্রায় দেশের অর্থনীতির পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে উন্নয়ন কর্মসূচি ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের আকারও।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকার অর্থ সংগ্রহ করা হবে।

ফের কমল সোনার দাম

0
২২ ক্যারেট সোনা

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার(১০ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত ৬ জুন প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং ২ জুন ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল। ফলে ঈদুল আজহার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি ভরি সোনার দাম মোট ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা কমেছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি রুপার দাম ৫৮ টাকা কমেছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার প্রতি ভরি ২ হাজার ৯৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস পাওয়ায় দেশের বাজারেও সোনা ও রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে চলতি বছরে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে দাম কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫৮৭ ডলার কমেছে, যার মধ্যে সর্বশেষ দিনে কমেছে ২৪ ডলার। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮৯ ডলারে অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে মূল্য ওঠানামার প্রভাব সরাসরি দেশের সোনার বাজারেও পড়ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই আগামী দিনে সোনার দামে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সোমালি রেফারির: মার্কিন কর্মকর্তা

0

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানের বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

৩৪ বছর বয়সী এই রেফারি গত বছর আফ্রিকার বর্ষসেরা রেফারি নির্বাচিত হন এবং এবারের বিশ্বকাপের দায়িত্ব পালনকারী প্রথম সোমালি রেফারি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল তাঁর।

তবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং একক প্রবেশ ভিসা থাকা সত্ত্বেও গত সোমবার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে তাকে ফেরত পাঠানো হয়।

এক মার্কিন সূত্র দাবি করেছে, অভিবাসন ও শুল্ক সংস্থার অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার বিষয়ে “আপত্তিকর তথ্য” পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে তাকে মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়।

এ ঘটনার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নীতির প্রসঙ্গও উঠে এসেছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প   প্রশাসনের সময় ১২টি দেশকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে সোমালিয়াও রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত ওমর আবদুলকাদির আরতান বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে ডাকটিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ৫০ টাকা মূল্যমানের খাম-সম্বলিত স্যুভেনির শিট এবং ৫ টাকা মূল্যমানের ডাটা কার্ডও প্রকাশ করেন। এ উপলক্ষে বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন এবং ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস. এম. হারুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।