বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
27.4 C
Dhaka

দে‌শে এসেছে পৌছালো ড্রোন হামলায় নিহত আরও দুই প্রবাসীর মরদেহ

0
নি-হত নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২২) ও শফিকুল ইসলাম (৪০)
নি-হত নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২২) ও শফিকুল ইসলাম (৪০)

শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ দুটি পৌঁছায়। নিহতরা হলেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম (৪০) ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২২)। গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ের জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা প্রাণ হারান।

বৈরুতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দুটি দেশে পাঠানো হয়। পরে বিমানবন্দরে নিহতদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি জানান, মরদেহ পরিবহনের ব্যয় বহন করা হয়েছে এবং নিহত দুই প্রবাসীর পরিবারকে মোট ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, লেবাননসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো কাজ করছে।

পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ দুটি নিজ জেলা সাতক্ষীরায় পাঠানো হয়।

 

হরিণ শিকার করতে গিয়ে গুলি’বিদ্ধ হয়ে ১ জন নি-হত

0
মো. জমির (৪৬)
মো. জমির (৪৬)

গত শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের সর্তা বিট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জমির খিরাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং তোফায়েল আহমেদের ছেলে।
জানা যায়, খিরাম সর্তা বিটের ভেতরে হরিণ শিকার করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় বাজারে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিলে তিনি মৃত ঘোষণা করেন।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

এ বিষয়ে জানতে খিরাম বন বিভাগের সর্তা বিট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা ছাড়লেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, দিয়ে গেলেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

0

শনিবার (৬ জুন) ঢাকা ছাড়ার আগে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার পাশাপাশি উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করাসহ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বিদায়ী বার্তায় হাকান ফিদান বলেন, ‘তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। আমরা এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে থাকব।’

তিনি জানান, তাদের এশিয়া-প্যাসিফিক সফরের চতুর্থ ও শেষ গন্তব্য বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের অভ্যর্থনা জানান। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

হাকান ফিদান বলেন, ‘আমাদের পুরো সফর জুড়ে আমরা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এক নতুন যুগে পদার্পণকারী বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা এবং আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা যাতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত ব্যাপক প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছি।’

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই দেশের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের সঙ্গে সংগতি রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে উঠছে। আগামী দিনে প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও উন্নত করতে এবং একই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বাংলাদেশি ভাই-বোনদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে তুরস্ক অঙ্গীকারাবদ্ধ।

উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ও জনগণকে, বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান হাকান ফিদান। খলিলুর রহমান সম্প্রতি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আবারও অভিনন্দন জানিয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সাফল্যের সাথে পালন করবেন।

সফরের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন হাকান ফিদান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক বিরাট দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করাই দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য।

কক্সবাজারে তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, টিকা, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুরস্ক দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তুরস্ক-বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা হাসপাতালে কর্মরত আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মানবতার সেবায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মরত আমাদের সকল কর্মীর নিষ্ঠা, ত্যাগ এবং অনুকরণীয় প্রচেষ্টার জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। এই বন্ধনকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা হবে।

বাড়ছে মেট্রোরেল চলাচলের সময়

0
মেট্রোরেল

মেট্রোরেল চলাচলের সময় রাতের দিকে উভয় প্রান্তে ২০ মিনিট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (৭ জুন) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।

গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

ডিএমটিসিএলের তথ্যমতে, রোববার থেকে মেট্রোরেলের চলাচলের সময় রাতের দিকে উভয় প্রান্তে ২০ মিনিট করে বাড়ানো হচ্ছে। ফলে মতিঝিল থেকে উত্তরার উদ্দেশে শেষ ট্রেন রাত সাড়ে ১০টায় ছেড়ে যাবে, যা বর্তমানে রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়ে। একইভাবে উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী সর্বশেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে, যেখানে বর্তমানে শেষ ট্রেন ছেড়ে যায় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, রাতের চলাচলের সময় বাড়ানোর আগে এ বিষয়ে গত এক মাস ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে। এর অংশ হিসেবে রোববার থেকে বর্ধিত সময়সূচিতে যাত্রী পরিবহন শুরু হবে। তবে প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত ২০ মিনিটে মাত্র একটি করে ট্রিপ পরিচালনা করা হবে। অর্থাৎ একটি ট্রেন মতিঝিলের দিকে এবং আরেকটি ট্রেন উত্তরার দিকে চলাচল করবে। ফলে এ সময় এক ট্রেনের পর আরেক ট্রেনের মধ্যে ১০ মিনিটের বিরতি থাকবে।

ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাতে ২ দিক থেকেই মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, রোববার থেকে রাতে উভয় দিক থেকে ২০ মিনিট বাড়তি চলাচল করবে।

বর্তমানে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে মতিঝিলগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে। আর মতিঝিল থেকে উত্তরাগামী দিনের প্রথম মেট্রোরেল ছাড়ে সকাল সোয়া ৭টায়। সকালে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। হাকান ফিদানও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তিনি বলেন, তার এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ।

এ লক্ষ্যে উভয়পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বার্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে। এছাড়া, দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অংশগ্রহণে একটি পরামর্শ কাঠামো বা কমিটি গঠন করা হবে।

দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি যৌথ সমন্বয় কাঠামো গঠনের বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। এতে উভয় দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সম্পৃক্ত থাকবেন।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বিনিয়োগ, যৌথ উত্পাদন এবং সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0
সংসদ ভবন

সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখা, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বজায় রাখা এবং সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, সরকারি দলের বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

শনিবার (৫ জুন) সংসদ ভবনে সরকারি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।

বৈঠকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ‌্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, আইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরেন স্ব স্ব মন্তণালয়ের মন্ত্রীরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, বৈঠকে সাতজন মন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। শিক্ষা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও মানসম্মত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলে তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনায় ডেঙ্গুসহ মৌসুমি রোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। চিফ হুইপ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাসপাতাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন হাসপাতাল স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

যোগাযোগ খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি পরিবহন টার্মিনাল, পানি উন্নয়ন এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, অধিকাংশ গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেই সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তার দাবি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরও সরকার বিপুল ১ লাখ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে।

তিনি আরও জানান, বিদ‌্যুতের দাম বাড়ানো হলেও ৬৬ শতাংশ গ্রাহকের দাম বাড়েনি। যারা ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ‌্যুৎ ব‌্যবহার করেন, তাদের বাড়বে না।

আইন ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে। শিশু নির্যাতনসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। রামিসা হত‌্যাকাণ্ডটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুবই স্পর্শকাতর। এটি দ্রুততম সময়ের মধ‌্যে মামলাটি নিষ্পত্তি হচ্ছে। রোববার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে বলেছেন দেশে চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের কোনো জায়গা নেই। মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধ দমনে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চিফ হুইপ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও সেবার বাস্তব অবস্থা তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও স্কুলে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে, হাসপাতালে সেবা ব্যাহত হলে বা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি থাকলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, বরং জনগণ যাতে তার বাস্তব সুফল পায় তা নিশ্চিত করা।

আসন্ন বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, দেশের আর্থিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করছে।

সংবিধান সংশোধন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা হয় এবং বাংলাদেশেও অতীতে একাধিকবার তা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন টেকসই হতে পারে না। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সময়োপযোগী পরিবর্তনের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সব পক্ষ গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করেন এবং কোথাও ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের কার্যক্রম আরও জনমুখী ও কার্যকর করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

চিফ হুইপ আরও জানান, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সহযোগিতায় নতুন হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পাঁচটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত একটি হাসপাতালের কাজ এগিয়ে গেছে এবং আরও কয়েকটি হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা দেশের আরও বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এরমধ‌্যে কমপক্ষে একটি নারী ও শিশুদের জন‌্য করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সোনার তৈরি কলস উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত অপু বিশ্বাস

0
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ও দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করলেও, সোনার তৈরি একটি বিশেষ কলস উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন এই নায়িকা।

জানা গেছে, সম্প্রতি বিকেলে জিমে ব্যস্ত ছিলেন অপু বিশ্বাস। এমন সময় একটি ফোনকলের মাধ্যমে তাকে জরুরিভাবে ডাকা হয়। কারণ সম্পর্কে কিছু না জেনেই নির্ধারিত স্থানে পৌঁছান তিনি। সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখেন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও ফরিদুর রেজা সাগর তার হাতে তুলে দিচ্ছেন সোনার তৈরি একটি বিশেষ কলস।

অপ্রত্যাশিত এই সম্মাননা পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান। জীবনের পথচলায় কখনো অর্থ-বিত্তকে প্রাধান্য দেননি, বরং দর্শকের ভালোবাসাকেই সবচেয়ে মূল্যবান মনে করেছেন। তবে এমন একটি সম্মাননা তার জন্য অপেক্ষা করছে, তা কখনো কল্পনাও করেননি।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, এই সোনার কলসের মূল্য শুধু সোনার পরিমাপে নির্ধারণ করা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং তার দীর্ঘ শিল্পীজীবনের স্বীকৃতি। তাই অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননার ভিড়েও এই উপহারটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয়, আবেগঘন এবং মূল্যবান অর্জন হয়ে থাকবে।

ভক্ত-অনুরাগীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপু বিশ্বাসকে অভিনন্দন জানিয়ে তার এই বিশেষ প্রাপ্তিকে অভিনয়জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করছেন।

 

বাঁশের উপকারিতা জানলে আপনি অবাক হবেন

0
বাঁশের এত উপকারিতা জানলে অবাক হবেন
বাঁশের এত উপকারিতা জানলে অবাক হবেন

অনেকের ধারণা বাঁশ একটি গাছ। তবে বাস্তবে বাঁশ হলো এক ধরনের বহু বর্ষজীবী ঘাস। পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির বাঁশ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া যায় ৩০টিরও বেশি প্রজাতি। বাঁশের বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যেও রয়েছে বাংলাদেশ।

পরিবেশ রক্ষায় বাঁশের ভূমিকা অসাধারণ। এটি অন্যান্য অনেক উদ্ভিদের তুলনায় বেশি অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং বাতাস থেকে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। ফলে পরিবেশ থাকে আরও নির্মল ও স্বাস্থ্যকর। শুধু তাই নয়, বাঁশঝাড় আশপাশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত কমিয়ে রাখতে পারে। এ কারণে একে অনেকেই প্রকৃতির শীতল ছায়া বলে থাকেন।

পাহাড়ধস, নদীভাঙন ও মাটিক্ষয় রোধেও বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর বিস্তৃত শেকড় মাটিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে। ফলে ভূমি ধসে পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে বাঁশঝাড়।

খাদ্য হিসেবেও বাঁশের কদর রয়েছে। কচি বাঁশ বা বাঁশের কোড়ল দিয়ে সুস্বাদু তরকারি, স্যুপ ও নানা খাবার তৈরি করা হয়। এতে রয়েছে খাদ্যআঁশ, প্রোটিন, পটাশিয়াম, লৌহসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। যা হজমশক্তি বাড়াতে, রোগ প্রতিরোধে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

গ্রামবাংলার ঘরবাড়ি নির্মাণে বাঁশের ব্যবহার বহু পুরোনো। বাড়ির বেড়া, ছাউনি, সেতু, মাচা থেকে শুরু করে নানা নির্মাণকাজে বাঁশের জুড়ি নেই। কম খরচে টেকসই হওয়ায় এখনও এটি অন্যতম জনপ্রিয় নির্মাণসামগ্রী।

এছাড়া আসবাবপত্র, ঝুড়ি, কুলো, ডালা, বাদ্যযন্ত্র, কাগজ, পোশাকের তন্তু, এমনকি প্রসাধনী তৈরিতেও ব্যবহার হচ্ছে বাঁশ। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাঁশের তৈরি পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।

সবচেয়ে বড় কথা, বাঁশ চাষে খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং অল্প সময়েই অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে। তাই অনেকেই এখন বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

যে বাঁশকে নিয়ে আমরা প্রায়ই ঠাট্টা করি, সেই বাঁশই আজ পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই বাঁশকে শুধু উপমা নয়, প্রকৃতির এক মূল্যবান সম্পদ হিসেবেই দেখা উচিত।

সূত্র: বিবিসি

ফের মার্কিন হামলা চালাল ইরানে,আইআরজিসির পাল্টা জবাব 

0
ইরানে ফের মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব আইআরজিসির
ইরানে ফের মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব আইআরজিসির

কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও সহিংসতার স্থায়ী অবসানের জন্য আলোচনা এখনো সফল হয়নি। দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল থাকলেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নতুন করে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে উভয় দেশ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধের একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৫ জুন) দুই দেশের মধ্যে এই হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের চারটি ড্রোন তারা আকাশেই ভূপাতিত করেছে, যেগুলো হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া হয়েছিল। এরপরই গোরুক ও কেশম আইল্যান্ডে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

সেন্ট্রাল কমান্ড আরও দাবি করেছে, ইরানের ছোড়া ওই ড্রোনগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে বড় হুমকি হয়ে উঠেছিল। মূলত পরবর্তী সময়ে যেকোনো বড় হামলা ঠেকাতেই এই রাডার স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা জবাব দিয়েছে তেহরান।

ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ‘শত্রুপক্ষের ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের সিরিক শহর এবং হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে কুয়েত সরকার জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। একই সময়ে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির আশপাশে বিমান হামলার সতর্কতাসূচক সাইরেন বেজে ওঠে।

এর আগে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছিল তারা ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশে ‘সতর্কতামূলক গুলি’ ছুড়েছে। তাদের অভিযোগ ছিল, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হয়রানি করছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

 

৩২৮৩২ বাংলাদেশি হাজি, হজ শেষে দেশে পৌঁছেছেন 

0
দেশে পৌঁছেছেন ৩২৮৩২ বাংলাদেশি হাজি
দেশে পৌঁছেছেন ৩২৮৩২ বাংলাদেশি হাজি

শনিবার (৬ জুন) পর্যন্ত এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ হজ বুলেটিনের তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ২৯ হাজার ৫০৪ জন।

ফ্লাইট ও বিমান সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৫৭৯ জন হাজিকে পরিবহন করেছে। এছাড়া সৌদি এয়ারলাইনস ১২ হাজার ৫৫৯ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ৭ হাজার ৭০০ জন হাজিকে দেশে পৌঁছে দিয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে সৌদি আরব ছেড়েছেন আরও ৯৯৪ জন হজযাত্রী। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি হজযাত্রীর জন্য কোটা নির্ধারণ করা হয়েছিল। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার প্রথম ফ্লাইট শুরু হয়েছিল গত ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট যায় ২১ মে।

এদিকে সৌদি আরবে অবস্থানরত হাজিদের জন্য চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবাদান কার্যক্রমও চালু রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ হজ মিশনের চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে মোট ৫৭ হাজার ২০২টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা দেওয়া হয়েছে ২৬ হাজার ৩৫টি।

হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৩৬০ জন হজযাত্রী। বর্তমানে সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩ জন হাজি ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ হজ মিশন, বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন শেষ ফিরতি ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজিদের দেশে ফেরার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।